নেইমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত রাঁধুনি
নেইমারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত রাঁধুনি। এ খবর জানিয়েছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলস।
আদালতকে এই রাঁধুনি বলেন, নেইমারের বাসভবনে ভারী কাজের চাপের কারণে তিনি পিঠের ব্যথা এবং নিতম্বে প্রদাহজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
সান্তোস তারকা নেইমারের বিরুদ্ধে করা এই মামলা বর্তমানে ব্রাজিলের আঞ্চলিক শ্রম আদালতে বিচারাধীন। অভিযোগ অনুযায়ী, নেইমারের বাসায় রান্নার দায়িত্বে থাকা এ নারী দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা কাজ করতেন এবং ভারী সামগ্রী বহন করতে হতো, যা তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রিও ডি জেনিরোর আঞ্চলিক শ্রম আদালতে এই নারী অভিযোগ করেন, নেইমারের বাসভবনে প্রতিদিন ১৫০ জনের বেশি মানুষের জন্য রান্না করতে হতো তাঁকে। রিও ডি জেনিরোর মানগারাতিবায় নেইমারের বাসভবন। তাঁর দাবি, নেইমারের বাড়িতে মাংসসহ ভারী সামগ্রী বহনের কারণে তাঁর পিঠে ব্যথা ও নিতম্বে প্রদাহের সমস্যা দেখা দেয়।
এই রাঁধুনি আদালতকে আরও জানিয়েছেন, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষাও করিয়েছেন। নেইমারের কাছে এ জন্য ভরণপোষণ ভাতাও দাবি করছেন তিনি।
মেট্রোপোলস জানিয়েছে, নেইমারের বাসায় রান্নার জন্য এই নারীর নিবন্ধিত বেতন ছিল প্রায় ৪ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৯৩ হাজার ২৩৮ টাকা)। মামলায় তিনি শ্রম আদালতকে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত কাজ, বোনাসসহ মাসে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ রিয়াল (প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা) পেতেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, শুধু সপ্তাহের দিনগুলোতে কাজ করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলেও এই নারী সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করতে বাধ্য হতেন। নেইমারের বাসায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
শুধু নেইমারই অভিযুক্ত নন
নেইমারের সঙ্গে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ওই রান্নার কর্মীকে ব্রাজিল ফরোয়ার্ডের বাসভবনে কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নথি অনুযায়ী, এই কর্মী গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নেইমারের প্রধান বাসভবন কাসা হোটেল পোর্তোবেল্লো এবং পাশের আবাসিক এলাকা কনডোমিনিও পোর্তোবেল্লোয় কাজ করেছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, এই নারীর কাজের সময় ছিল সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা এবং শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাস্তবে এই সময়সূচি কখনোই মানা হয়নি। প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় থাকতে হতো এবং গড়ে দিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন এই কর্মী।
তাঁর অভিযোগ, কখনো কখনো রাত ১১টা, এমনকি মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতেন। নেইমার, তাঁর বন্ধুবান্ধব ও স্বজন মিলিয়ে সকালের নাশতা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জনের জন্য রান্না করতে হতো বলে তিনি দাবি করেন।
আইনজীবীরা যা বলছেন
আদালতে যে নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানে এই নারীর আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, ‘অতিরিক্ত কাজের চাপের পাশাপাশি ভুক্তভোগী চুক্তির শুরু থেকেই এমন কাজের দায়িত্ব পালন করেছেন, যা করতে যথেষ্ট শারীরিক শ্রম প্রয়োজন। তিনি নিয়মিতভাবে প্রায় ১০ কেজি ওজনের মাংস বহন করতেন, ফ্রিজের দেখাশোনা করতেন, সুপারমার্কেটে কেনাকাটার পণ্য নিয়ে আসা ও পণ্য খালাস করতেন, অনেক ভারী ব্যাগ বহন করতেন, সারা দিনের কাজে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন।’
আবেদনে ওই কর্মীর আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, ‘অভিযোগকারী নিয়মিতভাবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি ভোগ করতে পারেননি। পুরো চাকরির মেয়াদজুড়ে বিবাদীপক্ষ তাঁকে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির জন্য উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে বাধ্য করত, যদিও সেই সময়েও তিনি কাজ করতেন।’
ব্রাজিলের শ্রম আইনের ৭১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ছয় ঘণ্টার বেশি সময়ের কর্মদিবসে কর্মীদের জন্য অন্তত এক ঘণ্টার বিশ্রাম বা খাবারের বিরতি দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সব মিলিয়ে রান্নার এই কর্মী নেইমার এবং তাঁকে নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছে ২ লাখ ৬২ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এই অঙ্কের মধ্যে রয়েছে চাকরি ছাড়ার ক্ষতিপূরণ, এফজিটিএস তহবিল, জরিমানা, অতিরিক্ত কাজ ও বিরতির পারিশ্রমিক, নৈতিক ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ব্যয় ও ভরণপোষণ ভাতা।
মেট্রোপোলস এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে নেইমারের প্রতিনিধিরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংবাদমাধ্যমটি অভিযোগ করা নারী কর্মীর নাম প্রকাশ করেনি।
নেইমারের বাসভবন
মানগারাতিবায় নেইমারের দুটি প্রাসাদসম বাড়ি রয়েছে। একটি বাড়ির মূল্য প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (প্রায় ৬৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা)। প্রায় ৫ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ বাড়িতে রয়েছে ছয়টি সুইট, একটি সুইমিংপুল, অবসর কাটানোর জায়গা এবং বন্ধুদের থাকার জন্য ১০টি স্যুইটসহ একটি আলাদা অংশ। মামলা করা নারী কর্মী এই শেষের অংশেই কাজ করতেন বলে অভিযোগনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নেইমারের আরেকটি বাড়ি অবস্থিত অ্যারো রুরাল কন্ডোমিনিয়ামে, যা কৃত্রিম হ্রদের জন্য পরিচিতি পেয়েছে। এই সম্পত্তি একসময় মানগারাতিবা পরিবেশবাদী সচিবালয়ের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় নেইমারকে ১ কোটি ৬০ লাখ রিয়াল জরিমানা করা হয়। তবে পরে নেইমার জরিমানা স্থগিত করার পাশাপাশি মামলায় খালাস পান।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন আর্জেন্টিনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মার্টিন আরেভালো।
ফিনালিসিমা হলো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন (উয়েফা ইউরো বিজয়ী) ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন (কোপা আমেরিকা বিজয়ী) দলের মধ্যকার আন্তঃমহাদেশীয় শিরোপা লড়াই।
সর্বশেষ ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে স্পেন ও আর্জেন্টিনার এই ম্যাচটি কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। পরে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাবেউ স্টেডিয়াম কিংবা দুই দেশের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব এলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তবে মার্টিন আরেভালোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচটি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের বিষয়ে নতুন করে অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাতার সরকার ইতোমধ্যে ম্যাচটি আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো উয়েফা কিংবা কনমেবলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিনালিসিমা স্থগিত হওয়ায় ভাগ্যের পরিহাসে দুই দল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেই মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচে এর কিছুক্ষণ আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে শেষ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হারের পর সম্ভাব্য ফিনালিসিমা ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিশোধের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে স্পেন চাইবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করতে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড সকার টক
সংগৃহীত ছবি
ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? কেন লিওনেল মেসি ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের সবকিছু ভুলে যেতে বলেছিলেন? সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো একটি ভিডিওতে মেসির বলা কথায় এসব প্রশ্নের উদ্রেক করছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। যা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের শঙ্কা ড্রেসিংরুমে অবশ্যই কিছু একটা হয়েছিল। যার প্রভাব মাঠে পড়েছিল বলেই তাদের বিশ্বাস। না হলে পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা দলটি ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের পোস্টে একটি শটও নিতে পারবে না? আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের বলছেন, ‘সবাই শান্ত হও। আসল বিষয় হলো আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’ এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। আলোড়ন তুলেছে মেসির পরের কথাগুলো, ‘এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। চলো শুধু খেলায় মন দিই।’ ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রেসিংরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মেসি কথাগুলো বলার সময় তাঁর সতীর্থরা সবাই শান্ত ছিল। প্রশ্নটা এখানেই, মেসি কী ভুলে যেতে বলছিলেন তখন?
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার কী ইঙ্গিত করেছিলেন, তা স্পষ্ট না হলেও ফাইনালের আগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা দল। প্রতিপক্ষ স্পেন তাদের বিরুদ্ধে রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলে। এসব নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লডিও তাপিয়া এবং কনমেবল প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো ডমিঙ্গেজ মেসি-মার্তিনেজদের কিছু বলেছেন কিনা, তা নিয়ে একটা শঙ্কা রয়েছে।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ফাইনাল শুরুর আগে এ দুজনকে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
আর ফাইনালের আগে স্পেনের ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে এমন কিছু ঘটনা দেখেছি, যা সত্যিই বিস্মিত করেছে। কিছু ঘটনায় কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে। তারা প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ফুটবলে, বিশেষ করে এত বড় প্রতিযোগিতায় এসব কখনও অনুমোদন করা উচিত নয়। কারণ, এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং হতাশা তৈরি হয়।’
নিউইয়র্কের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতে ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেস জয়সূচক গোলটি করেন। ফাইনালে রেফারিং নিয়ে তেমন বিতর্ক না হলেও শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ বাধে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফিফা।
ছবি : সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ের পর বিশ্বজুড়ে উদযাপনের কোনো কমতি রাখেননি স্পেনের ভক্তরা। নানা স্লোগানে, গানে ও পতাকা হাতে তারা নেমে আসেন রাস্তায়। তবে এই উদযাপনের মধ্যেও তারা ভুলে যাননি ফিলিস্তিনকে। বিশ্বের বহু স্থানে তাদের হাতে স্পেনের পতাকার পাশাপাশি ছিল ফিলিস্তিনের পতাকাও। অনেকে উদযাপনের মধ্যেই স্লোগান দেন– ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। একবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে ব্রাসেলস, বার্সেলোনার মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতেও স্পেন ভক্তদের উদযাপনে দেখা গেছে ফিলিস্তিনের উপস্থিতি।
অন্যদিকে আরব বিশ্ব তো স্পেনের সমর্থনে গলা মিলিয়েছেই। যে ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে এত জোর আলোচনা, গতকাল তাদের চোখও ছিল পর্দায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তারাও দেখেছেন স্পেনের বিজয়; উল্লাসে ও উদযাপনে ফেটে পড়েন তারাও।
নিউইয়র্ক
স্পেনের বিজয়ের পর দলটির ভক্তরা চলে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের রাস্তায়। এ সময় তাদের হাতে দেখা যায় ফিলিস্তিনের পতাকা। তারা উদযাপনের ফাঁকেই স্লোগান দিতে শুরু করেন ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। এরই মধ্যে ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে। বহু মানুষ সাধুবাদ জানাতে ভোলেননি তাদের।
বিশ্বের বহু নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও মানবাধিকার সমর্থকের জন্য স্পেন ভিন্ন অর্থ বহন করছে। তাদের কাছে এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্পেনের ফিলিস্তিনকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নজর কেড়েছে তাদের। আর এ কারণেই এই উন্মাদনা।
ব্রাসেলস
বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের রাস্তায়ও নেমে এসেছিলেন ভক্তরা। আনাদোলু এজেন্সির এক ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের রাস্তার মোড়ে জড়ো হয়েছেন বহু ভক্ত। আর ওই মোড়ে থাকা এক ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি বড় পতাকা নাড়ছেন এক তরুণ।
শুধু ওই এক স্থানে নয়; ব্রাসেলসের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় স্পেনের জয় উদযাপনের ফাঁকে উড়তে দেখা গেছে ফিলিস্তিনের পতাকা। কাউকে দেখা গেছে জয়ের আনন্দে চিৎকার করতে করতেই সে পতাকা নাড়তে। কাউকে আবার দেখা যায় স্পেন ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে লোহার সীমানার ওপর উঠে যেতে। শুধু পুরুষ নয়, নারীদের হাতেও ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা।
বার্সেলোনা
স্পেনের ভেতরেও বিজয় উদযাপনে ফিলিস্তিনের পতাকার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরটিতে হাজারো মানুষের ভিড়ে এক প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়ানো একগুচ্ছ তরুণকে দেখা যায় ফিলিস্তিনি ও স্পেনের পতাকা নেড়ে সবাইকে দেখাতে, যেন ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য নজির স্থাপন করছে তারা।
প্রসঙ্গত, এর আগে স্পেনের তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল লা লিগায় বার্সেলোনার জয়ের পর উদযাপন চলাকালে ফিলিস্তিনের পতাকা নেড়ে আলোচনায় এসেছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন। সর্বশেষ অ্যাশেজে চোটের কারণে এই তিন অভিজ্ঞ বোলার নিয়মিত খেলতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার সময় অ্যাকিলিসে চোট পেয়ে পুরো অ্যাশেজ মিস করেন হ্যাজলউড। অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্টে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে হয় লায়নকে।
কামিন্স খেলেছিলেন শুধু অ্যাডিলেড টেস্টে। সেটিই ছিল পিঠের নিচের অংশের চোট কাটিয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত হওয়ায় পরের দুই টেস্টেও তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।
কামিন্স ও হ্যাজলউড খেলতে পারেননি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও। যদিও দুজনই মাঠে ফেরেন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর শুরু হওয়া আইপিএলে। কামিন্সরা ফেরায় দল থেকে বাদ পড়েছেন মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেট।
কামিন্স ও হ্যাজলউডের পেস বোলিং বিভাগে আরও আছেন মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ড। এ ছাড়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বো ওয়েবস্টারও একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে থাকবেন।
টপ অর্ডারে কোনো পরিবর্তন আনেনি অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজে অভিষিক্তি জেক ওয়েদারাল্ডের ওপরই আস্থা রেখেছে দল। তাঁরই ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করার কথা। ছন্দে না থাকলেও মারনাস লাবুশেনকে দলে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই দুই টেস্ট হবে ডারউইন (১৩-১৭ আগস্ট) ও ম্যাকাইয়ে (২২-২৬ আগস্ট)। বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আট ম্যাচে সাত জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট ৮৭.৫০।
লিওনেল মেসি
বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে গতকাল একটি বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গত রোববার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।
নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে স্প্যানিশ ভাষায় একটি পোস্ট করেন মেসি, ‘কষ্টটা অনেক বেশি এবং এই ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে। তবে ভালো লাগার বিষয়গুলোকেও আমি লালন করছি। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচগুলো, মাঠে নিজেদের উজাড় করে দেওয়া, যা চিরকাল স্মৃতিতে থেকে যাবে। পুরো দেশের সমর্থন, যা এই দলটির কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছে।’
পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘প্রতিটি শুভেচ্ছা ও বার্তার জন্য হৃদয় নিংড়ানো ধন্যবাদ। আরও একবার আমরা এক হয়ে দেশকে একসুতোয় গাঁথতে পেরেছি, আর্জেন্টাইন হওয়ার অসীম গর্ব ভাগাভাগি করে নিতে পেরেছি। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্পেনকেও অভিনন্দন।’
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছেন মেসি। এর মাঝে জিতেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ। এবার বিশ্বকাপে মেসি ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করলেও ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারতে হয়।
জাতীয় দলে অসামান্য অবদানের জন্য গত রোববার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া মেসিকে প্রশংসায় ভাসান। ফাইনালের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসির একটি ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘এই গল্প অমর হয়ে থাকবে। অধিনায়ক, তুমি আমাদের যা কিছু দিয়েছ, সে জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো কোনো শব্দ অভিধানে নেই। তোমার খেলা, মাঠ ও মাঠের বাইরে অনন্য নেতৃত্ব এবং শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখতে শেখানোর জন্য পুরো এক জাতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।’
তাপিয়ার পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘আমাদের হৃদয়ে আনন্দ আর অনুভূতির প্রতিটি মুহূর্ত এঁকে দেওয়ার জন্য, প্রতিটি গর্বের অশ্রুর জন্য এবং আমাদের পতাকাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় তুলে ধরার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। লিও, তুমি অমর। তুমি মহানায়ক। তুমি আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশে পরিণত করেছ। আর এই ঘর—তোমার নিজের ঘর—তোমাকে ভালোবেসে যাবে চিরকাল। অনেক ধন্যবাদ। তুমি চিরকাল আমাদেরই।’
আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ অভিযান উদ্যাপনে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ছুটিটি কোন দিন হবে, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনা দলকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টে এ ঘোষণা দেন মিলেই।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি, এমনকি কান্নায় ভেঙে পড়ে মাঝপথেই শেষ করেন সংবাদ সম্মেলন।
স্কালোনি জানান, আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তির দায়িত্ব পালন করবেন, এরপর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার চুক্তি পূরণ করব। এরপর কী হবে, সেটা দেখব।’
এরপর দীর্ঘদিনের সফল যাত্রার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে এই অবস্থানে পৌঁছাব। সামনে এগিয়ে যেতে অনেক কিছু দরকার। আবার নতুন করে শুরু করতে হবে, নতুন একটি দল গড়তে হবে। কিন্তু এমন একটি দল, এমন একটি গ্রুপ হয়তো আর কখনো তৈরি হবে না। বিষয়টি আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি দুঃখিত।’
এই কথাগুলো বলার পরই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। চোখের পানি সামলাতে না পেরে সংবাদ সম্মেলন মাঝপথেই শেষ করে উঠে যান তিনি।
২০২২ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ী এই কোচের এমন মন্তব্য আর্জেন্টিনা ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এখন ডিসেম্বরের পর তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।