যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে বেশ কদিন আগেই। তবে বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষত শুকিয়ে যায়নি এখনও। সেই ক্ষত তৈরি হওয়ার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করতে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানালেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক।
ক্রীড়া মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়েকদিন আগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যেটি খতিয়ে দেখবে বিসিবির গত নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও সরকারি হস্তক্ষেপের নানা অভিযোগ। সেই তদন্ত কমিটির কাজ চলমান আছে এখন। সেই তদন্ত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সোমবার বিবৃতি দেয় বিসিবি।
এরপর মঙ্গলবার মিরপুরের একটি স্কুলে এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়া মন্ত্রী জানালেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হবে।
“আমরা কেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে গেলাম না, এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি যে বিশ্বকাপ হয়েছে, কিন্তু আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে সেই বিশ্বকাপটি আমরা খেলতে যেতে পারিনি। কেন এটি হয়েছে, সেটিও আসলে তদন্ত করে দেখার বিষয় রয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়েও আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।”
“কেন আমরা বিশ্বকাপ খেলতে গেলাম না, আমাদের কোথায় সমস্যা ছিল বা কেন আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাব ছিল, সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরবর্তীতে এগুলো প্রতিবেদন আকারে ক্রিকেট বোর্ড এবং যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কাছে থেকে আমি অবশ্যই চাইব।”
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও সম্প্রতি বৈঠক হয়েছে বলে জানালেন ক্রীড়া মন্ত্রী।
“ইতিমধ্যেই আমাদের কোয়াবের মিঠুনের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের একটি দল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কথাগুলো শুনেছি। আমি আশ্বস্ত করেছি যে, পরবর্তীতে আমরা এই বিষয়গুলো…যেহেতু রমজান মাস চলমান রয়েছে… কেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে গেলাম না, এই বিষয়গুলো আমরা ঈদের পরে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেব।”
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় গত জানুয়ারির শুরুতে। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর সেদিন রাতেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান তখনকার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। পরদিন সামাজিক মাধ্যমেই তিনি জানান, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।
এরপর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসিকে অনুরোধ জানায় বিসিবি। আইসিসির পক্ষ থেকে এরপর নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে বাংলাদেশকে রাজি করাতে। অনলাইনে বৈঠক হয়েছে দুই পক্ষের, আইসিসির প্রতিনিধি দল সশরীরে এসেও সভা করে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিরাপত্তা শঙ্কার অবস্থানেই অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয়।
বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার পেছনে সত্যিই নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল নাকি ছিল অন্য কোনো ব্যাপার, এসব নিয়ে দেশের ক্রিকেট আঙিনায় প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠেছে অনেক। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর ক্রীড়া সংগঠকদের অনেকেই এটি নিয়ে তদন্তের দাবি করেছিলেন। সেটিই এবার হতে চলেছে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিসিবির নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল বিস্তর। গত অক্টোবরে সেই সময় অবশ্য যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সে নির্বাচন নিয়ে গঠিন তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।।
নির্বাচন নিয়ে কিছু অনিয়মের উদাহরণ আমিনুল হক নিজেও তুলে ধরলেন, তার চোখে যেগুলো ছিল দৃশ্যমান। তদন্ত কমিটি কীভাবে কাজ করছে বা করবে, সেটিও কিছুটা তুলে ধরলেন ক্রীড়া মন্ত্রী।
“আমি নিজেও এটি সম্পর্কে বলেছি, যেভাবে বিগত সরকারের সময়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, এটি আপনারা সকলেই জানেন, এগুলো নতুন করে আসলে বলার কিছু নেই। এটি নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সঠিক যেটি, তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে আসবে। এখানে যারা বিগত সময়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সঙ্গেও তদন্ত কমিটি কথা বলবে। বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলবে। পাশাপাশি যারা অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলবে।”
“এছাড়াও সারা বাংলাদেশে যারা বিভিন্ন জায়গায় ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন…কারণ আপনারা সকলেই জানেন… যেমন, আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে জানি যে, যখন বিগত নির্বাচনের সময় ডিসিরা একবার কাউন্সিলরশিপ পাঠিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বুলবুল ভাইয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা আবার দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর পাঠিয়েছেন। এটি তো একদম দৃশ্যমান সত্য কথা। এটি নিয়ে যদি এখন সেই বিগত স্বৈরাচারের মতো যদি কথা বলে যে, ‘আমরা যেটি করেছি সঠিক করেছি’, সেটি আসলে সমুচিত হবে না।”
এই তদন্ত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাচিত বোর্ডের বাইরের হস্তক্ষেপে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে।
তবে ক্রীড়া মন্ত্রী জানালেন, আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাদের কাজ চলবে।
“আমার কাছে মনে হয় যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদনটি দেখি, তারপরে আমি আইসিসির সাথে কথা বলে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ আপনাদের জানাব। আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই সকল সিদ্ধান্ত নেব।”
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নতুন প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকা এই ক্যারিবীয় তারকা এবার মাহেলা জয়াবর্ধনের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। প্রধান কোচ হিসেবে এটিই তার প্রথম অভিজ্ঞতা।
খেলোয়াড় হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্বর্ণযুগের অন্যতম নায়ক ছিলেন পোলার্ড। ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২০ সালে মুম্বাইয়ের পাঁচটি আইপিএল শিরোপাজয়ী দলেরই সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি।
১৮৯ ম্যাচে ১৪৭.৩২ স্ট্রাইক রেটে ৩৪১২ রান এবং ৬৯ উইকেট নিয়ে আইপিএলে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই ক্যারিবীয় মহাতারকা।
২০২২ মৌসুমে খেলোয়াড় হিসেবে সর্বশেষ আইপিএল খেলার পর ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেন পোলার্ড। টানা চার মৌসুম সফলতার সঙ্গে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালনের পর এবার তাকে ডাগআউটের শীর্ষ পদে নিয়ে এল আইপিএলের অন্যতম সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
নতুন এই দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পোলার্ড, ‘মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। মুম্বাই আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের একটি বিশাল অংশ। এই দল, খেলোয়াড়েরা এবং পল্টনের সঙ্গে আমার যে বন্ধন, তা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। খেলোয়াড় ও পরে কোচ হিসেবে এই যাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কীসের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দলের নীল ও সোনালি জার্সি গায়ে জড়ানোর সঙ্গে কী ধরনের দায়িত্ব জড়িয়ে আছে।’
দলের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রতিভার বিকাশে কাজ করতে মুখিয়ে পোলার্ড, ‘খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে, দলের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে সহায়তা করতে এবং পল্টনকে উদ্যাপনের আরও অনেক উপলক্ষ এনে দিতে আমি মুখিয়ে আছি।’
পোলার্ডের এই নতুন পদোন্নতিতে বেশ আনন্দিত মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক নীতা আম্বানিও।
তিনি বলেন, ‘মাত্র ২২ বছর বয়সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দিয়েছিল পোলার্ড। গত ১৬ বছরে সে আমাদের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় হিসেবে সে আমাদের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। আর কোচ হিসেবে ভাগাভাগি করে চলেছে নিজের অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং খেলা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।’
ফর্টিজ এফসি। ছবি: সংগৃহীত
পিছিয়ে পড়েও তাজিকিস্তানের ক্লাব এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় দিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশের ফর্টিজ এফসি। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই দুর্দান্ত জয়ের পরও টুর্নামেন্টের পরবম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ফর্টিজ। ১২ মিনিটের মাথায় এনদোঙ্গো ফোয়ের বুদ্ধিদীপ্ত বাড়ানো বল থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে সুযোগ নেন শেরজোদ মাখামাদিয়েভ। মুনির আলমকে কাটিয়ে তার নেওয়া শটে পরাস্ত হন ফর্টিজের লঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা। ফর্টিজ অফসাইড ও অবস্ট্যাকলের দাবি জানালেও তাতে সাড়া দেননি রেফারি, ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় তাজিক ক্লাবটি।
তবে ১৭ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। রেগার-তাদাজের মার্টিন আকো আসোমোর দুর্বল ব্যাক পাস ধরে দ্রুত গতিতে এগোতে থাকেন ফর্টিজের নোরিকি আকাদা। বক্সের ঠিক বাইরে তাকে বাজেভাবে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় রেগারের গোলরক্ষক সেভেরিন তাকামকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রেগার বদলি গোলরক্ষক হিসেবে নামায় শাখোবুদ্দিন মাখমুদজোদাকে।
মাঠে নেমেই পা ওমরের নেওয়া বিপজ্জনক বাঁকানো ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এই নতুন গোলরক্ষক।র্তী রাউন্ডে ওঠা সম্ভব হয়নি দলটির; বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্যায় থেকেই। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় ফর্টিজ। ৩৫ মিনিটে অধিনায়ক পা ওমরের পাস বুকে নামিয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন আকাদা, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম থাকা সত্ত্বেও রেগার-তাদাজের প্রধান কোচ আলিশের তুখতায়েভ ডিফেন্সিভ কৌশল না নেওয়ায় দুই পক্ষই আক্রমণাত্মক ফুটবলে মেতে ওঠে। ৬৩ মিনিটে ফর্টিজ কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার মাঠে নামান জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সুকিকে, আর তাতেই যেন বদলে যায় খেলার গতি। মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন সুকি। তাকে আটকাতে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রেগার গোলরক্ষক, কিন্তু বল চলে যায় পা ওমরের পায়ে। ওমরের বাড়ানো বলে দূর পোস্টে থাকা রাফায়েল টুডু চোখধাঁধানো এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে জড়ান (১-১)।
সমতায় ফিরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ফর্টিজকে এগিয়ে যেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। চার মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ভাসানো ক্রসে অনন্ত তামাং হেডে বল বাড়িয়ে দেন শিয়ান কাওয়াসাকির দিকে। চমৎকার এক ভলিতে ফর্টিজকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কাওয়াসাকি।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফর্টিজের জয় সুনিশ্চিত করেন সুকি নিজেই। পা ওমরের সুন্দর পাস ধরে নিখুঁত সাইড-ফুটেড বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, ফলে ৩-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের ক্লাবটি।
এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের পরও শেষ রক্ষা হয়নি ফর্টিজের। তিন ম্যাচ শেষে ফর্টিজ ও তাজিক ক্লাব রেগার—উভয় দলেরই পয়েন্ট ৩ এবং গোল ব্যবধান -২। অন্যদিকে কুয়েতের ক্লাব কাদসিয়ার পয়েন্ট ৬ হওয়ায় আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়ে যায়। অন্য গ্রুপগুলোতে রানার্স-আপ দলগুলোর পয়েন্ট ৩-এর বেশি থাকায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফর্টিজকে।
ম্যান সিটি ৫ : ১ এইকে এথেন্স
লিভারপুল ৪ : ৩ ভিয়ারিয়াল
চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। আগে সিটির কথা। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে।
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সিটি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে।
ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গত সপ্তাহান্তে ডিসেম্বরের পর প্রথম গোল পেয়েছিলেন এই ইংলিশ তারকা। এবার পেলেন একসঙ্গে তিন গোল!
বিরতির পর ব্যবধান কমায় এথেন্স। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি সিটি। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেনের অনবদ্য এক ভলি। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। তিন গোল করার সঙ্গে একটিতে সহায়তা, সব মিলিয়ে ইতিহাদে একেবারে ফোডেনের রাত।
অ্যানফিল্ডের ছবি ছিল একেবারে আলাদা। খেলার আধা ঘণ্টার মধ্যে ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়ে যায় আন্দোনি ইরাওলার দল।
ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে। এর মাশুল দিতে হয় শুরুতেই। রেনাতো ভেইগার লম্বা বল সামলাতে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনকে লক্ষ্য করে বাড়ানো তাঁর দুর্বল হেড কেড়ে নিয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর নাথান সালিবার সহজ পাস ধরে ভিয়ারিয়ালকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন সের্হি কার্দোনা।
দুই গোল হজম করার পর ঘুম ভাঙে লিভারপুলের। ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার চমৎকার চিপে পা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরাউহোর জায়গায় ভির্টৎসকে নামান ইরাওলা। রায়ান গ্রাভেনবার্চকে পাঠান রাইট ব্যাক পজিশনে। এরপর মাঠে কার্যত রাজত্ব করে লিভারপুল।
কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ বানিয়ে দেন এনগুমোহা। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। একটু পর বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পান ভির্টৎস, ৪-২।
শেষ দিকে আইওজে পেরেসের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেই গোল করে আশা জাগিয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের সমর্থকদের। শেষ রক্ষা হয়নি। ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।
শারজাহতে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের সঙ্গে পরামর্শ করছেন পেসার হাসান মাহমুদ
ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর দলের ভেতরে একটা গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনা ছিল চ্যালেঞ্জিং। সোমবার সকালের টিম মিটিংয়ে খোলামেলা কথা বলে তার একটা সমাধান করা গেছে বলে জানান কোচ ফিল সিমন্স। মিটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছিল ক্রিকেটারদের দিক থেকে। এই প্রতিশ্রুতি টিম মিটিংয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। মিডিয়ার সামনে এসে আশার কথা শোনাননি দলীয় প্রতিনিধিদের কেউই। সোমবারের ভিডিও বার্তায় কোচ সিমন্স জোর দেন ছোট ছোট ভুল শুধরে নেওয়ার ওপর। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কোচের মন্ত্র এটি। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচ ভেন্যু শারজাহতে পৌঁছে ওপেনার তানজিদ হাসান সাহস নিয়ে মিডিয়ার সামনে বলতে পারেননি আজ আফগানদের হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চান ত্রিদেশীয় সিরিজের। তবে বাংলাদেশ যে জয়ের জন্যই খেলবে, এতে সন্দেহ নেই। আর সে জয় হতে হবে যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলিয়ে।
সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ১৫৮ রানে জিতে যাওয়ায় কিছু সমীকরণের মুখে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। আর রান তাড়া করতে হলে ৮.৩ ওভার হাতে রেখে জিততে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাট করতে পারলে ৪১ রানে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তাই ফাইনালে উন্নীত হওয়ার স্বপ্নপূরণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে ম্যাচ জিততে টসেও পেতে হবে জয়। যাতে করে শারজাহ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দেন তানজিদ, ‘আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, আমরা যদি একই মানসিকতা নিয়ে, দেশের বাইরেও একই প্রস্তুতি, সবকিছু পুরোপুরি গুছিয়ে নিয়ে যদি খেলতে পারি, একটি দল হিসেবে খেলতে পারি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় খুব ভালো হবে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে দলীয় সভায়। তো ইতিবাচক কিছু হবে সামনে।’
বাংলাদেশ সাত বছর পর আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন লিটন দাস। টাইগারদের সে স্বপ্নে প্রথম আঘাত করে জিম্বাবুয়ে। এতে সুতায় ঝুলছে স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা। আফগানিস্তানকে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে হারাতে পারলে স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। আর হেরে গেলে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। অভীষ্ট লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে হলে আজ সামর্থ্যের চূড়ান্ত দিয়ে খেলতে হবে তানজিদদের। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– উজাড় করে দিতে হবে তিন বিভাগে। তাই ব্যাটার তানজিদ জোর দেন ধারাবাহিকতার ওপর, ‘আমার কাছে মনে হয়, ধারাবাহিকতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এখানে। আর মানসিকতা, এই দুটোর সমন্বয় যখন আমাদের ভালো হবে, তখন আমরা চাপের পরিস্থিতিতে ভালো কিছু করতে পারব।’
আবুধাবিতে ২৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান তাড়া করতে গিয়ে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পরিচিত কন্ডিশনে ব্যাটিং ব্যর্থতা বড় হয়ে ধরা দেয়। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাই ব্যাটারদের দিকে আঙুল তোলেন পেসার তাসকিন আহমেদ, ‘মুস্তাফিজ ও আমাকে কেন ব্যাটিংয়ে যেতে হবে এতগুলো ব্যাটার থাকতে।’ তাসকিনের দাবির সঙ্গে একমত তানজিদ। তিনি চান ব্যাটাররা ভালো ক্রিকেট খেলে দলের জয় নিশ্চিত করুক। যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা বলের ক্রিকেটে এ মুহূর্তে জয় পাওয়া কঠিন। কারণ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। ২০২৪ সালে শারজাহ স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। গত বছর আবুধাবিতে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে লিটন দাসদের। এ ছাড়া এ দুই দল ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১১টি করে জিতেছে। তাই লিগের শেষ ম্যাচে ফেভারিটের তকমা জয়ের ছন্দে থাকা আফগানিস্তানের।
বাঁচা-মরার এই ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন আনা হতে পারে। মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। এক দিন অনুশীলনও করেছেন তিনি। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান জুটি বাঁধতে পারেন ওপেনিংয়ে। বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সৌম্য সরকারকে। নাজমুল হোসেন শান্ত, রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী মিরাজকে নিয়ে সাজাতে হত পারে ব্যাটিং লাইনআপ। বাকি চার বোলারের তিনজন পেসার ও একজন বাঁহাতি স্পিনার। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় হাসান মাহমুদ খেলতে পারেন।
ছবি : সংগৃহীত
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই পরাশক্তির রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বাজি মাত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে লামিনে ইয়ামালের বার্সেলোনাকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচে যখন ২-২ সমতা, ঠিক তখনই ৮১তম মিনিটে দৃশ্যপটে আসেন ভিতিনিয়া। বক্সের বাইরে বল বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চমৎকার এক শটে বল জালে পাঠান গত বছরের ব্যালন্ ডি'অর তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা এই পর্তুগিজ প্লেমেকার।
এরপর শেষ দিকে ফ্যাবিয়ান রুইসের গোলে সহজ জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। এই জয়ে চলতি আসরে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল ফরাসি ক্লাবটি।
এর আগে বার্সেলোনা অবশ্য লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এই বছরের ব্যালন্ ডি'অরের অন্যতম দাবিদার লামিনে ইয়ামাল বার্সার হয়ে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরান।
ম্যাচে পিএসজিকে প্রথম এগিয়ে নিয়েছিলেন দেজিরে দুয়ে। পরে বার্সেলোনার তরুণ ফুটবলার চাভি এস্পার্ত গোল শোধ করলে আবারো এগিয়ে যান স্বাগতিকরা; দ্বিতীয় গোলটি করেন লুকা এরনান্দেস। এই হারে কিছুটা ধাক্কা খেলেও ইউরোপ সেরা হওয়ার দৌড়ে খুব একটা পিছিয়ে পড়বে না বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের উড়ন্ত সূচনা নিয়ে ফরাসি রাজধানীতে পা রেখেছিল কাতালানরা। সেই জয়রথ থামলেও গোল বন্যা থামেনি। ইয়ামালের গোলটি ছিল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে বার্সার ৫০তম গোল।
অন্যদিকে পিএসজি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে। তবে জয়ের আনন্দের মাঝে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে এসেছে উসমান দেম্বেলে ও খিচা কভারাতসখেলিয়ার চোট। ব্যালন্ ডি'অর জয়ী দেম্বেলে ও জর্জিয়ান উইঙ্গার কভারাতসখেলিয়া মাঠ ছেড়েছেন চোট নিয়ে।
তাদের চোট কতটা মারাত্মক তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দুয়ের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স ও পুরো দলের ছন্দে থাকার ওপর ভর করে সহজেই নকআউট পর্বে ওঠার আভাস দিচ্ছে লুইস এনরিকের শিষ্যরা।
গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল দুই দলের ১৪তম সাক্ষাৎ। তবে বার্সেলোনার জন্য চলতি সপ্তাহে এটিই হয়তো সবচেয়ে বড় ম্যাচ নয়; কারণ আগামী রবিবার লিগায় মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠে স্প্যানিশ এল ক্লাসিকোয় রিয়ালকে হারাতে পারলে লা লিগায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে বার্সা।
ভালো শুরুর পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পরে মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। কিন্তু এই অর্ধে সমানতালে লড়লেও ম্যাচ জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১২ গোলের লিডই ব্যবধান গড়ে দেয়।
তাতে মালদ্বীপকে হারিয়ে ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফি’র ফাইনালে নাম লেখায় স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৩৩-২০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ।
প্রথমার্ধে লাল সবুজের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৭-৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ১৭ গোলের জবাবে মালদ্বীপ করে ১৫টি। ৮ গোল করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের মোসাম্মত সানজিদা আক্তার। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা শুরু করে নেপালকে ৩৩-২০ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ভারতের কাছে মেয়েরা হার মানে ৪৭-১৩ ব্যবধানে। ফাইনালে উঠতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার জিততে হত বাংলাদেশকে। এমন ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে সহজেই হারিয়েছে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল।
আগামী বৃহস্পতিবার পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী বেলা ৩টায় আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। আর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচটি আগামীকাল দুপুর ২টায় যেখানে মালদ্বীপ খেলবে নেপালের সঙ্গে।