ছবি: সংগৃহীত।
ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনে ৩৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনই কোটিপতি প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় বিশ্লেষনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সম্পদ সিলেট-৬ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের। তার সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৫ জনের স্ত্রীও কোটি টাকার উপরে সম্পদের মালিক।
সিলেট-১ আসনে সম্পদের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩০ টাকা। আর তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৩ টাকা।
সম্পদের দিক দিয়ে মুক্তাদিরের পরেই রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। তার নামে ৩ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ২৫ টাকা ও স্ত্রীর ২ কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৭ টাকার সম্পদ রয়েছে।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ টাকা। আর জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৩০৩ টাকা।
এছাড়া কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাস, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের।
সিলেট-২ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন কোটিপতি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদ বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (ইলিয়াসপত্মী)। তার সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকার।
এছাড়া কোটিপতি সম্পদশালীদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলীর ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকা, জামায়াতের আব্দুল হান্নানের ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকা ও জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর রয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার সম্পদ। কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে গণফোরামের মুজিবুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকীর।
সিলেট-৩ আসরে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুর। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকা।
জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমানের ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫২৫ টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিএনপির মো. আবদুল মালিকের চেয়ে তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আবদুল মালিকের ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইনের ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে দেড় কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
আর জামায়াতের লোকমান আহমদের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। এছাড়া কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে এনসিপির নুরুল হুদা জুনেদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরীর।
সিলেট-৪ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকা ও তার স্ত্রীর ৮ কোটি ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ টাকার সম্পদ রয়েছে।
এনসিপির মো. রাশেদ উল আলমের ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ টাকা ও জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৬ টাকার সম্পদ রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের মুফতি আলী হাসান উসামার সম্পদ কোটি টাকার নিচে। আর জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলামের হলফনামার সম্পদের হিসাব অংশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।
সিলেট-৫ আসনের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি দুইজন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদের ১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৪ টাকা ও জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের ১ কোটি ২২ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে জামায়াতের হাফেজ মাওলানা আনওয়ার হোসেন খান, খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান, মুসলিমলীগের মো. বিল্লাল উদ্দিনের।
সিলেট-৬ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুন নূরের সম্পদ কোটি টাকার নিচে। বাকি ৪ প্রার্থীর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা।
বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরীর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০২ টাকা ও একই দলের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮১০ টাকা ও জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিনের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৪ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একজন মানবাধিকার কর্মী জানান সঠিক ভাবে হলফনামায় হিসাব দেয়া উচিত।কারন ইহা প্রারখীর স্বচ্ছতার প্রতিট্ছবি।তাই স্বচ্চতার জন্য হলফনামায় সঠিক তথ্য দেয়া উচিত।
মুন্সিগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত জাহেদ বেপারী আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষ জাহেদকে অতর্কিতভাবে কুপিয়ে জখম করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
নিহতের স্ত্রী বেবী বেগম জানান, প্রতিপক্ষ ফরিদ হোসেন ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তারা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভিড়ে এলাকায় নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছেন। মূলত জাহেদ ও ফরিদ অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই সাবেক সংসদ সদস্যের সমর্থক হওয়ায় সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।এছাড়া রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি আগামী শুক্রবার ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারের ওরস আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধের জেরেও এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার।
বাবার নির্মম হত্যার বিচার চেয়ে নিহতের বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলেন, ‘তিন বোনের সামনে আমার বাবাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমরা তিন বোন চিরদিনের জন্য এতিম হয়ে গেলাম। চোখের সামনে বাবাকে কুপিয়ে মারতে দেখলো আমার প্রতিবন্ধী বোন মারিয়া ও ছোট বোন ইমা। আমরা এই স্মৃতি কীভাবে ভুলব? এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, পূর্ববিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে এবং একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।
ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফরিদ বেপারীকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত ফরিদের বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা ও মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শহীদ আলম
পঞ্চগড়ের দরিদ্র পরিবারের সন্তান শহীদ আলম (২৫)। পেশায় একজন চাতাল শ্রমিক। হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা নুর ইসলাম।
শহীদ আলম পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। কিছুদিন আগে চাতালে কাজ করার সময় হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। একই সঙ্গে শুরু হয় রক্তবমি। দ্রুত তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পাঠানো হয় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে।
সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মো. আসিফ আহসান চৌধুরী জানান, শহীদের হৃদযন্ত্রের দুটি ভালভ নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন হবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। আগামী এক মাসের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা জরুরি বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
শহীদের বাবা নুর ইসলাম বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর ও ঢাকায় এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাড়ির একমাত্র সম্বল গরু ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলেকে বাঁচাতে হলে দ্রুত অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাব, তা বুঝতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাইছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমার ছেলেটি হয়তো নতুন জীবন ফিরে পাবে।”
অসহায় বাবার আকুতি, সামর্থ্যবান মানুষের সামান্য সহযোগিতাই পারে শহীদের জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন পূরণ করতে। তাই শহীদের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার।
আর্থিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ:
মোবাইল নম্বর: ০১৮৪৫-০১৬১৪৮
ছবি : সংগৃহীত
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আবারও শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর শ্রমিকদের একটি অংশ বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আশপাশের অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও কাজে যোগ না দিতে বাধ্য করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকেরা নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে হাজিরা নিশ্চিত করেন। এরপর তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার প্রধান ফটকে জড়ো হন। সেখানে অন্য শ্রমিকদেরও কারখানা থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে শতাধিক কারখানার শ্রমিক সড়কে নেমে আসেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ কয়েকটি পয়েন্টে ধাওয়া দিয়ে তাদের সরিয়ে দিলে শ্রমিকেরা বিভিন্ন শাখা সড়কে অবস্থান নেন।
শ্রমিকদের দাবি, মজুরি বোর্ড আগামী ডিসেম্বরে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও কত টাকা বেতন বাড়ানো হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।এদিকে গতকাল সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশভ্যান ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাভার শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত রয়েছে। তবে নাশকতা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিন সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের পর কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কে বিক্ষোভের পরিবর্তে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দলবেঁধে কারখানায় প্রবেশ করছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের উপস্থিতিতে ফিরতে শুরু করেছে শিল্পাঞ্চলের কর্মচাঞ্চল্য।
আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন ও এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।
এর আগে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনের মধ্যে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।
টানা আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আন্দোলন চলাকালে মারধরের শিকার হয়ে তৌফিক হোসেন শেখ নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর ঘটনাও শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
কয়েক দিনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরার মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার আভাস মিলছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নোয়াখালীর সেনবাগে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৈয়দ নুর (৩৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপের চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান কামাল। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার সৈয়দ নুর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ৫ নম্বর নিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদারপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাদকের একটি বড় চালান নোয়াখালীর দিকে আসছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় রাত সোয়া ১টার দিকে টেকনাফ থেকে আসা একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সৈয়দ নুরকে গ্রেপ্তার করা হলেও চালক পালিয়ে যায়।
ওসি মো. শাহজাহান কামাল আরও বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সেনবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।