• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬, সময় : ২:৩৩ পিএম

কয়েক শ’ বছরের ইতিহাসে সোমবার প্রথমবারের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়।


নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সিলেট থেকে প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনার এ উদ্যোগ নেন।


প্রথমবারের গণনায় মাত্র ৪ দিনে মাজারের দানবাক্সে পাওয়া যায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া কিছু স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়।


প্রশ্ন ওঠেছে, এই টাকা কার কাছে থাকবে? একইসঙ্গে আগে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া টাকা কোথায় যেতো এবং মাজারে দিনে বা মাসে কী পরিমান টাকা উঠে- এসব প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।


এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়। তবে, খাদেমসহ মাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবার গণনা হওয়া টাকা কোথায় রাখা হয়েছে তা তারা জানেন না। এই অর্থ ব্যবস্থাপনা বা সংরক্ষণের সাথে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একইদিনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়। তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান।


এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সারওয়ার আলমকে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।


এদিকে, প্রত্যাহারের আদেশের পরদিন সোমবার প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে প্রথমবারের শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার উদ্যোগ নেন সারওয়ার আলম।


প্রকাশ্যে গণনা শেষে শাহজালাল (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা ৩টি ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা সোনা পাওয়া যায়।


এই টাকা কী করা হবে জানতে চাইলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতের এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ব্যাংক একাউন্টের সাথে সম্পৃক্ত নয় মাজার কতৃপক্ষ।


শাহজালাল (র.) মাজারের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত সপ্তাহে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানিয়েছিলেন, মাজারে দান হওয়া টাকা মাজার কর্তৃপক্ষ ও ওয়াকফ এস্টেটের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এই দুই পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত একটি ব্যাংক একাউন্টে এই টাকা রাখা হবে।


তবে দানের টাকা রাখার জন্য মাজারের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলা হলেও তাতে সম্পৃক্ত করা হয়নি মাজার কতৃপক্ষকে।


এমনটি জানিয়ে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না জানান, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি, শাহজালাল মাজারের নামে ব্যংকে একটা একাউন্ট খোলা হয়েছে। তবে এতে আমাদের কাউকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এমনকি আমাদের জানানোও হয়নি।


তিনি বলেন, কাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার বিষয়টিও আমাদের জানানো হয়নি।


মাজার ভক্তদের সংগঠন আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী বলেন, শুনেছি জেলা প্রশাসক ব্যাংকে একটি একাউন্ট করেছেন। কিন্তু মাজার সশ্লিষ্ট কাউকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এই টাকা কীভাবে বা কারা ব্যয় করবে তাও আমরা জানি না।


সোমবার দানবাক্সের টাকা গণনার পর টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেটের ওয়াকফ অডিটর মো. সজল মিয়া।


এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকাকালে সারওয়ার আলম জানিয়েছিলেন, মাজারের টাকা সরকার নিবে না। এই টাকা মাজারেই ব্যয় করা হবে।


তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও ওয়াকফ ইন্সপেক্টরের যৌথ একাউন্টে এই টাকা রাখা হবে।


আগে দানবাক্সের টাকা কী করা হতো প্রকাশ্যে গণনায় মাত্র চারদিনে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা পাওয়ার পর মাজারের দানবাক্সে মাসে কী পরিমাণ টাকা জমা হয় তার একটা ধারণা করতে শুরু করেছেন অনেকে। আগে মাজার কর্তৃপক্ষের ডেগ ও দানবাক্সেই জমা হতো এই টাকা। যা খাদেমরাই তদারকি করতেন।


প্রশ্ন ওঠেছে এই টাকা কীভাবে ব্যয় হতো? কোথায় যেতো এসব টাকা?


এ ব্যাপারে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, শাহজালাল (র.) বিয়ে করেননি। তবে তার ভাগনে বিয়ে করেছিলেন। শাহজালাল (র.) জীবিত থাকতেই তার মাজারের উত্তোলিত টাকার কিছু অংশ তার ভাগনের সংসারের খরচের জন্য প্রদানের ব্যবস্থা করেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনও রয়েছে। এখন সেই ভাগনের উত্তরসূরী প্রায় ৩০০ পরিবার আছে সিলেটে। যারা সরওকুম, মুফতি ও সৈয়দ পরিবার নামে পরিচিত।


তিনি বলেন, এই তিনশ’ পরিবার থেকে প্রতিদিন একেকজন মাজারের তদারকি ও ব্যবস্থাপার দায়িত্ব পালন করেন। যা ‘বাড়ি প্রথা’ নামে পরিচিত। যিনি যেদিন দায়িত্ব পলন করেন তিনি মাজারের রক্ষণাবেক্ষন খরচ, কর্মীদের বেতন, লঙ্গরখানার থাকা-খাওয়ার খরচ ব্যয় করে যা উদৃত থাকে তা নিয়ে যান। মাজারের ব্যস্থাপনার দায়িত্ব পালনের হাদিয়া হিসেবেই তিনি এই টাকা নেন। আবার সদকা হিসেবে কেউ কিছু প্রদান করলে তা উপযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে বিতরণ করা হয়।


মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, আমরা কখনোই মাজারে দান করার জন্য প্রচার চালাই না। কাউকে বলিও না। এমনকি মাজারের ওরসেরও কোন প্রচার চালানো হয় না। লোকজন নিজের ভক্তি ও ভালোবাসা থেকেই এখানে আসেন, দান করেন।


দিনে কত টাকা উঠে মাজারে


শাহজালাল (র.) মাজারে দিনে কত টাকা উঠে এই নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন হিসেব পাওয়া যায়নি।


মাজার ভক্তদের সংগঠন আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী জানান, মাজারে কত টাকা উঠে তার নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কোন কোন দিন ২০/২৫ হাজার, কোনদিন ৫০ হাজার আবার বৃহস্পতিবার বা এরকম যেসব দিনে ভক্ত সমাগম বেশি হয়, সেসব দিনে এক থেকে দেড় লাখ টাকাও উঠে। যদিও সোমবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গণনায় দেখা যায়, ৪ দিনেই সাড়ে ১৭ লাখ টাকা জমা পড়েছে।তবে নাগরিক সংগঠক আব্দুল করিম কীম জানান, মাজারে টাকা প্রদানের রেওয়াজ খুব বেশি দিনের পুরনো হয়। আগে মানুষজন গাছের ফল বা সবজি, গৃহপালিত কোন পশু বা প্রাণি এসব নিয়ে আসতো। এছাড়া আগে তো থাকার জন্য মাজারের পাশে কোন হোটেল ছিলো না। পর্যটক বা ভক্ত যারাই আসতেন তাদের সবার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা মাজার কর্তৃপক্ষকেই করতে হতো।


পর্যটক ইবনে বতুতা থেকে কবি জসিম উদ্দিন- এরকম অনেকেরই থাকার ব্যবস্থাও মাজার কর্তৃপক্ষকে করতে হয়েছে। ফলে তখন দেখা যেতো আয়ের চেয়ে ব্যয়ই হয়তো বেশি হতো।


তার মতে, জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ মাজার অনুসারী ও কওমী ঘরানার মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে। এই দুই অনুসারীকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ পিএম

‘ক্রীড়াই শক্তি-ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হলরুমে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনসহ মোট ৭৫টি সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।


কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো.গোলাম মোমিত ফয়সালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।


এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মহিম চন্দ্র দাস, কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন,সহ-সভাপতি কামাল হোসেন সৌরভ, কবিরহাট উপজেলী ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছেত হিরন প্রমূখ।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। 


নিয়মিত খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে কবিরহাটে আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হবে। এ সময় কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্‌যাপন এবং উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহিত করতে এ আয়োজন করা হয়।


গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হল মিলনায়তনে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো.গোলাম মোমিত ফয়সাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।  


অনুষ্ঠানে কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী ৫৫জন শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। কাঙ্ক্ষিত সম্মাননা হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।


কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো.জহিরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে ও কবিরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন মামুনের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হুদা ফরহাদ, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সৌরভ হোসেন কামাল প্রমূখ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর