• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৩ জুন, ২০২৬, সময় : ২:৩৩ পিএম

কয়েক শ’ বছরের ইতিহাসে সোমবার প্রথমবারের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়।


নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সিলেট থেকে প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনার এ উদ্যোগ নেন।


প্রথমবারের গণনায় মাত্র ৪ দিনে মাজারের দানবাক্সে পাওয়া যায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া কিছু স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়।


প্রশ্ন ওঠেছে, এই টাকা কার কাছে থাকবে? একইসঙ্গে আগে মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া টাকা কোথায় যেতো এবং মাজারে দিনে বা মাসে কী পরিমান টাকা উঠে- এসব প্রশ্নও দেখা দিয়েছে।


এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়। তবে, খাদেমসহ মাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সোমবার গণনা হওয়া টাকা কোথায় রাখা হয়েছে তা তারা জানেন না। এই অর্থ ব্যবস্থাপনা বা সংরক্ষণের সাথে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করে জেলা প্রশাসন। একইদিনে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়। তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান।


এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সারওয়ার আলমকে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।


এদিকে, প্রত্যাহারের আদেশের পরদিন সোমবার প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে প্রথমবারের শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার উদ্যোগ নেন সারওয়ার আলম।


প্রকাশ্যে গণনা শেষে শাহজালাল (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থাপন করা ৩টি ডেগ ও একটি দানবাক্স খুলে গণনায় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা এবং ৭ আনা সোনা পাওয়া যায়।


এই টাকা কী করা হবে জানতে চাইলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, ‘মাজারের টাকা সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামীয় একটি হিসাবে রাখা হবে। সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। পরবর্তীতের এই টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ব্যাংক একাউন্টের সাথে সম্পৃক্ত নয় মাজার কতৃপক্ষ।


শাহজালাল (র.) মাজারের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত সপ্তাহে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানিয়েছিলেন, মাজারে দান হওয়া টাকা মাজার কর্তৃপক্ষ ও ওয়াকফ এস্টেটের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এই দুই পক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত একটি ব্যাংক একাউন্টে এই টাকা রাখা হবে।


তবে দানের টাকা রাখার জন্য মাজারের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলা হলেও তাতে সম্পৃক্ত করা হয়নি মাজার কতৃপক্ষকে।


এমনটি জানিয়ে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না জানান, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে শুনেছি, শাহজালাল মাজারের নামে ব্যংকে একটা একাউন্ট খোলা হয়েছে। তবে এতে আমাদের কাউকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এমনকি আমাদের জানানোও হয়নি।


তিনি বলেন, কাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার বিষয়টিও আমাদের জানানো হয়নি।


মাজার ভক্তদের সংগঠন আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী বলেন, শুনেছি জেলা প্রশাসক ব্যাংকে একটি একাউন্ট করেছেন। কিন্তু মাজার সশ্লিষ্ট কাউকে এতে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এই টাকা কীভাবে বা কারা ব্যয় করবে তাও আমরা জানি না।


সোমবার দানবাক্সের টাকা গণনার পর টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেটের ওয়াকফ অডিটর মো. সজল মিয়া।


এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকাকালে সারওয়ার আলম জানিয়েছিলেন, মাজারের টাকা সরকার নিবে না। এই টাকা মাজারেই ব্যয় করা হবে।


তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও ওয়াকফ ইন্সপেক্টরের যৌথ একাউন্টে এই টাকা রাখা হবে।


আগে দানবাক্সের টাকা কী করা হতো প্রকাশ্যে গণনায় মাত্র চারদিনে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা পাওয়ার পর মাজারের দানবাক্সে মাসে কী পরিমাণ টাকা জমা হয় তার একটা ধারণা করতে শুরু করেছেন অনেকে। আগে মাজার কর্তৃপক্ষের ডেগ ও দানবাক্সেই জমা হতো এই টাকা। যা খাদেমরাই তদারকি করতেন।


প্রশ্ন ওঠেছে এই টাকা কীভাবে ব্যয় হতো? কোথায় যেতো এসব টাকা?


এ ব্যাপারে হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের খাদেম মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, শাহজালাল (র.) বিয়ে করেননি। তবে তার ভাগনে বিয়ে করেছিলেন। শাহজালাল (র.) জীবিত থাকতেই তার মাজারের উত্তোলিত টাকার কিছু অংশ তার ভাগনের সংসারের খরচের জন্য প্রদানের ব্যবস্থা করেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনও রয়েছে। এখন সেই ভাগনের উত্তরসূরী প্রায় ৩০০ পরিবার আছে সিলেটে। যারা সরওকুম, মুফতি ও সৈয়দ পরিবার নামে পরিচিত।


তিনি বলেন, এই তিনশ’ পরিবার থেকে প্রতিদিন একেকজন মাজারের তদারকি ও ব্যবস্থাপার দায়িত্ব পালন করেন। যা ‘বাড়ি প্রথা’ নামে পরিচিত। যিনি যেদিন দায়িত্ব পলন করেন তিনি মাজারের রক্ষণাবেক্ষন খরচ, কর্মীদের বেতন, লঙ্গরখানার থাকা-খাওয়ার খরচ ব্যয় করে যা উদৃত থাকে তা নিয়ে যান। মাজারের ব্যস্থাপনার দায়িত্ব পালনের হাদিয়া হিসেবেই তিনি এই টাকা নেন। আবার সদকা হিসেবে কেউ কিছু প্রদান করলে তা উপযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে বিতরণ করা হয়।


মুফতি রায়হান উদ্দিন মুন্না বলেন, আমরা কখনোই মাজারে দান করার জন্য প্রচার চালাই না। কাউকে বলিও না। এমনকি মাজারের ওরসেরও কোন প্রচার চালানো হয় না। লোকজন নিজের ভক্তি ও ভালোবাসা থেকেই এখানে আসেন, দান করেন।


দিনে কত টাকা উঠে মাজারে


শাহজালাল (র.) মাজারে দিনে কত টাকা উঠে এই নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন হিসেব পাওয়া যায়নি।


মাজার ভক্তদের সংগঠন আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জামান চৌধুরী জানান, মাজারে কত টাকা উঠে তার নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কোন কোন দিন ২০/২৫ হাজার, কোনদিন ৫০ হাজার আবার বৃহস্পতিবার বা এরকম যেসব দিনে ভক্ত সমাগম বেশি হয়, সেসব দিনে এক থেকে দেড় লাখ টাকাও উঠে। যদিও সোমবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গণনায় দেখা যায়, ৪ দিনেই সাড়ে ১৭ লাখ টাকা জমা পড়েছে।তবে নাগরিক সংগঠক আব্দুল করিম কীম জানান, মাজারে টাকা প্রদানের রেওয়াজ খুব বেশি দিনের পুরনো হয়। আগে মানুষজন গাছের ফল বা সবজি, গৃহপালিত কোন পশু বা প্রাণি এসব নিয়ে আসতো। এছাড়া আগে তো থাকার জন্য মাজারের পাশে কোন হোটেল ছিলো না। পর্যটক বা ভক্ত যারাই আসতেন তাদের সবার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা মাজার কর্তৃপক্ষকেই করতে হতো।


পর্যটক ইবনে বতুতা থেকে কবি জসিম উদ্দিন- এরকম অনেকেরই থাকার ব্যবস্থাও মাজার কর্তৃপক্ষকে করতে হয়েছে। ফলে তখন দেখা যেতো আয়ের চেয়ে ব্যয়ই হয়তো বেশি হতো।


তার মতে, জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ মাজার অনুসারী ও কওমী ঘরানার মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে। এই দুই অনুসারীকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

গ্রাম পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী ‘দফাদার’ পদবি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ করা হয়েছে। এছাড়া ‘মহল্লাদার’ পদ পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে। 


ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন পদবি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।


রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ৪৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে।


সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উপরি-উক্ত বিধিমালার সর্বত্র উল্লিখিত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ পিএম

খুলনার দিঘলিয়ায় পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট খুলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। 


মনিরুল দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। স্থানীয়রা জানান, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তার বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। মুড়ির প‍্যাকেটটি ঘরের ভেতর মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। 


তারা জানান, এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্রে আগুন ধরে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। 


দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে  ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দূর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ অভিমুখে এলজিইডির বাস্তবায়নে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা পাকাকরণের কাজ চলছে।


দীর্ঘদিন থেকে খানাখন্দে ভরপুর রাস্তা যেন যৌবন ফিরে পেল এমনটা মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্ষাকালে এই পথ দিয়ে প্রায় হাঁটু পরিমাণ কাঁদা হতো৷ ইদিলপুর থেকে ধাপের হাট যেতে ঘুরতে হতো ১০ কিলোমিটার রাস্তা। এতে করে উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থের পাশাপাশি নষ্ট হতো পণ্যও৷ সেইসাথে শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হতো চরম বিপাকে। এমনকি রাস্তা খারাপ থাকায় বিয়ে পর্যন্ত ভেঙ্গে যেত।


বর্তমানে এলজিইডি সাদুল্লাপুরের নিবিড় তদারকিতে রাস্তার কাজ স্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে এমনটাই জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।


রাস্তা উন্নয়নের বিষয়ে ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ রহমান জানান, রাস্তার কাজে ব্যবহৃত সকল মালামাল মানসম্মত দেখেছি। তবে আমার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে এটা ভেবেই অনেক ভালো লাগছে।


ধান,হলুদ,মরিচ,পেঁয়াজসহ বহু কৃষিজাত পণ্যের সমাহার ধাপেরহাট ও ইদিলপুর এলাকায়। উর্বর মাটিতে যেন সোনা ফলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নীতকরণের ফলে এখানকার কৃষি একধাপ এগিয়ে যাবে এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।


রাস্তা নির্মাণ নিয়ে কথা হয় সাদুল্লাপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মেনাজ এর সাথে তিনি জানান, ইদিলপুরে আমাদের ২ কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তায় প্রতিটা লেয়ারে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ভালোভাবে করা হয়েছে। আমাদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট সকলে নিরলসভাবে কাজ করছেন।


রাস্তা উন্নয়ন মানেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। তবে কাজের মান ভালো হলেই স্থায়িত্ব ভালো হবে। ভালো কাজে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এমনটা প্রত্যাশা স্থানীয়দের। 

সর্বশেষ সব খবর

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। 


মঙ্গলবার( ৩ নভেম্বর) সকাল এগারোটায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি- ২ আসনের সাংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। 


নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ,নলছিটি পাবলিক লাইব্রেরি এন্ড সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাহার,নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান হেলাল খান,ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নলছিটি উপজেলার সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদুল আলম মান্না, সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা প্রমুখ।


অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হায়দার বাদল। এসময় উপজেলার ১০৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ এএম


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০২ পিএম

সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে থেকে ময়মনসিংহের ভালুকায় দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সড়কের পাশে অবস্থান নিতে এবং বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়।


কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মো. মামুন, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম খান রাজু, ভালুকা উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজমুল হক মন্ডল এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টন। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।


অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।


তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


বক্তারা বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।


দিনব্যাপী এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে থাকা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।


বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


বিজিবি জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর