জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়ক সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় জমির বড় অংশ এখনো বুঝে পায়নি প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ঠিকাদারেরাও পুরোদমে কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকল্পের মেয়াদ দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি ব্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রশস্ততা সম্প্রসারণ করতে প্রায় ১ হাজার ৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা দরকার। এর মধ্যে ৭ জেলায় ৮২৯ দশমিক ৮ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্প কর্তৃপক্ষ মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (২৭৭ দশমিক ২৫ একর) জমির দখল বুঝে পেয়েছে। সাতটির মধ্যে যেসব জেলায় বেশি পরিমাণ জমি দরকার, সেখানেই তুলনামূলকভাবে কম জমি বুঝে পেয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নরসিংদীতে ১৫৮ দশমিক ০৩ একরের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৩৫ একর, হবিগঞ্জে ৩০২ দশমিক ৮৯ একরের মধ্যে ৮৯ দশমিক ৭৫ একর এবং সিলেটে ২৫৪ দশমিক ৯৫ একরের মধ্যে মাত্র ৪৮ দশমিক ৫৬ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্পূর্ণ জমি, মৌলভীবাজারে প্রায় পুরো জমি এবং নারায়ণগঞ্জে ৮০ শতাংশ জমির দখল পেয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জনবল সংকট, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে জটিলতার কারণে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তির পর জমা পড়া বিপুলসংখ্যক আপত্তি নিষ্পত্তিতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে।প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণে সবচেয়ে বেশি জটিলতা রয়েছে হবিগঞ্জ ও সিলেটে। জমি বুঝে না পাওয়ায় সেখানে গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো পরিষেবার লাইন সরানো যাচ্ছে না। গত মার্চে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দেয়।
এতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে সড়কের নির্ধারিত পথে বিপুলসংখ্যক স্থাপনা থাকায় এবং নোটিশের পর অসংখ্য আপত্তি ওঠার কারণে ভূমি অধিগ্রহণ জটিল হয়ে পড়ে। হবিগঞ্জ ও সিলেটের সমস্যা হচ্ছে জমির শ্রেণিগত অসংগতি, অধিগ্রহণ শাখায় জনবল সংকট, গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের পদ শূন্য থাকা এবং কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি। অধিগ্রহণ প্রস্তাব জমার পর নারায়ণগঞ্জে ৯ বার, নরসিংদীতে ১৪ বার, হবিগঞ্জে ৯ বার এবং সিলেটে ১১ বার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন। অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়াও প্রকল্পের কার্যক্রমের গতি ধীর করে দেয়।
জমি অধিগ্রহণে বিলম্বে পুরো প্রকল্পে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজলুল করিম জানান, ‘এখনকার বড় দুই চ্যালেঞ্জ জমি অধিগ্রহণ ও পরিষেবা লাইন সরানোর কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জমি সময়মতো না পেলে মূল সড়ক নির্মাণকাজ বিলম্ব হবে।’ছয় লেনের এই মহাসড়ক নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ ও মূল সড়ক নির্মাণকে দুটি পৃথক প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের মেয়াদ শুরুতে ছিল ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল। পরে তা সংশোধন করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সাল করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৯৭৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারের তরফ থেকে ব্যয় করা হচ্ছে। অন্যদিকে মহাসড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পের ছয় প্যাকেজ ও ১৩ লটের সব কটিতেই ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে মূল সড়ক নির্মাণকাজ পিছিয়ে গেছে। প্রকল্পের অগ্রগতিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, জমি বুঝে পাওয়া প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক বাঁধ নির্মাণকাজ চলছে। এ ছাড়া ৬৬টি সেতুর মধ্যে ৬২টি, ১৩টি ফ্লাইওভারের মধ্যে ৯টি এবং ৩০৫টি কালভার্টের মধ্যে ১৯৮টিতে কাজ চলমান। ১০০টির বেশি কালভার্টের কাজ শেষ হয়েছে।মহাসড়ক নির্মাণকাজের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক জানান, ‘যেখানে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেখানে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জমি না পেলে ঠিকাদার কাজ করবে কীভাবে? জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় সময়মতো নির্মাণকাজ শুরু করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়বে।’ খরচ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৯ কিলোমিটার সড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণ বাবদ ব্যয় বাড়ছে না। নতুন কিছু অবকাঠামো যুক্ত হওয়ার কারণে ব্যয় বাড়বে।সড়কের প্রশস্ততা বাড়ার কারণে স্থানীয় যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেফ ক্রসিং, সেফ ইউটার্ন, আন্ডারপাস ও ওভারপাস যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, সমীক্ষার ভিত্তিতে এসব নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণে ব্যয় বাড়বে। তবে কত টাকা বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ শেষ হলে সড়ক নির্মাণকাজের মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। তবে বর্ধিত ব্যয়ের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অংশ ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি এবং এডিবির ঋণ ১৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৮টি ওভারপাস, ২৬টি ফুটওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন ও ৮টি রাউন্ড অ্যাবাউট (গোলচত্বর) নির্মাণ করা হবে। মহাসড়কের মূল চার লেনের প্রস্থ হবে ৭ দশমিক ৩ মিটার এবং সার্ভিস লেনের প্রস্থ হবে সাড়ে ৫ মিটার।
সম্প্রতি ডিসি সম্মেলনে সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ভূমি অধিগ্রহণ একটি বড় সমস্যা বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক করতে গিয়ে চার বছরেও ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। আগামী দুই মাসের মধ্যে অধিগ্রহণ শেষ করতে বলা হয়েছে।’
প্রকল্পটির সার্বিক বিষয়ে অভিমত চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান জানন, ‘দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রথমেই ভূমি অধিগ্রহণকে আলাদা ‘প্রি-প্রজেক্ট অ্যাকশন’ (প্রকল্প-পূর্ব কাজ) হিসেবে শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনে স্থায়ী ও দক্ষ এলএ সেল থাকা, ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড, নির্ধারিত সময়ভিত্তিক জবাবদিহির ব্যবস্থা রাখা এবং কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি কমানো দরকার। ভূমি অধিগ্রহণ, পরিষেবা ব্যবস্থা সরানো এবং নির্মাণকাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে না পারলে ভবিষ্যতেও বড় প্রকল্পে একই ধরনের জটিলতা তৈরি হবে।'
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমন উপলক্ষে ২০ বছর পর সচল হয়েছিল সিলেট নগরের সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারা। তবে চালুর প্রায় ২০ ঘন্টা পরই আবার তা বন্ধ হয়ে গেছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুরমা পাড়ে ঘুরতে যাওয়া নগরের বাসিন্দারা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফোয়ারটি আগের মতো অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা যায়, রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পরদিনই ফোয়ারায় লাগানো জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়। এরপর এটি বন্ধ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রতির আগমনে সিলেটজুড়ে কয়েকদিন ধরেই চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সেই কাজের অংশ হিসেবে সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে একদম ঝকঝকে করা হয়। এরই সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পর সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারায় পানি আসে। সিলেট সিটিকেরপোরেশন ফোয়ারাটি সচল করে। শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে আছে। ফোয়ারার পাশে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন তরুণ।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াক ওয়ে থেকে অপসারণ করা ভ্রাম্যমান টং দোকানগুলো আবার ওই এলাকা দখল করে বসেছে। পুরো ওয়াকওয়ে চটপটি ও ফুচকার দোকান এবং তাদের বসানো চেয়ারের দখলে।
একইসঙ্গে চাঁদনীঘাট ও কিনব্রিজ দখল করে যত্রতত্র গাড়িও পার্কিং করে রাখা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় ঘুরতে আসা সরকারি চাকরিজীবী রোকশানা বেগম খাদিজা জানান, রাষ্ট্রপতি আসায় এই ফোয়ারাটি চালু করা হয়েছিল। আমি এর আগে কোনদিন এই ফোয়ারাটি চালু অবস্থায় দেখিনি। ফোয়ারা চালু হওয়ায় দেখতে ভালো লাগছিলো। কিন্তু পরদিন থেকেই ফোয়ারাটি অচল হয়ে যায়।
ঘুরতে আসা আরেক তরুণ কাওছর আহমদ জানান, টং দোকান আর গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এই এলকায় হাঁটাচলার কোন সুযোগ নেই। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই জায়গাটি নির্বিঘ্নে হাঁটাাাহাটি ও পর্যটকদের জন্য একটি আর্ষনীয় স্থান হতে পারতো। এখন এটি ঘিঞ্জি বাজারে পরিণত হয়েছে।
সংশ্নিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে (চাঁদনীঘাট এলাকায়) সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রকল্পের কাজ শেষে ২০০৫ সালে তিনি সুরমা নদীর পাড় এলাকার উদ্বোধন করেন।
মূলত সিলেটের সুরমা নদীর পাড়কে নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল এটি। এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় আধুনিক নকশার পাকা ওয়াকওয়ে এবং নদী ঘেঁষে সুরক্ষামূলক দৃষ্টিনন্দন স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে সুরমার তীরের এই উন্মুক্ত স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা সুরমা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর দেখে যান। তবে উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেটি চালু হতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি আসায় গত মঙ্গলবার এটি কয়েকন্টার জন্য সচল করেছিল সিটি করপোরেশন।
সিসিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আসায় জেনারেটর দিয়ে এটি অস্থায়ী ভাবে চালু করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পরদিন জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১২১ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বসুরহাটের নির্ঝর কনভেনশন হল মিলনায়তনে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১২১ শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে অতিথিরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদ, শিক্ষা উপকরণ ও নগদ অর্থ তুলে দেন। সম্মাননা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ বি এস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নূর উদ্দিন রুবেল, বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন সাইফুল প্রমূখ।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিষে তিন শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদের বাবা। ধারণা করা হচ্ছে সন্তানদের বিষ খাইয়ে তিনি নিজেও বিষপান করেছেন। আজ শনিবার ভোরে উপজেলার উত্তরবড়দল ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম রজনী লাইনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত।
ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ও গ্রামের বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, রজনী লাইন গ্রামের শরাফত আলী দিনমজুরের কাজ করেন। তার স্ত্রী চারদিন আগে শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য গেছেন।
১০ বছর বয়সি মেয়ে মাওয়া আক্তার, ৭ বছর বয়সি ছেলে শামীম মিয়া, দেড় বছর বয়সি ছেলে তামিম মিয়াকে নিয়ে বাড়িতেই ছিলেন শরাফত আলী। বাড়িতে আর কেউ না থাকায় বের হতে পারতেন না তিনি।
জামাল মিয়া বলেন, শুক্রবার রাতের শেষ দিকে তাদের গোঙ্গানি শুনতে পেরে প্রতিবেশিসহ স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে বাদাঘাট বাজারে ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
সেখানকার চিকিৎসক তিন শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং শরাফতকে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষপানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শরাফত আলীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন স্বজনরা। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, “শরাফতের বউ প্রবাসে থাকে। সে তিন বাচ্চা নিয়ে বাড়িতে থাকে। স্বজনদের ধারণা মোবাইলে বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে বা বউয়ের শুন্যতায় অভিমানে তিন সন্তানসহ বিষপান করেছে সে। তিন সন্তানই মারা গেছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।”
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, “শনিবার ভোরে খবর পেয়ে বাদাঘাট ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখতে পাই তিনটি শিশু মেঝেতে অচেতন অবস্থায় আছে। পরে চিকিৎসক জানালেন শিশুরা মারা গেছেন। ”
“তাদের বাবাকে স্বজনরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে এখনো প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। ”
শিশুদের লাশ তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের সাগরের পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া আটটার দিকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কলাতলী ও সুগন্ধা সৈকতের মধ্যবর্তী স্থানে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। ওই পর্যটকের নাম মোফাজ্জল ইমাম ওরফে সীমান্ত (২০)। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়ায়। তিনি স্থানীয় ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফ গার্ড। প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, মোফাজ্জলসহ পর্যটকদের ৯ জনের একটি দল ১৬ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসে। তারা কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে উঠেছিল।
গতকাল সন্ধ্যায় সাগরে গোসল করতে নামেন এসব পর্যটক। তবে গোসলের এক পর্যায়ে স্রোতের টানে মোফাজ্জলসহ তিন পর্যটক ভেসে যান। বিষয়টি নজরে আসার পর সি-সেফ লাইফ গার্ড এবং জেলা প্রশাসন নিয়োজিত বিচকর্মীরা সাগরে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এ সময় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সৈকতে কর্মরত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম বলেন, দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মোফাজ্জলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রাত সোয়া আটটার দিকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় সাগর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মোফাজ্জল ইমামের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাঁর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে তাঁদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
লাইফগার্ড কর্মীরা জানান, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় ১০-১২টি গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে। গোসলের সময় ঢেউয়ের তোড়ে কেউ এসব গুপ্তখালে আটকে পড়লে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসলে নামতে নিষেধ করে একাধিক লাল নিশানা ওড়ানো হয়।
তবে তা না মেনে পর্যটকদের অনেকেই সেখানে গোসল করতে নামেন। হোটেলমালিক ও লাইফগার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারের দুই দিনে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন প্রায় আড়াই লাখ পর্যটক।
ছবি : সংগৃহীত
মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসানো এক যুবক, দুই পাশে দুই ব্যক্তি। দুপুরবেলায় অজানা গন্তব্যে এগিয়ে যাচ্ছিল মোটরসাইকেলটি। কাছেই টহলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে চোখাচোখি হয় ওই যুবকের।
যুবকের মুখভঙ্গি ও শারীরিক ভাষা দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করে কিছুক্ষণ পর ওই যুবকের চিৎকার শুনতে পান পুলিশ। পরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচজনকে।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয় দিয়ে আবদুস সামাদ (৩১) নামের ওই যুবককে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছিল।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় নটর ডেম কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছিট আলোকদী এলাকার শামীম ইসলাম (৩৫), ময়মনসিংহ নগরের সুতিয়াখালী এলাকার আল-আমীন (২০), শেরপুরের নকলা উপজেলার চরভাবনা এলাকার ফারুক আহম্মেদ (৩৫), সুতিয়াখালী এলাকার পিয়াস মিয়া (২২) এবং নগরের বাগমারা এলাকার দিদারুল ইসলাম (৫৮)।
উদ্ধার হওয়া আবদুস সামাদের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পনঘাগড়া এলাকায়। তিনি চুরখাই বাজারে গো-খাদ্যের ব্যবসা করেন।
আবদুস সামাদ পুলিশের হেফাজতে বলেন, গতকাল বাড়ি থেকে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে চুরখাই এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নেন। তাঁরা নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাঁকে জালালের মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়। তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আসল পুলিশ না এলে কী হতো জানি না।’
কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম বলেন, নটর ডেম কলেজের পেছনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে টহল দেওয়ার সময় তিনি একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখেন। মাঝে বসানো যুবকের সঙ্গে চোখাচোখি হলে তাঁকে বিপদগ্রস্ত মনে হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকেন। এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনতে পান।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে আবদুস সামাদ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। আজ শনিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শামীম ইসলাম নিজেকে সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুই মাসের বার্ষিক ছুটিতে গিয়ে তিনি আর ইউনিটে ফেরেননি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন সিটি করপোরেশনের কম্পিউটার অপারেটর আছেন। তাঁরা আগে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারি মাঠে বাণিজ্য মেলা
গাইবান্ধা শহরের বাংলা বাজার পুরাতন সরকারি কোয়ার্টার ভবনের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে মেলার অনুমোদন, সরকারি জায়গা ব্যবহারের শর্ত এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত আয়োজক সংস্থার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মেলা আয়োজনের অনুমতি সংক্রান্ত সরকারি সেবা এবং মেলা পরিপত্র প্রকাশিত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বাজার পুরাতন সরকারি কোয়ার্টার ভবনের মাঠটি সরকারি জায়গা। ফলে সেখানে মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের শর্ত, মেলার অনুমোদন এবং অনুমোদনপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না- এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মেলার অনুমোদন যদি কোনো চেম্বার অব কমার্স বা নির্দিষ্ট আয়োজক সংস্থার নামে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বাস্তবে মেলার সার্বিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মেলার আয়োজনের দায়িত্ব বা অনুমোদন কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে মেলার স্টল নির্মাণ, সাজসজ্জা, বিদ্যুৎ, সাউন্ড, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতাসহ নির্দিষ্ট সেবামূলক কাজের জন্য ঠিকাদার বা ভেন্ডর নিয়োগ করা হয়ে থাকলে সেটি আলাদা বিষয়। এসব সেবামূলক কাজের চুক্তিকে পুরো মেলার দায়িত্ব বা নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। ফলে এ বিষয়ে অনুমোদনপত্র, শর্তাবলি, চুক্তিপত্র ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি যাচাই করেই প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মবণ্টনেও দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অনুমতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, মেলা আয়োজনে সরকারি জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি ও শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানা গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মেলার অনুমোদন, সরকারি জায়গা ব্যবহারের অনুমতি এবং মেলার প্রকৃত ব্যবস্থাপনা কাঠামো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তবে মেলা আয়োজনের অনুমোদন বা দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।