পঞ্চগড়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে পা ভাঙার অভিযোগ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ পিএম

দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক মামলা, হামলা, নির্যাতন ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বলে দাবি করেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ রাজিউর রহমান দীপক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস থেকে কখনো সরে যাননি বলে জানান এই নেতা।


সম্প্রতি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১০ নম্বর গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৭৬ নম্বর গলেহা কান্তমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর পায়ের হাড় ফেটে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর বাড়িতে হামলা, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার অভিযোগও তুলেছেন।


রাজিউর রহমান দীপকের দেওয়া লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়টির ১২ সদস্যের সম্মতিক্রমে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।


তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়ার সময় এনসিপির একজন কর্মী প্রধান শিক্ষকের সরকারি কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। প্রধান শিক্ষক বারবার অনুরোধ করলেও ওই ব্যক্তি কাগজপত্র ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে তিনি কাগজপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি অন্য কর্মীদের খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল লোক এসে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে লোহার রডের আঘাতে তাঁর পায়ের হাড় ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু সেখানেও হামলাকারীরা আবার হামলা চালায় এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলেন বলেও জানান দীপক। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের কোনো খবর পাননি বলে দাবি করেন তিনি।


তবে এ ঘটনার পর দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাজিউর রহমান দীপক। তাঁর বাবা ওই ওয়ার্ড বিএনপির তিনবারের সভাপতি ছিলেন। তিনিও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।


এদিকে, দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা পর্দার আড়াল থেকে অভিযুক্তদের সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন দীপক। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এমন পরিস্থিতিতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে পঞ্চগড় জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব হোসেন সেলিম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৭ পিএম

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা উপজেলার রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর ও নিজামপুর ইউনিয়নের নিতাইরচক গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুইদিন আগে নিতাইরচক গ্রামের নানু মিয়ার বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। চুরির ঘটনার সঙ্গে রাজিউড়া ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের জালাল মিয়া জড়িত রয়েছেন এমন অভিযোগ উঠে। পরে এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আজ শুক্রবার এলাকার স্থানীয় মুরুব্বিরা সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। পরে সকাল ১০টার দিকে দুইপক্ষের লোকজন সালিশে উপস্থিত না হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।


পরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশকয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। 


আহতদের মধ্যে তোফাজ্জুল মিয়া, জিতু মিয়া, আব্দুল আহাদ, আদম আলী, সোহেল মিয়া, সানু মিয়া, নানু মিয়া লিটন মিয়া, নুরুজ মিয়া, মারাজ মিয়া, হাবিবুর রহমান, এমদাদুল মিয়া, শিষ আলী, পারভেজ মিয়া, বিলাল মিয়া, আক্কাস মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৮ পিএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের পশ্চিম বাদুরতলী এলাকার সহায়-সম্বলহীন অসহায় বৃদ্ধ আয়েজ উদ্দিন তালুকদার (৮০)-এর চিকিৎসাসেবায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধের খোঁজখবর নেন প্রেসক্লাবের সদস্যরা। এ সময় তাঁর প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করে দেন তাঁরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আসলাম শিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেহান উদদীন রেহান, সদস্য আরিফ শিকদার, এ কে আজাদ ও মো. আলমগীর হোসেনসহ অন্যরা।


এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আসলাম শিকদার বলেন, লোকমুখে জানতে পারেন, কলাপাড়া হাসপাতালে একজন অসহায় বৃদ্ধ ভর্তি হয়েছেন। তিনি কলাপাড়া পৌরশহরের রাস্তার পাশের ফুটপাতে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বর্তমানে কর্মহীন তার আয়ের কোন উৎস নাই এবং সক্ষম কোন স্বজন নাই। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রয়োজন হয়, যা কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্যরা মিলে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন।


তিনি আরও বলেন, আমরা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর রাখছি। ভবিষ্যতেও তাঁর ওষুধের প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করা হবে। শুধু এই রোগীই নন, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে আমরা সব সময় থাকতে চাই। এটি উপজেলা প্রেসক্লাবের সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি অংশ, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


টাঙ্গাইল জেলা ব্যাপী তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "মূর্খ সংঘ"এর আয়োজনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজ প্রকৃতি ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভয়াবহ বজ্রপাত রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টাঙ্গাইল জেলা ব্যাপী তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। 


 বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে তাল বীজ বপনের মাধ্যমে  কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আশেক পারভেজ।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই সকলকে যার যার অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাড়াতে কাজ করতে হবে। 


তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বজ্রপাত রোধে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "মূর্খ সংঘ" এর উদ্যোগে তাল বীজ লাগানোর যে কার্যক্রম শুরু করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।


এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ হাসান খান টিটন, মোঃ চঞ্চল চৌধুরী, শামীম আলম মামুন,"মূর্খ সংঘ"এর উদ্যোক্তা মোস্তাক আহমেদ রানা উপস্থিত ছিলেন।



দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৮ পিএম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের গতানুগতিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও হবে না। কিছুটা সময় লাগলেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার কাজ করছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, আগে দেশে অরাজকতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্বাভাবিকভাবে অনেক কাজ করা সম্ভব হতো না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। তবে এখন আর এসব চলতে দেওয়া হবে না। সরকার দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রমাণ করেছে, আগের মতো নির্বাচন আর হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও হবে না। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের মধ্য দিয়েও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।


দেশের সার্বিক উন্নয়নে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা খাতকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, আহাজারি ও অভিযোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।


তিনি বলেন, সরকারি অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ সব প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সবার সদিচ্ছা থাকলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডাক্তার আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও -৩ আসনের এমপি জাহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩১ পিএম

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও চাকরির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।


জানা গেছে, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ প্রধান মুকুল হোসেন এবং বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ প্রধান আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে লালপুরের ৯৪ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।


মুকুল জানান, সমাবেশের নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকার তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড। শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নির্ধারিত পোশাকে সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এ মহাসমাবেশে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার দফাদার ও মহল্লাদার গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।


গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি, বর্তমান বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং চাকরির যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা ও সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


তাই এবারের মহাসমাবেশ থেকে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসবে—এমন প্রত্যাশা করছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।


লালপুরের অংশগ্রহণকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যরা আশা করছেন, তাঁদের সম্মিলিত দাবিগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩০ পিএম

৬২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে পৌঁছেছে সাড়ে ১৩ মিটার গভীরতার ‘এমভি এমবিএস তাইসি’ নামের একটি মাদার ভ্যাসেল। গতকাল রাত ৮টার দিকে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে (প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে) এসে পৌঁছায়।


১৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২ মিটার প্রস্থের জাহাজটি গত ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার তারাহান বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। জাহাজটিতে আনা কয়লা পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।


পায়রা বন্দররের উপপরিচালক (ট্রাফিক) জনাব আজিজুর রহমান বলেন, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে চ্যানেলের  নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজগুলো সরাসরি  বন্দরে  প্রবেশ করতে পারছে না । গত মার্চ ২০২৬ এর পর  থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া এ্যাংকোরেজে থেকে শিপ টু শিপ পদ্ধতিতে কয়লা খালাস করে  ছোট ছোট লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বিসিপিসিএল ও আরএনপিএল জেটিতে কয়লা পরিবহন করা হচ্ছিলো।


বর্তমানে পায়রা আউটার এ্যাংকোরেজ শিপ টু শিপ কার্গো হ্যান্ডলিং এর জন্য  উপযোগী হওয়ায় এখন থেকে বিসিপিসিএল ও আরএনপিএল এর কয়লাবাহী মাদার ভ্যাসেল  সরাসরি পায়রা আউটার এ্যাংকোরেজে আসবে এবং  লাইটারিং এর মাধ্যমে ড্রাফট কমিয়ে ১৮/২০ হাজার মেট্রিকটন কার্গো নিয়ে মাদার ভ্যাসেল পায়রা বন্দরের ইনার এ্যাংকোরেজে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে কয়লা পরিবহন খরচ হ্রাস পাবে।পাশাপাশি পায়রা বন্দরের  রাবনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে  চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি করা গেলে কয়লা নিয়ে মাদার ভ্যাসেল সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে ।


পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস. এম. শরিফুর রহমান জানান, গতকাল রাতে মাদার ভ্যাসেলটি নির্বিঘ্নে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। আজ থেকেই পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। অর্ধেকের বেশি পণ্য খালাসের পর জাহাজটি টার্মিনালে এসে অবশিষ্ট পণ্য খালাস করবে।


তিনি আরও বলেন, এখন থেকে একের পর এক জাহাজ পায়রা বন্দরে আসতে থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।