নীলফামারীর জলঢাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার অভিষেক অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মনি। প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি। মুঠোফোনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।
অন্যান্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোল্লা ইফতেখার আহমেদ, জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম ও হাসান রাব্বি প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ড. মেজবাহুর রহমান প্রধান (মেজবা) সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নীতিমালা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখবে এসময় সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়েরও আহ্বান জানান তিনি।
সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ (সালাফি) সাংবাদিকদের সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। অন্যায়ভাবে কোনো সাংবাদিক হয়রানির শিকার হলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ জলঢাকার পুনর্গঠিত কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। পরে সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব কামরুজ্জামান সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ছবি : সংগৃহীত
মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসানো এক যুবক, দুই পাশে দুই ব্যক্তি। দুপুরবেলায় অজানা গন্তব্যে এগিয়ে যাচ্ছিল মোটরসাইকেলটি। কাছেই টহলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে চোখাচোখি হয় ওই যুবকের।
যুবকের মুখভঙ্গি ও শারীরিক ভাষা দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করে কিছুক্ষণ পর ওই যুবকের চিৎকার শুনতে পান পুলিশ। পরে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় পাঁচজনকে।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য পরিচয় দিয়ে আবদুস সামাদ (৩১) নামের ওই যুবককে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছিল।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় নটর ডেম কলেজের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছিট আলোকদী এলাকার শামীম ইসলাম (৩৫), ময়মনসিংহ নগরের সুতিয়াখালী এলাকার আল-আমীন (২০), শেরপুরের নকলা উপজেলার চরভাবনা এলাকার ফারুক আহম্মেদ (৩৫), সুতিয়াখালী এলাকার পিয়াস মিয়া (২২) এবং নগরের বাগমারা এলাকার দিদারুল ইসলাম (৫৮)।
উদ্ধার হওয়া আবদুস সামাদের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পনঘাগড়া এলাকায়। তিনি চুরখাই বাজারে গো-খাদ্যের ব্যবসা করেন।
আবদুস সামাদ পুলিশের হেফাজতে বলেন, গতকাল বাড়ি থেকে এক আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে চুরখাই এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে তুলে নেন। তাঁরা নিজেদের ডিবি ও ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাঁকে জালালের মোড় এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়। তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আসল পুলিশ না এলে কী হতো জানি না।’
কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম বলেন, নটর ডেম কলেজের পেছনে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে টহল দেওয়ার সময় তিনি একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখেন। মাঝে বসানো যুবকের সঙ্গে চোখাচোখি হলে তাঁকে বিপদগ্রস্ত মনে হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি মোটরসাইকেলটির গতিবিধি অনুসরণ করতে থাকেন। এর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনতে পান।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে আবদুস সামাদ বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। আজ শনিবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শামীম ইসলাম নিজেকে সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুই মাসের বার্ষিক ছুটিতে গিয়ে তিনি আর ইউনিটে ফেরেননি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন সিটি করপোরেশনের কম্পিউটার অপারেটর আছেন। তাঁরা আগে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারি মাঠে বাণিজ্য মেলা
গাইবান্ধা শহরের বাংলা বাজার পুরাতন সরকারি কোয়ার্টার ভবনের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে মেলার অনুমোদন, সরকারি জায়গা ব্যবহারের শর্ত এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত আয়োজক সংস্থার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মেলা আয়োজনের অনুমতি সংক্রান্ত সরকারি সেবা এবং মেলা পরিপত্র প্রকাশিত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বাজার পুরাতন সরকারি কোয়ার্টার ভবনের মাঠটি সরকারি জায়গা। ফলে সেখানে মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি, সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের শর্ত, মেলার অনুমোদন এবং অনুমোদনপত্রে উল্লেখিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না- এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মেলার অনুমোদন যদি কোনো চেম্বার অব কমার্স বা নির্দিষ্ট আয়োজক সংস্থার নামে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে বাস্তবে মেলার সার্বিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মেলার আয়োজনের দায়িত্ব বা অনুমোদন কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে মেলার স্টল নির্মাণ, সাজসজ্জা, বিদ্যুৎ, সাউন্ড, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতাসহ নির্দিষ্ট সেবামূলক কাজের জন্য ঠিকাদার বা ভেন্ডর নিয়োগ করা হয়ে থাকলে সেটি আলাদা বিষয়। এসব সেবামূলক কাজের চুক্তিকে পুরো মেলার দায়িত্ব বা নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। ফলে এ বিষয়ে অনুমোদনপত্র, শর্তাবলি, চুক্তিপত্র ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি যাচাই করেই প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মবণ্টনেও দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য মেলা আয়োজনের অনুমতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, মেলা আয়োজনে সরকারি জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি ও শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানা গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মেলার অনুমোদন, সরকারি জায়গা ব্যবহারের অনুমতি এবং মেলার প্রকৃত ব্যবস্থাপনা কাঠামো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তবে মেলা আয়োজনের অনুমোদন বা দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ছবি : সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্ধারিত দামে সার না পাওয়া ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকজন কৃষক।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, ভরা আমন মৌসুমে সরকারি নির্ধারিত দামে ডিলারের কাছ থেকে ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ খুচরা দোকানে একই সার কেজিপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রান্তিক ও ছোট কৃষকেরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কৃষক বলেন, দিনের পর দিন ডিলারের কাছে ঘুরেও তিনি সার পাননি। কিন্তু খুচরা দোকানে অতিরিক্ত টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার যোগসাজশে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলী বাজারের একটি খুচরা সারের দোকানে গিয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সেখানে থাকা কৃষকেরা তাঁকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা ওই কর্মকর্তাকে ঘিরে সড়কে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে ওই কর্মকর্তা পাশের একটি দোকানে ঢুকে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্বপন কুমারকে উদ্ধার করে। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্বপন কুমার বলেন, গতকাল রাত আটটার দিকে তিনি ওই বাজারে গেলে কৃষকেরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় কেউ কেউ তাঁকে গালাগাল দেন। বিক্ষুব্ধ কৃষকদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
সারের দোকানে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে স্বপন কুমার বলেন, কৃষকদের তথ্য নেওয়া এবং কোথায় কী পরিমাণ সারের প্রয়োজন, এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে যেতে হয়। গতকালও তেমন কিছু তথ্য নিতেই তিনি বাজারে গিয়েছিলেন।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, গতকাল ওই বাজারে সার বিক্রির কোনো কথা বা ঘোষণা ছিল না। তবে সেখানে কৃষি কর্মকর্তাকে কৃষকেরা ঘিরে ফেলেছেন- এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হয়।
এর আগে একই দিন সকালে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায়ও সারসংকট ও অনিয়মের অভিযোগে এক কৃষি কর্মকর্তাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। নির্ধারিত দামে সার না পাওয়া ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে তাঁরা ওই বিক্ষোভ করেন।
‘ক্রীড়াই শক্তি-ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হলরুমে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনসহ মোট ৭৫টি সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো.গোলাম মোমিত ফয়সালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মহিম চন্দ্র দাস, কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন,সহ-সভাপতি কামাল হোসেন সৌরভ, কবিরহাট উপজেলী ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছেত হিরন প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
নিয়মিত খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে কবিরহাটে আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হবে। এ সময় কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপন এবং উচ্চশিক্ষার পথে উৎসাহিত করতে এ আয়োজন করা হয়।
গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হল মিলনায়তনে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো.গোলাম মোমিত ফয়সাল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী ৫৫জন শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। কাঙ্ক্ষিত সম্মাননা হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো.জহিরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে ও কবিরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন মামুনের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হুদা ফরহাদ, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সৌরভ হোসেন কামাল প্রমূখ।
সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে।
ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।
’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’
বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।
আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’
ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’