রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান এক বছর ১১ মাস অর্থাৎ ২৩ মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িত ছিলো সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পটপরিবর্তনের পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হতে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. শহিদা আক্তার বানু ২৫ আগস্ট হতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আ.ত.ম মকছুদার রহমানকে (দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন রংপুরের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান। মাকছুদার রহমান ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল অবসরে গেলে কিছুদিন সিনিয়র শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ প্রতিষ্ঠানটির অফিস কক্ষে সিনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ চলতি বছরের ১৮ মে এক পত্রের মাধ্যমে ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ হতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে দায়িত্বে পুনরায় বহাল করেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওই পত্র অনুযায়ী গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার স্মারকমূলে অধ্যক্ষ শাহজাহান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় উক্ত শিক্ষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয়পদে বহাল হওয়ায় অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বীয়পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মোস্তফা জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি।
তবে ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা স্কুলের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের দাবি, অধ্যক্ষ শাহজাহান প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত অবস্থায় আছেন। কোন মিটিংয়েই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাকডেটে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে বরখাস্ত দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো তাকে পুনর্বহাল করেছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ। ম্যানেজিং কমিটির মতামত না নিয়ে একক ক্ষমতাবলে তিনি অধ্যক্ষ শাহজাহানকে পুনর্বহাল করেছেন।
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করেই অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত বেতন সাবমিট করে নাই। কোনো কারণ ছাড়াই বেতন বন্ধ করে দিয়ে এটিকে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি অধ্যক্ষ শাহজাহান।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের সারে তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা স্বেচ্ছায় ছুটি ছাড়াই আসেনি প্রতিষ্ঠানে। ক্লাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাড়িতে চলে গেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, গত তিন চার মাস থেকে স্কুলে ক্লাস ভালভাবে হচ্ছে না। আমরা শুনেছি আমাদের যে অধ্যক্ষ রয়েছেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি তো গত দুই বছর থেকেই স্কুলেই আসে না। শিক্ষকরাও আসে, আসে না।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, অনেকে উপবৃত্তির টাকা পেলেও আমরা উপবৃত্তির টাকা পাইনি। এজন্য স্যারদের কাছে গিয়েছিলাম। তারা বলছেন কলেজের অধ্যক্ষ পাসওয়ার্ড নিয়ে রাখার কারণে তারা সাবমিট করতে পারে নাই। আর অধ্যক্ষ স্কুলে আসে না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জুলি বলেন, অধ্যক্ষ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক গত দুই বছর থেকে প্রতিষ্ঠানে আসেন না। স্যার ম্যাডাম এর যখন যার ইচ্ছা আসে যায় তেমন একটা ক্লাস হয় না আমাদের তাই আমরাও দুপুর হলেই চলে যাই। অনেকে আবার স্কুলেই আসে না।
সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ বলেন, ডিসি অফিসের মিটিংয়ে আমরা যখন যাই। তখন এডিসি স্যার উপস্থিতির স্বাক্ষর নেন। দুই একটা কথা বলি মিটিং শেষ করেন। পরবর্তীতে রেজুলেশনে উনি কি লেখেন, না লেখেন আমরা কিছুই জানি না। যে ১৬ তারিখের মিটিংয়ের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে তারিখে গভর্নিং বডির কোন মিটিং হয়নি। তার আগে ১২ তারিখ মিটিং হয়েছে। কিন্তু সেদিন কোনো ডিসিশন হয়নি। অধ্যক্ষকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, কবে বহাল করা হয়েছে আমরা কিছুই জানি নাহ।
সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, অধ্যক্ষের বরখাস্ত হওয়া এবং বহাল হওয়ার বিষয়টি আমরা জানি না। মিটিংয়ের পরে কি লিখেছে সেটাও জানি না।
সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ শাহজাহান স্যার এখনো অনুপস্থিত। উনি আসেন না। উনাকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান বলেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর মিনিস্ট্রি অডিটের সময় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চলতি বছরের ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে পাঠানো এক পত্রে জানতে পারি আমাকে অব্যাহতি প্রদান করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এরপরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করে অনুপস্থিত থেকেই এমপিওসহ সকল ধরনের পাসওয়ার্ড নিজের কাছে নিয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান আমার ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও বেতন সাবমিট করে নাই।
গত ২ মাস থেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার বেতন বন্ধ করে রাখছে অনুপস্থিত থাকা অধ্যক্ষ। আজ পর্যন্ত আমি জানি না কি কারণে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমি কোন সমাধান পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও অনুপস্থিত অধ্যক্ষের কাছে পাসওয়ার্ড থাকায় ষষ্ঠ, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ফরম যথাসময়ে সাবমিট করতে না পারায় ২০০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হয়েছে। পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পরে একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুপস্থিত অধ্যক্ষ শাহজাহান সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের নামে একটি নোটিশ ইস্যু করে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে আসছেন না। ক্লাসগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না গত দুই মাস থেকেই।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। মোস্তফা জামান মুকুল মাস্টার হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখে। সেখানে আমার আস্থাভাজন কোনো লোক নেই। আমি চাকরি করি, সবাই আমার লোক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান মুকুলের বেতন কেনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন আমার বিলটা বন্ধ ছিলো, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বিল প্রদানের আদেশ প্রদান করার পরেও আমার বিল না করায় মন্ত্রণালয় মোস্তফা জামান মুকুলের বিল বন্ধ করে দিছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কেন হলো না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মোস্তফা মাস্টার উপবৃত্তির ফরম তুলে নিজের কাছে রাখায় উপবৃত্তি ফরম সাবমিট করা সম্ভব হয়নি। এজন্য বাচ্চাদের উপবৃত্তি হয়নি। এখানে আমার কোন অপরাধ নেই। প্রতিষ্ঠানটা নষ্ট করি ফেলছে মুকুল মাস্টারসহ কিছু স্থানীয়রা।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন জানান, সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনার জন্য দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে স্বীয় পদে বহাল করা হয়। যদি প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে থাকে সেটি আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তাকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিবো। অবশ্যই নিয়মিত অফিস করতে হবে।
এনায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন উপবৃত্তি পায়নি। এর পিছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল জানান, আমি কয়েকদিন থেকে এডিসি রাজস্ব স্যারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আগের এডিসি স্যার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু বলতে পারতো। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম দুর্নীতি জালিয়াতির এক অভয় অরন্যে পরিনিত হয়েছে। ঘুস দুর্নীতি জালিয়াতি আর সাধারণ মানুষ কে ধোঁকা দেওয়া, আজ নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । অর্থের বিনিময় বালাম বই এর পাতা ছিঁড়ে ফেলা, টাকার বিনিময় রেজি:কৃত দলিলের পাতা পরিবর্তন পরিবর্ধন আজ নিত্য দিনের ব্যাপার । সাধারণ মানুষের নতুন করে দলিল বালাম বইতে লিপিবদ্ধ করতে ৫/৬ বছর সময় লাগে ।
সেই সুযোগে বুঝে অফিসের অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা যোগ সাজশ করে বিপুল পরিমাণ কালো অর্থৈর বিনিময় দূর্নীতি তে লিপ্ত হচ্ছে । সেবা গ্রহীতা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত দলিলের জাবেদা কপি তুলতে সরকারি ফির পরিবতে ৪/৫ গুন টাকা আদায় করছে তারা ।
সাধারণ মানুষ কে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে ছেঁড়া পাতা বই নেই ভলিয়ম পোকা খেয়ে ফেলেছে, পাতা ছিঁড়া, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না , ইত্যাদি ইত্যাদি ওজুহাত দেখিয়ে অফিসে চার পাশের সিন্ডিকে দালালরা ও কর্মচারীগন সাধারণ মানুষ কে জিম্মি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
এখানে প্রতিদিন গড়ে এখানে ১০০থেকে১৫০ টিরও অধিক দলিল রেজিঃ হলেও সরকারি নির্ধারিত ফি বাদ দিয়েও অফিসের উপরি খরচ বাবদ সাহেব উপরি সর্বমোট ২/৩ হাজার টাকা প্রতি এক একটি রেজিঃদলিল করে হাতিয়ে নিচ্ছে তারা । থাম টিপ আজগর দলিলের পাতায় পাতায় ১০০টাকা না পেলে দলিল পার হয় না । অফিসে সরজমিনে গেলেই দেখা গেছে অসংখ্য নতুন দলিল মেঝেতে অযত্নে পড়ে আছে ।
অফিসে সরকারি হেফাজত কৃত রেজিঃ দলিলের মূল পাতা পরিবর্তন করে । নতুন পাতা সংযোজনের এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে । তথ্যঅনুসন্ধান ও মামলা সুত্রে জানা যায়। মোঃ নুরুজ্জামান ওরফে শাহীন (৬০) রংপুর মহানগরী মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন।উক্ত এজহার ও অন্য ১১৯/২২ বাটোয়ারা মামলা থেকে জানা যায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ২৮৭৫/২০২২ ও ২৮৭৬/২০২২ নম্বর হেবা ঘোষনার দলিলের জাবেদা কপি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারী রংপুর সদর সাবরেজিস্টার অফিস থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ২৮৭৫/২০২২ ও ২৮৭৬/২০২২ নম্বর হেবা ঘোষণার দলিলের নতুন করে জাবেদা কপি সংগ্রহ করেন তাঁরা।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, আগের সংগ্রহ করা জাবেদা কপির সঙ্গে নতুন কপির তুলনা করে তাঁরা গুরুতর অসংগতি দেখতে পান। উভয় দলিলের তৃতীয় পাতার সপ্তম দফার বক্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছে। পুরোনো পাতা সরিয়ে সেখানে নতুন করে কম্পিউটারে টাইপ করা পাতা সংযোজন করা হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
এ সময় কয়েকজন সাক্ষীও উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।আরও জানা যায় প্রথমে উক্ত ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ নম্বর হেবা ঘোষণার দলিল দুটি রেজিষ্ট্রেশন করা হয় দুইটি ভূয়া হেবাবিল এওয়াজ দলিলের সূত্রে যাহার নম্বর ১৪৪৩/০৩ ও ১৪৪৪/০৩ এবং হেবা ঘোষণার দলিল দুটি দাতা ও গৃহীতা হলেন দুই ভাই বোন এ এস এম আতাউজ্জামান ও সৈয়দা রেজিনা জামান এবং পরবর্তীতে দলিলের পাতা ও দফা পরিবর্তন করে ভিন্ন বক্তব্য সংযোজন করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরিবর্তিত দলিলের ভিত্তিতে অনলাইনে পুনরায় নামজারি ও খাজনা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকি জমি অন্যত্র বিক্রির চেষ্টাও করা হয়েছে। এতে পরিবারের অন্য উত্তরাধিকারীরা তাঁদের ন্যায্য সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
অভিযোগকারীর দাবি সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
দলিলের সততা যাচাইয়ে দুই ধরনের তথ্য, প্রশ্ন সরকারি নথির নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একই দলিল নম্বরের বিপরীতে দুই ধরনের তথ্য ও বক্তব্য থাকার দাবি। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সরবরাহ করা আগের ও পরের জাবেদা কপির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে দলিলের সত্যতা যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া একই জমি নিয়ে একাধিকবার দলিল তৈরি, পৃথক ব্যক্তির নামে নামজারি এবং দলিলের তথ্য পরিবর্তনের অভিযোগ সত্য হলে তা ভূমি নিবন্ধন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
জমির মালিকানা নির্ধারণ, উত্তরাধিকার ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রমাণ। সরকারি দপ্তরে সংরক্ষিত মূল নথির তথ্য নিয়েই যদি প্রশ্ন ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের জমিজমার কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ৫৭ ধারায় নির্দিষ্ট নিবন্ধন বই পরিদর্শন এবং সেখান থেকে সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।
একই আইনের ৬০ ও ৬১ ধারায় নিবন্ধন সনদ এবং নিবন্ধন-পরবর্তী কার্যক্রমের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ৮১ ধারায় ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ভুলভাবে দলিল নকল, অনুলিপি বা নিবন্ধনের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে।
প্রতিবেদক জেলা রেজিস্ট্রার শামিমা পারভীন কে জিজ্ঞেসা করা হলে তিনি বলেন, উক্ত বিষয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের সাবরেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ কে ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ দলিলের বিষয়ের ৩ নম্বর পাতার সাত দফা পরিবর্তনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন।
এই বিষয় প্রতিবেদক সদর সাবরেজিস্টার অফিস কর্মচারী দলিল লিপিবদ্ধকারী মোছা: সেলিনা ও উর্মী বেগম কে ২৮৭৫/২২ ও ২৮৭৬/২২ দলিলের ৩ নম্বর পাতার সাত নম্বর দফা পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনিও এর সত্যতা স্বীকার করেন।
গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অযৌক্তিক ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় টঙ্গী স্টেশন রোডের সরকার বাড়ির সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেশন রোডে এসে শেষ হয়।
মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহনুর ইসলাম রনি এবং টঙ্গী থানা বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নবীন হোসেন।
পথসভায় বক্তারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো মহল যেন শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাবনার আদালতে ৫৪ লাখ টাকা জরিমানা ও এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত ওয়াহেদুল ইসলামের রংপুর ও মিঠাপুকুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায় কার্যকর এড়াতে সম্পত্তি গোপনে হস্তান্তরের অপচেষ্টা চলায় রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর সাব-রেজিস্ট্রার এবং সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়েছে।
আদালতের নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সুরুজ গত ১১ অক্টোবর রংপুর সদর ও মহানগর সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে এস.সি-১২৮৪/২০২৫ মামলার রায় অনুযায়ী আসামির নামীয় সকল সম্পত্তির হস্তান্তর, দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি মিউটেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে জাতীয় দৈনিক প্রলয় পত্রিকায় গত ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত এক সংবাদে ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের সদস্য হিসেবে ওয়াহেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে রংপুরে ব্যবসায়িক বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়।
অপরদিকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত পাবনার বিচারক এম. সারওয়ার জাহান স্বাক্ষরিত আদেশের সত্যায়িত অনুলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের রায়ে আসামি ওয়াহেদুল ইসলামকে Negotiable Instruments Act ১৮৮১ এর ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামি জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬[১][খ] ধারা মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাবনা বরাবর অর্থ আদায়ের জন্য আদেশের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলাটি এস.সি-১২৮৪/২০২৫। বাদী ওমায়ের ইসলাম। বর্তমানে আসামি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। একই আদালতে তার বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকার অপর মামলা এস.সি ১২৮৫/২০২৫ এর রায় আগামী ২১ নভেম্বর ঘোষণার জন্য ধার্য রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আদালতের ক্রোকাদেশ চলমান থাকা অবস্থায় ওয়াহেদুল ইসলামের নামীয় কোনো সম্পত্তি কিনলে ক্রেতা চরম আইনি ঝুঁকিতে পড়বেন। দলিল বাতিল ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাই রংপুর ও মিঠাপুকুর এলাকায় তার নামীয় কোনো সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইলে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, শ্রমিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে শ্রমিকরা। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমসহ সাত পুলিশ সদস্য এবং তিন সাংবাদিক রয়েছেন। আহত সাংবাদিকরা হলেন- ৭১ টেলিভিশনের রায়ইন ও উজ্জল এবং স্টার নিউজের সিরাজি। নিউজ টোয়েন্টিফোর এর সাংবাদিক নাজমুল হুদা ও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাভারের হেমায়েতপুরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা দলে দলে এসে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে উভয় লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত না করা এবং আগে আটক শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকাল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
বুধবার পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও পদ্মার মোড় এলাকার ১১টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণ চালকরা।
সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুরের স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পালটা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশকে সহায়তা করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অন্যদিকে, সাভারের উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও পালটা টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ওসি সাইফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলে আহত হন। তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পদ্মার মোড়ে ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
আহত সাংবাদিকদের বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ফুটেজ নেওয়ার সময় শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা করেন।
গ্রাম পুলিশ। লোগো
গ্রাম পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালনকারী ‘দফাদার’ পদবি পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ করা হয়েছে। এছাড়া ‘মহল্লাদার’ পদ পরিবর্তন করে ‘গ্রাম পুলিশ’ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন পদবি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬১ নং আইন)-এর ধারা ৯৬ ও ধারা ৪৮-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫’-এর অধিকতর সংশোধন করেছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে উপরি-উক্ত বিধিমালার সর্বত্র উল্লিখিত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হবে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনার দিঘলিয়ায় পড়ে থাকা মুড়ির প্যাকেট খুলতে গিয়ে বিস্ফোরণে এম এম মনিরুল ইসলাম (৬৩) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মনিরুল দিঘলিয়ার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। স্থানীয়রা জানান, ভোর পৌনে ৬টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় তার বাড়ির দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান। কেউ ভুল করে বাইরে রেখেছে ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে রাখেন। মুড়ির প্যাকেটটি ঘরের ভেতর মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে।
তারা জানান, এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্রে আগুন ধরে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
দিঘলিয়া থানার ওসি অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য দূর্বৃত্তরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।