ছবি : সংগৃহীত
পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এবার সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সাজেকের কৃলাবুনিয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এই গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। থেমে থেমে গোলাগুলি চলার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়।
তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল বলে স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি এলাকার স্থানীয় সাংবাদকর্মী মো. মহিউদ্দিন। তার ভাষ্য, শনিবার দুপুর থেকে সাজেকের কলাবুনিয়া পাড়ায় দুপক্ষের মধ্যে আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই চলছে।
এ বিষয়ে জানতে সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিকেল ৪টায় তিনি দুপক্ষের গোলাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির খবর শুনেছি। তবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তাছাড়া গোলাগুলির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সংগঠন দুটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
মূলত দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধের কারণে সাজেকে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে, চলছে অবরোধও। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে রোববার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী দুটি সংগঠন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে বাধা থাকবে না। তবে সোমবার থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হবে।
শুক্রবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে এক দিনের জন্য কর্মসূচি শিথিল করা হচ্ছে।
বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষেও বিশেষ ছাড়ের কথা জানিয়েছে সংগঠন দুটি। বাবুধন চাকমা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের জন্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চলাচলে যানবাহন প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিহার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এটি তাদের তৃতীয় দফার কর্মসূচি। সংগঠন দুটির অন্যতম দাবি, পিসিজেএসএসের সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। তাদের অভিযোগ, ওই সশস্ত্র সদস্যদের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তবে পিসিজেএসএস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবি, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অবরোধের জেরে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ২৫ অক্টোবর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরদিন ২৬ অক্টোবর সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাজেকের উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে সমাধান হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি সংগঠন দুটি।
এর আগে সাজেক ঘিরে এই অস্থিরতা প্রথম প্রকাশে আসে গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। গত ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় অবরোধ শুরু হলে সেখানে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত ছিল। বিরতি শেষে ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় তৃতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে ২২ অক্টোবর থেকেই সাজেক পর্যটন ভ্যালি বন্ধ রেখেছে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় উজো বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ-সেনা বাহিনী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর হলে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। পাল্টা গুলি ছৃুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।
ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। পরে হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে ২৪ অক্টোবর রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস অবরোধ পালন করে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
যুবদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পঞ্চগড়ের বোদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বোদা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড় জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান বাবু।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ অলিয়ার রহমান অলি এবং সদস্য সচিব মোঃ আফসারুল ইসলাম।
এ সময় বোদা উপজেলা ও পৌর যুবদলের সকল যুগ্ম আহ্বায়কসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বোদা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি এলাহী কুদরতই আমিন সাগর।
আলোচনা সভায় বক্তারা যুবদলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে গুলি ছুড়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে সমান সংখ্যক গুলি ছুড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও (বিজিবি)।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে সীমান্তের ১২৮৭/১ এস পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৯ বিজিবির মিডিয়া উইংয়ের এক কর্মকর্তা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণের পরপরই বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এতে সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে বিএসএফের গুলিবর্ষণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বিজিবির মিডিয়া উইংয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফ দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে বিজিবি। বিজিবির এই গুলিবর্ষণ কোনো পাল্টা আক্রমণ ছিল না। বরং সীমান্তে সতর্কতামূলক অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে বিএসএফ কী কারণে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। গুলিবর্ষণের সময় সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশ, চোরাচালানবিরোধী অভিযান কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছবিঃ সংগৃহীত
সৌদি আরবে হত্যার শিকার চাঁদপুরের মতলব উত্তরের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের মরদেহ অবশেষে দেশে আনা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। ইতোমধ্যে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত জসিম উদ্দিন মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।
স্বজনরা জানায়, ১৯ সেপ্টেম্বর প্রায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সঙ্গে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। কয়েক দিন পর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকার একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাব্বির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ।
জসিমের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্থানীয় সাংবাদিক মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এর সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনা হয়।
এদিকে জানাজা শেষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনের মরদেহ ফিরে পেয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জসিমের পরিবার।
ছবি : সংগৃহীত
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দিনভর উত্তেজনার পর দুপুরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এর আগে বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকেই উত্তাল ছিল গাজীপুরের কোনাবাড়ি, শফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে, রণক্ষেত্র রূপ নেয় এসব এলাকা। উত্তেজিত শ্রমিকরা আগুন দিয়েছে পুলিশ বক্সে, ভাংচুর করা হয়েছে কয়েকটি গাড়িও। ফলে মহাসড়কে ৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
এদিকে মাহসড়কে প্রচুর যানবাহন থাকায় যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে নেমে আসেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে আন্দোলনকারীর সংখ্যা। লাঠিসোঁটা ও লোহার পাইপ হাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন হাজারো শ্রমিক। সড়কের মাঝখানে কাঠের বিভিন্ন জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরাও।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। পরে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক আছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
"ফিরিয়ে দাও ঘাতক কাঁটা,এবার আমি গোলাপ নেবো" প্রতিপাদ্য কে ধারণ করে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে উদযাপন করা হয়েছে উদীচীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গতকাল বিকেলে অপরাজেয়'৭১এ এই আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদ। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সানাই বাদক মিলন দাস।
জেলা সংদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি সেতারা বেগমের সভাপতিত্ব বক্তব্য দেন, জেলা সংসদের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হোসেন মোতাহার,আবু মহিউদ্দিন,সহসভাপতি অমল টিক্কু,সহসাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক,সংগঠন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাফি প্রমূখ। সঞ্চালনা করেন অনুষ্ঠান সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিজু।
পরে গণসংগীত শিল্পী জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মনের নেতৃত্বে দলীয় ও একক গণসংগীত পরিবেশন এবং সংগঠনের আবৃত্তি শিল্পীরা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এসময় চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য যে,গত ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
“দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দিবসটি উপলক্ষে বাই সাইকেল চালিয়ে যুব র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পিকনিক কর্ণারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আনোয়ার হোসাইন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ লাইছুর রহমান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু জাফর হাওলাদার, জিয়া পরিষদের সভাপতি এমএ জব্বার, তেতুলিয়া যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার আবু নোমান( এনাম), এমপির প্রতিনিধি তাজউদ্দিন আহমেদ, এনসিপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের নাফিসসহ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা শেষে যুব উন্নয়নে যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ৫জনকে ৫ লাখ টাকা ও প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজকরা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ, সচেতন ও কর্মমুখী যুবসমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।