সিলেটে রায়হান হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত

আটক অবস্থায় কাউকে নির্যাতনের অধিকার পুলিশের নেই

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে । হত্যাকান্ডের প্রায় ৬ বছর পর বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই রায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ, পুলিশের বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঞাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের আরও দুই সদস্য কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস এবং কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বাকী তিন আসামির মধ্যে বহিস্কৃত এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় প্রদান করেন। 


চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, আটক অবস্থায় কাউকে নির্যাতনের অধিকার পুলিশের নেই।আদালতের পর্যবেক্ষণঃ রায়হান আহমদ হত্যা মামলার রায়ে আদালত মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, আটক অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করার অধিকার পুলিশ কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেই। কোনো ব্যক্তি দুর্ধর্ষ অপরাধী হলেও বিচার ছাড়া তাঁকে শাস্তি দেওয়ার অধিকারও কারও নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেই আইনের শাসনের প্রকৃত পরীক্ষা হয়। 


আটক ব্যক্তির শরীর ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিশেষ দায়িত্ব আটককারী কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায় উল্লেখ করে আদালত বলেন, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়, তথ্য সংগ্রহ কিংবা কথিত অপরাধের শাস্তি দেওয়া আইনের শাসনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। 


আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করা শুধু ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার নয়; ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখারও পূর্বশর্ত। রায়ে সন্তুষ, তবে...রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। 


তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মনের শান্তি হবে না। আকবরের ফাঁসির রায় হয়েছে; কিন্তু তিনি তো পালিয়ে গেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র একজন হাজতে রয়েছেন। বাকিরা ধাপে ধাপে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পালিয়েছেন। তাঁরা যেখানেই থাকুক, তাঁদের আটক করতে দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন রায়হানের মা। 


আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে আরও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।


এদিকে, রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সাত বছর করে দণ্ড পাওয়া আশেক এলাহি ও হাসান উদ্দিনের আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন। সাক্ষ্য লুকানোর জন্য দুজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আদালত যে অভিযোগে আশেক এলাহি ও হাসান উদ্দিনকে সাজা দিয়েছেন; আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরে সেটি টিকবে না। আমরা আপিল করব। আশা করছি, আপিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বেকাসুর খালাস পাবেন।’


মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরের দিন তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার পর অভিযোগের সত্যতা পায় সিলেট মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি। পরে ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।এরপর পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 


২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেলহাজতে ছিলেন। তবে প্রথম থেকেই পলাতক ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান।সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান আকবর হোসেন। এরপর ১১ আগস্ট সিলেট কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি। 


১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করে। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত করেন। পাশাপাশি আকবর হোসেনকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন; কিন্তু আদালতে আর আত্মসমর্পণ করেননি আকবর।রায়হানের মা সালমা বেগমের অভিযোগ ছিল আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই ভারতে পালিয়ে গেছেন। আশেক এলাহি ছাড়া বাকি আসামিরাও পর্যায়ক্রমে জামিন নিয়ে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক।




  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৯ পিএম

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের তয় পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি কলেজ থেকে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থীই। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছে সবাই।


শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ৭ জন এবং কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ জন পরীক্ষার্থী।


এছাড়া বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন, মোড়লহাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন এবং বগুলাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন , পীরগঞ্জ উপজেলার একটিয়াপুর শহীদ সালাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই জন, রাণীশংকৈল উপজেলার ধুলঝাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই জন, গোগড় কলেজের দুই জন এবং রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।


সব মিলিয়ে জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।


জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, এবারে জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৩ শতাংশ। মোট পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯ হাজার ৮৫৭ জন। পাস করেছেন ৪ হাজার ৪৩৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭৮ জন।


এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নাজমুল ইসলাম জানান, করনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে একটি অলসতা চলে এসেছিল যা এখনো রয়ে গেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি তো রয়েছেই। শতভাগ পাশ করতে গেলে ক্লাসে উপস্থিতি ও পাঠদান শতভাগ করতে হবে আগে।


জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আখতার বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত নয়, কাগজে কলমে টিকে রয়েছে। তবে ফল বিপর্যয় নিয়ে মাউশিকে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তবে কি কারণে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে তা পর্যালোচনা করা হবে। পরে যাতে এমন না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫১ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। এ সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করবে। 


রোববার (১ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। 


অর্থাৎ, টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কম হবে। এর প্রভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্প চাপের সমস্যায় পড়তে পারেন।


পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এর আগেও গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল। 


সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা। 

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩২ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৯ পিএম


যুবদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩২ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বোদা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড় জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান বাবু।


বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ অলিয়ার রহমান অলি এবং সদস্য সচিব মোঃ আফসারুল ইসলাম।


এ সময় বোদা উপজেলা ও পৌর যুবদলের সকল যুগ্ম আহ্বায়কসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বোদা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি এলাহী কুদরতই আমিন সাগর।


আলোচনা সভায় বক্তারা যুবদলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৯ পিএম

সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে গুলি ছুড়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে সমান সংখ্যক গুলি ছুড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও (বিজিবি)।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে সীমান্তের ১২৮৭/১ এস পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৯ বিজিবির মিডিয়া উইংয়ের এক কর্মকর্তা।


বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণের পরপরই বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এতে সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে বিএসএফের গুলিবর্ষণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।


বিজিবির মিডিয়া উইংয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফ দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে বিজিবি। বিজিবির এই গুলিবর্ষণ কোনো পাল্টা আক্রমণ ছিল না। বরং সীমান্তে সতর্কতামূলক অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


তবে বিএসএফ কী কারণে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। গুলিবর্ষণের সময় সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশ, চোরাচালানবিরোধী অভিযান কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৮ পিএম

সৌদি আরবে হত্যার শিকার চাঁদপুরের মতলব উত্তরের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের মরদেহ অবশেষে দেশে আনা হয়েছে।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। ইতোমধ্যে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত জসিম উদ্দিন মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।


স্বজনরা জানায়, ১৯ সেপ্টেম্বর প্রায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সঙ্গে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। কয়েক দিন পর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকার একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাব্বির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ।


এক বুক স্বপ্ন ও পরিবারের সচ্ছলতার আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রবাসী জসিম উদ্দিনের জীবন শেষ হয়েছে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। সৌদি আরবের মরুভূমি থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা তার মরদেহ দীর্ঘ ৪১ দিন পর অবশেষে নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) কফিনে মোড়ানো জসিম উদ্দিনের মরদেহ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। নিহত জসিম উদ্দিন ওই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী রুমা আক্তার ও তিন মেয়ে—জাকিয়া, আয়েশা এবং জেসিয়া রয়েছে।


পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সাথে বাসা থেকে বের হন জসিম। এরপর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের কিছুদিন পর আল কাসিমের একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, জসিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই স্বজনদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় সাব্বির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।


জসিমের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্থানীয় সাংবাদিক মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এর সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনা হয়।


এদিকে জানাজা শেষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনের মরদেহ ফিরে পেয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জসিমের পরিবার।


নিহত জসিমের স্ত্রী রুমা আক্তার তার স্বামী হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অবুঝ দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ ও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি ও আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪১ পিএম

শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে।



রোববার (১ নভেম্বর) দিনভর উত্তেজনার পর দুপুরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।



এর আগে বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকেই উত্তাল ছিল গাজীপুরের কোনাবাড়ি, শফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে, রণক্ষেত্র রূপ নেয় এসব এলাকা। উত্তেজিত শ্রমিকরা আগুন দিয়েছে পুলিশ বক্সে, ভাংচুর করা হয়েছে কয়েকটি গাড়িও। ফলে মহাসড়কে ৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।



এদিকে মাহসড়কে প্রচুর যানবাহন থাকায় যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।



পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে নেমে আসেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে আন্দোলনকারীর সংখ্যা। লাঠিসোঁটা ও লোহার পাইপ হাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন হাজারো শ্রমিক। সড়কের মাঝখানে কাঠের বিভিন্ন জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরাও।



শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। পরে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।



গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক আছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।