থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে ভুয়া স্লোগান ২২ কিশোরের

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৫ পিএম

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা।


গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিয়ে থানার দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায় ২২ কিশোর। এদিকে থানার সামনে ওইসব কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের একটি হট্টগোলের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে।


অভিভাবকরা জানান, আটক কিশোরদের মধ্যে বেশিরভাগের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত রেকর্ড খাতায় কোনো অভিযোগ নেই। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেল থেকে আটক কিশোরদের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন দাউদকান্দি মডেল থানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন।


একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, থানার একটি কক্ষে আটক রাখা কিশোরদের কয়েকজন একপর্যায়ে ওই কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও দরজা ভেঙে বের হয়ে যায়।


পরে আটক কিশোরদের একটি অংশ থানার সামনে জড়ো হয়ে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকে। এদিকে পুলিশি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সদস্যদের ভাষ্যমতে আটক সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাই তাদের আটক করে থানায় আনা হয়।


এদিকে ঘটনাস্থলে এসে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।


দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, তেমন কিছু হয়নি। অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জনকে আটক করা হয়। তাদের স্বজনরা একসঙ্গে আসায় একটু ভিড় হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাছাই বাছাই শেষে বাকি ছয়জনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অফিসিয়াল পেজে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা জেলার প্রত্যেকটি থানায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।


ওই পোস্টে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সের কিশোরদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার  মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে বখাটেদের উৎপাত রয়েছে ওই সব স্থানে অভিযান চালানো হয়। 


এ অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আগের কোনো অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে, সে জন্য জেলা পুলিশের অভিযান চলবে।




বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে ঘিরে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন। এ সময় হান্নান মাসউদ হাতিয়া সরকারি দ্বীপ কলেজে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।



প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক ও কর্মী সমাবেশে আবদুল হান্নান মাসউদ বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে কথা বলেন। বিএনপি নেতাদের দাবি, তার এসব বক্তব্যে বিএনপি সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। 




এর জেরে বৃহস্পতিবার হান্নান মাসউদের সভায় যোগদানকে ঘিরে আগে থেকেই তৎপর ছিলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল হান্নান মাসউদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ ভবনের ফটকে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন।




 এ সময় তার সঙ্গে থাকা এনসিপির নেতাকর্মী এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ নিজেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাকে সভাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সভা চলাকালে বাইরে এনসিপি কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের আবার বাগ-বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে হান্নান মাসউদ সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে এসে আবার তর্কে জড়ান। 




একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এতে উপজেলা যুবশক্তির সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন, আজাদসহ অন্তত আটজন আহত হন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সংসদ সদস্যকে তার বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।


হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, “সংসদ সদস্য সভার দিকে যাওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও কথা-কাটাকাটি হয়। আমরা দ্রুত পরিবেশ শান্ত করি।”


হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, “দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ফটকে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় সংসদ সদস্যকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”


এনসিপির উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিনা কারণে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।


হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, “এমপি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তার এ আচরণ ও উগ্রতার কারণেই ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এখানে দলের কোনো নির্দেশনা ছিল না।”


এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যাওয়ার পথে বিএনপির লোকজন হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এ সময় তাদের একটি ঘুষি তার ঘাড়ে লাগে বলে অভিযোগ করেন হান্নান মাসউদ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’-বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লারকে (৫৫) কারণ দর্শানোর কারণ দর্শনোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন স্বাক্ষরিত শোকাজ চিঠি ওই ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।


এতে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আজ ​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউএনও দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


​প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শোকাজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ২ নম্বর যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ ধরনের উসকানিমূলক কথা বলতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে।


যা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪ (৪) (খ) ধারা অনুযায়ী পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ এবং অসদাচরণের শামিল। আইন অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, চিঠিতে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।


​ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে। যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে নিজ সমর্থকদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। বক্তব্যের ১০ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।


​ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যেকোনো কিছু করতে হলে আমাদের না জানিয়ে করলে তার দায়ভার আপনাদের। কিন্তু আমাদের নেতৃত্বে কিছু হলে- দুইটা মার্ডার হোক বা পাঁচটা, সেই দায়ভার আমাদের। আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে থাকেন। যার যার অস্ত্র বানাতে হবে, আমাদের হুকুম ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’


​তিনি আরও বলেন, উজিরপুরবাসী যদি অন্তত ২০ মিনিট ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, তবে পাশের ২০টি গ্রাম থেকে যত লোক লাগে আমি পাঠাব।


​এদিকে বক্তব্যটির বিষয়ে অবস্থান জানতে গত বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


​তবে এর আগে নোটিশ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভিডিওতে তার বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তা সঠিক নয়। সেটি মূলত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভা ছিল এবং বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারের সঙ্গে চলমান বিরোধ মিটিয়ে স্থানীয়দের শান্ত থাকার নির্দেশই তিনি দিয়েছিলেন।


​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালথার যদুনন্দী ও বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সীমানাবর্তী ময়েনদিয়া বাজার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর জেরে অতীতেও বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২২ বছর প্রবাসে থাকার পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন এবং ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই লাঠিপেটা করে গণধোলাই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ নির্দেশ দেন। 


এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ডার্বি নাসীর নামে পরিচিত এই পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে অযাচিত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। 


তিনি বলছেন, তাদের তিন দাবি মেনে নিলে নাকি ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা। 


তিনি বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীনই নয়, এনসিপির নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা রাজনীতির পরিবেশকে নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করতে না পারলে দিন দিন তাদের আস্ফালন বেড়ে যাবে। তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই লাঠিপেটা করে গণধোলাই দিতে হবে।


এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, কিছুদিন ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যরাও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পরে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ আমাদের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। 


এনসিপি নেতাদের সাবধান করে বিএনপির এ নেতা বলেন, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।


এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিল শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেন যে, তাদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না। এই বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দুই কর্মচারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। 


পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ গতকাল বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, দলিল নিবন্ধন(রেজিস্ট্রি) করার সময় সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশেই তাঁরা ঘুষ নিয়েছেন।


গত মঙ্গলবার এক আইনজীবীর দেওয়া অভিযোগ পেয়ে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। এ সময় ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


গতকাল ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা বলেন, ‘সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশেই আমরা ঘুষ নিয়েছি।’


জবানবন্দিতে ফারুক ইসলাম বলেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে ঘুষের দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তাঁর কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের একটি দল এসে তাঁদের কার্যালয়ে হাজির হয়। তারা ঘুষের দুই লাখ টাকা, সাবরেজিস্ট্রারসহ তাঁদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।


উমেদার রূপণ দাশ তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ১৫ বছর ধরে তিনি কর্মরত। দুদক যে দলিলটি নিবন্ধনে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, সেটির সরকারি ফি ১৫ হাজার টাকা। তাঁরা বাড়তি দুই লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। প্রথমে তাঁরা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশনে গেলে নেওয়ার কথা ছিল। দলিল দাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় বাসায় কমিশন যাওয়ার কথা ছিল। দলিলটিতে কোনো ত্রুটি ছিল না। এরপরও তারা ঘুষ হিসেবে বাড়তি দুই লাখ টাকা নিয়েছেন সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে।


দুদক জানায়, এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য নগরের আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুদকের ‘হটলাইন ১০৬’ নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঘুষের টাকা দিতে যান। এ সময় অভিযান চালিয়ে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে এই ঘটনায় মামলা হয়। পরদিন গতকাল গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে দুজন জবানবন্দি দেন।


দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রেজাউল করিম বলেন, তিনজনের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রার ছাড়া বাকি দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তাঁরা দলিল নিবন্ধনে সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি দেওয়ার সাবরেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।


ঘুষ নিয়ে দলিল নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসু বলেন, ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ রকম হতে পারে না।


ঘুষের টাকাসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আল আমিন। তিনি বলেন, ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘুষ লেনদেনের পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করতে দুদকের তদন্ত অব্যাহত আছে।


ডাকাতসহ ডাকাতি হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আবুল হোসেন নামের এক জমি ব্যবসায়ীর বাড়িতে পরিবারের সকলকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৭ ভরি স্বর্ণ, নগদ টাকাসহ মালামাল লুটের ঘটনায় স্বর্ণ উদ্ধার ও ধারালো অস্ত্রসহ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ভুলতা পুলিশ ফাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


এর আগে, ভোর তিনটার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগর পাড়া কাজীবাড়ি এলাকায় ঘটে এ ডাকাতির ঘটনা। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নরসিংদী জেলার মাধবদী এলাকার মো: তামজিদ মিয়া মো: শাহিন মিয়া মো: শামিম মিয়া হৃদয় দাস ও কুমিল্লা জেলার হোমনা এলাকার মো: শরিফ মিয়া।


ডাকাতের কবলে পড়া ব্যবসায়ী পরিবারের বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, ভোর তিনটার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একদল মুখোশ পরা ডাকাত ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবুল হোসেনের বাড়ির গেট ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। পরে আবুল হোসেনের ছেলে আলামিন মিয়া ও আল জাবের হোসেনসহ পরিবারের সকলকে বেঁধে রেখে ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা আলমারি ভেঙে ১৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৩ লাখ টাকা ও মালামাল লুট করে। পড়ে পরিবারের লোকজনের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।


এ ঘটনার খবর পেয়ে রুপগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। পরে সকালে ভুলতা পুলিশ ফাড়ি এলাকায় ডাকাত সন্দেহে ৫ ডাকাতকে গণপিটুনি দেয় বলে পুলিশ সংবাদ পায়। পরে পুলিশ তাদের সোয়া ৬ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, পিকআপভ্যান, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও ডাকাতের ব্যবহৃত মালামালসহ গ্রেফতার করে। 


ওসি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


নার্গিসের চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৯ পিএম

মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নার্গিস। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জীবন বাঁচাতে দ্রুত অপারেশনসহ পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় আড়াই লাখ টাকা।


নার্গিসের গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট এলাকায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন। চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসারে সহযোগিতা করতেন নার্গিস। বর্তমানে তিনি ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


নার্গিসের স্বামী ওহিদুল আলম একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সম্প্রতি তাকে হঠাৎ চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হয়। ফলে সংসারে নেমে এসেছে চরম আর্থিক সংকট। একদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।


চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নার্গিসের অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় দেড় লাখ টাকা। অপারেশনের পর তাকে রেডিওথেরাপি দিতে আরও প্রায় এক লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।


পরিবারের সদস্যরা জানান, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষগুলো যদি নার্গিসের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে নার্গিস সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন- এমন আশায় সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা।


নার্গিসের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে সরাসরি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা করা যেতে পারে।

বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৮৭৭-৭০৯৪৮০