সামান্তা শারমিন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, দলের আদর্শচ্যুতি, নারীর রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষা এবং সংগঠনে গণতন্ত্র চর্চার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে এসব কারণ তুলে ধরেন তিনি।
একই সঙ্গে এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন ধারার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বিবৃতিতে সামান্তা শারমিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি।গত ১১ মাসে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব এবং আলোচনার মাধ্যমে এনসিপিকে ভুল রাজনৈতিক পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে দলের প্রাথমিক মূল্যবোধের প্রতি এনসিপি আর আন্তরিক থাকতে পারবে না- এমন উপলব্ধি থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। চারটি বিষয় হলো:
সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কি না
সামান্তা শারমিনের বক্তব্য, দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার দল হিসেবে এনসিপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল সংস্কার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণের পথে বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামো যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সাংবিধানিক, আইনি এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন ছিল।
তবে জামায়াতে ইসলামী এসব সংস্কারের কোনো একটিকেও নিজেদের দলীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রপ্রকল্পের অংশ মনে করে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জামায়াত প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না। সংগঠনটির দার্শনিক ভিত্তি ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রপ্রকল্প গণতান্ত্রিক নয়।
পোস্টে সামান্তা বলেন, ‘জামায়াতকে যতটুকু সংস্কারের কথা বলতে দেখা যায়, ততটুকু বলে ২৪-এর আকাঙ্ক্ষাকে কুক্ষিগত করার প্রয়োজন থেকে, ভণিতা হিসেবে।’
তার ভাষ্য, গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল ভিত্তি উদার গণতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ। অন্যদিকে জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই সংগঠনটির রাজনৈতিক অভিপ্রায়। এ কারণে দলটির রাজনীতির মূল ভিত্তিতে পরিবর্তন আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের ১৯৭১ সালের ভূমিকা এবং এ জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সামান্তা বলেন, ‘তার প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনে গণহত্যাকেও জায়েজ মনে করে জামায়াত। ৭১-এ জামায়াতের ভূমিকাকে অপরাধ মনে না করা এবং এর জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া—এই সাংগঠনিক ও দার্শনিক ভিত্তির ওপরই দণ্ডায়মান।’
এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের পথে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেছে, তখন উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ সংস্কারের রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার অভিযোগ, এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় দলটি জামায়াতের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
সামান্তা বলেন, ‘যেহেতু জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া দল এনসিপি, তাই আমি দলকে বারবার এসব সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি।’
নির্বাচন
২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, বরং রাজনৈতিক পরিবর্তনের উপলক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ ছিল বলে মনে করেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের মতো এ নির্বাচনও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারত।
তিনি বলেন, ‘২৬-এর নির্বাচনের পূর্বে এটি যেন একটি রাজনৈতিক নির্বাচন না হয়ে ক্ষমতা বদলের নির্বাচনে পর্যবসিত হয়, সেই লক্ষ্যে নির্বাচনকে অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চরিত্র থেকে সরাতে চেয়েছে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো।’
সামান্তার দাবি, ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের ব্যর্থতার পরও এনসিপির সামনে পুরোনো ব্যবস্থাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাওয়া শক্তিগুলোর সঙ্গে জোট করা অথবা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তা করা হলে দলটি বর্তমান ফলাফলের চেয়েও ভালো ফল করতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘কিন্তু এনসিপি ইতিহাসের এই শিক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এনসিপির নিজস্ব রাজনীতি আর অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে।’
১১ দলীয় ঐক্যের মতো নির্বাচনী কৌশলে অংশ না নিয়েও আরও বেশি রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির পাঁচটি পদ্ধতির কথা দলের নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন সামান্তা। তবে দল সেই পথে হাঁটেনি। তার মতে, রাজনৈতিক জয়ের চেয়ে নির্বাচনী জয়কে প্রাধান্য দেওয়ায় সংস্কারবিহীন ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল নিয়ে আপত্তি জানানোর গ্রহণযোগ্যতাও হারিয়েছে এনসিপি।
নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি শহীদ ওসমান হাদির নির্বাচনী প্রচারণার উদাহরণ দেন। সামান্তার দাবি, ঢাকার একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ন্যূনতম ৫০০ ভোট পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সম্পূর্ণ এককভাবে নতুন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন ওসমান হাদি।
সামান্তা বলেন, ‘অথচ অগণতান্ত্রিক ও অতি পুরোনো নির্বাচনী কৌশল ‘বড় পার্টির সঙ্গে জোট’ করার কারণ হিসেবে উনার মৃত্যুর ঘটনাকেই ব্যবহার করা হয়েছে, যা পুরোপুরি অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
অভ্যুত্থানে নারীর অধিকার ও মালিকানা
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না করার অভিযোগও এনসিপির বিরুদ্ধে তুলেছেন সামান্তা শারমিন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক, সম্মুখসারির যোদ্ধা ও আন্দোলনের রক্ষাকর্তা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায্য হিস্যা, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান—এসবই ছিল এই অভ্যুত্থানে তাদের অংশগ্রহণের ভিত্তি। গণঅভ্যুত্থানে নারীরা শুধু অংশ নেননি, প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। ব্যারিকেডের সামনে তাদের অবস্থান, সাহস ও সক্রিয়তা অভ্যুত্থানকে সার্বজনীন রূপ দিয়েছে।’
সামান্তার মতে, পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে এসে এনসিপির সামনে ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ ছিল। নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারত দলটি। এ জন্য শুধু নারীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট ছিল না; নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু এনসিপি সেই পথ বেছে নেয়নি বলে অভিযোগ তার। বরং দলটির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে গেছে। সামান্তার দাবি, নারীদের প্রতিবাদ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি এবং পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে থেকে গেছে।
কাউন্সিল ছাড়াই পুনর্গঠন
এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন সামান্তা শারমিন। তার মতে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক দল প্রত্যাশা করেছিল, যার নেতৃত্ব, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রচলিত দলগুলোর চেয়ে আলাদা হবে। দলের অর্থনৈতিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চার মধ্য দিয়েও সেই নতুনত্বের প্রতিফলন ঘটার কথা ছিল।
সামান্তা বলেন, ‘পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোতে আমরা দেখেছি—ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, পদ-পদবি বণ্টনে স্বজনপ্রীতি, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব, দলের আর্থিক ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা, ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং নেতৃত্বের জবাবদিহি না থাকা।’
তার ভাষ্য, এসব কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ কর্মীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন ও বিকল্প নেতৃত্ব তৈরির পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতো এনসিপিতেও কাউন্সিল এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামান্তা বলেন, ‘দলের কাউন্সিল না করে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি ‘রিস্ট্রাকচার’ দলের অভ্যন্তরের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যে প্রবণতা পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আছে। বিরোধী মত দমন করার পুরোনো প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে এনসিপি।’
তার অভিযোগ, নেতৃত্ব নির্বাচনের আগেই এ ধরনের বড় রদবদল দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার বিষয়ে নেতৃত্বের উদাসীনতা স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থার গণতান্ত্রিকতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সামান্তা বলেন, ‘যে দল নিজের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না, তার পক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা সম্ভব—সেই প্রশ্নও সামনে আসে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীর আলম, এস এম মান্নান কচি এবং রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
মিয়া গোলাম পরওয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমালোচনা করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
টিআইবির বিবৃতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ মন্তব্য করে তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন বলে সোমবার রাতে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্ট। তারপরও দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে টিআইবির মিথ্যা বর্ণনামূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানো অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক।
‘ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা না থাকলেও জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের বিবৃতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গত রোববার রাতে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে টিআইবি বিকালে বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
টিআইবির বিবৃতি সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের পেশাদার যে কোনো কাজকে নির্বিঘ্নে সম্পাদনের পরিবেশ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী কর্তৃক তা বাধাগ্রস্ত হোক, কিংবা সত্য প্রকাশে বাধা অথবা হুমকির সম্মুখীন হবে- তা সমর্থন করে না, বরং প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।’
‘সুতরাং জামায়াতকে নিয়ে টিআইবির মনগড়া তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কাজে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে, যার দৃষ্টান্তও পাওয়া গেছে। তিনি সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরের দরগাহ গেট এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সিলেট সফর উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারা এখানে হস্তক্ষেপ করছে, উসকানি দিচ্ছে। শ্রমিকদের নানাভাবে উসকানি দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছে। তার উদাহরণ আছে, দৃষ্টান্ত আছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের একজন নেতা ওই উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভেতর থেকে তারা যে কাজ করছেন, নিজেরাই আবার সেটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও তাদের কর্মকাণ্ড স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এই চেষ্টা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।
জামায়াতের আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘কোন বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে? মাত্র ৮ মাস হলো একটি সরকারের বয়স। এই সরকার দেশের উন্নতি, আর্থিক উন্নতি, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক করছেন। সেখান থেকে বিনিয়োগ নিয়ে এসে দেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করছেন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছর লড়াই করেছে। অনেক রক্ত ঝরিয়ে, অনেক জীবন উৎসর্গ করে সেই লড়াই চালিয়েছে। অন্যদিকে, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জনগণ বুঝতে পারছে।
তিনি বলেন, ‘এ দেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে আসার চেষ্টা করলে তা জনগণ মেনে নেবে না।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কঠিন সংকটের মুখে ছিল। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এলাকার মধ্যে কে উপযুক্ত প্রার্থী, কার জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্থানীয় নেতারা ঠিক করবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।
মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, ‘দলটির সেক্রেটারি জেনারেল এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ। একইসঙ্গে, আরপিও ১৯৭২ এর নামমাত্র প্রতিপালনের মাধ্যমে নারীদের স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে দলের সর্বস্তরে নারীর অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দাবি করাও শুভঙ্করের ফাঁকি।’ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিআইবি। এতে বলা হয়, বাস্তবতা অস্বীকার করে দলটির পক্ষ থেকে এভাবে গবেষণা তথ্যকে ‘অসত্য’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি প্রদানের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে টিআইবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, আরপিও, ১৯৭২ এর ধারা ৯০খ(১)(খ)(আ) অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে সকল পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারীদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্লেষণ করলে আইনের এই ধারা পরিপালনে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি বলতে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদকে বোঝানো হয়েছে। সকল দলের ক্ষেত্রে একই ধরনের কমিটির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৩-২৫ সময়কালে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। যা আরপিওর সংশ্লিষ্ট বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে দলের প্রতিটি কমিটিতে নারী সদস্য থাকতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাদের দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া, দলটির রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। এই গবেষণায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী পরিষদ বা কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দলের জাতীয় বা কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন বা মজলিশে শুরায় কতজন নারী আছে, সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। আরপিও, ১৯৭২Ñএ একটি দলে কতজন নারী সদস্য থাকবে, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বরং নারী কর্মীদের মধ্যে থেকে কমিটিগুলোতে কতজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ফলে সেক্রেটারি জেনারেলের এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্তের উল্লেখ, সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।
দেশের অন্য সকল রাজনৈতিক দলের সকল স্তরে একটি করে কমিটি থাকে, সেখানে বিভিন্ন হারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি লক্ষ করা যায়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি স্তরে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি স্তরে পুরুষদের জন্য একটি কমিটি এবং নারী কর্মীদের জন্য স্বতন্ত্র একটি কমিটি রয়েছে। একইভাবে নারী কর্মীদের স্বতন্ত্র মজলিসে শুরা বা কর্মপরিষদ রাখা হয়েছে। যদিও নারীদের জন্য পৃথক কোনো কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ রাখা হয়নি এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী কর্মী রাখা হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বস্থানীয় কোনো পদে তথা আমীরে জামায়াত, নায়েবে আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ইত্যাদি পদে নারীকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত না করার চর্চা লক্ষ করা যায়। শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার করতে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি করার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমে নারীদের প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি বোঝায় না। বরং এক্ষেত্রে নারীদের একটি নির্দিষ্ট গÐীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নারীদের এই স্বতন্ত্র কমিটিগুলোকে দলে নারীর অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দাবি করা এক ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি। অন্যদিকে এই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর দাবি অনুযায়ী তাদের দলের ৪৩ শতাংশ নারী সদস্য থাকলে তাদের মধ্যে থেকে একজন নারী সদস্যকেও নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের বিবৃতিতে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলছে, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা- ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও চেতনার ভিত্তিতে সমাজ গঠন এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মেনে না নেওয়া, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য সকল নিয়মনীতি ও পন্থাকে প্রত্যাখ্যান করা, ইসলামী আকিদা পরিপন্থী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক না রাখা, দলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির সাথে একমত পোষণ সাপেক্ষে অমুসলিম নাগরিকদের জন্য সহযোগী সদস্য বা সদস্যপদ দেওয়া, গঠনতন্ত্রে মুসলিম ও অমুসলিম নাগরিকদের জন্য ‘সদস্য বা সহযোগী সদস্য’ পদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পৃথক শর্ত আরোপ, নারীকর্মীদের জন্য পৃথক বিভাগ বা কমিটি ও পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করা ইত্যাদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের (সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি- ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, ধর্ম, লিঙ্গ প্রভৃতি কারণে বৈষম্য) সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
টিআইবি জানিয়েছে, তাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি-বিষয়ক টিআইবির গবেষণালব্ধ তথ্যকে ‘অসত্য’ বা ‘বিভ্রান্তিমূলক’ বলে দাবি করার কোনো সুযোগ নেই। বরং টিআইবি মনে করে এই বিবৃতির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী গবেষণা তথ্যকে অস্বীকার এবং অপ্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দলের মধ্যকার প্রকৃত রাজনৈতিক চর্চাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক
দলগুলোকে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফলকে গুরত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে উত্থাপিত সুপারিশ অনুযায়ী নিজ নিজ দলের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বানও জানিয়েছে টিআইবি ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টিআইবির প্রতিটি গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সমাজবিজ্ঞানে অনুসৃত গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং গবেষণায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত তথ্য বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্যতা বিধান, বিভিন্ন স্তর ও পর্যায়ে ক্রস চেকিংসহ সম্ভাব্য সকল সূত্র থেকে যাচাই-বাছাই করে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। একইভাবে, আলোচ্য গবেষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা মনোনীত প্রতিনিধি ও দলের নেতা-কর্মী, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষক ও গবেষকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ও দলীয় দপ্তর থেকে সংগৃহীত তথ্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, গবেষণা প্রবন্ধ ও পুস্তক থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে।