ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার।
নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না। একইসঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়কে এ ধরনের যান চলাচল একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, নিবন্ধন ফি এবং চলাচলের রুটও।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নামে জারি করা নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজ নিজ এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা অথবা নির্দিষ্ট জোনভিত্তিক এসব যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।
এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোর এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চালানো যাবে না। চালকদের সব সময় সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ই-রিকশায় চালক ছাড়া আকারভেদে সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। পাশাপাশি ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।
আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সব শর্ত পূরণ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।
নতুন বিধিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সনদের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করবে। নিবন্ধন ও নবায়ন ফি থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে প্রতিটি ই-রিকশাকে। ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না।
বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে হবে। প্রতিটি ই-রিকশার ব্যবহারযোগ্য অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর। এই সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনা হবে।
ই-রিকশা চলাচলের রুট নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ। সিটি করপোরেশন এলাকায় জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণ করা হবে এবং এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। জোন অনুযায়ী ই-রিকশার সংখ্যা ও নির্দিষ্ট রংও নির্ধারণ করা হবে।
পার্কিং ও চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করবে। অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা বা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজও করা যাবে না।
এ ছাড়া ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটি বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে।
নতুন বিধিমালায় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের দায়বদ্ধতাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে এবং পুলিশকে জানাতে হবে।
নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ ই-রিকশা চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের তয় পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি কলেজ থেকে পাস করতে পারেনি কোনো শিক্ষার্থীই। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও অকৃতকার্য হয়েছে সবাই।
শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ৭ জন এবং কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ জন পরীক্ষার্থী।
এছাড়া বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন, মোড়লহাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন এবং বগুলাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন , পীরগঞ্জ উপজেলার একটিয়াপুর শহীদ সালাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই জন, রাণীশংকৈল উপজেলার ধুলঝাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই জন, গোগড় কলেজের দুই জন এবং রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
সব মিলিয়ে জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, এবারে জেলায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৩ শতাংশ। মোট পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯ হাজার ৮৫৭ জন। পাস করেছেন ৪ হাজার ৪৩৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭৮ জন।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নাজমুল ইসলাম জানান, করনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে একটি অলসতা চলে এসেছিল যা এখনো রয়ে গেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি তো রয়েছেই। শতভাগ পাশ করতে গেলে ক্লাসে উপস্থিতি ও পাঠদান শতভাগ করতে হবে আগে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আখতার বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত নয়, কাগজে কলমে টিকে রয়েছে। তবে ফল বিপর্যয় নিয়ে মাউশিকে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তবে কি কারণে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে তা পর্যালোচনা করা হবে। পরে যাতে এমন না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে আগামী ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ কম থাকবে। এ সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করবে।
রোববার (১ নভেম্বর) পেট্রোবাংলার উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তারিকুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে।
অর্থাৎ, টার্মিনালটির রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কম হবে। এর প্রভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্প চাপের সমস্যায় পড়তে পারেন।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এর আগেও গত বছরের ডিসেম্বর মাসে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।
সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।
যুবদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
পঞ্চগড়ের বোদায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বোদা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পঞ্চগড় জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান বাবু।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোদা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ অলিয়ার রহমান অলি এবং সদস্য সচিব মোঃ আফসারুল ইসলাম।
এ সময় বোদা উপজেলা ও পৌর যুবদলের সকল যুগ্ম আহ্বায়কসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বোদা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোঃ সোহেল রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি এলাহী কুদরতই আমিন সাগর।
আলোচনা সভায় বক্তারা যুবদলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে গুলি ছুড়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এর পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে সমান সংখ্যক গুলি ছুড়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশও (বিজিবি)।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে সীমান্তের ১২৮৭/১ এস পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৯ বিজিবির মিডিয়া উইংয়ের এক কর্মকর্তা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণের পরপরই বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এতে সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে বিএসএফের গুলিবর্ষণের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
বিজিবির মিডিয়া উইংয়ের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফ দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের সীমান্তের অভ্যন্তরে ফাঁকা গুলি ছোড়ে বিজিবি। বিজিবির এই গুলিবর্ষণ কোনো পাল্টা আক্রমণ ছিল না। বরং সীমান্তে সতর্কতামূলক অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে বিএসএফ কী কারণে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। গুলিবর্ষণের সময় সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশ, চোরাচালানবিরোধী অভিযান কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছবিঃ সংগৃহীত
সৌদি আরবে হত্যার শিকার চাঁদপুরের মতলব উত্তরের প্রবাসী জসিম উদ্দিনের মরদেহ অবশেষে দেশে আনা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। ইতোমধ্যে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত জসিম উদ্দিন মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে।
স্বজনরা জানায়, ১৯ সেপ্টেম্বর প্রায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সঙ্গে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। কয়েক দিন পর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকার একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সাব্বির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ।
এক বুক স্বপ্ন ও পরিবারের সচ্ছলতার আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রবাসী জসিম উদ্দিনের জীবন শেষ হয়েছে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। সৌদি আরবের মরুভূমি থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা তার মরদেহ দীর্ঘ ৪১ দিন পর অবশেষে নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) কফিনে মোড়ানো জসিম উদ্দিনের মরদেহ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারি। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। নিহত জসিম উদ্দিন ওই গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। তার পরিবারে স্ত্রী রুমা আক্তার ও তিন মেয়ে—জাকিয়া, আয়েশা এবং জেসিয়া রয়েছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সাথে বাসা থেকে বের হন জসিম। এরপর থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের কিছুদিন পর আল কাসিমের একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, জসিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই স্বজনদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় সাব্বির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
জসিমের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্থানীয় সাংবাদিক মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এর সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনা হয়।
এদিকে জানাজা শেষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনের মরদেহ ফিরে পেয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জসিমের পরিবার।
নিহত জসিমের স্ত্রী রুমা আক্তার তার স্বামী হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অবুঝ দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ ও পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি ও আর্থিক সহায়তা কামনা করেছেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) দিনভর উত্তেজনার পর দুপুরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এর আগে বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকেই উত্তাল ছিল গাজীপুরের কোনাবাড়ি, শফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের এলাকা। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে, রণক্ষেত্র রূপ নেয় এসব এলাকা। উত্তেজিত শ্রমিকরা আগুন দিয়েছে পুলিশ বক্সে, ভাংচুর করা হয়েছে কয়েকটি গাড়িও। ফলে মহাসড়কে ৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
এদিকে মাহসড়কে প্রচুর যানবাহন থাকায় যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে কাজে যোগ না দিয়ে সড়কে নেমে আসেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে আন্দোলনকারীর সংখ্যা। লাঠিসোঁটা ও লোহার পাইপ হাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন হাজারো শ্রমিক। সড়কের মাঝখানে কাঠের বিভিন্ন জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরাও।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। পরে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক আছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।