ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৮ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে ও পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার আগে হাসপাতালের লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে আগুন লাগে। ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।


এ সময় ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন বলে কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাসপাতালে প্রতিদিন কিছু রোগী মারা যায়। এই মৃত্যুগুলো তেমনই।


হাসপাতাল সূত্রে এদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া এক বছর  বয়সী শিশুর মৃত্যু হলেও পরিচয় মেলেনি।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন অবশ্য বলেছেন, পদদলিত হয়ে এই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।


তবে পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি জাহিদুল হাসান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাইনি। যাদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ 


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম এদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আগুনে সরাসরি মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করেননি।


তবে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এক কর্মকর্তা জানান, আগুনের ঘটনায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ছয়জন মারা গেছে এবং ২০ জনের মতো আহত হয়েছে।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। কন্ট্রোল রুম থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।


তিনি বলেন, খবর পেয়ে ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনসহ পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের প্রতিটি তলায় তল্লাশি চালিয়ে আগুনের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, আগুন লাগার কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।







সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতির ভাই মির্জা ফয়সল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি সদ্য রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়া সাবেক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী তাঁর পক্ষে ফরমটি নেন।


পয়গাম আলী জানান, আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জন্য মির্জা ফয়সল আমিন ছাড়া বিএনপির অন্য কোনো নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি।


নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার সংগ্রহ করা মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর দলীয় কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার গঠনের পর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় সংবিধান অনুযায়ী আসনটি শূন্য হয়।


মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর পয়গাম আলী বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকার মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে নির্বাচিত করেছিল। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এলাকার ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখতে এবং রাষ্ট্রপতির অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি মির্জা ফয়সল আমিনের কোনো বিকল্প নেই।’


রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়রের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।


স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকেই তাঁদের মতামত পুনর্ব্যক্ত করবেন।

সর্বশেষ সব খবর

স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রশিক্ষণ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সক্ষমতা বাড়াতে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এতে চর ঈশ্বর ও চর কিং ইউনিয়ন এবং হাতিয়া পৌরসভার ৩০ জন দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিচ্ছেন।


আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় হাতিয়ার দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার প্রশিক্ষণ কক্ষে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ইভিসিআর প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণে দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা, আগাম পদক্ষেপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।


উদ্বোধনী দিনে হাতিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও দুর্যোগ-পরবর্তী সরকারি সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন। দ্বিতীয় দিনে অনুসন্ধান ও উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা, নারীর ঝুঁকি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা হবে।


স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান)।

সর্বশেষ সব খবর

গ্রাম আদালত কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে সমন্বয় সভা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৩ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম জোরদারে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় সভার আয়োজন করা হয়।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রফিকুল হক। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সরদার মোস্তফা শাহীন।


সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সাধারণ মানুষের কাছে এর সেবা ও সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর প্রচার-প্রচারণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


এসময় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত, সাংবাদিকসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সংবর্ধনা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সফলতার পেছনে অবদান রাখা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান সিনিয়র শিক্ষকদের সংবর্ধনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। প্রধান আলোচক ছিলেন নরসিংদী কাদের মোল্লা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান মৃধা।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য  রাখেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত  থেকে বক্তব্য  রাখেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিনসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা।


সভায় বক্তারা শিক্ষার্থীদের ফলাফলের মানন্নোয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক ভূমিকা পালনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, শিক্ষার আসল কারিগর হলেন শিক্ষকরা। একটি জাতি গঠনে এবং আলোকিত সমাজ নির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষকরা হলেন পথপ্রদর্শক, তাই ক্লাসে পড়ালেখাকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আনন্দময় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। 


তিনি বলেন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এ মেরুদণ্ডকে গড়ার একমাত্র কারিগর শিক্ষকরা। আমাদের আজকের মতবিনিময় সভায় হলো শিক্ষাকে  কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায়। তিনি বলেন, শিক্ষকদের ইচ্ছার প্রয়োজন, শিক্ষকরা যদি চাই  ভবিষ্যত প্রজন্ম মানুষ হউক, আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারবো।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি যেন দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চকরিয়া উপজেলার  ফাঁসিয়াখালী, ফুলছড়ি  রেঞ্জের আওতাধীন ডুলাহাজারা, খুটাখালী, মেধাকচ্ছপিয়া, বনবিটে সরকারি বনভূমি দখল করে একের পর এক গড়ে উঠছে বসতঘর, দোকানপাট,পাহাড় কাটা, বালিউত্তোলন শিক্ষাপ্রতিষ্টান, মসজিদ  মুরগির খামারসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা।


এসব বনবিট কার্যালয়ের অদূরেই প্রকাশ্যে বনভূমি দখলের এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। খোদ, রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বিট কর্মকর্তারা মাসোহারা নিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে যাচ্ছে। 


স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী,ফুলছড়ি রেঞ্জ কার্যালয়ের প্বার্শবর্তী মেধা কচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মালুমঘাট খ্রীস্ট্রান মেমোরিয়াল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা এখন ব্যাপক লুটতরাজ চলছে। পাশে ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন মাদারট্রি গর্জন বাগান ও সামাজিক বনায়ন এলাকার বনভূমিতে বেশ কিছুদিন ধরে দখলদারিত্ব চলছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন বসতি, মুরগির খামার ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। ফলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে সংরক্ষিত বনভূমি।




অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি শক্তিশালী দখলদার সিন্ডিকেট বন বিভাগের জমি দখলে সক্রিয় রয়েছে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরবতার সুযোগে তারা দিনের পর দিন নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।


উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও একই স্থানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। 


তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। কিন্তু দখলবাজ চক্রের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কা থাকায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছি না।


এ বিষয়ে চকরিয়া পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)'র সভাপতি একেএম বেলাল উদ্দিন  বলেন, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সরকারি বনভূমি সংকুচিত হবে। এর ফলে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জানতে চাইলে ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ডুলাহাজারা বনবিটের ওই এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা ও মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়েছে। 


অভিযুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। রেঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা খসরুল আমিন বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের পরও জড়িত দখলদাররা সেখানে পুনরায় মুরগির খামারসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। এ অবস্থায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সেখানে কঠোর অভিযান পরিচালনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


এদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোয়াজাইননা নতুন পাহাড় এলাকায় পাহাড় কেটে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তিনি মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণেরও অভিযোগ রয়েছে। 


অন্যদিকে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের নতুন মসজিদ, রিংভং ও ছগিরশাহকাটা এলাকায় মৃত আস্কর আলীর ছেলে আমির হামজার বিরুদ্ধেও বাড়িঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না; উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। 


তাদের আশঙ্কা, এখনই বনভূমি দখল বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে ডুলাহাজারার সংরক্ষিত বনাঞ্চল আরও সংকুচিত হবে। এতে বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।


বিতর্কিত ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে বনভূমি বিক্রি করে কোটি টাকার বানিজ্যের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক অভিযোগে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে নানা অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলে ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার আস্থাভাজন হওয়ায় গত এক বছরের বেশী সময় ধরে তিনি এখনো স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

 

স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি প্রতিমাসে বালিখেকো বনভূমি দখলদার ও দেশের একমাত্র সর্ববৃহৎ মাদার ট্রি গর্জন গাছ ও ভূমি বিক্রি করে অন্তত  ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি আখের গুছিয়ে এখন বদলীর তকবির করে দ্রুত সরে ছিটকে পড়তে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এমন কি এক মহিলার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে ৪০ শতক বনভূমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন এই এই রেঞ্জ কর্মকর্তা। তাও আবার মেধা কচ্ছপিয়ার জাতীয় উদ্যানের মাদার ট্রি গর্জন বাগানের ভেতরে। এই গর্জন বাগানের ভিতরে রীতিমতো বাজার বসিয়ে দিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুস। তার এসব অপকর্ম নিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেনের কাছে স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অসংখ্যবার লিখিত এবং  মৌখিক অভিযোগ দিলে ও অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।


এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বলেন,  যে সব বিষয়ে অভিযোগ আসে সেসব বিষয়ে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোন ভূমি দূস্য, বনদূস্য বালুখেকো বনভূমি জবরদখলকারীর সাথে বন বিভাগের কারো সাথে কোন প্রকার আতাঁত কিংবা অবৈধ লেনদেন প্রমান পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। দৃশ্যমান অনিয়ম দূর্নীতি ও বনভূমি দখলে বনবিভাগের পরোক্ষ সহযোগিতা কি বিভাগীয় বনকর্মকর্তা দেখেন না? 


এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার নজরে আসলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।সবশেষে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বন বিভাগের অসহায়ত্বের বিষয়টি অপকটে স্বীকার করেন।

সর্বশেষ সব খবর

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে টাকা না দেওয়ায় এক মাকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফেসবুকে প্রচারিত একটি পোস্টকে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন দাবি করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রাজীব আহমেদ চৌধুরী।


আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে নিজের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করার সময় একটি ফেসবুক আইডিতে ওই পোস্টটি দেখতে পান বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।


আরএমও রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ওই পোস্টে দুটি ছবি সংযুক্ত করে লেখা হয়, নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে থেকে একজন মা’কে টাকা না দেওয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পোস্টটি নজরে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালীর হাসপাতাল এলাকার ছবি নয়। প্রকৃত ঘটনা ও স্থান যাচাই না করে ভিন্ন স্থানের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে।




জিডিতে বলা হয়েছে, ভিন্ন স্থানের ছবি ব্যবহার করে এমন তথ্য প্রচারের ফলে হাসপাতালের সুনাম, ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে এ ধরনের তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়। জিডিতে ওই ফেসবুক আইডি পরিচালনাকারী ব্যক্তির পরিচয় এবং পোস্টটির প্রকৃত উৎস শনাক্ত করে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জিডি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর