যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ এএম

চিরকাল স্থায়ী হবে, এমন কোনো ভাবনা নিয়ে কেউ কখনোই যুদ্ধ শুরু করেন না। অথচ ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা বারবার এমন সব সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যা বছরের পর বছর ধরে চলতেই থাকে। অন্তত পরবর্তী কোনো প্রেসিডেন্ট বা তারও পরেরজন এসে যখন দেখেন যে এ যুদ্ধের খরচ ও রাজনৈতিক খেসারত দেওয়ার কোনো মানে নেই; তখন তিনি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা ও সেনা প্রত্যাহার করে বাড়িতে ফিরে যান।


ইরান ইস্যুতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হয়তো একই ফাঁদে পড়তে যাচ্ছেন। তিনি যখন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন, তখন যুদ্ধ শুরু করা নয়, বরং যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের কথা বাদই থাক, যেকোনো ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বা ‘অনন্ত যুদ্ধে’ কখনো না জড়ানোর কথা বলেছিলেন তিনি। অথচ সমালোচকেরা বলছেন, ইরানের ক্ষেত্রে তিনি ঠিক সেই চিরস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকিই তৈরি করছেন।


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে যে ইরান যুদ্ধ প্রচণ্ড শক্তি দিয়ে শুরু করেছিল, তা কখনো আলোচনা আবার কখনো হামলার মধ্য দিয়ে মোড় পরিবর্তন করেছে। ইরান সরকারের পতন ঘটানো কিংবা দেশটির পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার যে লক্ষ্য ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তা অর্জনে তাঁরা এ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো এ যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে অবরুদ্ধ করে এক নতুন ও অত্যন্ত জটিল সংকটের জন্ম দিয়েছে।


কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, অন্তত সাময়িকভাবে হলেও, একজন হতাশ ট্রাম্প নিজেকে আবারও যুদ্ধের ময়দানে আবিষ্কার করছেন।


ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে এবং হরমুজ প্রণালিও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এক মাসও পার হওয়ার আগেই ভেস্তে গেছে ট্রাম্পের সেই সমঝোতা স্মারক, যা নিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন যে এটি তাঁদের সব লক্ষ্য পূরণ করেছে। যদিও সমঝোতা স্মারকটি নিয়ে নানা মহলে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা ছিল।


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, উভয় পক্ষই এ সমঝোতা স্মারককে শান্তির সেতু হিসেবে দেখেনি; বরং তারা এটিকে ভিন্ন উপায়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছে।


আলী ভায়েজ সতর্ক করে বলেন, একটি টেকসই সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো কৌশল না থাকলে, এ পরিস্থিতি আরেকটি ‘অনন্ত যুদ্ধের’ ক্ষেত্র তৈরি করার ঝুঁকি বাড়াবে।


‘অনন্ত যুদ্ধের’ ইতিহাস ও সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা

‘অনন্ত যুদ্ধ’ বা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ধারণা মূলত শুরু হয়েছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং এর জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণার মধ্য দিয়ে।


ওই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তান ও ইরাকে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানে জড়িয়ে ফেলে এবং দেশ দুটিতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়। শত্রুভাবাপন্ন সরকারগুলোর পতন ঘটানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া এসব সংঘাত পরবর্তী সময়ে স্থানীয় বিদ্রোহীদের দমনের লড়াইয়ে রূপ নেয়। অবশেষে বিপুল অর্থ খরচ ও বহু প্রাণের বিনিময়ে যুদ্ধগুলো হয় কোনো অমীমাংসিত অবস্থায়, না হয় (মার্কিন বাহিনীর) পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।


লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধবিদ্যা বিষয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক লরেন্স ডি ফ্রিডম্যান গত বছর ‘দ্য এজ অব ফরএভার ওয়ার্স’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকা দেশগুলোর প্রভাবশালী নেতারা প্রায়ই একটি ভুল ধারণার ফাঁদে পড়েন, যাকে ‘স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের বিভ্রম’ বলা যেতে পারে। এ নেতারা মনে করেন, যুদ্ধে তাঁরা খুব দ্রুত জয়লাভ করতে পারবেন এবং এর কোনো বিরূপ পরিণতি তাঁদের ভোগ করতে হবে না।


অধ্যাপক ফ্রিডম্যানের মতে, ইরানে ট্রাম্প এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—উভয়ের ক্ষেত্রে একই বিষয় দেখা যাচ্ছে। তাঁরা সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এমন সব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন যা অর্জন করা যদি আদৌ সম্ভবও হয়, তবে তা শুধু দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই সম্ভব। যুদ্ধক্ষেত্রের শ্রেষ্ঠত্বকে যদি একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দেওয়ার সঠিক কৌশল না থাকে, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী দিয়েও লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। ট্রাম্পের সামনে এখন বাড়তি চ্যালেঞ্জ হলো, তিনি মার্কিন জনগণের কাছে রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য স্থলসেনা ইরানের মাটিতে না পাঠিয়ে, শুধু বিমান ও নৌবাহিনীর শক্তি ব্যবহার করে এ যুদ্ধে জিততে চাইছেন।


১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং এটি লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছিল। কারণ, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল সীমিত—শুধু কুয়েত থেকে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনকে বিতাড়িত করা। কিন্তু তাঁর ছেলে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধের সময় এ শিক্ষা ভুলে যান, যার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে ওই অঞ্চলে উল্টো ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও, জুনিয়র বুশ তালেবানদের ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি ও তাঁর উত্তরসূরিরা আফগান সমাজকে নতুন করে গড়ে তোলার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। অবশেষে ওয়াশিংটন যখন এ দীর্ঘ চেষ্টায় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন সেখানে তালেবান আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে।


তবে ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধযাত্রার পেছনে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি যুক্তিও রয়েছে, যা নিজে বহুবার উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ১৯৭৯ সালে ইরানে শাহের পতন এবং পরে ৬০ জনের বেশি মার্কিনকে জিম্মি করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়েছিল, তা ৪৭ বছর ধরে চলছে। ট্রাম্প মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এ দীর্ঘদিনের পুরোনো সংঘাতেরই একটি চূড়ান্ত অবসান ঘটাতে চান।


সংঘাতের ধারাবাহিক চক্র ও ইরানের ভিন্ন প্রেক্ষাপট

জনস হপকিনস স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ভালি নাসর মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এ ‘অনন্ত যুদ্ধ’ প্রকৃতপক্ষে একটি দীর্ঘ সংঘাতের ধারাবাহিক চক্র। এ দ্বন্দ্ব কখনো চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে, আবার কখনো চুক্তির মধ্য দিয়ে শান্ত হয়েছে। যেমন ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি, যা ২০১৮ সালে ট্রাম্প নিজেই বাতিল করেছিলেন।


অন্যদিকে, কার্নেগি অ্যান্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ইসরায়েলের উসকানিতে ট্রাম্প আসলে দেশটির সমান্তরাল আরেকটি ‘অনন্ত যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়েছেন। এটি হলো, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ; যা বর্তমানে লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনে ইরানের প্রক্সি বা ছায়া গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলছে।


ট্রাম্পের সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে এ অপ্রিয় যুদ্ধকে নিজ সমর্থকদের কাছে একধরনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরে সেনা প্রত্যাহার করার। কিন্তু সবাইকে অবাক করে তিনি যেন এ যুদ্ধেই নিজের শক্তি আরও বাড়িয়ে চলেছেন, যদিও কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট পথ তাঁর সামনে নেই। ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর আর ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার। দুপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে মিত্রদের সহযোগিতা নিয়েও হয়তো এখানে অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে জড়িয়ে থাকতে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে।


তবে আফগানিস্তান বা ইরাকের দ্বিতীয় যুদ্ধের তুলনায় ইরানের এ যুদ্ধ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগের দুটি যুদ্ধেই হাজার হাজার মার্কিন স্থলসেনা দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করেছিলেন। তখন তাঁদের লড়াই করতে হয়েছিল মূলত মার্কিন–সমর্থিত নতুন সরকারের বিরোধী বিভিন্ন মিলিশিয়া ও ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, ইরানের মতো কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়।


তা ছাড়া ভিয়েতনাম, ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতি ইরানে নয়। ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় অর্থনৈতিক আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। এ ক্ষমতা তেহরানকে একটি শক্তিশালী সুবিধা এনে দিয়েছে এবং এ কারণেই তারা এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি হবে না।


ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনি বলেন, যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। ইরাকের মতোই, যুক্তরাষ্ট্রের ভুল ধারণা ও হিসাব-নিকাশ এ অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তিনি আরও মনে করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বাধা ছাড়া জাহাজ চলাচলের দিন হয়তো এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।


সুজান ম্যালোনি মনে করেন, এর ফলে একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে ইরান যেহেতু যখন খুশি তখন যেকোনো জাহাজে আঘাত করার সক্ষমতা রাখে, তাই এ নতুন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে হবে।


আফগান যুদ্ধ নিয়ে কাজ করা অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজি বা স্বার্থ তেহরানের চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেক কম। এ কারণেই একপর্যায়ে মার্কিনদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের গতি ধীর হতে শুরু করে, যেখানে অন্য পক্ষ (ইরান) আগের মতোই তীব্রতা বজায় রাখতে প্রস্তুত থাকে।


ভালি নাসর মনে করেন, ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র যখনই সেনা প্রত্যাহার করতে শুরু করেছিল, তখনই যুদ্ধের ভারসাম্য বদলে যেতে শুরু করেছিল।


তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত অবসান ঘটানো এখনো অনেক দূরের বিষয় বলে মনে হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, উভয় পক্ষ ইতিমধ্যে এটি প্রমাণ করেছে যে তারা একটি ন্যূনতম রূপরেখা চুক্তিতেও টিকে থাকতে পারছে না, যে চুক্তিতে সব মূল বা মৌলিক বিষয় ভবিষ্যতের জন্য তোলা রাখা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, তারা যদি এতটুকুও করতে না পারে, তবে তা সাময়িক বা বিচ্ছিন্ন সংঘাত ও একটি চিরস্থায়ী বা ‘অনন্ত যুদ্ধের’ মাঝখানের শেষ দেয়ালও ভেঙে দিতে পারে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আসন্ন এবং সোমবার আলোচনা হবে। তবে গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না। 


আবার একই দিন খবর এসেছে, ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য সামরিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। 


স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘটনা কোন দিকে গড়াচ্ছে? যুদ্ধ আবার শুরু হবে, নাকি আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ? আর ট্রাম্পই বা কী বলতে চাইছেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ একঘেয়ে ছকে আটকে গেছে।


আলজাজিরার প্রতিবেদক কাতার থেকে জানান, ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগ দিয়েই অজ্ঞাতনামা এক সূত্র তাকে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর বিষয়ে জানিয়েছেন। সে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে পরোক্ষ আলোচনা হবে। 


মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যাওয়া ও কাতারের পক্ষ থেকে দূত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আমরা বিস্তারিত জানি না। তবে কিছু একটা হচ্ছে, তা আন্দাজ করতে পারছি।


তবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমায়েল বাঘায়ি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘আমরা এই সময়ে কোনো দেশ থেকে প্রতিনিধি দল বা অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না।’ 


তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে।’


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের বর্তমান জটিলতার কারণে ট্রাম্প দায়ী। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৃদ্ধি ও হামলা বন্ধ করার ঘটনার কারণে এই সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি মনে করি, এ অনেকটা একঘেয়ে ছকে পরিণত হয়েছে।


ত্রিতা পারসি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে আলোচনার সব নির্ভরযোগ্যতা হারিয়ে যাবে। কোনো চুক্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা হবে কি না, সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।’


এখন প্রশ্ন উঠছে, আলোচনা যেহেতু হবে না বলে জানিয়েছে ইরান, তাহলে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করলেন কেন? 


এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই তিন দেশের পক্ষ থেকে তাঁকে হামলা বন্ধ করে চুক্তি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


এ ক্ষেত্রে তেলের দাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের অবকাঠামোতে ট্রাম্প হামলা চালানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি কমেছে। 


তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়ে রেখেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।


ইরানকে অভিনব শাস্তি


ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, আমরা নতুন সৃজনশীল ও অভিনব পন্থা খুঁজছি ইরানের ওপর চাপ তৈরি ও তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য। 


মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, গত বুধবার ওই ইমেইল একাধিক সামরিক বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র এ তথ্য জানায়। 


সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এভাবে ইমেইলের মাধ্যমে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ থেকে এটি প্রকাশ পায় যে, ট্রাম্পের হাতে ইরানকে চাপে ফেলার বিকল্প সম্ভবত সীমিত।


এদিকে এ প্রসঙ্গে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিনব পন্থায় চিন্তা করা ও কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অ্যাডমিরাল কুপার, কোনো বিশেষ র্যাং ক ছাড়াই সদস্যদের সঙ্গে এটি নিয়ে যোগাযোগ করেছেন, যাতে এটি থেকে সম্ভাব্য কার্যক্ষমতার সর্বোচ্চটা অর্জন সম্ভব হয়।’


গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।


ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত। 


কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়। 


তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।


অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। 


ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়। 


এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।


সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি


সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।


প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন। 


প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 


বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়। 


মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন। 


সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি। 


অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।


প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’ 


ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।


এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।


ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।


এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।


পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।


পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।


বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।


তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।


এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।


গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”


নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।


হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।


গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।


তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।


বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।