ছবি : সংগৃহীত
আগ্রাসী অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং ইরানে যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরও কয়েকটি নীতির প্রতিবাদে গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নগরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ট্রাম্পবিরোধী এ বিক্ষোভ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল শনিবার তৃতীয়বারের মতো ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
এদিন যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের ৩ হাজার ২০০টির বেশি জায়গায় বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আগের দুটো বিক্ষোভে কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
তবে এবার সবচেয়ে বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় মিছিল হয়েছে নিউইয়র্ক, টেক্সাসের ডালাস, পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনে, যদিও দুই-তৃতীয়াংশ মিছিলের আয়োজন হয়েছে বড় বড় শহরের বাইরে।
আয়োজকেরা বলেছেন, গত বছরের জুনে প্রথমবার ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের তুলনায় ছোট ছোট শহরগুলোতে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সেন্ট পলের বাইরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্পের আগ্রাসী অবৈধ অভিবাসননীতির কারণে এ অঙ্গরাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সেখানে বিক্ষোভ মিছিলে অনেকেই নানা ধরনের পোস্টার উঁচিয়ে ধরেছিলেন। কারও কারও পোস্টারে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির ছবি দেখা গেছে। এ বছর মিনিয়াপলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা এই দুজনকে গুলি করে হত্যা করেন।
জনসভায় মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস বলেন, ট্রাম্প ও তাঁর নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা যে প্রতিবাদ করছেন, সেটাই প্রমাণ করে- তাঁরাই যুক্তরাষ্ট্রের ভালো দিকগুলোর আসল শক্তি।
ওয়ালৎস আরও বলেন, ‘তাঁরা আমাদের কট্টরপন্থী বলেন। আপনারা একদম ঠিক বলেন, আমরা কট্টরপন্থী, আমরা সত্যই প্রভাবিত হয়েছি- মানবিকতা দ্বারা প্রভাবিত, শালীনতা দ্বারা প্রভাবিত, ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত, গণতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যা কিছু করা সম্ভব, তা করতে আমরা প্রভাবিত হয়েছি।’
ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও মিনেসোটায় বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই দেশকে স্বৈরাচার বা অলিগার্কদের দিকে পতিত হতে দেব না। এ দেশে জনগণের শাসন থাকবে।’
নিউইয়র্কে ম্যানহাটানে এদিন প্রায় লাখো মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখানে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজকদের একজন ছিলেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো।
রবার্ট ডি নিরো বলেন, ‘ট্রাম্পের আগে আর কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এতটা অস্তিত্বের সংকটে ফেলেননি।’
৫৪ বছর বয়সী হলি বেমিস বলেন, তিনি এবং নিউইয়র্কে প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণকারী অন্যরা সেই একই চেতনায় কাজ করছেন, যেভাবে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা আমেরিকান বিপ্লবে লড়াই করেছিলেন।
এই নারী বলেন, ‘আমরা রাজাদের শাসনের বিরুদ্ধে লড়েছি এবং আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়েছি। এখন আমরা আবারও ঠিক সেই কাজই করছি।’
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে প্রতিবাদে জড়ো হওয়া লোকজন গণতন্ত্রের সমর্থনে স্লোগান দেন। এ সময় তাঁরা ট্রাম্পবিরোধী প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন।
মেরিল্যান্ডে একদল বয়স্ক মানুষ হুইলচেয়ারে বসে হাতে প্ল্যাকার্ড ধরে প্রতিবাদ জানান। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’, ‘গণতন্ত্র চাইলে আওয়াজ তুলুন’ এবং ‘ট্রাম্পকে বিদায় দিন’।
ডালাসে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাঁদের বিপরীতে অবস্থান নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রতিবাদে অংশ নেন অবসর জীবনে যাওয়া টেরেসা গানের।
তিনি বলেন, তিনি এতে অংশ নিয়েছেন কারণ- সবারই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও লোভের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
টেরেসা বলেন, ‘ট্রাম্প যা কিছু করছেন, তার সবই নিজেকে আরও ধনী করতে এবং সাধারণ মার্কিনদের কাছ থেকে সম্পদ কেড়ে নিতে।’
গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রায় এক হাজার ‘দাঙ্গাকারী’ একটি ফেডারেল ভবন ঘিরে রাখার সময় দুজনকে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ফেডারেল কারাগারের আশপাশের এলাকা থেকে সরে না যাওয়ার কারণে একাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সেখানে বিক্ষোভকারীরা একটি বেড়ার ওপার থেকে ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি এমন দাবি করেন।
প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে এও বলেন, এটিই ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।’ বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।
গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করে। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তেও আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।’
‘একটি ভালো চুক্তিতে সই করার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের চূড়ান্ত বিনাশের আগে শেষ সুযোগ দিতে চাই।’
এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। ট্রাম্পের মতে, ‘বলতে গেলে এটি আগামীকালের মধ্যেই’ সম্ভব হতে পারে।
এ ছাড়া ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হতে ‘কিছুটা সময় লাগতে পারে’ বলে তিনি জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। যদিও গত কয়েক মাসের দফায় দফায় কূটনৈতিক আলোচনার ফলে বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থেকেছে।
দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষত রয়েছে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি থেকে সংকেত পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু এখনো জানানো হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনবহুল সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। এতে দেখা গেছে, একটি খাড়া পাহাড়ের দিকে দ্রুতগতিতে একটি ড্রোন ধেয়ে আসছে। পরে সেটি পাহাড়ের পাশে সৈকতে আগুনের গোলার মতো আছড়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।
কৃষ্ণসাগরের তীরে আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের কাছের একটি সৈকতে এ ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ বলেন, আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৪০–এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক লোকজনের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ। এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
তবে রাশিয়া আর ইউক্রেন-দুই পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।
ইউক্রেনের ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু রুশ সমুদ্রসৈকত ছিল কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে ইউক্রেনের কিছু চ্যানেল থেকে দাবি করা হয়েছে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের কারণে ড্রোনটির সংকেত জ্যাম হয়ে যাওয়ায় সেটি সৈকতে বিধ্বস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রাশিয়ার কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোনটি আছড়ে পড়ার আগে তাঁরা গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটি আঘাত হানার আগে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
কৃষ্ণসাগরের এ সৈকত রুশদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে উষ্ণ জলবায়ু, দীর্ঘ সৈকত আর উন্নত পর্যটন পরিকাঠামোর কারণে অনেকে এখানে অবকাশ কাটাতে আসেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রুশদের ভ্রমণ সীমিত থাকায় এ সৈকতে আরও বেশি জনসমাগম হয়।
বছরখানেক ধরে রাশিয়ার সীমানার অনেকটা ভেতরে সফলভাবে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক গুদামগুলো লক্ষ্য করে বেশির ভাগ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের দাবি, এসব স্থাপনা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাশিয়া।
তবে ইউক্রেনের এসব হামলায় বেশ কয়েকবারই বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহান্তেও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও শহরগুলোয় আক্রমণ চালায় রুশ বাহিনী। হতাহত হয়েছেন হাজারো বেসামরিক মানুষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, গত শনিবার দেশটির রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আসন্ন এবং সোমবার আলোচনা হবে। তবে গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না।
আবার একই দিন খবর এসেছে, ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য সামরিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘটনা কোন দিকে গড়াচ্ছে? যুদ্ধ আবার শুরু হবে, নাকি আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ? আর ট্রাম্পই বা কী বলতে চাইছেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ একঘেয়ে ছকে আটকে গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক কাতার থেকে জানান, ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগ দিয়েই অজ্ঞাতনামা এক সূত্র তাকে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর বিষয়ে জানিয়েছেন। সে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে পরোক্ষ আলোচনা হবে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যাওয়া ও কাতারের পক্ষ থেকে দূত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আমরা বিস্তারিত জানি না। তবে কিছু একটা হচ্ছে, তা আন্দাজ করতে পারছি।
তবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমায়েল বাঘায়ি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘আমরা এই সময়ে কোনো দেশ থেকে প্রতিনিধি দল বা অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের বর্তমান জটিলতার কারণে ট্রাম্প দায়ী। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৃদ্ধি ও হামলা বন্ধ করার ঘটনার কারণে এই সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি মনে করি, এ অনেকটা একঘেয়ে ছকে পরিণত হয়েছে।
ত্রিতা পারসি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে আলোচনার সব নির্ভরযোগ্যতা হারিয়ে যাবে। কোনো চুক্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা হবে কি না, সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।’
এখন প্রশ্ন উঠছে, আলোচনা যেহেতু হবে না বলে জানিয়েছে ইরান, তাহলে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করলেন কেন?
এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই তিন দেশের পক্ষ থেকে তাঁকে হামলা বন্ধ করে চুক্তি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে তেলের দাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের অবকাঠামোতে ট্রাম্প হামলা চালানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি কমেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়ে রেখেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।
ইরানকে অভিনব শাস্তি
ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, আমরা নতুন সৃজনশীল ও অভিনব পন্থা খুঁজছি ইরানের ওপর চাপ তৈরি ও তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, গত বুধবার ওই ইমেইল একাধিক সামরিক বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র এ তথ্য জানায়।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এভাবে ইমেইলের মাধ্যমে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ থেকে এটি প্রকাশ পায় যে, ট্রাম্পের হাতে ইরানকে চাপে ফেলার বিকল্প সম্ভবত সীমিত।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিনব পন্থায় চিন্তা করা ও কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অ্যাডমিরাল কুপার, কোনো বিশেষ র্যাং ক ছাড়াই সদস্যদের সঙ্গে এটি নিয়ে যোগাযোগ করেছেন, যাতে এটি থেকে সম্ভাব্য কার্যক্ষমতার সর্বোচ্চটা অর্জন সম্ভব হয়।’
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।