যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এ সংক্রান্ত একটি রুল জারি করেছে।
এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। এর ফলে পররাষ্ট্র নীতি ও অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়বে।
আদালতের এই রুলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পাল্টা শুল্কের বদলে নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। নতুন এ শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ তথ্য জানান। তিনি ওভাল অফিসে বসে এই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।
তিনি জানান, এই আদেশ 'প্রায় তাৎক্ষণিকভাবেই' কার্যকর হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, বিচারকরা গত বছর হোয়াইট হাউসে ঘোষিত তার বৈশ্বিক শুল্কের বেশিরভাগকে বেআইনি ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট অন্য আইনের বলে তার নতুন শুল্ক পরিকল্পনার কথা জানান। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা ৬-৩ ভোটে দেওয়া রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ১৯৭৭ সালের ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) প্রয়োগ করতে গিয়ে তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যেসব মার্কিন রাজ্য ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল তাদের জন্য বড় জয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আইইইপিএ-র বদৌলতে কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্র যাদের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে, তা ফেরত দেওয়ার পথ খুলবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন অনিশ্চয়তাও শুরু হবে।
তবে আইনি লড়াই ছাড়া শুল্কের মাধ্যমে নেওয়া অর্থ ফেরত যাবে না বলে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর এ আইনি লড়াই শেষ হতে কয়েক বছরও লাগতে পারে, বলেছেন তিনি।
রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, শুল্ক কার্যকরে তার হাতে আরও অনেক আইন আছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে এই শুল্কের প্রয়োজন আছে বলেও যুক্তি দেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ সুপ্রিম কোর্টের যে ৬ বিচারক ট্রাম্পের শুল্কের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তার মধ্যে তিন উদারপন্থির পাশাপাশি ট্রাম্পের হাতে নিয়োগ পাওয়া দুই বিচারক অ্যামি কনে ব্যারেট ও নেইল গোরসাচও আছেন। তবে তিন রক্ষণশীল বিচারক ক্লারেন্স থমাস, ব্রেট কাভানহ ও স্যামুয়েল আলিতো সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানদের হাতে নিয়োগপ্রাপ্ত যে বিচারকরা তার শুল্কনীতির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তাদের নিয়ে তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’। ওই বিচারকরা ‘বোকা ও তোষামোদে লিপ্ত’ এবং তাদের ‘দেশপ্রেম একেবারেই নেই । তারা সংবিধানের প্রতিও অনুগত নয়’। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে চাঙাভাব দেখা গেছে। অবশ্য শুক্রবারই ট্রাম্প ধারা ১২২ নামে পরিচিত, কখনো ব্যবহৃত না হওয়া একটি আইনের অধীনে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। ওই আইনে প্রেসিডেন্টকে দেড়শ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যেই কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ট্রাম্পের এ আদেশে কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার, কমলা ও গরুর মাংসের মতো কিছু কৃষিজাত পণ্য, ওষুধ ও ইলেকট্রনিক্স এবং নির্দিষ্ট কিছু গাড়িসহ অনেক পণ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ছাড়ের তালিকা খুবই সাধারণভাবে দেওয়া হয়েছে—ঠিক কোন কোন পণ্য এই ছাড় পাবে, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।
উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) অধীনে কানাডা ও মেক্সিকোর বেশিরভাগ পণ্যই ছাড়ের আওতাতেই থাকবে।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আদালত ভুলবশত যেসব সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে, সেগুলোর জায়গায় এখন অন্যান্য বিকল্প ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাছে বিকল্প আছে—দারুণ সব বিকল্প। এর মাধ্যমে হয়তো আরও বেশি অর্থ আয় হতে পারে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করব এবং আরও অনেক শক্তিশালী হব।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলা দেশগুলোর ওপরও এই নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ হবে। এসব দেশ এখন নিজেদের চুক্তিতে নির্ধারিত শুল্ক হারের বদলে সেকশন ১২২-এর অধীনে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক দেবে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার রায়ে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসকে, প্রেসিডেন্টকে নয়। তিনি লিখেছেন, অস্বাভাবিক ক্ষমতার চর্চা হিসেবে শুল্ক আরোপের জন্য প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘স্পষ্ট অনুমোদনের’ প্রমাণ দিতে হবে। কিন্তু তিনি তা পারেননি। আদালতের মতে, আইইইপিএ আইনে ‘নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘আমদানি’ শব্দ দুটি থাকলেও, এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে যেকোনো দেশের ওপর যেকোনো হারে অসীম সময়ের জন্য শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নিজের শুল্কনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অন্য আইনের আশ্রয় নেবেন। তার মতে, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। মূলত বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক নিয়ে ছিল আদালতের এই লড়াই। শুরুতে এই শুল্ক মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আরোপ করা হয়। পরে গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর পরিধি বাড়িয়ে আরও ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর তা প্রয়োগ করা হয়। হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর (আইইইপিএ) বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য 'নিয়ন্ত্রণের' ক্ষমতা দেয়। কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে দেশে-বিদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গত বছর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনজীবীরা বলেন, ট্রাম্প শুল্কারোপের জন্য যে আইন ব্যবহার করেছেন, সেখানে 'শুল্ক (ট্যারিফ)' শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই। তারা বলেন, কংগ্রেস তাদের কর আদায়ের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। এমনকি বিদ্যমান অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক বিধিগুলোকে 'বাতিল করার জন্য প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা' দেওয়ার উদ্দেশ্যও কংগ্রেসের ছিল না। রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির পক্ষেই অবস্থান নেন।
ট্রাম্প বলেন, এ রায়ের কারণে 'যেসব বিদেশি রাষ্ট্র বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে আসছিল, তারা এখন উচ্ছ্বসিত। তারা এতটাই খুশি যে রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। তবে তারা বেশিদিন এই নাচ নাচতে পারবে না, এটুকু আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি।' সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ করে। তবে শুল্কের খরচ থেকে মুক্তি ও অর্থ ফেরতের যে আশা করা হচ্ছে, তা হয়তো শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যেতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আসন্ন এবং সোমবার আলোচনা হবে। তবে গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না।
আবার একই দিন খবর এসেছে, ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য সামরিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘটনা কোন দিকে গড়াচ্ছে? যুদ্ধ আবার শুরু হবে, নাকি আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ? আর ট্রাম্পই বা কী বলতে চাইছেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ একঘেয়ে ছকে আটকে গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদক কাতার থেকে জানান, ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগ দিয়েই অজ্ঞাতনামা এক সূত্র তাকে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর বিষয়ে জানিয়েছেন। সে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে পরোক্ষ আলোচনা হবে।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যাওয়া ও কাতারের পক্ষ থেকে দূত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আমরা বিস্তারিত জানি না। তবে কিছু একটা হচ্ছে, তা আন্দাজ করতে পারছি।
তবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমায়েল বাঘায়ি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘আমরা এই সময়ে কোনো দেশ থেকে প্রতিনিধি দল বা অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের বর্তমান জটিলতার কারণে ট্রাম্প দায়ী। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৃদ্ধি ও হামলা বন্ধ করার ঘটনার কারণে এই সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি মনে করি, এ অনেকটা একঘেয়ে ছকে পরিণত হয়েছে।
ত্রিতা পারসি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে আলোচনার সব নির্ভরযোগ্যতা হারিয়ে যাবে। কোনো চুক্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা হবে কি না, সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।’
এখন প্রশ্ন উঠছে, আলোচনা যেহেতু হবে না বলে জানিয়েছে ইরান, তাহলে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করলেন কেন?
এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই তিন দেশের পক্ষ থেকে তাঁকে হামলা বন্ধ করে চুক্তি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে তেলের দাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের অবকাঠামোতে ট্রাম্প হামলা চালানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি কমেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়ে রেখেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।
ইরানকে অভিনব শাস্তি
ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, আমরা নতুন সৃজনশীল ও অভিনব পন্থা খুঁজছি ইরানের ওপর চাপ তৈরি ও তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, গত বুধবার ওই ইমেইল একাধিক সামরিক বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র এ তথ্য জানায়।
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এভাবে ইমেইলের মাধ্যমে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ থেকে এটি প্রকাশ পায় যে, ট্রাম্পের হাতে ইরানকে চাপে ফেলার বিকল্প সম্ভবত সীমিত।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিনব পন্থায় চিন্তা করা ও কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অ্যাডমিরাল কুপার, কোনো বিশেষ র্যাং ক ছাড়াই সদস্যদের সঙ্গে এটি নিয়ে যোগাযোগ করেছেন, যাতে এটি থেকে সম্ভাব্য কার্যক্ষমতার সর্বোচ্চটা অর্জন সম্ভব হয়।’
গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত।
কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়।
তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়।
এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি
সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ
মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন।
প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়।
মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন।
সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’
ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।
এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, খেলতে গিয়ে বলটি ভুলবশত গিলে ফেলায় শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় ঘটা মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মৃত ওই শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, চিপসের প্যাকেটের ভেতরে থাকা খেলনা প্লাস্টিকের বলটি শিশুটির গলায় আটকে যায়। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো গ্রামেও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হুনসুর গ্রামীণ থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে চিপসের প্যাকেটের মধ্যেই উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছিল। খেলতে গিয়ে শিশুটি সেটি ভুলবশত গিলে ফেলে। পরে বলটি তার গলায় আটকে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরিবার এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি। ফলে এখনও কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডিআর) রিপোর্ট বা ফৌজদারি মামলা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পরিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গ্রিসে দাবানল নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষ হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় একজন ড্যানিশ পাইলট এবং গ্রিক ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা ব্রিটিশ পাইলট এবং আরেক গ্রিক কর্মকর্তা প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বিবিসি লিখেছে, রোববার রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অ্যাটিকা-বিয়োশা সীমান্তে এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সেখানে একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি ম্যাকডারমট অ্যাভিয়েশন থেকে লিজ নেওয়া দুটি বেল হেলিকপ্টার। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি হেলিকপ্টার অন্যটির প্রপেলারে আঘাত করে।
তাতে মুহূর্তের মধ্যে একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি একটি খাদে বিধ্বস্ত হয়। অন্য হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
এক হেলিকপ্টার থেকে উদ্ধার করা দুই ক্রুকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় হেলিকপ্টারে থাকা আহত ব্রিটিশ পাইলট ও গ্রিক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের বেসামরিক সুরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যবহৃত সব ‘বেল’ হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতোতাকিস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি এক্স পোস্টে বলেন, “গ্রিক কর্মকর্তা এবং ড্যানিশ পাইলটের মৃত্যু আমাদের সবাইকে শোকাহত করেছে।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
হেলিকপ্টারের মালিক প্রতিষ্ঠান ম্যাকডারমট এভিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা জন ম্যাকডারমট এ ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।
গ্রিসের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকাথিমেরিনি লিখেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ক্রুই তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানান এবং উদ্ধারকারী দলকে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে বলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত বা আহত চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে গ্রিসের পোর্তো জার্মেনো, পসাথা, ফোকিদা ও মেগারাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাবানল তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ৫০০ জনের বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও স্পেনে বড় ধরনের দাবানল ছড়িয়ে পড়লেও তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই বারবার শুষ্ক মৌসুমে এমন মারাত্মক দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।