ছবি : সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি ইরানি দ্বীপ দখলের জন্য সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন মেরিন সেনা ও ছত্রীসেনারা (প্যারাট্রুপার) সেখানে একটি মরণফাঁদে পড়তে পারেন। কারণ, তাঁদের রসদ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে অরক্ষিত আর কৌশলগত লক্ষ্যগুলোও অস্পষ্ট। মিডল ইস্ট আইকে এমনটাই বলেছেন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।
ওই এলাকায় মার্কিন সামরিক অভিযানটি শুরু হবে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রাডার ব্যবস্থা অচল (জ্যাম) করার মধ্য দিয়ে। আর এর পরপরই চালানো হবে ব্যাপক বোমা হামলা।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ সেথ ক্রুমরিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে প্রস্তুতিমূলক এবং বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বর্তমানে গ্লোবাল গার্ডিয়ান নামের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্রুমরিক। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পর ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে ‘প্রস্তুতিমূলক’ হামলা চালানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। তবে তিনটি দ্বীপের ওপর বেশি নজর থাকবে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে খারগ দ্বীপ। কুয়েতের উল্টো দিকে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে এমন সব স্থাপনা রয়েছে, যেখান থেকে ইরান তাদের মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে।
আবু মুসা এবং এর কাছাকাছি আরও দুটি ছোট দ্বীপ উপসাগরীয় অঞ্চলের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে ইরানের সাবেক শাহ এগুলো দখল করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত এই দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে।
অন্য একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে কেশম দ্বীপ। এটি দখল করা সবচেয়ে কঠিন হবে। কারণ, এটি আয়তনে সবচেয়ে বড় এবং এখানে ইরানের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে রাখা হয়।
প্রায় দেড় লাখ ইরানি এই দ্বীপে বসবাস করেন। দ্বীপটি বন্দর আব্বাস থেকে খুব সামান্য দূরত্বে অবস্থিত। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কেশম এবং এর পাশের দ্বীপ লারাকের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।
আকাশপথে আগ্রাসনের আশঙ্কা বেশি
বিশ্লেষকেরা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ যুদ্ধের আলোচনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মেরিন সেনাদের সমুদ্র থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওকিনাওয়া এবং আইও জিমা দ্বীপের দিকে উঠে আসার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকায় মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর প্রথম অংশটি সম্ভবত আকাশপথেই আসবে।
ডেভিস বলেন, ‘ইউএসএস বক্সার বা ইউএসএস ত্রিপোলিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই আমি দেখছি না।’ তিনি মূলত দুটি উভচর যুদ্ধজাহাজের কথা বুঝিয়েছেন, যেগুলোতে করে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনাকে এই অঞ্চলে আনা হচ্ছে। এই জাহাজগুলো ছোট আকারের ল্যান্ডিং ক্রাফট (উপকূলে সেনা ও রসদ পৌঁছানোর নৌযান) ও হোভারক্রাফট (উভচর যান) বহনে সক্ষম।
ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এখানে কেবল একটিই বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, আর তা হলো আকাশপথ।’
মার্কিন সেনাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ভি-২২ অস্প্রে টিল্ট-রোটর বিমান, চিনুক এবং ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার বলেছেন, স্থলসেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তবে এর মধ্যেও ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী একটি বাহিনী পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন।
প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনার সমন্বয়ে গঠিত দুটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের আরও ৩ হাজার ছত্রীসেনাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ইউএস নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের শিক্ষক কালেভ সেপ বলেন, মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীকে সম্ভবত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটির ওপর নির্ভর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলে, তারা (মার্কিন বাহিনী) এটি করতে পারবে না।’
এর আগে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে সমর্থন দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। আমিরাত প্রকাশ্যে এমন যেকোনো যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। সৌদি আরব জনসমক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক হলেও, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।
‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’র সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, হেলিকপ্টারে করে আসা মার্কিন সেনারা কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং এমনকি হালকা অস্ত্র ও আরপিজি (কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র) হামলার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।
ডেভিস বলেন, ‘আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনা নামানো হবে। তবে ইরানও মানচিত্র পড়তে জানে, তাই তারা এর জন্য প্রস্তুত থাকবে।’
‘ফকল্যান্ড আক্রমণের চেয়েও কঠিন’
মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি থাকা কোনো দ্বীপ দখল করার জন্য পশ্চিমা কোনো আক্রমণকারী বাহিনীর শেষ চেষ্টা ছিল ১৯৮২ সালে। ওই সময় ব্রিটেন আর্জেন্টিনার কাছ থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ পুনরায় দখল করে নেয়। সেই সময় উভচর অবতরণের (দ্বীপের তীরে ওঠার) সময় আর্জেন্টিনার বিমানবাহিনী ব্রিটিশ জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানের কাছে এখনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকে ফকল্যান্ডের দূরত্বের তুলনায় ইরানের দ্বীপগুলো দেশটির মূল ভূখণ্ডের অনেক বেশি কাছাকাছি। এর ফলে এমনকি প্রথাগত কামানের সাহায্যেও মূল ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপগুলো রক্ষা করা অনেক সহজ।
মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘ব্রিটিশদের জন্য ফকল্যান্ড জয় যতটা কঠিন ছিল, পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং ড্রোন যুদ্ধের উন্নতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি এখন আরও বেশি কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘খুব কম বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে ইরান মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণ ঠেকাতে পারবে। কিন্তু একবার মার্কিন মেরিন সেনারা বা ছত্রীসেনারা সেখানে পৌঁছে গেলে, তারা প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়বে। খারগ এবং বিশেষ করে কেশম দ্বীপের ভূপ্রকৃতি ইরানি সেনাদের লুকিয়ে থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে।’
‘মোজাইক ডিফেন্স’ প্রয়োগ করবে ইরান
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) স্থলযুদ্ধবিষয়ক সিনিয়র ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট বলেন, ইরান তাদের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা খণ্ড খণ্ড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর আরও বেশি জোর দেবে।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সাদ্দাম হোসেনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সাজানো (টপ টু ডাউন) সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করেছিল, তা দেখার পরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামো বা ‘ডিসেন্ট্রালাইজড কমান্ড স্ট্রাকচার’ প্রবর্তন করে।
চলমান যুদ্ধজুড়ে এই ‘মোজাইক ডিফেন্স’ ব্যবস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। আইআরজিসির ৩১টি পৃথক কমান্ড রয়েছে—প্রতিটি প্রদেশের জন্য একটি করে। সেখানকার কর্মকর্তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা রয়েছে। এমনকি আইআরজিসিকে আরও ছোট ছোট শাখায় বিভক্ত করা সম্ভব।
স্টুয়ার্ট বলেন, ‘তারা গেরিলাযুদ্ধের ওপরই বেশি নির্ভর করবে। আমেরিকানদের এমন কোনো সুযোগ দেবে না, যাতে তাদের খোলা ময়দানে টেনে এনে উন্মুক্ত লড়াইয়ে জড়াতে পারে।’
তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে বিমান হামলার পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থল থেকে ইরানের ওপর অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন মাটিতে থাকা মেরিন সেনা এবং ছত্রীসেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বা কৌশলে নতুন করে পরিবর্তন আনতে হবে।
আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আমরা এমন এক বিমান ও নৌবাহিনীর কথা বলছি, যারা কয়েক সপ্তাহ ধরে অত্যন্ত তীব্রগতিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখন মাটিতে থাকা সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাদের শক্তিতে টান পড়বে।’
‘আ ব্রিজ টু ফার’
স্টুয়ার্ট বলেন, একবার মার্কিন সেনারা উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিলে, তাদের জন্য নিয়মিত খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং গোলাবারুদ সরবরাহের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সেখানে রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি এবং এমনকি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও মোতায়েন করতে চাইবে। একই সঙ্গে আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য পুনরায় জাহাজে বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।
মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘একবার সেনারা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের রসদ সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসবে। এটি একটি বড় সমস্যা। এই সেনাদের টিকে থাকার জন্য নিয়মিত খাদ্য, জ্বালানি, গোলাবারুদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে।’
মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের হিসাব অনুযায়ী, লড়াইয়ে থাকা প্রতি একজন সেনার বিপরীতে নয়জন সহায়ক কর্মীর প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আবার জলসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপথের সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী অন্তর্ভুক্ত নয়।’ বলে রাখা ভালো, সেনাদের সহায়তার জন্য যুদ্ধজাহাজ ছাড়াও পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটির একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে।
কিন্তু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার মুখে বেশ অরক্ষিতই প্রমাণিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কিং ফাহাদ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। অন্যদিকে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি অনুযায়ী দেখা গেছে যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি ইতিমধ্যে ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই অঞ্চলে থাকা ১৩টি ঘাঁটির অধিকাংশ ইরানি হামলায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য মেরিন সেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন হলো ‘অগ্রগামী’ বা মূল আক্রমণকারী শক্তি। সাধারণত একটি বড় আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণের জন্য উপকূলে প্রাথমিক অবস্থা তৈরি করতে এদের ব্যবহার করা হয়। তবে এই ধরনের বাহিনীকে যখন তাদের সক্ষমতার অতিরিক্ত বিস্তৃত করা হয়, তখন তার পরিণতি কী হতে পারে—ইতিহাসে এমন অনেক সতর্কতামূলক উদাহরণ রয়েছে।
‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এই বাহিনীগুলো নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে অত্যন্ত দক্ষ, কারণ তারা খুব দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু যে মুহূর্তে তারা এক জায়গায় স্থির হয়ে যায়, তখনই তারা শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তখন তাদের সুরক্ষা এবং নিয়মিত রসদ সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘এটি হবে অনেকটা শুটিং গ্যালারির (মরণফাঁদ) মতো।’
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘অপারেশন মার্কেট গার্ডেন’-এর ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট। ওই অভিযানে ছত্রীসেনারা মূলত নেদারল্যান্ডসে নাৎসি জার্মানির প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।
স্টুয়ার্ট বলেন, ‘“আ ব্রিজ টু ফার” হলো আকাশপথে মোতায়েন করা এমন এক বাহিনীর ধ্রুপদি উদাহরণ, যারা কোথাও অবস্থান নিতে পারলেও তা ধরে রাখতে পারে না। পারস্য উপসাগরেও এমনটি ঘটতে পারে। কারণ, সেখানে তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আওতার মধ্যে থাকবে।’ তিনি এখানে ১৯৭৭ সালের শন কনারি এবং মাইকেল কেইন অভিনীত সিনেমার কথা উল্লেখ করেছেন, যা ওই সামরিক বিপর্যয়কে সামনে এনেছিল।
আক্রমণাত্মক অবস্থানে ইরান
ইরানও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে পারে। চলতি সপ্তাহে একজন ইরানি নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, তেহরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চল দখলের জন্য প্রস্তুত। বিশ্লেষকেরা এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও তাঁরা বলেছেন, অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
লন্ডনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস বলেন, ‘হুতিরা এখনো এই সংঘাতে প্রবেশ করেনি (অবশ্য শনিবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এই সংঘাতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা)। আমার ধারণা, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত আরও বাড়লে তাদের কাজে লাগানোর জন্য অপেক্ষা করছে। আর স্থল আক্রমণ হবে তেমনই একটি বড় উসকানি।’
বাবেল মান্দেব প্রণালি বর্তমানে সৌদি আরবের লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। হুতিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ ক্রুমরিক বলেন, ইরানও পারস্য উপসাগরজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি খারগ দ্বীপ দখল করতে যায়, তবে ইরান নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে।
ক্রুমরিক বলেন, ইরানের অধিকাংশ দ্বীপ দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা লাভ হবে না, তবে খারগ দ্বীপ দখল করার পেছনে ‘প্রধানত অর্থনৈতিক কারণ’ থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ আরও বলেন, ‘এটি দখল ইরানি শাসনব্যবস্থাকে এক কঠিন সমস্যার মুখে ফেলে দেবে। যেমন আপনি কি আপনার দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের ওপর অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং কামানের গোলা নিক্ষেপ করবেন। যেখানে কিছু মার্কিন সেনা বা ছত্রীসেনা মারা যেতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে আপনার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডও পঙ্গু হয়ে যাবে?’
তেল রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে এই দ্বীপটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে চায়, তবে তারা স্বেচ্ছায় এমনটি করতে পারে।
মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, একই সময়ে কেশম বা আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো দখল করলে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে খুব একটা কাজে আসবে না। তিনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো থেকে যে সুবিধা পাওয়া যায়, তার বাইরে এই দ্বীপগুলো তেমন নতুন কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে না।’
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামের ২৫টি জেলায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইতোমধ্যেই তাপদাহ ও দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত। এর মধ্যেই আরও এক বড় দুসংবাদ শোনাল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে জলবায়ুর রূপ বদলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া তৈরি করতে যাচ্ছে দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব ‘এল নিনো’।
জাতিসংঘের এই আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপদাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে যেখানে আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তা এল।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ‘এল নিনো শুধু যে আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে তা নয়, এটি এখন আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে এবং উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি তো কেবল শুরু। এল নিনো যত শক্তিশালী হবে, আগেই জ্বলতে থাকা এই পৃথিবীর অবস্থা ততটাই ভয়াবহ রূপ নেবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থাপনাকে ওলটপালট করে দেবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা একলাফে অনেক বাড়িয়ে দেবে।
মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এবার এল নিনোর প্রভাব এক হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত জলবায়ু রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। তিনি সরাসরি কয়লা, তেল এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির (ফসিল ফিউয়েল) ব্যবহার ও নতুন প্রকল্প সম্প্রসারণকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন এবং এগুলো অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় সব স্থলাঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যেতে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওপর দিয়ে।
সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এল নিনোর ওপর নজর রাখা হলেও কেবল পূর্বাভাস দিয়ে বিপদ রোখা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোকে সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু পূর্বাভাস দুর্ঘটনা থামাতে পারে না, মানুষই পারে তা প্রতিরোধ করতে। আজ আমরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামীকালের পরিণতি কেমন হবে।’
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে যখন এই এল নিনো তার চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের হিসাবগুলো নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) তাদের নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে এফডিএ আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংক্ষিপ্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
কোম্পানির প্রথম এমআরএনএ-ভিত্তিক ফ্লু টিকা (এম ফ্লুসিভা) ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী সব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে ।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মডার্না আশা করছে ২০২৬-২০২৭ শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এই টিকা সরবরাহ করা যাবে।
মডার্না ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, ফেডারেল ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রকরা তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করে নতুন টিকার আবেদন পর্যালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে এক সপ্তাহ পর এফডিএ তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসে, যা মডার্না ‘গঠনমূলক’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নতুন টিকা ব্যবহৃত এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে টিকা সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য প্রধান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে এমআরএনএ উন্নয়নে অর্থায়ন করা ফেডারেল গবেষণা অনুদান বন্ধ করেছিলেন।
কেনেডি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এফডিএ কিছু টিকার অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাও রয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প এমআরএনএ প্রযুক্তিকে ‘আধুনিক যুগের অলৌকিক আবিষ্কার’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত টিকা তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করে।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে। এগুলো সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর রূপ থেকে সুরক্ষা দেয়।
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত এ জলপথ যৌথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তেহরান বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরান আরও জানায়, নতুন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো কাটেনি।
এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে, ইরানের গণমাধ্যমকে ব্রিফ করা সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে তাদের অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইরান সমঝোতা চায়। তবে, ইরান এ দাবি নাকচ করে জানায়, তারা এ বিষয়ে প্রণালীর অপর পাড়ের প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ব্যবস্থা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই’র বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘দুই পক্ষ যে রুট নির্ধারণ করেছে, তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কে একমত হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, যাতে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ও সমঝোতার দিকগুলো থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও খসড়া প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকাই সাংবাদিকদের জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে সমঝোতা হলেও এর অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য পথ নিরাপদ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।’
এই ঝুঁকিরই প্রতিফলন হিসেবে বুধবার ওমানের কুমজার থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজ ও নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর এটি অষ্টম ও নবম হামলা।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবুর কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে ‘ডেইজি’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
-‘বিভক্ত কাঠামো’-
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির ধীরগতিতে ওয়াশিংটন হতাশ। তবে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় সময় লাগবে।
বুধবার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হবে এবং সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।’
হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধ আরোপের পর থেকে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলছে।
তবে অনেক জাহাজই প্রণালীর অপর পাশে ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এ পথে চলাচলকারী কিছু জাহাজ মাঝেমধ্যেই হামলার মুখে পড়েছে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টোল আদায় করতে চায়। যুদ্ধের আগে তারা এ ক্ষমতা প্রয়োগ করত না।
সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, সমঝোতা খুব কাছাকাছি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খবর এএফপির।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে তভার অঞ্চলে হামলার সময় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, তার অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাশিয়ার অভিযোগ, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো স্থবির। এদিকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে চলেছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও বাড়ছে।
ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ভূমিকম্প। বুধবার (৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, সারাঙ্গানি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬২ কিলোমিটার গভীরে। এ ঘটনার পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, কম্পনটি বেশ শক্তিশালী ছিল। মানুষ চিৎকার করতে করতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যায়। তবে সবাই নিরাপদে আছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।
গত ৮ জুনও ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সে সময় বহু ভবন ধসে পড়ে, ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।
দুই মাসের ব্যবধানে নতুন এই ভূমিকম্প দেশটির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে আবারও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস