ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৯ মে, ২০২৬, সময় : ১:০৫ এএম

ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলি মারিজ আল-বাহাদলি এবং ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর কয়েকজন নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ বিভাগ এর কারণ দেখিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে ইরানকে তেল বিক্রিতে সহায়তা করছেন তাঁরা।


যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠী দুর্বৃত্ত চক্রগুলোর মতো ইরাকি জনগণের বৈধ সম্পদ লুট করছে। ইরান তার সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরাকের তেলকে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্য কাজে লাগাচ্ছে। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা তা নীরবে মেনে নেব না।’


গত বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইরাক কিংবা ইরান—কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। নিষেধাজ্ঞাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত।


ইরানের প্রতিবেশী দেশ ইরাক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরানের বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছে বাগদাদ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইরানপন্থী’ নুরি আল-মালিকি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে পারে। পরে অবশ্য আল-মালিকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান।


নিষেধাজ্ঞা কাদের ওপর


যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন আল-বাহাদলি। তিনি বহু বছর ধরে ইরাকের তেল ব্যবস্থাপনার কাজ তদারক করেছেন। শুরুতে তিনি ইরাকের পার্লামেন্টের তেল ও গ্যাস কমিটির প্রধান ছিলেন। পরে তেলবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।


অন্য যাঁদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন মুস্তফা হাশিম লাজিম আল-বাহাদলি, আহমেদ খুদাইর মাকসুস ও মোহাম্মদ ইসা কাদিম আল-শুয়াইলি। এর মধ্যে আল-বাহাদলিকে ইরান-সমর্থিত আসাইব আহল আল-হক আন্দোলনের ‘নেতা ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায়। খুদাইর মাকসুস ও আল-শুয়াইলি ইরানপন্থী সংগঠন কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।


মার্কিন অর্থ বিভাগের অভিযোগ, আল-বাহাদলি ‘তেল চোরাচালানের অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ’ করতেন এবং ইরান ও ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। ইরান থেকে তেল পরিবহনের চুক্তি নিয়ে আলোচনাও করতেন তিনি। মাকসুস ও আল-শুয়াইলির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অস্ত্র কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের কেউই কোনো মন্তব্য করেননি।


নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরান কি ইরাককে ব্যবহার করেছে


যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের যুক্তি সেটাই। তাদের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় বলা হয়েছে, আল-বাহাদলি ‘ইরাকের তেল অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর এটা করার কারণে ইরান-সংশ্লিষ্ট এক তেল পাচারকারী এবং আসাইব আহল আল-হক গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ওই পাচারকারী ইরানের তেলকে ‘ইরাকি তেল’ লেবেল করে দিয়েছিলেন, যেন তেহরান নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, এই চোরাচালান ব্যবস্থাকে চালু রাখতে সাহায্য করেছে ইরাক সরকারের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি। আল-বাহাদলি ছিলেন এই পুরো কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আবদেল-গনি গত মার্চে বলেছিলেন, ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভুয়া ইরাকি নথি ব্যবহার করেছিল।


২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইরান একটি তেল চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে বছরে অন্তত ১০০ কোটি ডলার আয় করে বলে ধারণা করা হয়। এই চক্র ইরাকি অ্যাসফল্ট (মিশ্র খনিজ) কারখানা থেকে ইরানি জ্বালানি সরিয়ে নিয়ে তা ইরাকি তেলের সঙ্গে মিশিয়ে পরে ‘পুরোপুরি ইরাকি’ হিসেবে রপ্তানি করে।


রয়টার্স আরও বলেছে, ইরাকে রপ্তানি করার মধ্য দিয়ে ইরান বৈশ্বিক মুদ্রা অর্জন করে। আর এর মধ্য দিয়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারে।


ইরানি তেলে যুক্তরাষ্ট্রের কী নিষেধাজ্ঞা


ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতির অংশ হিসেবে দেখে। এর লক্ষ্য, ইরান সরকারকে তাদের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা।


ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদকালে ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তখন তিনি তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্ববাজারে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ হারায়, যদিও যুক্তরাষ্ট্র কিছু দেশকে সীমিত পরিমাণে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছিল।


ট্রাম্পের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞাগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বজায় রাখে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এগুলো আরও কঠোর করেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের আগের সময় পর্যন্ত এগুলো কঠোর করা হয়।


তেল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তেল উত্তোলনে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশ তারা। ইরানের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তেল থেকে। এ ছাড়া দেশটির বাজেটের প্রায় এক-চতুর্থাংশের জোগান আসে তেলের আয় থেকে।


ইরাক ও ইরানের সম্পর্ক কী


ইরাক ও ইরানকে এখন ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ বাগদাদে ইরানপন্থী ‘কো–অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ জোটের ক্ষমতায় থাকা। এই জোট মূলত ইরাকের শিয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে।


ইরাকের বর্তমান রাজনৈতিক নেতাদের অনেকে ২০০৩ সালের আগে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের পতনের আগে ইরানে থাকতেন। ওই সময় ইরানপন্থী শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে ইরাকে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ করে নিয়েছিল তেহরান। এসব গোষ্ঠীর অনেকেরই এখন রাজনৈতিক শাখা রয়েছে।


এই ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত, বিশেষ করে তেল খাতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। ইরান এর মাধ্যমে ইরাকে এমন একটি ‘ছায়া অর্থনীতি’ তৈরি করতে পেরেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে। তবে ইরাককে একটি জটিল ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও ধর্মীয় সম্পর্কের কারণে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও ইরাকি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। কারণ, ওয়াশিংটন দেশটিকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে আল-মালিকি যেন আবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে না আসেন। তিনি নতুন মনোনীত ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদিকেও সমর্থন দিয়েছেন।




মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি এমন দাবি করেন।


প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে এও বলেন, এটিই ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। 


হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছেন।’ বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়েছে।


গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করে। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্তেও আমাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছে।’


‘একটি ভালো চুক্তিতে সই করার জন্য এটিই তাদের শেষ সুযোগ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের চূড়ান্ত বিনাশের আগে শেষ সুযোগ দিতে চাই।’


এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। ট্রাম্পের মতে, ‘বলতে গেলে এটি আগামীকালের মধ্যেই’ সম্ভব হতে পারে।


এ ছাড়া ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা সম্পন্ন হতে ‘কিছুটা সময় লাগতে পারে’ বলে তিনি জানান।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। যদিও গত কয়েক মাসের দফায় দফায় কূটনৈতিক আলোচনার ফলে বিভিন্ন সময়ে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থেকেছে।


দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদও অক্ষত রয়েছে।


এদিকে আজ মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলে হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।


সংস্থাটি জানায়, হামলার শিকার হওয়ার পর জাহাজটি থেকে সংকেত পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু এখনো জানানো হয়নি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের একটি জনবহুল সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। এতে দেখা গেছে, একটি খাড়া পাহাড়ের দিকে দ্রুতগতিতে একটি ড্রোন ধেয়ে আসছে। পরে সেটি পাহাড়ের পাশে সৈকতে আগুনের গোলার মতো আছড়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।


কৃষ্ণসাগরের তীরে আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের কাছের একটি সৈকতে এ ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ বলেন, আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৪০–এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক লোকজনের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ। এ বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। 


তবে রাশিয়া আর ইউক্রেন-দুই পক্ষই বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করার অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।


ইউক্রেনের ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু রুশ সমুদ্রসৈকত ছিল কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে ইউক্রেনের কিছু চ্যানেল থেকে দাবি করা হয়েছে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের কারণে ড্রোনটির সংকেত জ্যাম হয়ে যাওয়ায় সেটি সৈকতে বিধ্বস্ত হয়েছে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রাশিয়ার কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোনটি আছড়ে পড়ার আগে তাঁরা গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোনটি আঘাত হানার আগে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।


কৃষ্ণসাগরের এ সৈকত রুশদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে উষ্ণ জলবায়ু, দীর্ঘ সৈকত আর উন্নত পর্যটন পরিকাঠামোর কারণে অনেকে এখানে অবকাশ কাটাতে আসেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রুশদের ভ্রমণ সীমিত থাকায় এ সৈকতে আরও বেশি জনসমাগম হয়।


বছরখানেক ধরে রাশিয়ার সীমানার অনেকটা ভেতরে সফলভাবে দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক গুদামগুলো লক্ষ্য করে বেশির ভাগ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের দাবি, এসব স্থাপনা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে রাশিয়া।


তবে ইউক্রেনের এসব হামলায় বেশ কয়েকবারই বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহান্তেও রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও শহরগুলোয় আক্রমণ চালায় রুশ বাহিনী। হতাহত হয়েছেন হাজারো বেসামরিক মানুষ।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, গত শনিবার দেশটির রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে নয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি আসন্ন এবং সোমবার আলোচনা হবে। তবে গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না। 


আবার একই দিন খবর এসেছে, ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার জন্য সামরিক বিশ্লেষকদের পরামর্শ চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। 


স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘটনা কোন দিকে গড়াচ্ছে? যুদ্ধ আবার শুরু হবে, নাকি আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ? আর ট্রাম্পই বা কী বলতে চাইছেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ একঘেয়ে ছকে আটকে গেছে।


আলজাজিরার প্রতিবেদক কাতার থেকে জানান, ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগ দিয়েই অজ্ঞাতনামা এক সূত্র তাকে কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর বিষয়ে জানিয়েছেন। সে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যেখানে পরোক্ষ আলোচনা হবে। 


মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যাওয়া ও কাতারের পক্ষ থেকে দূত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আমরা বিস্তারিত জানি না। তবে কিছু একটা হচ্ছে, তা আন্দাজ করতে পারছি।


তবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমায়েল বাঘায়ি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘আমরা এই সময়ে কোনো দেশ থেকে প্রতিনিধি দল বা অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি না।’ 


তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছি না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে ওমানের সঙ্গে।’


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের বর্তমান জটিলতার কারণে ট্রাম্প দায়ী। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্র্যাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি বলেন, একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বৃদ্ধি ও হামলা বন্ধ করার ঘটনার কারণে এই সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি মনে করি, এ অনেকটা একঘেয়ে ছকে পরিণত হয়েছে।


ত্রিতা পারসি আরও বলেন, ‘এক পর্যায়ে আলোচনার সব নির্ভরযোগ্যতা হারিয়ে যাবে। কোনো চুক্তি শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা হবে কি না, সেটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।’


এখন প্রশ্ন উঠছে, আলোচনা যেহেতু হবে না বলে জানিয়েছে ইরান, তাহলে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ করলেন কেন? 


এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই তিন দেশের পক্ষ থেকে তাঁকে হামলা বন্ধ করে চুক্তি করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


এ ক্ষেত্রে তেলের দাম বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইরানের অবকাঠামোতে ট্রাম্প হামলা চালানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি কমেছে। 


তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়ে রেখেছেন, ইরানে আবারও হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।


ইরানকে অভিনব শাস্তি


ইরানকে অভিনব উপায়ে শাস্তি দেওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, আমরা নতুন সৃজনশীল ও অভিনব পন্থা খুঁজছি ইরানের ওপর চাপ তৈরি ও তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য। 


মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, গত বুধবার ওই ইমেইল একাধিক সামরিক বিশ্লেষকের কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র এ তথ্য জানায়। 


সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এভাবে ইমেইলের মাধ্যমে পরামর্শ চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। এ থেকে এটি প্রকাশ পায় যে, ট্রাম্পের হাতে ইরানকে চাপে ফেলার বিকল্প সম্ভবত সীমিত।


এদিকে এ প্রসঙ্গে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ‘ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অভিনব পন্থায় চিন্তা করা ও কাজ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অ্যাডমিরাল কুপার, কোনো বিশেষ র্যাং ক ছাড়াই সদস্যদের সঙ্গে এটি নিয়ে যোগাযোগ করেছেন, যাতে এটি থেকে সম্ভাব্য কার্যক্ষমতার সর্বোচ্চটা অর্জন সম্ভব হয়।’


গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে দুই ব্যক্তির সাজা কার্যকর করেছে ইরান। পূর্বের রায় বহাল রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।


ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ওমিদ বেহজাদ এবং পৌরিয়া সাফভাত। 


কর্মকর্তাদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলা শুরুর পর মোসাদ সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে এজেন্ট নিয়োগের চেষ্টা চালায়। 


তদন্তে দেখা যায়, ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালে ওমিদ বেহজাদ বারবার সামরিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোর স্থানাঙ্ক (কো-অর্ডিনেট), ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য মোসাদ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ম্যাপিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব তথ্য শনাক্ত ও প্রেরণ করতেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের প্রশাসক তাকে জানিয়েছিলেন, যাচাই-বাছাই শেষে ওই স্থানাঙ্কগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত করা হবে এবং নিরাপদ মাধ্যমে সরাসরি মোসাদের কাছে পাঠানো হবে।


অন্যদিকে, পৌরিয়া সাফভাত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও তথ্য ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে পাঠিয়েছিলেন। 


ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এটি মোসাদ-সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ কাঠামোর অংশ। তিনি যে কয়েকটি স্থানের তথ্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি পরে বোমা হামলার শিকার হয়। 


এছাড়া, ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে তিনি উঁচু ভবনের ছাদ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিডিও ধারণ করে পাঠিয়েছিলেন বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে। ইসরায়েলি শাসনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার অভিযোগে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে ইরানের সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় এই রায় কার্যকর করা হয়েছে।


সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি


সু চির সঙ্গে প্রথমবার বিদেশি কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি সোমবার রেড ক্রসের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে সু চির সাক্ষাতের এটাই প্রথম প্রকাশ্যে আসা খবর।


প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সু চির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) আবাসিক প্রতিনিধি আরনো দো বাক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বাকের মতো দেখতে এক ব্যক্তির সঙ্গে সু চি হাত মেলাচ্ছেন। 


প্রকাশিত আরেকটি ছবিতে সু চিকে জন্মদিনের কেক কাটতে দেখা যায়। এর ওপর লেখা ছিল, ‘শুভ জন্মদিন আন্টি সু’। এএফপি ছবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) টুল দিয়ে পরীক্ষা করে ছবিগুলোতে সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 


বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেলে পাঠায় মিয়ানমারের জান্তা সরকার। চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর সু চিকে গৃহবন্দি দেখানো হয়। 


মিনের দাবি, তিনি সু চির সাজার বাকি মেয়াদ কমিয়ে দিয়েছেন। 


সু চিকে রাজধানী নাইপিদোর কোথায় আটক রাখা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সরকার। তাঁর সাজার মেয়াদ কতদিন বাকি আছে সেটিও জানানো হয়নি। 


অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, জনপ্রিয় দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে রাজনীতি থেকে সরাতেই সু চির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে।


প্রকাশিত ছবিগুলোর বিষয়ে জানতে আইসিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এএফপি। সু চির দলের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ছবিটি যদি আসল হয়, তাহলে আমরা নিশ্চিত হবো যে তিনি বেঁচে আছেন।’ 


ওই নেতা আরও বলেন, ‘আন্টিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।’ উল্লেখ্য সু চিকে তাঁর সমর্থকরা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করেন। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ঘোষণার পরই তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমেছে।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই তেলের বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়।


এদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নাসডাক ফিউচার্স ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জাপানের নিক্কেই সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।


ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।