ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তেহরান–ওয়াশিংটন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আজ সোমবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর পর ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক এই মন্তব্য করেন। এখানেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আব্বাস আরাগচির বৈঠক করার কথা রয়েছে।
আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও অতিরিক্ত দাবির কারণে অগ্রগতি সত্ত্বেও আগের দফার আলোচনা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
ছবি : সংগৃহীত
আগামী চার বছরের মধ্যেই ইউরোপে কিছু স্বল্প দূরত্বের রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। নতুন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর ইউরোনিউজের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণকে আরও পরিবেশবান্ধব করবে। এতে আমদানি করা জেট জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বাড়ায় এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যেসব রুটে চলতে পারে
ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এতে ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ স্বল্প দূরত্বের আকাশপথে এ ধরনের বিমান চালানো সম্ভব হতে পারে।
সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—
লন্ডন–ডাবলিন
এথেন্স–সান্টোরিনি
বার্সেলোনা–ইবিজা
নিস–কর্সিকা
রোম–সার্ডিনিয়া
এসব রুটের অনেকগুলোই দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় ট্রেনের বিকল্প নেই। তাই সেখানে বৈদ্যুতিক বিমান কার্যকর হতে পারে।
কবে আসবে?
জার্মানির স্টার্টআপ ভ্যারিডিয়ন ৯ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট ৯০ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রান্সের অরা অ্যারো ১৯ আসনের হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০২৯ সালের শেষ দিকে এর অনুমোদন পাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরিবেশের জন্য কতটা ভালো?
বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলার সময় কার্বন নিঃসরণ করে না এবং শব্দ ও বায়ুদূষণও কমায়। তবে এগুলো চার্জ দিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, তবেই পরিবেশগত সুবিধা সবচেয়ে বেশি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কম দূরত্বের আকাশপথে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ কমানোও প্রয়োজন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামের ২৫টি জেলায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইতোমধ্যেই তাপদাহ ও দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত। এর মধ্যেই আরও এক বড় দুসংবাদ শোনাল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে জলবায়ুর রূপ বদলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া তৈরি করতে যাচ্ছে দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব ‘এল নিনো’।
জাতিসংঘের এই আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপদাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে যেখানে আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তা এল।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ‘এল নিনো শুধু যে আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে তা নয়, এটি এখন আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে এবং উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি তো কেবল শুরু। এল নিনো যত শক্তিশালী হবে, আগেই জ্বলতে থাকা এই পৃথিবীর অবস্থা ততটাই ভয়াবহ রূপ নেবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থাপনাকে ওলটপালট করে দেবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা একলাফে অনেক বাড়িয়ে দেবে।
মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এবার এল নিনোর প্রভাব এক হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত জলবায়ু রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। তিনি সরাসরি কয়লা, তেল এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির (ফসিল ফিউয়েল) ব্যবহার ও নতুন প্রকল্প সম্প্রসারণকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন এবং এগুলো অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় সব স্থলাঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যেতে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওপর দিয়ে।
সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এল নিনোর ওপর নজর রাখা হলেও কেবল পূর্বাভাস দিয়ে বিপদ রোখা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোকে সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু পূর্বাভাস দুর্ঘটনা থামাতে পারে না, মানুষই পারে তা প্রতিরোধ করতে। আজ আমরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামীকালের পরিণতি কেমন হবে।’
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে যখন এই এল নিনো তার চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের হিসাবগুলো নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) তাদের নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে এফডিএ আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংক্ষিপ্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
কোম্পানির প্রথম এমআরএনএ-ভিত্তিক ফ্লু টিকা (এম ফ্লুসিভা) ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী সব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে ।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মডার্না আশা করছে ২০২৬-২০২৭ শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এই টিকা সরবরাহ করা যাবে।
মডার্না ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, ফেডারেল ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রকরা তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করে নতুন টিকার আবেদন পর্যালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে এক সপ্তাহ পর এফডিএ তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসে, যা মডার্না ‘গঠনমূলক’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নতুন টিকা ব্যবহৃত এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে টিকা সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য প্রধান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে এমআরএনএ উন্নয়নে অর্থায়ন করা ফেডারেল গবেষণা অনুদান বন্ধ করেছিলেন।
কেনেডি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এফডিএ কিছু টিকার অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাও রয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প এমআরএনএ প্রযুক্তিকে ‘আধুনিক যুগের অলৌকিক আবিষ্কার’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত টিকা তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করে।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে। এগুলো সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর রূপ থেকে সুরক্ষা দেয়।
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত এ জলপথ যৌথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তেহরান বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরান আরও জানায়, নতুন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো কাটেনি।
এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে, ইরানের গণমাধ্যমকে ব্রিফ করা সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে তাদের অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইরান সমঝোতা চায়। তবে, ইরান এ দাবি নাকচ করে জানায়, তারা এ বিষয়ে প্রণালীর অপর পাড়ের প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ব্যবস্থা করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই’র বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘দুই পক্ষ যে রুট নির্ধারণ করেছে, তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কে একমত হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, যাতে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ও সমঝোতার দিকগুলো থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও খসড়া প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকাই সাংবাদিকদের জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে সমঝোতা হলেও এর অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য পথ নিরাপদ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।’
এই ঝুঁকিরই প্রতিফলন হিসেবে বুধবার ওমানের কুমজার থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজ ও নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।
এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর এটি অষ্টম ও নবম হামলা।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবুর কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে ‘ডেইজি’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
-‘বিভক্ত কাঠামো’-
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির ধীরগতিতে ওয়াশিংটন হতাশ। তবে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় সময় লাগবে।
বুধবার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হবে এবং সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।’
হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধ আরোপের পর থেকে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলছে।
তবে অনেক জাহাজই প্রণালীর অপর পাশে ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এ পথে চলাচলকারী কিছু জাহাজ মাঝেমধ্যেই হামলার মুখে পড়েছে।
ইরান এখন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টোল আদায় করতে চায়। যুদ্ধের আগে তারা এ ক্ষমতা প্রয়োগ করত না।
সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, সমঝোতা খুব কাছাকাছি।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খবর এএফপির।
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে তভার অঞ্চলে হামলার সময় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, তার অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রাশিয়ার অভিযোগ, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো স্থবির। এদিকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে চলেছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও বাড়ছে।