• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ এএম

চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়ে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে বেইজিংয়ের নেওয়া বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।


গত সোমবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের সময় শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে 'শান্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক সকল প্রচেষ্টার' প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং 'রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে' চীনের অবস্থান তুলে ধরেন।


ওই ফোনালাপ নিয়ে চীনের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শি বলেছেন, 'হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক পথ অক্ষুণ্ন রাখা উচিত, কারণ এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করে।'


গত সাত সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি অচল হয়ে পড়েছে। তবে বিবৃতিতে যুদ্ধে জড়িত প্রধান পক্ষগুলোর কারও নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালি দিয়ে বেশিরভাগ নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং এর জবাবে ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দরে অবরোধ আরোপ করা হয়।


এমন পরিস্থিতিতে, শি জিনপিংয়ের এই সংযত বিবৃতির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের চরম বৈপরীত্য দেখা গেছে। একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, 'আমি একটি যুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতছি, সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে' এবং ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে একটি 'চুক্তিতে' না পৌঁছানো পর্যন্ত এই নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।


বিশ্লেষকদের মতে, এটি এ বিষয়েরও ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে চীন কীভাবে বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে নিজেকে অধিকতর দায়িত্বশীল হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও বেশিরভাগ সময়েই বেইজিং সামনের সারিতে বা কেন্দ্রে থাকার চেয়ে নেপথ্যে থাকতেই বেশি পছন্দ করে।


অ্যাব্বা ইবান ইনস্টিটিউট ফর ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড ফরেন রিলেশনস-এর এশিয়া-ইসরায়েল পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান গেদালিয়াহ আফটারম্যান বলেন, 'চীন কোনো নাটকীয় পদক্ষেপ নিয়ে নয়, বরং অপেক্ষা করা, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সুযোগ বুঝে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে। আর তারা মার্কিনিদেরই এই ঝামেলার মোকাবিলা করতে দিচ্ছে।'


অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার দীর্ঘদিনের নীতি এবং ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরী সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে বেইজিং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেকে একটি যুক্তিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।


ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তারা দেশটির উৎপাদিত তেলের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কিনে থাকে। এছাড়া ২০২১ সালে তেহরানের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি একটি 'বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে' স্বাক্ষর করেছিল চীন।


একই সঙ্গে বেইজিং গত এক দশক ধরে সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং চীন এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েরই অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার।


চীনের ঝেজিয়াং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মেডিটেরানিয়ান রিম ইনস্টিটিউটের ডিন মা জিয়াওলিন বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এই দেশগুলো নিজেদের মধ্যে শত্রু হলেও, তারা সবাই আমাদের বন্ধু।'


আফটারম্যানের মতে, চীনের এই অহস্তক্ষেপ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতির কারণেই সম্ভবত চলতি মাসের শুরুতে তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে 'সমন্বিত প্রতিরক্ষামূলক প্রচেষ্টা' চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। সিরিয়া এবং মিয়ানমারের মতো সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরূপ উদ্যোগেও চীন ভেটো দিয়েছে।


তাইওয়ান-ভিত্তিক সোসাইটি ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো চ্যাং চিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যের বিপরীতে—ওই অঞ্চলে বেইজিংয়ের শীর্ষ অগ্রাধিকার এখনো অর্থনীতি। তিনি বলেন, শান্তি ব্যবসার জন্য ভালো, আর যুদ্ধ তা নয়।


তিনি আরও বলেন, 'চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করে। সংঘাতে কে জিতল, তা নিয়ে তাদের আসলেই মাথাব্যথা নেই। তাদের ইচ্ছা হলো মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।'


বেইজিং-ভিত্তিক হুটং রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ফেং চুচেং বলেন, যুদ্ধে আরও উত্তেজনা বাড়লে তা 'চীনের অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এমন মাত্রার হুমকি তৈরি করবে, যা তাদের সরাসরি জড়িত হতে বাধ্য করতে পারে। কারণ চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।'


চলতি মাসে নিজ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের উদ্দেশে লেখা এক গবেষণা নোটে তিনি বলেন, 'বেইজিংয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা ইরান এবং উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার যে প্রচেষ্টা তারা চালাচ্ছে, তা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।'


এদিকে বেইজিং এই যুদ্ধের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের সমন্বয়ে সাহায্য করতে 'সবার বন্ধু' হিসেবে তাদের অবস্থানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগ পর্যন্ত চীনের শীর্ষ কূটনীতিক– ওয়াং ই ২৬টি ফোনালাপ করেছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন সংঘাতের মূল পক্ষগুলোর সঙ্গে প্রায় দুই ডজন বৈঠক করেছেন।


সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের আগে, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট শি আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গেও একটি বৈঠকে অংশ নেন।


এত বিপুল কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ক্ষেত্রে বেইজিং যে ভূমিকা রেখেছিল, তার তুলনায় চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায়—নিজেদের ভূমিকাকে অপেক্ষাকৃত ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করেছে।


পর্যবেক্ষকদের মতে এর কারণ হলো, চীন একটি জটিল শান্তিচুক্তিতে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চায়।


সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ড্রিউ থম্পসন বলেন, 'চীন শান্তি প্রক্রিয়ার দায়ভার না নিয়েই শান্তিস্থাপনকারী হওয়ার চেষ্টা করছে। মূল কথা হলো মধ্যপ্রাচ্য চীনের মূল স্বার্থের জায়গা থেকে অনেক দূরে, তাই সেখানে ব্যয় করার মতো তাদের রাজনৈতিক পুঁজিও সীমিত।'


তারপরও চীনের এই প্রচেষ্টাগুলো অলক্ষ্যে থেকে যাবে না বলে মনে করেন ঝেজিয়াং ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির মা জিয়াওলিন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, 'আমি মনে করি, বিশ্ব জানে কারা স্থিতিশীলতা দেয়, কারা নিরাপত্তা দেয় এবং কারা আন্তর্জাতিক আইন ও শাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।'


পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, চীন পর্দার আড়াল থেকে হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেওয়ার বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল, চীন ইরানে ম্যান-পোর্টেবল এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাডস)-এর একটি চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।


সিএনএনের ওই প্রতিবেদনের পর চলতি মাসে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর আরেকটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ইরান চীনের একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) সংগ্রহ করেছিল এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চালাতে সেটি ব্যবহার করেছে।


বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজির পোস্টডক্টরাল ফেলো জোডি ওয়েন আল জাজিরাকে বলেন, মে মাসে শি ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি পরিকল্পিত বৈঠকের আগে বেইজিং এতটা 'অসতর্ক' হবে বলে তিনি মনে করেন না।


ওয়েন আল জাজিরাকে বলেন, 'চীন সরকারের কাছে চীন-ইরান সম্পর্কের পাশাপাশি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।'


শি জিনপিং একটি বাণিজ্য চুক্তি ও মার্কিন শুল্কের বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার আশা করছেন। অন্যদিকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আলাদা হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া বেইজিং গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পাশাপাশি দ্বিতীয় চীন-আরব শীর্ষ সম্মেলনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে।


আফটারম্যানের মতে, ইরান যুদ্ধে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতির কথা বিবেচনা করার সময় চীন এই সব কয়টি বিষয়ই বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখবে।


তিনি বলেন, 'নিজেদের সম্পর্কগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীন দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছে। তারা যুদ্ধের পরের দিনটি নিয়ে ভাবছে... পুনর্গঠন প্রচেষ্টা, নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নতুন বিনিয়োগ নিয়ে ভাবছে। (পারস্য) উপসাগরের উভয় তীরেই চীন খুব সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায়।'




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম

আগামী চার বছরের মধ্যেই ইউরোপে কিছু স্বল্প দূরত্বের রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। নতুন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর ইউরোনিউজের।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণকে আরও পরিবেশবান্ধব করবে। এতে আমদানি করা জেট জ্বালানির ওপর নির্ভরতাও কমবে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম বাড়ায় এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।


যেসব রুটে চলতে পারে


ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এতে ইউরোপের প্রায় ২৫ শতাংশ স্বল্প দূরত্বের আকাশপথে এ ধরনের বিমান চালানো সম্ভব হতে পারে।


সম্ভাব্য রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—


লন্ডন–ডাবলিন


এথেন্স–সান্টোরিনি


বার্সেলোনা–ইবিজা


নিস–কর্সিকা


রোম–সার্ডিনিয়া


এসব রুটের অনেকগুলোই দ্বীপ এলাকায় হওয়ায় ট্রেনের বিকল্প নেই। তাই সেখানে বৈদ্যুতিক বিমান কার্যকর হতে পারে।


কবে আসবে?


জার্মানির স্টার্টআপ ভ্যারিডিয়ন ৯ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


নেদারল্যান্ডসের এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট ৯০ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারবে। এটি ২০৩৫ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


ফ্রান্সের অরা অ্যারো ১৯ আসনের হাইব্রিড উড়োজাহাজ তৈরি করছে। ২০২৯ সালের শেষ দিকে এর অনুমোদন পাওয়ার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।


পরিবেশের জন্য কতটা ভালো?


বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলার সময় কার্বন নিঃসরণ করে না এবং শব্দ ও বায়ুদূষণও কমায়। তবে এগুলো চার্জ দিতে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ যদি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, তবেই পরিবেশগত সুবিধা সবচেয়ে বেশি হবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কম দূরত্বের আকাশপথে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ কমানোও প্রয়োজন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:২৭ পিএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বুধবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স -এ জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ৯০০টিরও বেশি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।


তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আসামের ২৫টি জেলায় প্রায় ১১ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।


প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময় বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দেয়। এতে প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।


চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ১৬০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে

এবার আরও ভয়াবহ এল নিনোর সংকেত জাতিসংঘের


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৮ পিএম

ইতোমধ্যেই তাপদাহ ও দাবানলে পুড়ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত। এর মধ্যেই আরও এক বড় দুসংবাদ শোনাল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী মাসগুলোতে জলবায়ুর রূপ বদলে দিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া তৈরি করতে যাচ্ছে দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব ‘এল নিনো’।


জাতিসংঘের এই আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে তাপদাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে যেখানে আফ্রিকা ও ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, ঠিক তখনই এই সতর্কবার্তা এল।


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, ‘এল নিনো শুধু যে আমাদের দোরগোড়ায় এসেছে তা নয়, এটি এখন আমাদের ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে এবং উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি তো কেবল শুরু। এল নিনো যত শক্তিশালী হবে, আগেই জ্বলতে থাকা এই পৃথিবীর অবস্থা ততটাই ভয়াবহ রূপ নেবে।’


প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পানির উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা গোটা বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থাপনাকে ওলটপালট করে দেবে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা একলাফে অনেক বাড়িয়ে দেবে।


মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এবার এল নিনোর প্রভাব এক হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় বিশ্বনেতাদের দ্রুত জলবায়ু রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। তিনি সরাসরি কয়লা, তেল এবং গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির (ফসিল ফিউয়েল) ব্যবহার ও নতুন প্রকল্প সম্প্রসারণকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেন এবং এগুলো অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।


বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় সব স্থলাঞ্চলেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যেতে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার ওপর দিয়ে।


সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো জানান, এল নিনোর ওপর নজর রাখা হলেও কেবল পূর্বাভাস দিয়ে বিপদ রোখা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে সরকার ও সাহায্যকারী সংস্থাগুলোকে সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু পূর্বাভাস দুর্ঘটনা থামাতে পারে না, মানুষই পারে তা প্রতিরোধ করতে। আজ আমরা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামীকালের পরিণতি কেমন হবে।’


বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে যখন এই এল নিনো তার চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। তবে কম্পিউটার মডেলের হিসাবগুলো নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।


সূত্র: আল-জাজিরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্না বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) তাদের নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে এফডিএ আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য সংক্ষিপ্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।


কোম্পানির প্রথম এমআরএনএ-ভিত্তিক ফ্লু টিকা (এম ফ্লুসিভা) ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী সব প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে ।


প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মডার্না আশা করছে ২০২৬-২০২৭ শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য এই টিকা সরবরাহ করা যাবে।


মডার্না ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, ফেডারেল ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রকরা তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে অপর্যাপ্ত বলে অভিহিত করে নতুন টিকার আবেদন পর্যালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে এক সপ্তাহ পর এফডিএ তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসে, যা মডার্না ‘গঠনমূলক’ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছে।


নতুন টিকা ব্যবহৃত এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে টিকা সংশয়বাদী হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য প্রধান রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে এমআরএনএ উন্নয়নে অর্থায়ন করা ফেডারেল গবেষণা অনুদান বন্ধ করেছিলেন।


কেনেডি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে এফডিএ কিছু টিকার অনুমোদন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, যার মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকাও রয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প এমআরএনএ প্রযুক্তিকে ‘আধুনিক যুগের অলৌকিক আবিষ্কার’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দ্রুত টিকা তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করে।


কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করেছে। এগুলো সংক্রমণের সবচেয়ে গুরুতর রূপ থেকে সুরক্ষা দেয়।


হরমুজ প্রণালী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগত এ জলপথ যৌথভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। তেহরান বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। 


তেহরান আরও জানায়, নতুন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো কাটেনি।


এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে, ইরানের গণমাধ্যমকে ব্রিফ করা সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।


তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর কার্যত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে তাদের অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য ইরান সমঝোতা চায়। তবে, ইরান এ দাবি নাকচ করে জানায়, তারা এ বিষয়ে প্রণালীর অপর পাড়ের প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে ব্যবস্থা করবে।


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই’র বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘দুই পক্ষ যে রুট নির্ধারণ করেছে, তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্কে একমত হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ বাধা সৃষ্টি না করলে দুই দেশের যৌথ বিবৃতি, যাতে প্রধান বিবেচ্য বিষয় ও সমঝোতার দিকগুলো থাকবে, সেটিও চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও খসড়া প্রণয়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’


ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকাই সাংবাদিকদের জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে সমঝোতা হলেও এর অর্থ এই নয় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য পথ নিরাপদ হয়ে যাবে।


তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ এবং ইরান ও তার স্বার্থের বিরুদ্ধে অন্যান্য আগ্রাসী ও হুমকিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।’


এই ঝুঁকিরই প্রতিফলন হিসেবে বুধবার ওমানের কুমজার থেকে নয় নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, জাহাজ ও নাবিকরা নিরাপদ রয়েছেন।


এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা পৃথক এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর এটি অষ্টম ও নবম হামলা।


হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, উত্তর লোহিত সাগরের ইয়ানবুর কাছে ‘ওয়াফা’ নামের একটি ট্যাংকার এবং এডেন উপসাগরে ‘ডেইজি’ নামের আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।


এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


-‘বিভক্ত কাঠামো’-

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি নিয়ে বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতির ধীরগতিতে ওয়াশিংটন হতাশ। তবে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় সময় লাগবে।


বুধবার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হবে এবং সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে।’


হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধ আরোপের পর থেকে ইরান জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার করতে বলছে।


তবে অনেক জাহাজই প্রণালীর অপর পাশে ওমান উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ বেছে নিচ্ছে। এ পথে চলাচলকারী কিছু জাহাজ মাঝেমধ্যেই হামলার মুখে পড়েছে।


ইরান এখন হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টোল আদায় করতে চায়। যুদ্ধের আগে তারা এ ক্ষমতা প্রয়োগ করত না।


সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোর’ হামলার হুমকি দেন। এমনকি বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলার ইঙ্গিত দেন। পরে অবশ্য তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, সমঝোতা খুব কাছাকাছি।


তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।


ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৩৪ পিএম

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে বৃহস্পতিবার রাতভর ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। খবর এএফপির।


রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে তভার অঞ্চলে হামলার সময় একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রের সামনের অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।


ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ জানিয়েছেন, তার অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হয়েছে। সেখানে ৯২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগে এবং কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


রাশিয়ার অভিযোগ, গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ইউক্রেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে।


চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা এখনো স্থবির। এদিকে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে চলেছে, যার ফলে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও বাড়ছে।