• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

২২ বছর পর এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এইচ এস সি পরীক্ষায় ফল বিপর্য়য় হয়েছে। ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৯৩জন শিক্ষার্থী। সে বছরের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এবছর এসে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাদের প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪জন। সে হিসেবে, ৪ হাজার ২৮৯ শিক্ষার্থী তাদের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। অর্থাৎ ২০২৪ সালে যারা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল তারা এইচএসসিতে এসে কাঙ্খিত ফল অর্জন করতে পারেনি। কেবল তারাই যে খারাপ ফল অর্জন করেছে, তা নয়। তাদের থেকে তুলনামূলক কম মেধাবীরাও ফল খারাপ করেছে।যার প্রভাব পড়েছে এ বছরের গড় ফলাফলে।

এবার সিলেট শিক্ষাবোর্ডের দুই দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল। এবছর সিলেটে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছরও ছিল প্রায় কাছাকাছি ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।


শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার অনিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশী ছিল। এর বাইরে ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল, রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক কম পাস করেছেন পরীক্ষার্থীরা। যার ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। কিন্তু শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিকতা ও পাঠগ্রহণের মাত্রা অনুধাবন না করেই প্রশ্নপত্র তৈরি করায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে ফলাফলে। এছাড়াও সার্বিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এর বাইরে শ্রেণি কক্ষে পাঠবিমুখতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবেই শিক্ষার্থীরা তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি বলেও মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

তবে শিক্ষকরা বলছেন, এবারের ফলাফলই সঠিক চিত্র। বিগত ১৫–১৬ বছরের ঢালাওভাবে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে গেছে। এবার কোনো কৃত্রিম নম্বর না দিয়ে প্রকৃত ও সঠিক মূল্যায়ন করার কারণে ফলাফলে এই বিপর্যয় ঘটেছে। শুধু সিলেট বোর্ড নয়। সারা দেশের গড় ফলাফল খারাপ হয়েছে। দেশের ১১ টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২৫ সালের এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ কমেছে।


সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে তা বেড়ে ২০১০ সালে ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাসের হার কিছুটা কমে। তবে করোনা মহামারির সময় পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। যার কারণে ২০২০ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল শতভাগ। পরবর্তী বছরগুলোতেও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ও বিশেষ মূল্যায়নের প্রভাবে পাসের হার তুলনামূলক বেশি ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৩৯ শতাংশের মধ্যে ছিল।

তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে ২০২৫ সালে। ওই বছর পাসের হার নেমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে। সেই ক্ষতকে আরও গভীর করেছে এবছরের ফলাফল। গত বছরের তুলনায় পাসের হার আরও কমে হয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ টানা দুই বছর সিলেট বোর্ডে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে।


ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছেন এবং কোন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফলের এই অবনতির কারণ চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।


বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। এর বাইরে ইংরেজি, আইসিটি, ভূগোল, রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক কম পাস করেছেন পরীক্ষার্থীরা। যার ফলে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেট নগরীর কলেজের শিক্ষক ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক বলেন, বর্তমান ফলাফলটিই মূলত বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। বিগত বছরগুলোতে পাসের হার ছিল মূলত লোক দেখানো এবং কারসাজিপূর্ণ।


তিনি বলেন, বিগত সময়ে খাতা মূল্যায়নের সময় কোনো শিক্ষার্থী কম নম্বর পেলেও তাকে বাড়িয়ে ৩৩ নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ছিল। যার কারণে বছরের পর বছর ধরে পরীক্ষা দিলেই পাস করা যায়-এমন ধারণা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি এবং পড়ার টেবিল থেকে দূরে সরে গেছে। এই দীর্ঘদিনের ‘ওভারমার্কিং’ অনুশীলনেরই একটি বহিঃপ্রকাশ হলো এই ফল বিপর্যয়। তিনি বলেন, চলতি বছর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো কৃত্রিম নম্বর যোগ করা হয়নি, শিক্ষার্থী যা পেয়েছে তা-ই রাখা হয়েছে। যার কারণে প্রকৃত মূল্যায়নের ধারায় ফেরায় ফলাফলে এই পরিবর্তন এসেছে।


সিলেটের মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সামগ্রিক সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতার ঘাটতির কারণে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ‘শ্রেণীবিমুখ সংস্কৃতি’ গড়ে উঠেছে। ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠবিমুখ হয়ে পড়ছে এবং পরীক্ষার খাতায় লিখতে ব্যর্থ হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে সঠিক পাঠদান, নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণ ও নিষ্ঠার সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কিছু শিক্ষকের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। কিছু শিক্ষকের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে না পড়িয়ে নিজেদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পড়ানোর এক ধরনের বাণিজ্যিক প্রবণতাও তৈরি হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করছে।


প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরীক্ষকদের দৃষ্টিভঙ্গির উপর প্রশ্ন তোলে আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, ‘কিছু প্রশ্ন প্রণেতা অতি কঠিন প্রশ্ন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদেরকে আমি ‘তৃতীয় শ্রেণীর প্রশ্ন প্রণেতা’ হিসেবে আখ্যা দিতে চাই। কারণ একজন উত্তম প্রশ্ন প্রণেতা তিনি, যার প্রশ্নের উত্তর অন্তত ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী দিতে সক্ষম হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মানসিকতা ও পাঠগ্রহণের মাত্রা অনুধাবন না করেই প্রশ্ন তৈরি করায় এই সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।


সিলেটের এমসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ তোফায়েল আহাম্মদ জানান, সিলেটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশমুখী প্রবণতা ও আরও কিছু কারণে পাঠবিমুখতা রয়েছে। এছাড়াও মানসম্মত শিক্ষকের অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তাছাড়াও এ বছর উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।


তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে বিশেষ করে অভিভাবকরা অন্যদের বিদেশে যাওয়া বা সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে নিজেদের সন্তানদের সঙ্গে তুলনা করেন। যা শিক্ষার্থীদের মানসিক বল ভেঙে দেয়। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ ও হতাশায় ভোগে। ফলাফলে এসবের প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।



সর্বশেষ সব খবর

চোর দলের সক্রিয় সদস্য ১৩ জন আটক। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ এএম

বিরলে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোর দলের সক্রিয় সদস্য ১৩ জন আটক এবং গোডাউন হতে চুরি হওয়া ভূট্টা উদ্ধারসহ একইরাতে অপর একজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। 


বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আল এমরান আটককৃতদের পরিচয়ে জানান বৃহস্পতিবার রাতে আটককৃতরা হলেন- রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার রহমতচোর গ্রামের খলিল মিঞা এর ছেলে দিনাজপুরের বিরল পৌরশহরের চকভবানী বলদিয়া মোড়ের ভাঙ্গারী মালামাল ক্রয়- বিক্রয়ের দোকানদার ও পিকআপ চালক মোঃ রাশেদুল ইসলাম (২৬), পীরগাছা উপজেলার রহমতচোর গ্রামের মৃত আইজদ্দীন এর ছেলে বিরল উপজেলার ফেরীওয়ালা খইবুর আলী (৫০), একই গ্রামের বাসিন্দা আলেবদ্দীন শেখ এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা আফাজ আলী (৩২), একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কুদ্দুস এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা মোঃ শাখাওয়াত হোসেন (২৮), একই গ্রামের খলিল এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা আজিজুল ইসলাম (৩৮) ও একই গ্রামের আলেক উদ্দীন এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা ছাপড় আলী (৩০), একই জেলার পীরগাছা উপজেলার চরছাওলা কামলাহাটের হযরত আলী এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা জাহাঙ্গীর আলম (২৮), একই উপজেলার কিষামত ছাওলা গ্রামের মৃত আবু সাঈদ এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা রফিকুল ইসলাম (৩০), একই উপজেলার চর ভুট্টার (বাজার) গ্রামের ইউছব আলী এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা জিয়াউল ইসলাম (২৮), একই গ্রামের মজিবর এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা আব্দুল কুদ্দুস (২৪), একই জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার যাদুনগর সর্দারপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেক এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা মাহিদুর রহমান (২৩), একই এলাকার দুলাল প্রামাণিক এর ছেলে এই এলাকার ফেরীওয়ালা মোঃ সাপেল (২১), গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লাটশালা গ্রামের মোকছেদ আলী এর ছেলে এই উপজেলার ফেরীওয়ালা সাইফুল ইসলাম (২০)।


অপরদিকে, বিরল পৌরশহরের কইদিঘী ঈদগাহ মাঠের গেট সংলগ্ন বীরমুক্তিযোদ্ধা আইবুর রহমান এর গোডাউন হতে ভাড়াটিয়া নর্থ বেঙ্গল এগ্রো এর আমদানীকৃত হাইব্রীড ৬ বস্তা ভূট্টা বীজ চুরির ঘটনায় কালিয়াগঞ্জ বাজার হতে বীজগুলো উদ্ধার এবং একজনকে আটক করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই শাকিল আহমেদ।


গোডাউন হতে বীজ চুরির ঘটনায় আটককৃত উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জগতপুর গ্রামের সমশদ্দীন এর ছেলে আলফাজ হোসেন (৪৯)সহ অপর ১৩ জন আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোরদলের সক্রিয় সদস্যকে শুক্রবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন থানার ওসি (তদন্ত) আনিছুর রহমান সরকার।

সর্বশেষ সব খবর

লালমনিরহাটে ড্রামট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১০ পিএম

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ড্রামট্রাকের চাপায় বিপ্লব মিয়া (২২) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত ৩জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।


শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ গোপাল রায় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

​

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বিপ্লবসহ কয়েকজন যুবক নামুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অটোরিকশায় করে কাকিনা বাজারের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুভর্তি ড্রামট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিপ্লব মিয়ার মৃত্যু হয়।


​দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।


​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরে মাওলা জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

কয়লা উত্তোলনের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলন শুরুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের আলোকে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।


গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া খনি এলাকা সংলগ্ন ৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়নের বৈগ্রাম চার রাস্তার মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘ফুলবাড়ী কয়লাখনি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে আয়োজিত ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন এলাকার পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. জাকারিয়া নয়ন।



তিনি বলেন, ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলন শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক মানুষ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফুলবাড়ী কয়লাখনি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন একই পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের অধিকার ও জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।


জাকারিয়া নয়ন বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়নের বৈগ্রাম এলাকায় ফুলবাড়ী কয়লাখনির মুখ রয়েছে। এখান থেকেও কয়লা উত্তোলনের দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে ফুলবাড়ী কয়লাখনির কয়লা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য দ্রুত খনি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ সময় বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে আরও বক্তব্য দেন মো. আব্দুল কাদের, মো. আব্দুল আজিজ ও মো. বিপ্লব হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।


ফুলবাড়ী কয়লাখনি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ’ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাইমুড়ীতে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৫ পিএম

বর্তমান সরকারের আট মাসের দেশ পরিচালনায় সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চৌরাস্তা থেকে সোনাইমুড়ী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মো. সোহেল উদ্দিন সজীব ও পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল হাসান মায়েনের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোনাইমুড়ী বাইপাসে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সোনাইমুড়ী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মো. সোহেল উদ্দিন সজীব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুল হাসান মায়েন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রায়হান ভূঁইয়া ও শাহজাহান সাজু প্রমূখ।

এ সময় সোহেল উদ্দিন সজীব বলেন, বর্তমান সরকারের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গোষ্ঠী দেশের বাইরে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে থাকা একটি গুপ্ত সংগঠনও বিদেশে অবস্থানরত গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিজ দলের সাংগঠনিক বিষয় তুলে ধরে সজীব বলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তার মতো শত শত নেতাকর্মী দলের জন্য জীবন বাজি রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। অথচ নতুন কমিটিতে তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে দলের স্বার্থে ভবিষ্যতেও সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সজীব। একই সঙ্গে দল থেকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হলে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আশাবাদ জানান তিনি।
শোভাযাত্রায় সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন।

সর্বশেষ সব খবর

আদাবর থানা। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

রাজধানীর আদাবর থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে এ বিস্ফোরণ হয়।

রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ককটেল দুটি নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। কারা কী উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

বর-কনের প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ পিএম

সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দুটি বাল্যবিয়ে পণ্ড করা হয়েছে। আকস্মিক এ অভিযানে অপ্রাপ্তবয়সী মেয়েদের বিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ দুটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। পুরো অভিযানটি সমন্বয় করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার।


প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রথম অভিযান হয় উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের হাজরাপাড়া এলাকায় শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানতে পারেন, তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরপাড়া এলাকায় ধুমধাম করে একটি বাল্যবিয়ে চলছে। কনে ওই এলাকার বাসিন্দা এবং বর পার্শ্ববর্তী খলিশখালী এলাকার অপ্রাপ্তবয়সী ওসমান গাজী।


খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নির্দেশে তালা উপজেলা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার রিংকু আইচ, কুমিরা ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক শম্পা ভট্টাচার্য এবং ক্লাবের দপ্তরি মিনা দে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এছাড়া পাটকেলঘাটা থানার ওসির সহযোগিতায় এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিমও ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযানের টের পেয়ে বর দ্রুত কনেকে গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়।


এ ঘটনায় মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন এবং আগামী সোমবার সকাল ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের ইউএনও মহোদয়ের অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকা প্রথম ঘটনাটি প্রতিরোধ করে ফেরার সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়সী এক মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই বিয়েটিও সফলভাবে প্রতিরোধ করেন।


এ ক্ষেত্রেও মেয়ের পরিবার থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।


তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তালা উপজেলার পৃথক এলাকায় বাল্যবিয়ে বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিয়ের দুটি বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর