বনানীতে এক কিলোমিটারজুড়ে গড়ে উঠছে নগর বন।আছে ২২০ প্রজাতির গাছ, লতাগুল্ম, জলাশয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

মাঝ দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা হাঁটার পথ। হাঁটতে হাঁটতে কোথাও চোখে পড়ে ছোট জলাধার; কোথাও ঝর্ণার মতো গড়িয়ে পড়ছে পানি। পানির ওপর ছায়া ফেলেছে সবুজের পরত। ঝোপের ভেতর প্রজাপতির ওড়াউড়ি। নানা রকম পোকামাকড়ের আনাগোনা। রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে মহাখালীর দিকে এগোতেই বনানীতে চোখে পড়ল এক টুকরো বন। 


কাকলী মোড় থেকে কামাল আতাতুর্ক সড়কে প্রবেশের মুখে ছোট ছোট গাছের সারি, লতাপাতায় ঘেরা পথ, ঝোপঝাড়ের আড়ালে ছোট্ট ছোট্ট জলাশয়। কোথাও চিকন পাতার বাঁশ, কোথাও থাই সুপারি। আবার কোথাও আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা। তুলসী থেকে কদম, বাঁশ, আখ থেকে বেত; নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। একটি গাছের পাশে আরেকটি গাছ; কোথাও লতাগুল্ম জড়িয়ে আছে বৃক্ষের গায়ে। বনানীর এই নগর বন প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ; আয়তন প্রায় ১২ হাজার বর্গমিটার। 


বন বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গড়ে উঠছে এই বন। এই নভেম্বরেই এটি উদ্বোধনের কথা। বনটি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে পথচারীরা ফুটপাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বনের ভেতর দিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে পারেন। ফুটপাত দিয়ে চলা ক্লান্ত পথিকের জন্য রাখা হয়েছে বসার ব্যবস্থা।



বনের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দেখা ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শারমীন আক্তারের সঙ্গে। তিনি উদ্বোধনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তদারকি করছিলেন। তিনি জানালেন, এই জায়গায় একসময় আবর্জনা ছিল। গত জানুয়ারিতে শুরু হয় নগর বন তৈরির কাজ। সেই আবর্জনার স্তূপ এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সবুজে ঘেরা এক অরণ্যে। আমরা চাই, মানুষ এই বনের পাশ দিয়ে হাঁটবেন; প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখবেন।


তিনি জানান, শুধু এই এক কিলোমিটার এলাকা নয়; বনানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচেও সবুজায়ন করা হয়েছে। ফুটপাতের পাশেও গাছ লাগানো হয়েছে। ফলে সড়কের পাশে হাঁটার সময়ও সবুজের ছোঁয়া পাবেন পথচারীরা। প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। উদ্বোধনের পর দুই বছর বনটির পরিচর্যা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবে বন বিভাগ। এখানে শুধু বড় গাছ নয়; ছোট ছোট গাছ, ফুল, ঔষধি গাছ, লতাগুল্ম, ঝোপঝাড় মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে এক বৈচিত্র্যময় পরিবেশ। 


শারমীন আক্তার জানান, নগর বনে দেশীয় ফলদ, ফুল, ঔষধি, শোভাবর্ধক, কনিফার, গুল্ম, ঝোপালো, কাঠ জাতীয়সহ ২২০ প্রজাতির গাছ রয়েছে। গাছগুলো এমনভাবে লাগানো হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক বনের মতো পরিবেশ তৈরি হয়। বনটি গড়ে তুলতে মাটির প্রস্তুতিতেও বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। দো-আঁশ মাটির সঙ্গে ভার্মি কম্পোস্ট, কোকোডাস্ট, রাইস হাস্ক, বোনমিল ও জৈব সার মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে বনোপযোগী পরিবেশ। গাছের নিচে এমনভাবে ঘাস লাগানো হয়েছে, যাতে মাটি থেকে ধুলো উড়ে না আসে। 


বনের কোথাও উঁচু-নিচু টিলা, কোথাও আঁকাবাঁকা পথ। ছোট ছোট জলাশয়ের মতো পানির আধার রাখা হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। এসব জলাধার ও গাছপালার মধ্যে নগরের নানা প্রাণীর আশ্রয় তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। শহরের ব্যাঙ, বেজি, পাখি ও নানা কীটপতঙ্গ যেন এখানে থাকতে পারে, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে এই বন ঘিরে।

শারমীন আক্তার জানান, সারাদিন বিভিন্ন পাখি এখানে আসে। সন্ধ্যা হলে ব্যাঙের ডাক শোনা যায়। কীটপতঙ্গের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রাস্তার শব্দদূষণ এখানে কানে আসে না। 


কিছু গাছ আরেকটু বড় হলে এই পরিবেশ অনেক বদলে যাবে। শারমীন আক্তার বলেন, নগর জীবনে গাছের বাস্তব উপকারিতা অনুভব করার মতো উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। এমন সবুজ পরিবেশ নগরবাসীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই বনভূমি ঢাকার দূষণ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 



এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে মানুষ ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শুধু বনটি দেখে চলে না যান, বরং কিছু সময় সেখানে কাটাতে পারেন। বিশ্রামকালে গাছের ছায়ায় বসে শুনতে পারেন পাখির ডাক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণ বনের চেয়ে এ ধরনের নগর বন ১০ গুণ দ্রুত বাড়তে পারে এবং ৩০ গুণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে সক্ষম। ফলে নগরের বায়ুদূষণ কমানো ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় 


এ ধরনের বন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া নগর বন ঘিরে কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে আয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, নগরে প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনতে সব সময় বিশাল বনভূমির প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও এক টুকরো জায়গায় শত প্রজাতির গাছ, লতাগুল্ম, পানি আর প্রাণের আশ্রয় তৈরি করেও নগরবাসীকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায়। 




সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৫ পিএম

রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে বারিধারার ৭ নম্বর সড়কের জে ব্লক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ।


তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে বাসে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণে আনে।


সাভার-নতুন বাজার রুটে চলাচলকারী বাসটি নতুন বাজারে যাত্রী নামানোর কিছু সময় পর হঠাৎ এতে আগুন দেয় দুবৃত্তরা। তবে কে বা কারা এই আগুন দিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারছেন না পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসটির চালক ও হেলপারকে থানায় নেওয়া হয়েছে।


এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আকতার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তাদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৪১ জন, লালবাগ বিভাগ ৪২ জন, ওয়ারী বিভাগ ৯৫ জন, মতিঝিল বিভাগ ৪৪ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ ১৪৪ জন, গুলশান বিভাগ ৫৫ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৯ জন, এসআরইউ-২ ও গোয়েন্দা বিভাগ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।


পাশাপাশি অভিযানকালে ৫৪০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ২৫৮ পিস ইয়াবা, ৪.২ গ্রাম ৪ পুরিয়া হেরোইন, ৩৭টি প্যাথেড্রিন ইনজেকশন, ২টি চাকু ও ২টি কাটার উদ্ধার করা হয়।


আকতার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ও কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।


বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহত সংবাদ পাওয়া যায়নি। রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ৩ নম্বর গেটের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।


পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সমাজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা শনাক্তে কাজ চলছে। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের ১ নম্বর গেটের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 


তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার ওসিসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।


এদিকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 


স্থানীয় সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ট্রাকটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।


ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, রাত ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ এএম

বাংলাদেশ কপ৩১ সম্মেলনে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর সহায়তা চাইবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।


তিনি বলেন, কপ৩১ সম্মেলনে পর্যাপ্ত অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অনুদান বৃদ্ধি এবং জলবায়ু তহবিলের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হবে।


বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ৩১ উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রধান অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।


মন্ত্রী জানান, তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।


আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন, জীবিকা ও উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বাংলাদেশ এ সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


অভিযোজন প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্যের আওতায় বাস্তব অগ্রগতি অর্জনে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। উপকূল, হাওর, চর ও খরাপ্রবণ এলাকার মানুষের পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা, আগাম সতর্কীকরণ এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।


জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মন্ত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত ও সহজে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন প্রাপ্তির ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানো ও অন্যান্য অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন।


বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার প্রচেষ্টায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও দ্রুত নির্গমন হ্রাসের ওপর জোর দেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে দায়িত্ব ও সক্ষমতা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর শর্তসাপেক্ষ জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তাও নিশ্চিত করতে হবে।


মন্ত্রী জানান, কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্য সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে রূপান্তরের ব্যয় ও সুফলের ন্যায্য বণ্টন, শ্রমিকের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী ও তরুণদের শোভন কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।


নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন শিল্প ও পরিবহন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি বন, ম্যানগ্রোভ, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন জলবায়ু উদ্যোগে অর্থায়ন বাড়ানোর পক্ষে কাজ করবে বাংলাদেশ। জলবায়ু পদক্ষেপের কারণে উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতাও চাওয়া হবে।


সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মতামত এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ এবং সমমনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে। কপ৩১ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা হলো অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তায় সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি, যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কাজে আসবে।


তিনি আরও জানান, সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশ সরকার ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করছে। সেখানে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, এনডিসি ৩.০, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি, কার্বন বাজার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। প্যাভিলিয়নটি অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতি সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও জুট প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে।


এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমান, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম-সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৯ পিএম

সংসদ অধিবেশন ঘিরে আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) রাত থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।


গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদের চতুর্থ অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা প্রয়োজন। এ কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত এলাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। এ ছাড়া বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত এবং পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত এলাকায়ও এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এলাকা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।


জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।


আগামী ৮ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

রাজধানীর মিরপুরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির একটি যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে শাহ আলী থানার নবাবেরবাগ এলাকার দিয়াবাড়ী মিরপুর বেড়িবাঁধে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। 


ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। বাস ও অটোরিকশার এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।


পরে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর