প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছেন না মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতোই এ নির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার পরে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে তিনি উপনির্বাচনের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে ব্রিফিংয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, “পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। এই উপনির্বাচনকে ছোট করে দেখছি না। জাতীয় নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
১১ দলীয় ঐক্যের আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিইসি।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সমাধান করা হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী ও সংস্থাকে নির্বাচনি দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে।
নাসির উদ্দিন বলেন, “সবার সহযোগিতা নিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে চাই।
“আমরা সংঘাতের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে উৎসবমুখর নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। দেশে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক নির্বাচনি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সিইসি বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সেগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই সমান অগ্রাধিকার দিয়ে এই উপনির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার ছেড়ে আসা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট শুরু হয়েছে সকাল ৮টায়, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার আছেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে থেকে এই সংসদীয় এলাকার নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নেবেন তারা।
এই পাঁচ প্রার্থী হলেন—রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
বেসরকারিভাবে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম তাকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
এদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ পুলিশ সদস্য ও ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে আছেন। চার বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার কথা আছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন- রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮। নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
প্রসঙ্গত, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আরো একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজের পাশ দিয়ে নতুন একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পাশাপাশি কান্দিগাঁও ইউনিয়নে সুরমা নদীতে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি। সিলেট নগরের ব্লু ওয়াটার শপিং সিটিতে একটি অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কিন ব্রিজ দিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচল করে না। ব্রিজটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এর পাশে নতুন একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
তিনি বলেন, সিলেটের ঐতিহাসিক স্থাপনা আলী আমজাদের ঘড়ি ও সার্কিট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অক্ষত রেখে কীভাবে নতুন সেতু নির্মাণ করা যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে একই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সুরমা নদীর ওপর কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
দুই সাংবাদকর্মীকে পিটিয়ে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। আহতরা হলেন সিলেট ভিউ ২৪ এর প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার এবং শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল। হামলার সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাদের মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়, যার ফলে উভয়ের মাথাতেই একাধিক সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করার পরপরই নিজেদের বাঁচাতে দুই আহত সংবাদকর্মীর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই উল্টো কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সাধারণ রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। চিকিৎসা না পেয়ে অনেককে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতেও দেখা গেছে। এমনকি কর্মবিরতি চলাকালে হাসপাতাল চত্বরে তিনজন রোগীর মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালক বা উপ-পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার গভীর রাতে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকেরা। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সাংবাদিক নেতারা ঘোষণা দেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে সকল সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিবেন্দু তালুকদার ও রেজা রুবেলের ওপর হামলা করেন। এ সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাদের গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে আহত দুই সাংবাদিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করেই নিজেদের বাঁচাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে চলে যান।
চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, দুই সহকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের শরীর থেকে রক্ত ঝরেছে এবং আঘাতের স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
নোবেল আরও বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। এসব ঘটনার অবসান হওয়া প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটের সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা একসঙ্গে বসে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন। ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করারও দাবি জানান তিনি।
শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, পরবর্তী কর্মসূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। কর্মসূচির ডাক এলে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণের অপেক্ষা না করে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা বলেন, হাসপাতালে অনেক রোগী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিতে আসেন। এ সময় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলে তাদের ভোগান্তি বাড়ে। কোনো বিরোধ বা প্রতিবাদের কারণে রোগীরা যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান বলেন, সাংবাদিকেরা মানুষের ভোগান্তি ও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরতে সংবাদ সংগ্রহ করেন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের ওপর হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই। রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আনিস রহমান বলেন, চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি চললে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ রোগীরা। কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে রোগীদের জিম্মি করা উচিত নয়। তিনি জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবেন।
বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিদ হোসেন বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে। হামলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, আজ আমাদের দুই সহকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে, তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোনোটিই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও তাদের স্বজনেরা যেন হামলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইসাথে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গোলাগুলিতে নিহত ২
পাবনার আতাইকুলায় হাটের ইজারা নিয়ে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইজারাদারসহ ২ জন নিহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাটে এ ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী (৫৫) ও তার সহযোগী রিপন হোসেন (৫০)। তারা আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাটের বর্তমান ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী সহযোগীদের নিয়ে হাটে থাকা নিজের অফিস কক্ষে বসে ছিলেন। ওই সময় কয়েকজন লোক মুখোশ পরা অবস্থায় এসে তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাম হাজী ও তার সহযোগী রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। এর জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজনদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা হবে। এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মো. আসাদ আলী
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. আসাদ আলী (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর মোটরসাইকেলের এক আরোহীও আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আসাদ আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা আঞ্চলিক সড়কের ভাগদী সিএন্ডবি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত আসাদ আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগদী গ্রামের হারেজ মিয়ার ছেলে। আহত অপর মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে আসাদ আলী মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়ক দিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পরে ভাগদী সিএন্ডবি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় অপর মোটরসাইকেলের আরোহীও আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আসাদ আলীকে আশঙ্কাজনক জনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।
ঘোড়াশাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আধুনিক ও সমসাময়িক গানের শব্দ বিন্যাসে যিনি শ্রোতাদের মন জয় করেছেন, তিনি এবার ফিরেছেন বাংলার মাটির টানে, শিকড়ের সন্ধানে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জনপ্রিয় গীতিকার, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক রেজাউল করিম জীবন এবার নাম লিখিয়েছেন পল্লীগীতি গানের গীতিকার হিসেবে। আধুনিক গানের সফল সীমানা পেরিয়ে লোকসংগীতের এই আঙিনায় তার পদার্পণ সংগীত মহলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতার রংপুরে পল্লীগীতি গানের গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এর আগে রেজাউল করিম জীবনের লেখা আধুনিক গান শ্রোতামহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। সমকালীন জীবনের প্রেম, বিরহ ও নাগরিক জীবনের অনুভূতিগুলো যেভাবে তিনি তার লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। তবে এবার নাগরিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে গ্রামীণ বাংলার লোকজ সুর, লোকসংস্কৃতি ও মাটির ঘ্রাণকে ভালোবেসে পল্লীগীতির দিকে মনোনিবেশ করেছেন তিনি।
রেজাউল করিম জীবন ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি মুলত ছড়া লিখতেন। হঠাৎ করে বাঁক পরিবর্তন করে তিনি ২০১৬ সাল থেকে গান লেখা শুরু করেন। তিনি ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বেতার রংপুরে আধুনিক গানের গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। জীবন একাধারে গীতিকার, সাংবাদিক ও সাহিত্য সংগঠক। লেখালেখি ও সাহিত্য সংগঠক হিসেবে ইতিমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে পদক ও সম্মাননা প্রাপ্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ ‘ছড়াগুলো টুনটুনি’র ছাড়াও যৌথকাব্যগ্রন্থ রয়েছে। তাঁর লেখা গান রংপুর মিউজিক ও মিউজিক রংপুরে আধুনিক এবং পল্লীগীতির গান রয়েছে। রেজাউল করিম জীবন ১০ জেলার বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকারদের নিয়ে সংগঠন গীতিকবি সংসদ রংপুর অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক, ছড়া সংসদ রংপুরের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি পেশায় সাংবাদিক। বর্তমানে স্থানীয় দৈনিক ও ঢাকার একটি পত্রিকায় কর্মরত। একই সাথে তিনি বাংলাদেশ বেতার রংপুরের বার্তা বিভাগে অনুবাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
নিজের এই নতুন পরিচয় ও ধারা পরিবর্তন নিয়ে গীতিকার রেজাউল করিম জীবন বলেন, “আধুনিক গান আমাদের বর্তমানকে প্রকাশ করে, কিন্তু পল্লীগীতি বা লোকসংগীতের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের আসল শিকড়। মাটির গান, মানুষের গান এবং গ্রামীণ বাংলার চিরন্তন অনুভূতিগুলোকে শব্দের ফ্রেমে বন্দি করার এক অদ্ভুত আত্মতৃপ্তি রয়েছে। সেই তাগিদ থেকেই এবার পল্লীগীতির গীতিকার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, আধুনিক গানের মতো আমার এই নতুন ধারার গানগুলোও শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দেবে।
সংগীত বোদ্ধাদের মতে, একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক হওয়ায় সমাজের গভীরের রূপগুলো রেজাউল করিম জীবনের খুব চেনা। আর সেই অভিজ্ঞতাকে যখন তিনি লোকজ ধারার গানে রূপ দিচ্ছেন, তখন তা গ্রামীণ বাংলার মানুষের কথাকে আরও নিখুঁতভাবে তুলে ধরছে।
রেজাউল করিম জীবন সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংগীতের এই নতুন ধারা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁর লেখা গানের কয়েকটি মিউজিক ভিডিওর কাজ চলছে। আধুনিক গানের পর পল্লীগীতির ভুবনেও তাঁর সুরের যাত্রা সফল ও সুদূরপ্রসারী হোক এমনটাই প্রত্যাশা সংগীতপ্রেমীদের।