মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযান মালিকদের জন্য বড় সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই বকেয়া কর ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানের কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আরও বাড়োনো হয়েছে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিআরটিএর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জরিমানা ছাড়া কেবল মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সব প্রকার মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সুযোগ আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার।
বিআরটিএ জানিয়েছে, এটিই শেষ সুযোগ। তাই জরিমানা এড়াতে নির্ধারিত বৃহস্পতিবারের মধ্যে মূল কর ও ফি পরিশোধ করে মোটরযানের সব ধরনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার জন্য সব যানবাহন মালিক ও চালকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব)-এর লাউঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এই আগুন লাগে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
তিনি বলেন, পাঁচতলা ভবনের দোতলায় সাংবাদিকদের বসার রুমে বই পুস্তকে আগুন লাগে। অবশ্য সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।তদন্ত করে আগুন লাগার উৎস বের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াজ মাহফিলে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান ও তাদের পেটানোর উসকানিমূলক হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ইসলামী বক্তা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মী আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে তার প্রদত্ত বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মানহানি ঘটানো, শারীরিক হামলার হুমকি এবং অনুসারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিশের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা ও হুমকি দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার। তিনি আরও দাবি করেন, একটা যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে। সাংবাদিকরা ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করে নাই, প্রচার করেছে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক। এরা হলুদ সাংবাদিকতা করে।
এরা বিদেশি ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ কর্তৃক পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক এটা তারা চায় না। আইনি নোটিশে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, জনসম্মুখে দেওয়া এমন বিষোদ্গারমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্বয়ং এবং তার ভক্ত-অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকি সৃষ্টি করেছেন। যা স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি করেছে। এই ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ ও পেটানোর উসকানি সাংবাদিকতা পেশা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি ও চরম অবজ্ঞার শামিল।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।একই আদেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকায় কর্মরত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে পরদিন ২৯ অক্টোবর থেকে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রার) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রতিনিধিদল মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্পের পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।
জাহেদুল হাসান আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে, সম্ভাব্য ২৫ অক্টোবর, পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে কিনা- তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।