ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৮টায় প্রচারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেমেছে মাইকের আওয়াজ, মিছিল ও সভা-সমাবেশ। এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
আগামী ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে এই আসনের জনপ্রতিনিধি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনটির ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে। নির্বাচনের ফলাফল যে পক্ষেরই হোক, সবাই তা মেনে নেবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার।
বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া জানান, নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ায় এখন ভোটের দিনের অপেক্ষায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা ভোটারদের। সব প্রস্তুতি শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ। ভোটের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পরবর্তী জনপ্রতিনিধি।
বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের মতবিনিময় সভা
নীলফামারীর নবাগত জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবিরের সাথে জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গদের পরিচিতি এবং মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির।
এসময় উপস্থিত ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম, নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী কমেট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার আমীর মোখলেছুর রহমান মাষ্টার, প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান কবির লেলিন, জেলা জামায়াতে সুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য প্রভাষক সাদের হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, পঃ পঃ কর্মকর্তা নন্দা সেন গুপ্তা, প্রকৌশলী তারিকুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়িদুজ্জামান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস ছামাদ, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এস.এম গোলাম মোস্তফা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন। উক্ত পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে নবাগত জেলা প্রশাসক হুমায়ন কবির বলেন, মানবিক নৈতিকতা, অর্থনৈতিক ও সৃজনশীল সমাজ ব্যবস্থা গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
এসময় তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নৈতিক দ্বায়িত্ববোধ থেকে দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে সেই সঙ্গে, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে উঠতি বয়সের যুবকরা জরিয়ে পরছে তাই যুব সমাজকে কিশোর গাং, মাদক, জুয়া, মোবাইলে আসক্তি, ইভটিজিং অপরাধপ্রবণ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করে মেধা মননশীলতায় গড়ে তুলতে হবে।
টোয়াবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মেলা, বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম আন্তর্জাতিক মেলা, বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। আগামী ২৯-৩১ অক্টোবর ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে আজ ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিটিএফ ২০২৬-এর রূপরেখা আলোচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের সাবেক সভাপতি ও প্রধান মেলা সমন্বয়কারী মো. রাফেউজ্জামান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার পিআর কামরুল ইসলাম, ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টের জেনারেল ম্যানেজার অশ্বনী নায়ার, টোয়াবের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ শাফত উদ্দিন আহমেদ, বিসিএফসিসিয়ের হেড অব সেলস রহমত আলী, টোয়াবের পরিচালক (মিডিয়া ও পিআর) মো. মিজানুর রহমান, পরিচালক (বাণিজ্য ও মেলা) আবুল বাসেত বাবু, সাবেক মেলা পরিচালক রেজাউল ইকরাম রেজা ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব তৌফিক রহমান।
টানা ১৩ বার সফল আয়োজনের পর, এবারের ১৪তম আসরের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এআই পাওয়ার ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতের বিকাশ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
তিন দিনব্যাপী চলা এই মেলায় নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টিরও বেশি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিনিধি ও সংস্থা অংশ নিবে। এ বছর মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
এছাড়াও, মেলায় ২০০-এরও বেশি বুথ ও স্টল, ২২০+ এক্সিবিটর, ২৫০+ কোয়ালিফাইড বায়ার, ২,৫০০+ ট্রেড ভিজিটর ও ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করবে। একইসাথে, চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে ২০০টিরও বেশি এয়ারলাইন্স, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশ নিবে, যা বিটিটিএফ ২০২৬-কে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্যে একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “গত ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এই মেলা দেশিয় পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সাথে বিটুবি নেটওয়ার্কিং ও নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
মেলার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
মেলার এয়ারলাইন্স পার্টনার হিসেবে থাকছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে থাকছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) পার্টনার হিসেবে সেবার, পিআর পার্টনার হিসেবে ওপাস কমিউনিকেশনস লিমিটেড, টেকনোলোজি পার্টনার হিসেবে এম৩৬০আইসিটি, ট্রান্সপোর্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে কনভয় সার্ভিস, ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে থাকছে মায়েস্ট্রো, অডিও ভিজ্যুয়াল পার্টনার হিসেবে থাকছে প্যানোরমা পিসি ক্রিয়েটরস ও রুচি এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি)।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এবং একইসাথে, বৈশ্বিক অংশীজনদের এই খাতের সাথে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশিয় পর্যটনের বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে টোয়াব।
সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে কৃষির আধুনিকায়ন, সারা বছর পরিকল্পিতভাবে সবজি উৎপাদন, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার, সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্র ও বিনামূল্যে এলএলপি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য কৃষির আধুনিকায়ন, পরিকল্পিতভাবে সারা বছর সবজি উৎপাদন, সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিলেট সদর উপজেলার সব কৃষিজমি সারা বছর চাষাবাদের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি ভর্তুকিতে বিতরণ করা কৃষিযন্ত্র যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে কৃষকেরা এসব যন্ত্রের সুফল পান।
সিলেটের সবজি রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের বাজারে সিলেটের সবজি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে উৎপাদন পরিকল্পনা, পণ্যের মান বজায় রাখা, প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
তিনি জানান, সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোন মৌসুমে কোন এলাকায় কী ধরনের সবজি উৎপাদন উপযোগী, তা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা করা হবে। এর মাধ্যমে সারা বছর সবজির সরবরাহ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।আগামী পাঁচ বছরে সিলেটের কৃষি ও উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার বিতরণ করেন।
ছাত্রলীগকর্মীদের স্লোগান (উপরে) ও আটক চারজন
নওগাঁর মহাদেবপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ চার ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করেছে। গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে তাদেরকে উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের চকগোড়া থেকে আটক করে গত ১৬ জুন দায়ের করা নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেলে নওগাঁ কোর্টে পাঠায়।
আটকরা হলেন, উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি চকগোড়া সরদারপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে রোকনুজ্জামান সোহাগ (২৫), তার সহযোগী মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে মাহমুদ রায়হান (৩০), চকগোড়া পূর্বপাড়া গ্রামের আবির উদ্দিন সরদারের ছেলে পিয়ারুল ইসলাম মুসা (১৯) ও সাইফুল ইসলামের ছেলে সোহেল (২১)। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একই সাথে আরো একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, গত রোববার দিবাগত রাতে চকগোড়া ও আশেপাশের কিছু উঠতি বয়সের যুবক গ্রামের পাশে পিকনিকের আয়োজন করে। পিকনিক শেষে তারা লাইন হয়ে দাঁড়িয়ে জয় বাংলা স্লোগান দেয়। এদের মধ্যে রোকনুজ্জামান সোহাগ আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা আসার বিষয়ে সহযোগীতা করার কথা বলে নাতিদীর্ঘ বক্তব্য দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরই জের ধরে থানা পুলিশ অভিযানে নামে।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, চকগৌরীহাটে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাচাই বাছাই শেষে এক যুবক ঘটনার সাথে জড়িত না থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। অভিযানের সময় তিনি কৌতুহলবশত: ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ১০ দিন পর আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পোড়া রিসোর্টের দ্বিতীয় তলা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে ও স্বপ্নবিলাস ইউনাইটেড স্কুলের শিক্ষক। তিনি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি দেওয়ানের স্ত্রী।
পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, ১৭ অক্টোবর সকালে টুপটুপ রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্ট এ আগুন লাগে। সেদিন সেখানে ১০ জনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। এরপর ১৮ অক্টোবর বিভিন্নভাবে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে সেদিন বিকেলেই ফায়ার সার্ভিস দ্বিতীয় দফা সেখানে অভিযান চালায়। কিন্তু রিসোর্টটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস অভিযান সমাপ্তি করে চলে আসে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, একজন নিখোঁজের বিষয়টি আমরা জানতে পেরে তার মোবাইল ট্রাকিং করি। সেখানে তার শেষ লোকেশন ছিল পাটুয়ারটেক। পরে আজ দুপুরে আমাদের একটি টিম পোড়া রিসোর্টে যায়। টিমটি ওই রিসোর্টের দ্বিতীয় তলা থেকে একটি পোড়া মরদেহ খুঁজে পায়। মরদেহটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মরদেহ নিখোঁজ ১১ জনের সন্ধান মিলেছে। আগের ১০টি মরদেহ ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে সনাক্ত করা হয়েছে। এই কারণে এই মরদেহটি মুক্তার সেটি নিশ্চিত। মরদেহ নিতে মুক্তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে হারানো, চুরি ও ছিনতাই হওয়া ১০৭ মোবাইল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। জেলার ১৭ থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় এসব মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
পুলিশ সুপার বলেন, মোবাইল হারানো, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় করা জিডির ভিত্তিতে ডিবির কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছেন। চুরি বা ছিনতাইয়ের পর মোবাইলগুলো একাধিকবার হাতবদল হওয়ায় উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেক পরিশ্রম করেছেন। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া এসব মোবাইলের মধ্যে অনেকগুলো চার-পাঁচ মাস, ছয় মাস, এমনকি এক বছর পর মালিকরা ফিরে পেয়েছেন। শুরুতেই ফোনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হলে আরও ভালো হতো। ভবিষ্যতে মানুষের হারানো, চুরি বা ছিনতাই হওয়া সম্পদ দ্রুত উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা পুলিশ কাজ করবে।
পুরোনো মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল কয়েক হাত ঘুরে এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে পারে, যিনি হয়তো না জেনেই সেটি কিনেছেন। এতে তিনিও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। তাই পুরোনো মোবাইল কেনার আগে সেটির মালিকানা ও বৈধতা যাচাই করা জরুরি। এসব মোবইলের সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধের, এমনকি ডাকাতিরও যোগসূত্র থাকতে পারে।
মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের বিষয়ে তিনি বলেন, অপরাধের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক চক্র কাজ করে। এ বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, পাশাপাশি কয়েকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে হাতবদলের শেষ পর্যায়ে যারা মোবাইল কেনেন, তাদের কাছ থেকে মোবাইলের মূল উৎস শনাক্ত করা কঠিন। এ জন্য কয়েকটি মোবাইল পরীক্ষামূলকভাবে তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
মোবাইলগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কার হাত ঘুরে ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে, তা শনাক্ত করা গেলে চক্রের পুরো কার্যক্রম উদ্ঘাটন সম্ভব হবে। জেলা পুলিশ জানায়, জনমুখী পুলিশি সেবা জোরদার এবং হারানো সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে জেলার ১৭টি থানায় মোবাইল হারানোর ঘটনায় করা জিডি পর্যালোচনা করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সমন্বয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ১০৭টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘদিন পর মোবাইল ফিরে পেয়ে মালিকরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।