আবু সাঈদ লিওন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন অনুমোদিত এই কমিটিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন নীলফামারীর কৃতি সন্তান আবু সাঈদ লিওন। এর আগে তিনি দলটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। আবু সাঈদ লিওনের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।
নতুন এই দায়িত্বপ্রাপ্তিতে নীলফামারী জেলায় আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জেলার রাজনৈতিক সহকর্মী, ছাত্র-যুব সমাজ এবং সাধারণ জনগণ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আবু সাঈদ লিওন বলেন, “দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমার জন্য গর্বের বিষয়। আমি চেষ্টা করব সংগঠনের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে।”
দলটির একাধিক নেতাকর্মী মনে করেন, অভিজ্ঞ ও উদ্যমী একজন নেতার ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে। নীলফামারীসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবু সাঈদ লিওনের প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথপট্টি এলাকায় ডিভোর্সের পরও সাবেক স্ত্রী দোলন আক্তারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছেন মো. রনি। ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে খুর দিয়ে গলা ও হাতে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় নগদ ৫ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী রনি ও তার বন্ধু মো. রহমানের বিরুদ্ধে।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথপট্টি এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দোলন আক্তারের প্রথম স্বামী লুৎফর রহমান মারা যাওয়ার পর তিনি মো. রনি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই রনির চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল এবং সে প্রায়ই মাদক সেবন করে বিভিন্ন অজুহাতে দোলন আক্তারের কাছে টাকা দাবি করত। এই আচার-আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দোলন আক্তার তাকে ডিভোর্স দেন।
ভুক্তভোগী দোলন আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বাপের বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে ঘরে রেখেছিলেন তিনি। এই বিষয়টি জানতে পেরে সাবেক স্বামী মো. রনি ও তার বন্ধু মো. রহমান অতর্কিতভাবে তার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে রনি তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং কাছে থাকা খুর দিয়ে হাতে ও গলায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। পরে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন, তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোলন আক্তার বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীনগর থানা ওসি তদন্ত মিল্টন দত্ত জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের মাটি ও মানুষের বুক চিরে উঠে আসা উদীয়মান তরুণ লেখক আহির হোসেন লিউ। তাঁর সৃজনশীল লেখালেখির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। মানুষের জীবনের নানা অনুভূতির গল্প, যা হারিয়ে যাওয়ার পরও মনে রেশ রেখে যায়, সেগুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলছেন তাঁর সাহিত্যচর্চায়।
কখনো ভালোবাসার মিষ্টি স্মৃতি, কখনো গভীর বেদনা, আবার কখনো উত্তর না মেলা রহস্যময়তার দোলাচলে পাঠকের মন জয় করে চলেছে তাঁর লেখালেখি।
আহির হোসেন লিউর সাহিত্যকর্মের একটি অনন্য উদাহরণ হলো ‘শ্রীনগরের প্রেম যেন অভিশপ্ত’একটি অসমাপ্ত সুফিয়ানা প্রেমকাহিনি। এই গল্পটিতে প্রেম ও রহস্যের পাশাপাশি চমৎকারভাবে উঠে এসেছে মানুষের জীবনের নির্মম বাস্তবতা, প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা এবং সম্পর্কের হাজারো অমীমাংসিত প্রশ্ন। গল্পটির আখ্যানের কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র সরোয়ার সুফি ও মাহিরা মায়াত। তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার মধ্য দিয়ে লেখক এক আবেগময় পরিবেশ নির্মাণ করেছেন, যেখানে ভালোবাসা কেবল দুটি মানুষের মন লেনদেনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে দীর্ঘ অপেক্ষা, মধুর স্মৃতি এবং অজানা কোনো সত্যের খোঁজ।
এই গল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর রহস্যময় আবহ। পাঠক যখনই একটি ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজতে যান, ঠিক তখনই সামনে চলে আসে নতুন কোনো প্রশ্ন। এর ফলে কাহিনীর অগ্রগতির সাথে সাথে পাঠকের মনে আবেগ, কৌতূহল ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে থাকে।
লেখকের সাহিত্যিক ভাবনার একটি দারুণ দর্শন এখানে স্পষ্ট-সব গল্পেরই যে মিলনান্তক বা স্পষ্ট সমাপ্তি হতে হবে, তা নয়। কিছু গল্প পাঠকের মনে চিরকালের মতো প্রশ্ন ও ভাবনার খোরাক রেখে দিয়েই সার্থক হয়ে ওঠে।
প্রেম, বেদনা ও রহস্যকে একসূত্রে গেঁথে লেখক আহির হোসেন লিউ পাঠককে কেবল একটি ঘটনার সাক্ষী করেন না, বরং ঘটনার পেছনের মানুষটির মনস্তত্ত্ব বুঝতেও আহ্বান জানান। তাঁর এই সৃজনশীল পথচলা এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ সাহিত্যকর্মগুলো শ্রীনগর তথা দেশের সাহিত্য অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এমনটাই প্রত্যাশা পাঠকদের।
নওগাঁর মহাদেবপুরে ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকা, হোমিও ডাক্তারখানায় জটিল আল্ট্রাসনোগ্রাম করা প্রভৃতির দায়ে দুই ভূয়া চিকিৎসকের জেল, জরিমানা, একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে বন্ধ করা ও অপর একজনের জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা এনএসআই, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন এসআরবি সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্পের গোয়েন্দা দল ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। আজ সোমবার বিকেলে এসআরবি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ। আদালত সূত্র জানায়, আভিযানিক দল উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন কাজী অফিসের পিছনে গলির ভীতর অবস্থিত “ফাতেমা হোমিও এন্ড আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেন্টারে” অভিযান চালিয়ে দেখতে পান যে, ফারুক হোসেন (৩২) নামে একজন হোমিও চিকিৎসক জটিল আল্ট্রাসনোগ্রাম করেন যেটা একজন এমবিবিএস ডাক্তার ছাড়া করতে পারেন না। এছাড়া চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ও ওষুধ বিক্রির বৈধ কোন নিবন্ধন ছিলনা। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৮(১) ধারায় ফারুক হোসেনের একমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ২০ দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে বন্ধ করা হয়। ফারুক হোসেন পোরশা এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে।
অভিযানে উপজেলার লিচুতলা এলাকায় প্রয়োজনীয় নিবন্ধন না থাকা “স্পেশালাইজড সেন্টার ফর ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, এখানে যে চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তার ছাপা প্যাডে ব্যবস্থাপত্র লেখেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মাসুম আলী (২৮) নিজেই। চিকিৎসকের ভূয়া স্বাক্ষরও দেন তিনি। এসব অভিযোগে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৯ ধারায় মাসুম আলীর এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। তিনি উপজেলা সদরের সৈয়দ আলীর ছেলে।
এছাড়া উপজেলার লিচুতলা হাউস বিল্ডিং মোড়ে “ফাইভ স্টার মেডিকেল সেন্টারে” অভিযান চালানো হয়। সেখানে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনিশিয়ান বেদারুল ইসলাম সাইনবোর্ডে নিজেকে চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানান রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তার মেয়ে এমবিবিএস ডাক্তারের নামে ছাপা প্যাডে তিনি নিজেই ভূয়া স্বাক্ষর দিয়ে ব্যবস্থাপত্র দিতেন। এই প্রতিষ্ঠানেরও প্রয়োজনীয় নিবন্ধন নেই। এসব অভিযোগে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ২৮(১) ধারায় বেদারুল ইসলামের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি মান্দা এলাকার মৃত জেহের আলীর ছেলে।
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ফেরির ধাক্কায় পন্টুনের র্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাশে থাকা একটি স্পিডবোট থেকে শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
বিকেলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরি মাস্টার আমির হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুপ্তছড়া ঘাটে ফেরির ধাক্কায় পন্টুনের র্যাম্প ভেঙে যায়। এ সময় পাশের একটি স্পিডবোটে থাকা কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে শিশুও ছিল। আকস্মিক এ ঘটনায় ঘাটে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় ফেরি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাস্টার আমির হোসেনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কীভাবে পন্টুনের র্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হলো এবং যাত্রীরা নদীতে পড়ে গেলেন, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ফেরি মাস্টার আমির হোসেনের দায়িত্ব পালনকালে পন্টুনে ধাক্কা লাগার ঘটনা ঘটেছিল।
ঘটনার বিষয়ে ফেরি মাস্টার আমির হোসেন বলেন, ‘র্যাম্প পজিশনিং করার সময় একটু ডানে-বামে দেয়া লাগে। ওই সময় একটু ধাক্কা লাগে। যেটা দেখে যাত্রীরা ভয়ে লাফ দিয়েছে। তবে বড় ধরনের কিছু ঘটে নাই।’
সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এ নৌরুট। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এ পথে চলাচল করেন। তাই ফেরি ও স্পিডবোট পরিচালনায় সতর্কতা, পন্টুনের নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ঘটে চলেছে গাজীপুরে। এবার আগুন লেগেছে নগরীর কোনাবাড়ীতে দেওয়ালিয়াবাড়ী এলাকায়, এক ঝুটের গোডাউনে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে একটি ঝুটের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত এই আগুন আশপাশের আরও কয়েকটি গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। বর্তমানে মোট চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় হতাহতের কোনও তথ্যও পাওয়া যায়নি।উল্লেখ্য, মাত্রই দুই দিন আগে ভয়াবহ আরেক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি পোশাক কারখানার কার্টনের গোডাউনে। ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিটের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে সেই আগুন।
এরও এক সপ্তাহ আগে, ভয়াবহ আরেক অগ্নিকাণ্ড ঘটে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের ওষুধ কারখানায়। ১৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে লাগা এ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।
এ ঘটনারই মাত্র তিনদিন আগে, গত ১৪ অক্টোবর বড় ধরনের আরেক অগ্নিকাণ্ড ঘটে গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায়। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন দলের সহযোগিতায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে সেই আগুন।
গাজীপুরের সদর উপজেলায় একটি মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা পাঁচজনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জয়দেবপুর থানার দুটি মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে (২৯)। অন্য আসামিরা হলেন আরিফুল ইসলামের ভাই শরীফ মিয়া (৩৫), তাদের বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) ও দেলোয়ার হোসেন মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার চর বওলা গ্রামে।
আরিফুল ইসলামের একটি মহিলা মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত ওই ছাত্রী। আরিফুল ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন।
এজাহারে বলা হয়, ১০ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে ছাত্রীর বাবা সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। মেয়েকে উদ্ধার করতে না পেরে পরে তিনি থানায় মামলা করেন।
ছাত্রীর বাবা জানান, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় যাওয়ার পর তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম অন্যদের সহযোগিতায় তার মেয়েকে অপহরণ করেন।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।