বড় আশা নিয়ে সিলেটে নির্মান করা হয় সিলেট হাইটেক পার্ক। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিলেট হাইটেক পার্ক নিয়ে চলছে নানা যড়যন্ত্র। সিলেটে ভালো ম্যাগা প্রকল্প হাতে নেয়া হলে শুরু হয় নানা যড়যন্ত্র। এ থেকে রেহাই পায়নি সিলেট হাইটেক পার্কও।
এ পার্ক নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়, জমি লিজের বিপুল অর্থের হিসাব না থাকা এবং অবকাঠামো নির্মাণের পরও বিনিয়োগ না আসায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্পের কাজ থুবরে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণযোগ্য একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া পার্কের প্রবেশপথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাবও সামনে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নথিপত্র জমি লিজ বাবদ প্রাপ্ত ৫৬০ কোটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ জরুরি।
সিলেট নগর থেকে প্রায় ৩০ কিলো মিটার দূরে কোম্পানীগঞ্জের বর্ণি এলাকায় ১৬৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় এই মেগা প্রকল্প। এ পর্যন্ত এতে প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও বাস্তব সম্মত দিকগুলো যথাযথ ভাবে বিবেচনা করা হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় নির্ধারিত এলাকাটি জলাভূমি ও দুর্গম হওয়ায় সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের সাফল্যের সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প প্রস্তাবনায় সমীক্ষার আপত্তিগুলো বাদ দেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবেশ উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক শাকিল জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে চাপ থাকতে পারে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ ইআইএ প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে উল্লেখ থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। এতে সরকারি অর্থের পাশাপাশি পরিবেশ ও সম্ভাবনারও অপচয় হচ্ছে। প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাবেও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপনে প্রতি কিলোমিটারে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেখানে প্রকৃত দর ছিল ২০ হাজার টাকা। কালভার্ট ও স্লুইসগেট নির্মাণেও প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ খাতে দেড় শ’ কোটি টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হলেও সরেজমিন নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপণের দৃশ্য চোখে পড়েনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রবেশ পথের দেয়ালে একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ছিল। সেটি নির্মাণে দুই কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন পার্কের দুটি দোতলা ভবনে বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ভবনের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, কোথাও জমেছে ময়লা-আবর্জনা। ফোয়ারার পানিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সীমানা প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। পার্কের ৪৩ একর জমিতে স্টল বরাদ্দের কথা বলা হলেও র্যাংস ইলেকট্রনিক্স ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পার্কে কার্যক্রম পরিচালনাকারী র্যাংস ইলেকট্রনিক্সের উপমহাব্যবস্থাপক মোরশেদুল আলম জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো গ্যাসের সংযোগ পাওয়া যায়নি। ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সাবস্টেশনে সমস্যা দেখা দিলে কখনো এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
সিলেট ইলেকট্রনিক সিটির সাবেক উপপরিচালক ও বর্তমানে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী এস এম আল মামুনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি কাজের প্রাক্কলন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
প্রকল্পটির সাবেক পরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া জানান, প্রকল্পটি অপরিকল্পিত ছিল বললে বিষয়টি তার বিরুদ্ধেও যেতে পারে। কাজের ব্যয় ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
যুবদল নেতা রামিম
প্রতিনিয়ত খুলনায় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা কেন্দিক গুলি করে হত্যার খবর নতুন না হলেও এবার পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) খুলনা সফরের মধ্যেও প্রকাশ্যে রামিম (৩২) নামে এক যুবদল নেতাকে গুলি করে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের পারহাজী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রামিম বিশ্বাস (৩২) নামে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
আহত রামিম বিশ্বাস পারহাজী গ্রামের হাবিবুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি মধুপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ বিল্লাল মোল্লা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে ভ্যানে করে কোলাবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রামিম। পথে গ্রামের আইনাল মোল্লার বাড়ির সামনে প্রধান সড়কে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ আলী বিশ্বাস জানান, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ অক্টোবর মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনা নগরীতে দুজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই দিন ভোরে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম তুষার (৩২) নামের এক যুবককে প্রতিপক্ষ গ্রুপের দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। একই দিন সন্ধ্যায় লবণচরার জিন্নাপাড়া বউবাজার এলাকায় খুশি বেগম (২৫) নামের এক গৃহবধূকে তার মায়ের সামনেই মাথায় গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
জৈন্তাপুর পৌরসভা
সিলেটের জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত পল্লী এলাকাকে পৌরসভা ঘোষণা করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। এর আগে পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও পত্র প্রদান এবং শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জৈন্তাপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিও পত্র দেন। পরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ২৮১-আইন/২০২৬ নম্বরে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এটি ১৪ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত এলাকাগুলোকে শহর ঘোষণার অভিপ্রায় জানানো হয়েছিল।
পাশাপাশি, গেজেট প্রকাশের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে লিখিত আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়।পরবর্তী সময়ে উত্থাপিত আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (৪)-এর ক্ষমতাবলে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ৩৭০-আইন/২০২৬ নম্বরে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়।
এর মাধ্যমে তফসিলে উল্লেখিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার, পিএইচডি। সরকারি গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো-ডিবি হাওর, ঘিলাতৈল, গৌরিশংকর, নিজপাট, পূর্ব লক্ষীপ্রসাদ ও গুয়াবাড়ী।
অন্যদিকে, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা হলো-কেন্দ্রী হাওড়, মোয়াখাই, লামনীগ্রাম, মুক্তাপুর, বিরাইমারা হাওর ও ভিত্রিখেল। সব মিলিয়ে দুই ইউনিয়নের ১২টি মৌজার নির্ধারিত ভূমি পৌরসভা ঘোষণার আওতায় এসেছে। গেজেটের তফসিলে মৌজাভিত্তিক জে.এল. নম্বর ও দাগ নম্বরের পরিসরও উল্লেখ রয়েছে। পৌরসভা বাস্তবায়নের উদ্যোগে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
পৌরসভা প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম চালু হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানো, স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জনসেবার মান উন্নয়নের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবায়ন নির্ভর করবে পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ওপর।
ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে পাওয়া টাকা ব্যবহারের নতুন সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আপাতত সব টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। মাজারের ব্যবস্থাপনায় তিনজন কর্মী নিয়োগের পর দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি কার্যকর হবে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার ব্যবস্থাপনায় গঠিত কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের ডিসি বলেন, ‘আজকে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেওয়া হবে। আনসারের বেতন দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, মাজারের ব্যবস্থাপনার জন্য একজন ম্যানেজার, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় এক মাস লাগতে পারে। কর্মী নিয়োগের পর প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে। এর আগে আরও একবার বর্তমান ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা হতে পারে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যবহারের নতুন নীতি নির্ধারণ করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।
সাবেক চেয়ারম্যান মো. জানে আলম মিয়া (বিরু)
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদসহ দলটির প্রাথমিক সদস্যপদ ও সব সাংগঠনিক পদ থেকে স্বেচ্ছায় স্থায়ীভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কাশিয়ানী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. জানে আলম মিয়া (বিরু)।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। জানে আলম মিয়া কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
লিখিত বিবৃতিতে পদত্যাগের কারণ হিসেবে বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁটুর ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এসব কারণে তাঁর পক্ষে আর রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিবৃতিতে তিনি আরও জানান, নিজের জ্ঞান ও বিবেচনায়, স্বেচ্ছায় এবং কারও চাপ ছাড়াই বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও দলটির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পদ-পদবি থেকে স্থায়ীভাবে পদত্যাগ করেছেন।
জানে আলম মিয়া (বিরু) বলেন, এখন থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলেও যোগ দেবেন না। জীবনের বাকি সময় আল্লাহর ইবাদত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শান্তিতে কাটাতে চান।
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল
পঞ্চগড়ে গ্রামীণ সড়কে পাথর বালি পরিবহন করার যানবাহন থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয় হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে নামমাত্র জমা করে বাকী অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল এর বিরুদ্ধে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থাসহ রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের আওতায় কয়েকটি সড়কে নিয়মিত পাথর বালি নিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। তিনটি সড়কে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টি ট্রাক থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও পরিষদে তিনটি সড়কের এক বছরের ইজারা দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। চেয়ারম্যান গোপনে একেকটি সড়ক ইজারা দিয়েছেন ২ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।
জানা যায়, প্রতি বছর বাংলা সালের বৈশাখ মাস থেকে চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হয়। সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম গোপনে দীর্ঘদিন ধরে মিরগড়, লাঠুয়া পাড়া ও আহমেদ নগর এলাকায় সড়ক ইজারা দিয়ে আসছে। প্রতিবছর কিছু অর্থ পরিষদের হিসাব নম্বরে জমা করলেও ৭ থেকে ৮ লাখ লাখ টাকা প্রতি বছর আত্মসাৎ করেছে চেয়ারম্যান।
পরিষদের ইউপি সদস্য মোজাহারুল হক জানান, ইজারার সময় আমি ছিলাম না। চেয়ারম্যান আলাদাভাবে করে নেয়, আর শুনানো হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ ইজারা বিষয়ে কিছু জানেননা এবং চেয়ারম্যান কিছু জানায় নাই বলেন তিনি।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাইমুল ইসলাম বলেন, কোন সড়ক কত টাকায় চেয়ারম্যান ইজারা দিয়েছেন তা জানিনা। তবে সেটার জন্য ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন রাজস্ব হিসাব নম্বরে জমা করতে, আমি জমা করেছি।
লাঠুয়া পাড়া এলাকায় সড়কের টোল আদায়ের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা এটাতে অনেকজন শেয়ার রয়েছি। ঠিক কত টাকায় ইজারা নিয়েছি তা জানিনা। তবে টোল আদায়কারী আকতারুল বলেন খরচসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার কথা।
ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, সড়কের কর আদায়ের ইজারা ঠিক কত টাকায় দিয়েছি খেয়াল নাই। তবে সবার সম্মুখে পরিষদে খোলা ডাক দেওয়া হয়েছে। ইজারা বাবদ ৪০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আমরা জমা দেই তবে কিছু বেশি নেওয়া হয়। আমাদেরতো বেতন ভাতা নাই। আরো অনেক খরচ রয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
গাজীপুরের কাশিমপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টুন ও সুতার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার শৈলান এলাকায় কারখানাটির গোডাউনে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কারখানার ওই গুদামে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে ওঠে। গোডাউনে মজুদ থাকা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ও কাঁচামালের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনের লেলিহান শিখা ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ায় কারখানাটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে কাশিমপুর মিনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়।বর্তমানে মোট ৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ খালি কার্টন থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।