নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ।
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের তিনটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় এমপিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।
একদিকে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপিপুত্র গ্রেফতার, অন্যদিকে এমপির অশ্লীল ভিডিও— সব মিলিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি আব্দুল আজিজ খাটের উপর লুঙ্গি পরে খালি গায়ে শুয়ে আছেন। আর এক নারী কণ্ঠে বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তায় তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন।
নিজের ভিডিও ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। এখন ইন্টারনেটের যুগ। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিপক্ষ আমার সুনাম-সুখ্যাতি বিনষ্ট করার জন্য এগুলো করছে।’
এদিকে বুধবার সকালে ফেসবুকে এমপির অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ এলাকার নানা শ্রেণির মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
দলের বিভিন্ন পদধারী নেতাকর্মীরা ফেসবুকে তাকে দল ও সংসদ থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি পদত্যাগের দাবি জানান।
এছাড়া একাধিক নেতাকর্মী এ ঘটনার প্রতিবাদে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাসসহ একাধিক জায়গায় দলের নেতাকর্মীদেরই আব্দুল আজিজকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লাগানো তার ছবি সংবলিত বিলবোর্ড ভাঙচুর করতে দেখা যায়।
সংসদ সদস্যের অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে নাটোর জেলা সনাকের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য দেশের আইন প্রণেতা। তিনি যদি এমন অপকর্ম করেন, তাহলে আমাদের সমাজের কী হবে। একজন সংসদ সদস্যের এমন নৈতিক স্খলন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী এগুলো যেন টলারেট না করেন, সেজন্য আমি আহ্বান জানাব।’
এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘দলের কোনো সদস্যের নৈতিক স্খলন হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলতি মাসের আহ্বায়ক কমিটির সভায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ দলের ঊর্ধ্বে নন।’
এমপিপুত্র রিমান্ডে ও বহিষ্কার, ওসি প্রত্যাহার
গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের (৩২) মৃত্যুর ঘটনায় যুবদল নেতা ও এমপিপুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পরপরই দায়িত্ব অবহেলার কারণে থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মিন্টুকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে দল।
গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা কয়েকজনের সশস্ত্র হামলার শিকার হন শাকিল। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি হত্যাচেষ্টা মামলা করলে সোমবার রাতে মিন্টুকে আটক করে পুলিশ।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, এমপি আজিজের দুই ছেলের পৃথক সমর্থক গোষ্ঠী আছে। নিহত শাকিল এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের অনুসারী। অন্যদিকে মিন্টু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ছোট ভাই সোহাগ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক। দুই ভাইয়ের সমর্থক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।
কেন্দ্রীয় যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করে অফিস আদেশ দেওয়া হয়েছে।
জানাজায় এমপিকে ‘ভুয়া’ স্লোগান ও শপিংমলে হামলা
শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রির অভিযোগ, তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করার পর মামলার এজাহারে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের নির্দেশে পরে সেই নাম বাদ দেওয়া হয়। মিন্টুর পাশাপাশি রাসেলও তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তার ধারণা।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর সরকারি কলেজ মাঠে শাকিলের দ্বিতীয় জানাজায় নাটোর-২ আসনের এমপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং নাটোর-৪ আসনের এমপি আব্দুল আজিজ অংশ নেন। জানাজায় এমপি আজিজ বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে হৈচৈ শুরু করেন।
জানাজা শেষে রাত ১১টার দিকে মুসল্লিদের একাংশ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে আমেরিকা প্রবাসী রাসেলের ‘রাস আরবান স্টাইল’ নামের শপিংমলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, ‘কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মব সৃষ্টি করে একজন প্রবাসীর ক্ষতিসাধন করেছেন। পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
খুনিদের বিচারের দাবিতে বুধবার বিকালে নাটোর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিনকে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে এসব ঘটনার প্রতিবাদে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের নেতারা।
মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তাঁরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পূর্বের নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাড. মো. আকবর আলী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১লা অক্টোবর জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে সি.সি. মামলা নং ১৭৫/২৬-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস। একপর্যায়ে তাঁর গলার টাই ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ঘটনার শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব আলহাজ্ব অ্যাড. মো. নুরুল আমিন গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এডিসির আমন্ত্রণে তাঁর কক্ষে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে প্রায় ৪৫ মিনিট কক্ষে আটকে রেখে চরমভাবে আইনজীবী পেশাকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং এডিসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনে একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা মানে দেশের ৮০ হাজার আইনজীবী সমাজকে অসম্মান করা। এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনবার আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অ্যাড. আকবর আলীসহ প্রায় ১০ জন আইনজীবী তাঁর অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা এ সময় এডিসির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বলেন, এডিসি রিপন বিশ্বাস ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদ্দিন হল শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের সঙ্গে বৈরী আচরণের অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসবের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অ্যাড. মো. নুরুল আমিন তাঁর বক্তব্যে একটি অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্পিত মামলা নং ৮০৯/২০১২-এর রায় হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল এবং ডিক্রি হয় ২৪ এপ্রিল। তাঁর নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ৪ মে। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী আইনজীবী অ্যাড. প্রবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ে আপিল করেননি। এ কারণে তামাদি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরোও বলেন, দীর্ঘ ২ বছর তামাদির মধ্যে পূর্বের আইনজীবী অ্যাড. প্রবীর মন্ডল আপিল করেনি। অর্পিত আইনে আপিলের ক্ষেত্রে ১৮ ধারায় বলা হয়েছে ৪ এর ২ ধারা মতে রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল মামলা করতে হয়।তামাদি আইনে ৫ ধারা মতে কোনো গ্রহনযোগ্য নহে।সেক্ষেত্রে তামাদি পিটিশন দিয়ে কোনো লাভ নাই।সেকারনে তামাদি দোষ করলে অ্যাড. প্রবীর কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। অ্যাড. নুরুল আমিনকে নোটিশ করে অবগত করেন নাই। এ্যাড. নুরুল আমিন আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, গত ২৬ অক্টোবর মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে তাঁকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড.ইব্রাহিম,অ্যাড.শফিকুল ইসলাম, অ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাড.হেলালুজ্জামান , অ্যাড. জাকির, অ্যাড. শাহাজান, অ্যাড. জগলু, অ্যাড. একরাম, অ্যাড. জাহিদুর রহমানসহ একাধিক আইনজীবী।
মানববন্ধনে এডিসি রিপন বিশ্বাসকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। তাঁরা বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, সাতক্ষীরার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথাও জানান।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
নারায়ণগঞ্জে ভ্যাট ফাঁকির চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে নারায়ণগঞ্জ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। শহরের তানবাজার এলাকায় আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নিবারক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকার সুতা বিক্রি করে এই ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।
এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মিশনারেটের নিবারক দল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মজুত পণ্য ও হিসাব ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট-সংক্রান্ত দলিলাদি দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন রেজিস্টার, খাতা, চালান বই, গার্ড ফাইল, কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের এক্সেল কপি এবং প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধির স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিবৃতি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাওয়া এসব দলিল পর্যালোচনা করে বিক্রির তথ্য ও ভ্যাট রিটার্নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কমিশনারেট। কমিশনারেটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সুতা বিক্রির বিবরণীতে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিক্রির ওপর ৫ ও ৭.৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ ৪০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪২ টাকা।
প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাখিল করা ভ্যাট রিটার্নে মোট বিক্রি দেখিয়েছে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকা। একই সময়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা দিয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এই ৫ বছরে প্রতিষ্ঠানের কাছে রাজস্ব (মূসক) ফাঁকি বাবদ সরকারের বকেয়া ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা যা আদায়যোগ্য।
কমিশনারেটের হিসাবের বরাত দিয়ে এনবিআর বলছে, এমতাবস্থায় প্রযোজ্য ভ্যাট থেকে জমা দেওয়া অর্থ বাদ দেওয়ার পর সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা। এ অর্থ আদায়যোগ্য।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বিরুদ্ধে বিক্রির সময় ভ্যাট চালান ইস্যু না করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিক্রির প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে ভ্যাট রিটার্নে উল্লেখ করা তথ্যের বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি সুদ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির এই রাজস্ব ফাঁকি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সুতরাং এমন কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচিত হওয়ায় পরিহারকৃত মূসক, জরিমানা এবং আইনের ধারা-১২৭ অনুযায়ী সুদ আদায় করার লক্ষ্যে মূসক ফাঁকির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিসাধনের দায়ে প্রবাসী হাসপাতাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ) বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং এ ক্ষতিপূরণ ধার্য করে। পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য-উপাত্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর বিভিন্ন ধারার আলোকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ ধার্য করা প্রতিষ্ঠানটি হলো প্রবাসী হাসপাতাল। এটি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ফলপট্টি এলাকার কানন প্লাজায় অবস্থিত।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিসাধনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাসুদ রানা ও তার শ্যালিকা (দ্বিতীয় স্ত্রী) পূর্ণিমা।
নওগাঁর মহাদেবপুরে শ্যালিকাকে বিয়ে করা কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার পর গ্রামবাসীর সামনে ক্ষমা চেয়েছেন মাসুদ রানার শ্যালিকা (দ্বিতীয় স্ত্রী) পূর্ণিমা এবং কান ধরে ও নাকে মাটি দিয়ে তওবা করেছেন শ্বশুর মান্নান সাপুড়ে।
মঙ্গলবার উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের নারায়ণপুরে (বিরামগ্রাম) মাসুদের শ্বশুরবাড়ির উঠানে এক সালিশ বৈঠকে তারা গ্রামবাসীর সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চান।
মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাছারীগ্রামের মৃত আনিছুর রহমানের ছেলে।
বৈঠকে মাসুদের শ্যালিকা (দ্বিতীয় স্ত্রী) সবার সামনে জানান, তার চিন্তা এটাই যে তার বোন এতদিন সংসার করেছে। তার (বোনের) যদি হাদিস অনুযায়ী তালাক হয়ে যায়, তাহলে হাদিস অনুযায়ী আবার বিয়ে করে নিক। তিনি মাসুদকে ছেড়ে দেবেন।
এ সময় তিনি সবার কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে জানান, তিনি ভুল করেছেন। তিনি মাসুদের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই রাখবেন না এবং মাসুদের সঙ্গে টিকটক বা কোনো অনুষ্ঠানও করবেন না। তবুও তাদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি তার মতো হয়ে থাকবেন বলে স্থানীয়দের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন।
সালিশ বৈঠকে রাইগাঁ ইউনিয়নের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আশরাফুল ইসলাম, স্থানীয় মেম্বার আখতার হোসেন, লোকমান রেজোয়ান আরিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে মাসুদের শ্বশুর মান্নান সাপুড়ে সবার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা এবং কান ধরে নাকে মাটি দিয়ে তওবা করে অনুরোধ করেন, তাদের বসতবাড়ি থেকে যেন তুলে না দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, তার মেয়েরা আর টিকটক করবেন না এবং তিনিও আর গান-বাজনার সঙ্গে জড়িত না থেকে আগের সেই সাপুড়ে পেশায় ফিরে যাবেন।
নওগাঁর বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর ওই বাসায় তাদের গায়েহলুদ এবং এর পরদিন ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
ভাইরাল হওয়া এ ঘটনার জেরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজিহাট বিরামগ্রাম এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করার প্রতিবাদে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা ওই টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারীকে (মাসুদ রানা) মুখভর্তি চুনকালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেয়। পরে ২৭ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চান এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমাকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বিলুপ্ত করে সংস্থাটির সব দায়িত্ব এককভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ শাখা-২ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ধারা ৪২ (খ) অনুযায়ী ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের অপসারণকালীন সময়ের জন্য বোর্ডের সকল দায়িত্ব বর্তমান ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মুহা. মনিরুজ্জামানকে প্রদান করা হলো।’স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহলিমা শিরিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।তবে বোর্ড বাতিলের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট মনিরুজ্জামানকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক সাব্বির মোস্তফা খানকে গত ২ আগস্ট তিন বছর মেয়াদে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ঢাকা ওয়াসা রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।
নুরুজ্জামান মিন্টু ও ওসি আব্দুল হান্না
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল। একই ঘটনায় গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদল মিন্টুকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে শাকিল হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ওসি আব্দুল হান্নানকে জনস্বার্থে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম।
অফিস আদেশ নম্বর ৯৭৭-এ বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নাটোর জেলায় কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হান্নান রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবেন। গত মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ আদেশে স্বাক্ষর করেন।