বক্তব্য দেন নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২২ পিএম

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, মেম্বারশীপ নিয়ে, চেয়ারম্যাশীপ নিয়ে, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়ন নিয়ে নিজেদের মধ্যে দলাদলি করবেন না। প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে আমরা মেম্বার সিলেকশন দিব গণতান্ত্রিকভাবে।


এমপি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্দলীয় ভোটে কেউ কেউ লেটার হেড প্যাডে আমন্ত্রণ জানায় যে, দরখাস্ত দেন আপনাকে চেয়ারম্যান করা হবে। মানে মাল দেন। আর দলটা বিক্রি করেন না দয়া করে। ব্যবসা বাণিজ্য অনেক হয়েছে। এখন দেশটা বাঁচানোর সংগ্রামে আসেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন, কে কে চেয়ারম্যান নোমিনেশন পাবেন, কে উপজেলা পাবেন, কে ভাইস চেয়ারম্যান নোমিনেশন পাবেন। এটা ওনার কম্পিউটারে আছে। এইটার কোন দিক নির্দেশনা এখনও উনি দেননি। উনি একটি কথাই বলেছেন, ‘যিনি জনপ্রিয় ব্যক্তি তিনিই পাবেন মনোনয়ন’। এর বাইরে কোন কথা এখনও আসেনি। গণতন্ত্র, নিয়মতন্ত্র, গঠনতন্ত্র এই তন্ত্রের বাইরে কোন তন্ত্র মন্ত্র নাই। আমার কাছে কোন প্রিয় লোকও নাই। তৃণমূলের প্রত্যেকটা কর্মীকে মূল্যায়ন করা হবে।


মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এমপি তার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে উপজেলা যুবদলের আয়োজনে বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে কথাগুলো বলেন। 


উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাফ্ফর রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। যুগ্ম আহ্বায়ক এ, কে, এম, মাসুদুর রহমান টিক্কার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিপন মাহমুদ প্রমুখ। 


এসময় অন্যদের মঞ্চে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হান্নান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ প্রমুখ।


ফজলে হুদা বাবুল বলেন, চারিদিকে শকুনেরা তাকিয়ে আছে। গুপ্ত আর সুপ্তরা আমাদের দলেও সক্রিয় রয়েছে। বিএনপির নামে যারা স্বাধীনতা বিরোধীদের মার্কা নিয়ে মাঠে ছিল তাদের সাথে কমপ্রোমাইজ হবেনা। 


এমপি বিগত সময়ে পরলোকগমণ করা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার আকতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু, সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান, মজিবর রহমান, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রমজান আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কিসমত মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাতেম আলী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল আলম, আতাউর রহমান প্রমুখের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।





গোলাগুলিতে নিহত ২

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ পিএম

পাবনার আতাইকুলায় হাটের ইজারা নিয়ে প্রতিপক্ষের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইজারাদারসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। 


আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাটে এ ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


নিহতরা হলেন- পুষ্পপাড়া হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী (৫৫) ও তার সহযোগী রিপন হোসেন (৫০)। তারা আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের বাসিন্দা।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাটের বর্তমান ইজারাদার আব্দুস সালাম হাজী সহযোগীদের নিয়ে হাটে থাকা নিজের অফিস কক্ষে বসে ছিলেন। ওই সময় কয়েকজন লোক মুখোশ পরা অবস্থায় এসে তাদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাম হাজী ও তার সহযোগী রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন।


পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- হাটের ইজারা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ছিল। এর জের ধরেই প্রতিপক্ষের লোকজনদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।


পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। কারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা হবে। এ বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।


মো. আসাদ আলী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০১ পিএম

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. আসাদ আলী (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর মোটরসাইকেলের এক আরোহীও আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আসাদ আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।


আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা আঞ্চলিক সড়কের ভাগদী সিএন্ডবি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


গুরুতর আহত আসাদ আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার  ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগদী গ্রামের হারেজ মিয়ার ছেলে। আহত অপর মোটরসাইকেল আরোহীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে আটটার দিকে আসাদ আলী মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়ক দিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পরে ভাগদী সিএন্ডবি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় অপর মোটরসাইকেলের আরোহীও আহত হন। 


পরে স্থানীয়রা আসাদ আলীকে আশঙ্কাজনক জনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।


ঘোড়াশাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম

আধুনিক ও সমসাময়িক গানের শব্দ বিন্যাসে যিনি শ্রোতাদের মন জয় করেছেন, তিনি এবার ফিরেছেন বাংলার মাটির টানে, শিকড়ের সন্ধানে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী জনপ্রিয় গীতিকার, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক রেজাউল করিম জীবন এবার নাম লিখিয়েছেন পল্লীগীতি গানের গীতিকার হিসেবে। আধুনিক গানের সফল সীমানা পেরিয়ে লোকসংগীতের এই আঙিনায় তার পদার্পণ সংগীত মহলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 


তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতার রংপুরে পল্লীগীতি গানের গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এর আগে রেজাউল করিম জীবনের লেখা আধুনিক গান শ্রোতামহলে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। সমকালীন জীবনের প্রেম, বিরহ ও নাগরিক জীবনের অনুভূতিগুলো যেভাবে তিনি তার লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল। তবে এবার নাগরিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে গ্রামীণ বাংলার লোকজ সুর, লোকসংস্কৃতি ও মাটির ঘ্রাণকে ভালোবেসে পল্লীগীতির দিকে মনোনিবেশ করেছেন তিনি।


গীতিকার রেজাউল করিম জীবন


রেজাউল করিম জীবন ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি মুলত ছড়া লিখতেন। হঠাৎ করে বাঁক পরিবর্তন করে তিনি ২০১৬ সাল থেকে গান লেখা শুরু করেন। তিনি ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বেতার রংপুরে আধুনিক গানের গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। জীবন একাধারে গীতিকার, সাংবাদিক ও সাহিত্য সংগঠক। লেখালেখি ও সাহিত্য সংগঠক হিসেবে ইতিমধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে পদক ও সম্মাননা প্রাপ্ত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ ‘ছড়াগুলো টুনটুনি’র ছাড়াও যৌথকাব্যগ্রন্থ রয়েছে। তাঁর লেখা গান রংপুর মিউজিক ও মিউজিক রংপুরে আধুনিক এবং পল্লীগীতির গান রয়েছে। রেজাউল করিম জীবন ১০ জেলার বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকারদের নিয়ে সংগঠন গীতিকবি সংসদ রংপুর অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক, ছড়া সংসদ রংপুরের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি পেশায় সাংবাদিক। বর্তমানে স্থানীয় দৈনিক ও ঢাকার একটি পত্রিকায় কর্মরত। একই সাথে তিনি বাংলাদেশ বেতার রংপুরের বার্তা বিভাগে অনুবাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। 



নিজের এই নতুন পরিচয় ও ধারা পরিবর্তন নিয়ে গীতিকার রেজাউল করিম জীবন বলেন, “আধুনিক গান আমাদের বর্তমানকে প্রকাশ করে, কিন্তু পল্লীগীতি বা লোকসংগীতের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের আসল শিকড়। মাটির গান, মানুষের গান এবং গ্রামীণ বাংলার চিরন্তন অনুভূতিগুলোকে শব্দের ফ্রেমে বন্দি করার এক অদ্ভুত আত্মতৃপ্তি রয়েছে। সেই তাগিদ থেকেই এবার পল্লীগীতির গীতিকার হিসেবে কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, আধুনিক গানের মতো আমার এই নতুন ধারার গানগুলোও শ্রোতাদের হৃদয়ে দোলা দেবে। 


সংগীত বোদ্ধাদের মতে, একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক হওয়ায় সমাজের গভীরের রূপগুলো রেজাউল করিম জীবনের খুব চেনা। আর সেই অভিজ্ঞতাকে যখন তিনি লোকজ ধারার গানে রূপ দিচ্ছেন, তখন তা গ্রামীণ বাংলার মানুষের কথাকে আরও নিখুঁতভাবে তুলে ধরছে। 


রেজাউল করিম জীবন সাংবাদিকতা ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংগীতের এই নতুন ধারা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁর লেখা গানের কয়েকটি মিউজিক ভিডিওর কাজ চলছে। আধুনিক গানের পর পল্লীগীতির ভুবনেও তাঁর সুরের যাত্রা সফল ও সুদূরপ্রসারী হোক এমনটাই প্রত্যাশা সংগীতপ্রেমীদের।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ পিএম

৫০০ ট্যাবলেটের সিজার মূল্য এক লাখ টাকা । ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব ট্যাবলেটের সিজার মূল্য এক লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন ফকিরগঞ্জ বিওপির একটি টহল দল। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেটগুলো উদ্ধার করা হয়।


উদ্ধার করা ট্যাবলেটের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারী আরও জোরদার করা হবে।


সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৮ পিএম

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলায় প্রধান আসামি পুলিশের বহিষ্কৃত পুলিশের উপপরিদর্শক আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় আরও দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামির মধ্যে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামি পলাতক রয়েছেন।


রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন।


তিনি জানান, আদালত মামলার প্রধান আসামি আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। অন্য পাঁচ আসামির মধ্যে কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের এসআই মো. হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী ও সাংবাদিক আব্দুল আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।


মামলার রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে এই কৌঁসুলি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে আরও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।


২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতের দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করলে তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়। 


ঘটনার পরপরই এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।


পরে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই এবং ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন। গত বছরের ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান।


২০২১ সালের ৫ মে আদালতে পিবিআই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়, যেখানে ছয়জনকে আসামি করা হয়-এসআই আকবর হোসেন ভুঁঞা, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন ও আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।


২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান করে ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার।


নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না। একইসঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়কে এ ধরনের যান চলাচল একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, নিবন্ধন ফি এবং চলাচলের রুটও।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নামে জারি করা নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজ নিজ এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা অথবা নির্দিষ্ট জোনভিত্তিক এসব যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।


এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোর এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চালানো যাবে না। চালকদের সব সময় সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


ই-রিকশায় চালক ছাড়া আকারভেদে সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। পাশাপাশি ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।


নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।


আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সব শর্ত পূরণ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।


নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।


নতুন বিধিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সনদের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।


সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করবে। নিবন্ধন ও নবায়ন ফি থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।


বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে প্রতিটি ই-রিকশাকে। ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না।


বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে হবে। প্রতিটি ই-রিকশার ব্যবহারযোগ্য অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর। এই সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনা হবে।


ই-রিকশা চলাচলের রুট নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ। সিটি করপোরেশন এলাকায় জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণ করা হবে এবং এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। জোন অনুযায়ী ই-রিকশার সংখ্যা ও নির্দিষ্ট রংও নির্ধারণ করা হবে।


পার্কিং ও চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করবে। অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।


অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা বা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজও করা যাবে না।


এ ছাড়া ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটি বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে।

নতুন বিধিমালায় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের দায়বদ্ধতাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে এবং পুলিশকে জানাতে হবে।


নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।


অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ ই-রিকশা চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।