ময়মনসিংহের ভালুকায় রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) নামের এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট চত্বরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রবেন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রার অভিযোগ, সাদ্দাম নেশার আসক্তিতে প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতেন। তাছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে নিয়মিত টাকা দিতেন না। সম্প্রতি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং সেলুনে চুল কাটা নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। ওই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হঠাৎ সেলুনে প্রবেশ করে রবেন্দ্র ঋষিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে সাদ্দামের নিজের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন রবেন্দ্র। কিন্তু সেখানেও তাঁকে পুনরায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে পাশের একটি বাড়ির উঠানে পালানোর চেষ্টা করলে সেখানেও তাঁকে আবারও আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে হবিরবাড়ী ন্যাশনাল পলিমার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
বক্তব্য দেন নওগাঁ-৩ আসনের এমপি ফজলে হুদা বাবুল
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, মেম্বারশীপ নিয়ে, চেয়ারম্যাশীপ নিয়ে, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়ন নিয়ে নিজেদের মধ্যে দলাদলি করবেন না। প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে আমরা মেম্বার সিলেকশন দিব গণতান্ত্রিকভাবে।
এমপি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্দলীয় ভোটে কেউ কেউ লেটার হেড প্যাডে আমন্ত্রণ জানায় যে, দরখাস্ত দেন আপনাকে চেয়ারম্যান করা হবে। মানে মাল দেন। আর দলটা বিক্রি করেন না দয়া করে। ব্যবসা বাণিজ্য অনেক হয়েছে। এখন দেশটা বাঁচানোর সংগ্রামে আসেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন, কে কে চেয়ারম্যান নোমিনেশন পাবেন, কে উপজেলা পাবেন, কে ভাইস চেয়ারম্যান নোমিনেশন পাবেন। এটা ওনার কম্পিউটারে আছে। এইটার কোন দিক নির্দেশনা এখনও উনি দেননি। উনি একটি কথাই বলেছেন, ‘যিনি জনপ্রিয় ব্যক্তি তিনিই পাবেন মনোনয়ন’। এর বাইরে কোন কথা এখনও আসেনি। গণতন্ত্র, নিয়মতন্ত্র, গঠনতন্ত্র এই তন্ত্রের বাইরে কোন তন্ত্র মন্ত্র নাই। আমার কাছে কোন প্রিয় লোকও নাই। তৃণমূলের প্রত্যেকটা কর্মীকে মূল্যায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এমপি তার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে উপজেলা যুবদলের আয়োজনে বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে কথাগুলো বলেন।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাফ্ফর রহমান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। যুগ্ম আহ্বায়ক এ, কে, এম, মাসুদুর রহমান টিক্কার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রিপন মাহমুদ প্রমুখ।
এসময় অন্যদের মঞ্চে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম হান্নান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি কাজী রওশন জাহান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ প্রমুখ।
ফজলে হুদা বাবুল বলেন, চারিদিকে শকুনেরা তাকিয়ে আছে। গুপ্ত আর সুপ্তরা আমাদের দলেও সক্রিয় রয়েছে। বিএনপির নামে যারা স্বাধীনতা বিরোধীদের মার্কা নিয়ে মাঠে ছিল তাদের সাথে কমপ্রোমাইজ হবেনা।
এমপি বিগত সময়ে পরলোকগমণ করা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার আকতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু, সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান, মজিবর রহমান, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি রমজান আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কিসমত মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাতেম আলী, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামসুল আলম, আতাউর রহমান প্রমুখের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমির বর্তমান অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। টঙ্গীর আউচপাড়ায় তাঁর পরিবারের ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও শ্বশুরও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে গত সোমবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক খুদেবার্তায় রুমি দাবি করেছেন, তিনি আর বাংলাদেশে নেই।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর বাড়ির ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ দেখা যায়।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার গত শুক্রবার থেকে ওই বাসায় নেই। তাঁরা ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। শাহজালাল রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক। তবে রুমি এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
রুমির শ্বশুর মোকারম আলী মুঠোফোনে বলেন, রুমি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে, তা তিনি জানেন না। তাঁরাও আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
এদিকে গত সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে সাংবাদিকদের পাঠানো এক বার্তায় শাহজালাল রুমি লেখেন, ‘ভাই আমি এই দেশেই আর নাই, সুতরাং আমি এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না যা হয় হোক। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।’
তবে রুমি বর্তমানে কোথায় আছেন বা সত্যিই দেশ ছেড়েছেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, শাহজালাল রুমি দেশে নাকি বিদেশে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে রুমির বাসায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে ওই শিক্ষক চুমু দিয়েছিলেন কি না এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে তিনি এখনই কিছু বলতে চান না।
গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার কোরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধরের পর পুলিশের কাছে তুলে দেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে করা পাল্টা মামলায় রুমির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
এরপর থেকেই রুমির অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে তাঁর দেশত্যাগের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পুলিশের তথ্যেও তাঁর বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট হয়নি।
ঠাকুরগাঁওয়ে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি ট্রাক ও একটি মোবাইল ফোনসহ মোঃ সবুজ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার রায়পুর ইউনিয়নের ঝাড়পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীন দিহানগর বিওপির একটি টহলদল এ অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে একটি ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাণীশংকৈল থানা হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন এক মাদক পাচারকারী।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির টহলদল সম্ভাব্য এলাকায় অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন ট্রাকটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ট্রাকটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক তা অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবির টহলদল ধাওয়া করে ঝাড়পাড়া এলাকা থেকে ট্রাকটি আটক করে। এ সময় ট্রাকে থাকা ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোবাইল ফোন এবং মোঃ সবুজকে আটক করা হয়।
আটক মোঃ সবুজ ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মোঃ সহিবর রহমান। উদ্ধার করা ইয়াবা, ট্রাক ও অন্যান্য মালামালের আনুমানিক জব্দমূল্য ৭২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আটক ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মালামাল পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁও প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদান করে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, মাদক চোরাচালান দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকের বিস্তার রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারী আরও জোরদার করা হবে। মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
খুলনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছর খুলনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলাম।
সভায় বক্তব্য দেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), খুলনা জেলার সভাপতি তরিকুল ইসলাম, মহানগর শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মুন্না, খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি খান জাহিদ হোসেন, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সারোয়ার রহমান এবং বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম মল্লিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিআরটিএ, খুলনার উপ-পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সড়ক এখনো পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে ওঠেনি। সড়ক অনিরাপদ থাকার পেছনে বহুমাত্রিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়নের অভাব অন্যতম। তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে গিয়ে আমরা অনেক মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদ তৈরি করছি।কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় যেন সড়ক অনিরাপদ হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মোটরসাইকেল চালকদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
খুলনা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে খুলনা কালেক্টরেট ভবনের সামনে সড়কে একটি রোড শো অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।উল্লেখ্য, ২২ অক্টোবর দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি থাকায় আজ বুধবার খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসটি পালিত হয়।
ভালুকার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন
ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ময়মনসিংহের ভালুকার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাকে ৫০০ টাকার বন্ডে নিজ জিম্মায় জামিন দেন।
ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করার দিন ধার্য ছিল। তার পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন। ওই দিন দুপুরেই আদালতের হাজতখানা থেকে তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।
সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ অক্টোবর। ওই দিন বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও আট মিনিট আট সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
পরবর্তী সময়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আজ বুধবার শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন
নওগাঁয় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করায় এক যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী যুবক (৩৫) নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং এক আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করেন। গত রোববার সন্ধ্যায় তিনি শ্যালিকাকে (২১) বিয়ে করেন। তাঁরা জেলার বদলগাছী উপজেলা সদরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আপন দুই বোনকে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ধর্মে ‘একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করার বিধান নেই’—উল্লেখ করে বদলগাছীতে তাঁরা যে বাসায় ভাড়ায় থাকতেন, সেই বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের ক্ষোভের মুখে সব জিনিসপত্র গুছিয়ে দুই স্ত্রীকে নিয়ে গতকাল রাতে মহাদেবপুর উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন ওই যুবক।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুই স্ত্রীকে নিয়ে ওই যুবকের শ্বশুরবাড়িতে আসার খবর জানাজানি হলে রাত ১০টার দিকে সেখানে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই বিয়ের কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—অভিযোগ করে তাঁদের গ্রাম ছেড়ে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের বেলা এক যুবক ও দুই নারীকে ঘিরে আছেন অনেক মানুষ। যুবককে একজন ধরে রেখেছেন। অন্য এক নারী তাঁদের মুখে চুনকালি মাখিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনকে ‘চুনকালি, চুনকালি’ বলে উল্লাস করতে দেখা যায়। গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই যুবককে কেউ কেউ মারধর করেন।
ভুক্তভোগী যুবকের শ্বশুর বলেন, তাঁর দুই মেয়ে ও জামাতা গতকাল রাত আটটার দিকে তাঁর বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে গ্রামের কিছু লোক বাড়িতে এসে তাঁদের নানাভাবে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে গ্রাম থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তাঁরা তাঁর জামাতা ও মেয়েদের মারধর করে মুখে চুনকালি মাখিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেন। তাঁরা এখন এক আত্মীয়র বাড়িতে উঠেছেন।
ভুক্তভোগী যুবকের সঙ্গে তাঁর দুই স্ত্রীর একাধিক টিকটক ভিডিও আছে। এ বিষয়ে কথা বলতে ওই যুবকের মুঠোফোন নম্বরে কল করলেও বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুই স্ত্রীর কারও সঙ্গেও কথা বলা যায়নি।
ইসলামের বিধান অনুসারে একসঙ্গে আপন দুই বোনকে বিয়ে করা যায় না বলে জানান নওগাঁ জেলা ইমাম-মুয়াজ্জিন পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রী জীবিত থাকলে এবং তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা নাজায়েজ। কিন্তু প্রথম স্ত্রী মারা গেলে কিংবা তাঁর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে।
ফেসবুকে ভিডিও দেখে ওই যুবক ও তাঁর দুই স্ত্রীকে হেনস্তার বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।