দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, ফরিদপুর বিভাগীয় ও শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ মো. নুরুল হক মিয়া।
সভায় সঞ্চালনা করেন, বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ও শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বি এম মকবুল হোসেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি সরোবর হোসেন সবুজ, সহ-সভাপতি আজিজুল হক, সহ-সভাপতি আবু সিদ্দিক মিয়া, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান ফকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বেপারী, অর্থ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, ধর্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ক্রীড়া ও সাহিত্য সম্পাদক আক্তার সরকার, কার্যকরী সদস্য মোঃ সাগির হোসেন, সদস্য মফিদুল ইসলাম পাহাড়, সদস্য আব্দুস ছালাম হাওলাদার, সদস্য নাসির উদ্দীন, সদস্য কামাল হোসেন মামুন তালুকদার, ভেদরগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আহবায়ক বি এম মোস্তাফিজ (মোস্তফা), নড়িয়া উপজেলা দলিল লেখক তুহিন মাদবর।
সভায় দলিল লেখকদের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকার ও দীর্ঘদিনের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দলিল লেখকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ সময় তারা ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির কার্যকরী কমিটি নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও আলহাজ মো. নুরুল হক মিয়া ফরিদপুর বিভাগীয় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
নাটোরের গুরুদাসপুরে যাত্রীবাহী বাস ও গরবোঝাই নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছে। শনিবার ( ৮ আগষ্ট) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার বনপাড়া হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর নয়াবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার পৌরসদরের লক্ষিকোল মহল্লার আব্দুর রহমান( ৭০), একই উপজেলার ধামানিয়া মহল্লার আক্কাছ আলী ( ৫৯) ও তাঁর আপন ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন ( ৪৭)। এঘটনায় আহত ৭ জন গুরুদাসপুর ওবড়াইগ্রাম হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সকালে একটি গরুবাহী নসিমন বনপাড়া এলাকা থেকে চান্দাইকুনা হাটে যাচ্ছিল। পথে নয়াবাজার এলাকায় বিপরীত দিক ঢাকা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নসিমনে থাকা গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান নিহত হোন। অপর দুইজন বড়াইগ্রাম ও রাজশাহী কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ ঘটনায় আহত বেশ কয়েকজন গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। আর গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আজ শনিবার (৮ আগষ্ট) দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের নেংড়ীরহাট নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের নেংড়ীরহাট এলাকার মৃত-দেবারু মোহাম্মদরে ছেলে আবুল হোসেন (৬৫) ও ব্যাংরোল জিয়াবাড়ী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মো: দেলোয়ার হোসেনের ছেলে অর্ণব ইসলাম (১৩)।
গুরুতর আহত পৌর শহরের কালিবাড়ী আমতলী এলাকার নূরে আলমের ছেলে নিরব ইসলাম (১৬) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে পালসার মোটরসাইকেলে করে ঠাকুরগাঁও শহর হতে ব্যাংরোল বালিয়াডাঙ্গী যাচ্ছিলেন নিরব ও অর্নব। পথে নেংড়ীরহাট নামক এলাকায় বৃদ্ধ আবুল হোসেন রাস্তা পার হতে গেলে মোটরসাইকেলটি তাকে সজোরে ধাক্কা মারে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি রাস্তার ধারের একটি বৈদ্যুতিক পিলারে গিয়ে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান পথচারী আবুল হোসেন ও মোটরসাইকেলের পিছনে বসা অর্নব ইসলাম এবং গুরুতর আহত অবস্থায় নিরব ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাজাহান আলী।
আজাদ হোসেন।
নোয়াখালীর কবিরহাটে আজাদ হোসেন (৩৪) নামে এক যুবদল নেতাকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) নিহতের বোন লাভলী বেগম বাদী হয়ে কবিরহাট থানায় মামলাটি করেন। মামলার নম্বর-৪। এতে এজাহারনামীয় দুই আসামি এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোষবাগ গ্রামের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে আজাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, মরদেহের গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
নিহত আজাদ ওই গ্রামের মৃত ফজল হকের ছেলে। তিনি কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে আজাদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশের ডোবায় মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। প্রাথমিক ভাবে মাদক সেবনে বাধা দেওয়া বা আড্ডাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তার চাচাতো ভাই ফারুক (৪০) ও নিজাম (৩৬) তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির পাশে ডোবায় পেলে লাশ গুমের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক রয়েছেন বলে দাবি স্বজনদের।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, আজাদ স্থানীয় ক্লাবঘর এলাকায় ব্যবসা করত পাশাপশি যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে অতীতেও আজাদ একাধিকবার হামলার শিকার হয়ে ছিলেন। তিনি এ হত্যাকান্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত একই বাড়ির বাসিন্দারা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তার গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল এবং চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে।
পরশুরামে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী গৃহকর্মী ফারজানা আক্তার প্রিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে ফেনীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফেনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ মানবাধিকার সম্মিলন (বামাস) ফেনী জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কিশোরী ফারজানা আক্তার প্রিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জাহেদা আক্তার তিমুকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সংগঠনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন দৈনিক স্টার লাইন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জুবায়ের আল মুজাহিদ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ও হিন্দু বৌদ্ধ খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদ ফেনীর সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, বাংলাদেশ মানবাধিকার সম্মিলন বামাস'র কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক জসিম মাহমুদ, ইয়ুথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফেনী জেলার সভাপতি ও দৈনিক অজেয় বাংলা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঁইয়া, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রবিউল হক রবি, দৈনিক বনিক বার্তার ফেনী জেলা প্রতিনিধি ও ফেনী রিপোটার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নূর উল্যাহ কায়সার, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জহিরুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির আহমেদ, সাংবাদিক এমডি মোশাররফ হোছাইন, সাংবাদিক এম দেওয়ানী, ছাত্রদল নেতা খোকন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমরান পাটোয়ারী, কালবেলা'র পরশুরাম সংবাদদাতা আবু ইউছুপ মিন্টু, বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি রহিম আলী জাবেদ, মো. শাহাদাত সাজু, দৈনিক ফেনীর সময়-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শহীদুল ইসলাম ও মো. ইসমাইলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, এখন টেলিভিশন'র ফেনী জেলা প্রতিনিধি সোলায়মান হাজারী ডালিম, দৈনিক প্রথম আলো ফেনী জেলা প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম, এন,এন,জীবন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা কিশোরী ফারজানা আক্তার প্রিয়ার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের দাবি জানান।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চম্পা মল্লিক (৩৫) নামে এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে চম্পা মল্লিক অভিযোগ করেন, গত ৬ আগস্ট থেকে তাকে জড়িয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সত্যতা যাচাই না করে এসব প্রচার করা হচ্ছে, যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।”
তিনি আরও জানান, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলায় বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে দুটি মামলা চলমান রয়েছে, যার একটি ইতোমধ্যে তার পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অন্যটি বিচারাধীন। তার অভিযোগ, চলমান মামলার প্রেক্ষাপটে তাকে ফাঁসাতে তার স্বামী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চম্পা মল্লিক বলেন, গত সোমবার একটি প্রশিক্ষণ সভা শেষে বাড়ি ফেরার সময় এক পরিচিত যুবকের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। পরে ওই যুবক তার বাড়িতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করায়। এরপর আরও ১২-১৪ জন এসে ওই যুবককে মারধর করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।
তিনি অভিযোগ করেন, একই সময়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, সিগারেটের আগুন দিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা করা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং তার মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা, এনজিও কার্যক্রমের অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। হামলাকারীরা তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে বলেও তিনি জানান।
চম্পা মল্লিক আরও বলেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে বিকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা হলেন—সাইফুল ইসলাম, নজু, ওবায়দুল্লাহ গাইন ও রবিউল ইসলাম (বাবু)।
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সাক্ষীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি শ্যামনগর থানা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বানও জানান তিনি।
চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল। ফাইল ছবি
চলছে বর্ষা মৌসুম। নদী, খাল ও বিল পানিতে টইটম্বুর। বৈশাখ মাস থেকেই টানা বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় তখন থেকেই চারদিকে পানিতে থইথই অবস্থা। কিন্তু এত পানি থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দেশীয় প্রজাতির মাছ। নিষিদ্ধ রিং, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছের ভান্ডার। শুধু মাছই নয়, খালের উপকারী ব্যাঙ, পোকামাকড় ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং হুমকির মুখে পড়েছে জলজ বাস্তুতন্ত্র। মাদারীপুরে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলে এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার চোখে পড়লেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী চায়না দুয়ারি জাল দেশে নিষিদ্ধ। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে এই জাল। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করলেও জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে অবৈধ ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলের অগভীর অংশে অর্ধেক পানিতে ডুবিয়ে এবং অর্ধেক পাড়ে রেখে চায়না দুয়ারি জাল পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব জাল দিনের পর দিন পানিতে ফেলে রাখা হচ্ছে। সব উপজেলার প্রায় সব নদী-খাল-বিলে হাওরেই দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারেও উঠছে না আগের মতো দেশীয় সুস্বাদু মাছ। মাছের পাশাপাশি পুরো জলজ পরিবেশই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
জানা যায়, আগে নতুন পানি এলেই নদী-খাল-বিলে শোল, গজার, টেংরা, পাবদা, কৈ, বোয়াল, আইড়, মাগুর, শিং, পুঁটি, বাইম, চিংড়ি, বাইলা ও নানিসহ নানা দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন সেই মাছের দেখা খুব কমই মেলে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা, ডিমওয়ালা মা-মাছ, এমনকি মাছের ডিমও নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। চায়না দুয়ারি জাল লম্বায় সাধারণত ৩০ থেকে ৮০ ফুট এবং উচ্চতায় প্রায় এক থেকে দেড় ফুট হয়ে থাকে। লোহার রিং দিয়ে তৈরি কাঠামোর চারপাশে খুব সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল লাগানো থাকে। আকার ও মানভেদে একটি জালের দাম দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার হাজার টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারি জাল একটানা পানিতে রেখে মাসের পর মাস মাছ ধরা যায়। দামও তুলনামূলক কম। বিভিন্ন দোকানে সহজেই পাওয়া যায়। অন্যদিকে দেশীয় জাল দীর্ঘদিন পানিতে রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই অনেকেই চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করেন।
শিবচর উপজেলার বাসিন্দা কাউসার আহম্মেদ বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য অফিস থাকলেও তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ে না। উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। এছাড়া মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও কার্যকর কোনো পরিকল্পনা দেখা যায় না।
শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা সারাবছরই চায়না দুয়ারি জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলছে।
সহজে বেশি মাছ ধরার লোভে বাড়ছে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার!
চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এর ব্যবহার থেকে পুরোপুরি সরে আসছেন না অনেক জেলে। কম সময়ে তুলনামূলক বেশি মাছ পাওয়া এবং জাল ব্যবহারে অতিরিক্ত শ্রমের প্রয়োজন না হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পানিতে পেতে রাখার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মাছ আটকে থাকায় জেলেদের কাছে এটি সহজ শিকারের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, চায়না দুয়ারি জালের ক্ষতিকর দিক অনেকেই জানেন। কিন্তু এতে কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরা যায় এবং প্রয়োজন হলে সহজেই গভীর পানিতে লুকিয়ে রাখা সম্ভব তাই অনেকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এটি ব্যবহার করেন।
পাঁচ্চর মাছ ব্যবসায়ী সুমন হাওলাদার বলেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে স্থানীয় জলাশয়ের মাছের মজুত দ্রুত কমে যাবে। একই সঙ্গে এসব জালে বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ এসব জালের জন্য বাজারেও আগের মতো দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি হারিয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু মৎস্যসম্পদের ওপর নয়, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়বে।
শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
পরিবেশকর্মীদের মতে, নিষিদ্ধ জাল বন্ধে শুধু অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে এসব জালের উৎপাদন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ, জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
শিবচর উপজেলার ড. নুরুল আমিন ডিগ্রি কলেজে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক রাজু আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, রিং ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলোর জন্য ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। যার ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটছে,জলজ জীববৈচিত্র্য হ্রাস হচ্ছে। দেশীয় মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষা করার জন্য মাছের প্রজনন মৌসুমে কার্যকর সংরক্ষণ, অভয়াশ্রম বাড়ানো এবং নদ-নদী,খাল ও বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করাও সমানভাবে জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় দেশীয় বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে এবং নদ-নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।
শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, নিষিদ্ধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি মাছের ডিম ও পোনা যাতে ধ্বংস না হয়, সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জনবল ও লজিস্টিক-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও অভিযান ও তদারকি আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।