সংসদে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, তাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার 'নৈতিক স্খলন' প্রমাণিত হয়েছে। সেজন্য গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
মূলত, একজন তরুণীর সঙ্গে 'ব্যক্তিগত মুহূর্তের' কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।
ভিডিওগুলো সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থনে কেউ কেউ এটি 'এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে' উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করেন। পরদিন কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়। এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাকে তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই সম্প্রতি বিয়ে করেছেন।
যদিও তার এই কথিত দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ কাবিননামায় নাম থাকা কাজী একটি দৈনিক পত্রিকাকে বলেছেন, বিয়ে কোথায় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কাবিননামাটি পুরোনো তারিখ বসিয়ে তৈরি করেছেন। সব মিলিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো, তার সংসদ সদস্য পদের কী হবে? 'নৈতিক স্খলনের' অভিযোগে কি তার বিচার সম্ভব?
সংসদ সদস্য পদ হারানোর সম্ভাবনা কতটা?
বহিষ্কারের আজকের এই সিদ্ধান্তের আগে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছিলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি সংগঠনের গঠনতন্ত্রে বর্ণিত বিধি লঙ্ঘন করে ও নৈতিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, অথবা তার ভূমিকার মাধ্যমে যদি সংগঠনের সুনাম ও মর্যাদা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন তার সদস্য পদ তো বাতিল হবেই। এমনকি তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করারও বিধান আছে। সদস্য পদ বাতিল হলে সংগঠনে সে থেকে যাবে, কাজ করতে পারবে। আর বহিষ্কার মানে সংগঠন থেকেই বহিষ্কার।"
গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী শেষপর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কার করেছে, তাহলে কি তার সংসদ সদস্য পদ হারানোরও সম্ভাবনা আছে? এ বিষয়ে সংসদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার হলেও তার সংসদ সদস্য পদ যাবে না। নৈতিক স্খলনজনিত কোনো বিষয় যদি সংসদের ইনকোয়ারি কমিটিতে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার পদ যেতে পারে। এটার জন্যও সংসদীয় তদন্ত লাগবে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকও বলেন, ‘দলের নিয়ম কানুন ভঙ্গ করলে সাধারণত দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সংসদ সদস্য পদ হারাবে তখনই, যখন কেউ দলের বিপক্ষে সংসদে ভোট দেয় অথবা পদত্যাগ করে। এছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ফৌজদারি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারও যদি দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হয়, তখন। তবে এখানে একটা অস্পষ্টতা আছে। সব অপরাধের জন্য এটা হবে না, শুধু নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে হবে। এখন কোনটা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ, আর কোনটা না, সেটার কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা নাই। কোর্টের রায়েও এ নিয়ে কিছু আসে নাই। বহিষ্কার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক স্খলনের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক নিয়ে আইন কী বলে?
গাজী নজরুল ইসলাম যদিও দাবি করছেন যে, তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন যে তিনি আদৌ ওই নারীকে বিয়ে করেননি। এমনিতে 'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের আইন কী বলে?
আইনজীবী শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, "আইনগতভাবে কেউ যদি স্বামী- স্ত্রী না-ও হয়, তাহলে কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক আইনের চোখে ফৌজদারী অপরাধ না। এমনকি প্রথম স্ত্রীর পারমিশন না নিয়ে অন্য কোনো নারীকে বিয়ে করলেও সর্বোচ্চ শাস্তি হবে এক বছরের জেল। আইনের চোখে বিয়েটা কিন্তু তখনও বৈধ।
গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, ওই নারী যদি এটা না বলে যে তাকে জোর করে বা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে, তখন এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এই অভিযোগগুলো ওই মেয়ের কাছ থেকে আসতে হবে।
ওই তরুণীকে নিয়ে আরও একটি ধোঁয়াশা রয়েছে যে তার বয়স ১৮ বছরের কম। এ বিষয়ে শাহদীন মালিক বলেন, "১৮ বছরের কম হলেও এটা অপরাধ না। আইনগতভাবে ১৮ বছরের কম হলে বিয়ে হবে না। ছেলের ২১ বছরের কম হলে বিয়ে করতে পারে না। এটা শুধু বিয়ের ব্যাপারে প্রযোজ্য। অন্য কোনো কিছুর জন্য প্রযোজ্য নয়।" তার মতে, এই বিষয়টিতে আইনগতভাবে কোনো সমস্যা নেই। এটি নৈতিকতার ব্যাপার।
একই প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, "আইনে আছে, ১৮ বছরের নিচে হলে বিয়ে করা যায় না, তখন নিকাহ রেজিস্ট্রারও জবাবদিহির আওতায় আসবে। আর বিয়ের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক করা সামাজিক বিষয়। কিন্তু যার সাথে ঘুরছে, সে কখনও অভিযোগ করলে মামলা হয়ে যাবে।"
কোনো স্বামী যদি 'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক করে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে? এর উত্তরে মোরসেদ বলেন, "এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাধারণত স্ত্রীরা তালাক দিয়ে দেয়। কিন্তু স্ত্রী চাইলে অভিযোগ করতে পারবে। তবে স্বামী যে পরকীয়ার সাথে জড়িত, তা তাকে প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ, এভিডেন্স থাকবে, বা যার সাথে পরকীয়া করছে, তারও অভিযোগও লাগবে।"
গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা প্রসঙ্গে টেনে তিনিও বলেন, "বলছে বিয়ে করেছে। কিন্তু ওই মেয়ের ১৮ বছর হয়েছে কি না, তা বলা যায়। এ সব ক্ষেত্রে ধরা পড়লে সাধারণত স্ত্রী বলা হয়। তবে এই মেয়ে বা তার পরিবার যদি ভবিষ্যতে অভিযোগ করে, তাহলে কোনো আইনি প্রক্রিয়া আগাতে পারে। নইলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নাই।"
অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া কতটা বৈধ?
এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে একটি কক্ষে জিম্মি করে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে এটি বিবাহবহির্ভূত ঘটনা।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, আইনের চোখে এই ঘটনা (মি. ইসলামের) ফৌজদারি অপরাধ না। এটি সামাজিকভাবে অনৈতিক কাজ। একটি অনৈতিক কাজের জন্য এভাবে মব করে আক্রমণ করা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, বরং এটা অপরাধ। কারণ বিচার করার ক্ষমতা তো আদালত ছাড়া আর কারও নাই।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধিতেও বেআইনিভাবে কাউকে আটক করা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের (মতো অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। মূলত, সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে সালোয়ার কামিজ পরিহিত এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। পরে আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজনকে তাদের একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার ভাষ্য, গত ১৭ই জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে এবং ১৩ই জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ব্যবসায়িক অফিসে যান।
তার ওই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ওই তরুণীর এক মামাকে দায়ী করেন মি. ইসলাম। তিনি এটাও দাবি করেন যে তার বিরুদ্ধে 'প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই'।
তিনি বলেন, “সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
মঙ্গলবার দুপুরের পর পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাকসুদা ইসলাম একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে তাকে লিখিত বিবৃতি পড়তে দেখা গেছে। এতে তিনি বলেছেন, আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সহিত মরিয়মের (দ্বিতীয় স্ত্রী) সাথে বিবাহ হয়েছে। যারা এটা নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
এরপর নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় আরেকটি বক্তব্য দেন গাজী নজরুল ইসলামের সাথে দেখা যাওয়া তরুণী। সেখানে ওই তরুণী বলেছেন, "আমার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে বিষয়ে আমি দেশবাসীর সামনে প্রকৃত ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই।'' তিনি বলেন, প্রথমত আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ১৭ই জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। ১৩ই জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যান।
এদিকে, জামায়াত নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এবার বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজীর একটি অডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে গতকাল। ভাইরাল অডিওতে কাজীকে বলতে শোনা যায়, ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে ফোনে তাকে মেয়ের নাম, জন্মতারিখ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়েছিলো। গতকাল ২১শে জুলাই সকালে ওই তরুণী ও অভিভাবক গিয়ে সেই কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। অর্থাৎ, গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন যে তাদের বিয়ে হয়েছে আরও এক মাস আগে, অর্থাৎ ১৭ই জুন। এদিকে, কাবিননামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বিয়ের তারিখ ১৭ জুলাই। অথচ, কাজীর দাবি অনুযায়ী, কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় গতকাল ২১ জুলাই।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একজন এমপিকে তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বা তার লোকেরা জিম্মি করে টাকা আদায় করবেন, এ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সেই প্রশ্নের কোনো জবাব আসেনি কোনো পক্ষ থেকে। এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেছেন, কথাটা হয়তো যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কিন্তু এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি তার স্ত্রীদের নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। তার স্ত্রীরাও সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন।
গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম
জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দায়ে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৪ দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দফা দাবিতে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি থেকে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এদিন লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৭ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানির দাম ৩ দফায় বাড়ানো হয়েছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে জ্বালানি ইস্যুতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ কী হবে, সেই বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, সার্বিকভাবে ব্যর্থতার দায়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, আপাতত এই দু’জনকে সরিয়ে দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করা উচিত। এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেয়া হলো। কেন তাদের সরিয়ে দেয়া হলো— সেটি স্পষ্ট নয়। কিন্তু নিজ সেক্টরে যারা সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছে, তাদের কিন্তু সরিয়ে দেয়া হচ্ছে না, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না। আমরা তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই।
এনসিপির দ্বিতীয় দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রহসনের জন্য একদলীয় যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হয়েছে, সেই কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সেখান থেকেই সংস্কার করে নতুন সংবিধান করতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায়ে যে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা চাওয়া হয়েছে— সেই প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সাইবার আইনে যে সংশোধনী আনা হচ্ছে, সেটি সংসদে কোনোভাবেই পাস হতে দেয়া হবে না। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধসহ মানবাধিকার কমিশন আইনের মতো যেসব কর্তৃত্ববাদী আইন পাস করা হয়েছে, সেগুলো বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া আমরা ৫ আগস্ট থেকেই বলে এসেছি— জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের যে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এই বিচারের এখনও বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। বিভিন্ন জায়গায় জুলাই আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তাই অবিলম্বে জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচারের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এই ৪ দফা দাবিতে রাজধানীতে গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিকেল ৩টায় গণবিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি— নিজেদের দাবি আদায়ে এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করুন। এ সময় ঢাকা মহানগরে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে দাবি আদায়ে সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে বলেও জানান নাহিদ ইসলাম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু তা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। জনগণ আমাদের বলে- ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের দুর্বলতা ছিল।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে মানুষ তাদের এত ভালোবাসা দিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে। ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল টার্গেট হলো আল্লাহর জান্নাতে যাওয়া। আমি বিশ্বাস করি, যারা দিন আনে দিন খায়, আল্লাহর পথে তাদের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ৭০ ভাগ মানুষ অংশগ্রহণ করেছে, যারা দিন আনে দিন খায়।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ আমাদের যাদের সম্পদ দিয়েছেন, আমরা যেন তার নিয়ামতের যথাযথ কৃতজ্ঞতা আদায় করি। জান্নাতের জন্য নিজেদের ঠিকানা তৈরি করতে হবে। তিনি কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের আলোকে রুকনদের উদ্দেশে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি মৃত্যু ও পরকালীন জীবন নিয়েও আলোচনা করেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমার চেয়ে কে দুর্বল, তা জ্ঞান ও সম্পদের দিক থেকে বিবেচনা করতে হবে। মহান আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের জন্য চোখের পানি ফেলে তার শুকরিয়া আদায় করতে হবে এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।
তিনি নবী ইবরাহিম (আ.) ও নবী ইসমাইল (আ.) এর ওপর আল্লাহর পরীক্ষা এবং তাদের ত্যাগের বিষয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না। তাই প্রতি মুহূর্তে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের অতীত সাংগঠনিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় দুই মহানগরীর অবস্থাই অনেক দুর্বল ছিল। আমাদের ভাই-বোনদের ত্যাগ, কুরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আল্লাহর দেয়া জ্ঞানের বড় নিয়ামত রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেয়া হবে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা থামবো না, আমাদের থামার সুযোগ নেই। সামনে সিটি নির্বাচনে আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে ও দিনরাত একাকার করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার এগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।
সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বসে বসে আর তামাশা দেখব না। আমরা সংগতভাবেই প্রতিবাদ করব এবং যেখানে আমাদের সামর্থ্য হবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
শুক্রবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিমন্ত্রীর পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন মির্জা আব্বাস
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে গিয়ে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালের একটি কেবিন চিকিৎসাধীন ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে যান বলে তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার একান্ত সহকারী মিজানুর রহমান সোহেল।
তিনি বলেন, “স্যার ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে উনার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। স্যার ভূমিমন্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।”
গত ২১ অক্টোবর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে বিএমইউ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে মো. নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দলের অস্থায়ী কার্যালয় ঢাকার বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে- অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল, এ.কে. ফ্লোরা।
সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে, মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। এ ছাড়াও যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস.এম. সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক, মো. আতাউল্লাহকে।
আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাহসীন রিয়াজ এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন আশরেফা খাতুন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইফতেখারুল ইসলাম।
আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সহ-আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারি ও অ্যাডভোকেট ছেহায়েত উল্লাহ।
প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। সহ-প্রচার সম্পাদক হয়েছেন মেজবাহ কামাল মুন্না ও শাহাদাত হোসেন। শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং সহ-শিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন সাকিব শাহরিয়ার।
বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে যারা
ঢাকা বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শওকত আলী। চট্টগ্রাম বিভাগ (দক্ষিণ)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ.এস.এম. সুজাউদ্দীন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাওয়াদুল করিম। রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইমরান ইমন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাকিব মাহাদী। চট্টগ্রাম বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজিদ নওরোজ শাহ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম সৈকত।
তালিকা অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশাররফ হোসেন। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ উদ্দিন তারেক। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শাহরিন ইরা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মোল্যা রহমতুল্লাহ। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. শামীম হামিদী। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন কাজী সালমান। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মিয়াজ মেহেরাব তালুকদার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তানহা শান্তা। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হাবিবুর রহমান অপু।
ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক (ডায়াস্পোরা) হিসেবে রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত ও তারেক রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিভাগে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিদওয়ান হোসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ।
নারীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সহ-পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত এবং সহ- মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সহ-ধর্ম সম্পাদক হিসেবে সাগর বড়ুয়া ও জয় বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মশিউর রহমান।
সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে লুৎফর রহমান এবং সহসংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে মেহেরাব সিফাত দায়িত্ব পেয়েছেন। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাইয়েদ জামিল এবং সহসাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে মাহবুব আলমের নাম রয়েছে তালিকায়। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন রাশেল উল আলম এবং সহ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহিদ তানজিম। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।
মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন এবং সহ-মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল দায়িত্ব পেয়েছেন। সমাজকল্যাণ সম্পাদক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদকে। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইশতিয়াক আকিব। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এবং সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে মুনা হাফসাকে রাখা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এবং সহ-অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সাইফুল ইসলাম সাইফ।
এ ছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসেবে মাজেদুর রহমান এবং সহশিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসেবে আব্দুল্লাহ মামুন নিলয় দায়িত্ব পেয়েছেন। সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক হয়েছেন মো. রাসেল মোল্লা। ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আহনাফ সাইদ খান এবং সহ-ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন ইমরান নাঈম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তামিম আহমেদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ লিওনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যুব ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া এবং সহ-যুব ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হিসেবে ওহায়িদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন। মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ডা. জাহেদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে এম. এম. শোয়াইব এবং সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে জাহিদ আহসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাতটি ইসলামি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী জোট’। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
আগামী ৫ ডিসেম্বর নীতিমালার বৈঠক
মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন জানান, সাতটি ইসলামি দলের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর এক নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ
নবগঠিত এই সমমনা জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো:
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ও নির্বাচনী অবস্থান
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকলেও জোটগতভাবে এখন এই সাতটি দল এক হয়ে কাজ করবে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরাও এই সাতটি দল একসাথে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
তবে জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলামের অবস্থান
এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে সাতটি দল একসাথে পথ চলতে সম্মত হয়েছে। যেসব দল আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত ছিল, তারাও সেই জোট ত্যাগ করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে একমত পোষণ করেছে।
সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতে ইসলাম অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব 'নির্দলীয়' অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নীতিমালায় চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত থাকলে তারা জোট ছাড়তেও দ্বিধা করবেন না।
ইশরাক হোসেন
প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’
ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’
ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’