নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বাবার বিক্রি করা জমি ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি না করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন রুবেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অতীতে জমি দখলের অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে চরজব্বর থানায় এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য একরামুল হক (৫০)।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য একরামুল হক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খাসেরহাট রাস্তার মাথা এলাকার মৃত সাইদুল হক ও তার স্ত্রী ময়ুরা খাতুনের কাছ থেকে ২০১০ সালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের নামে সরকারি বন্দোবস্তীয় ২৪ শতক জমি কেনেন তার চাচা সিরাজ মিয়া। জমি কেনার পর সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন তিনি। নোটারি চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, সরকারি জরিপে বিএস খতিয়ানে জমিটি বিক্রেতাদের নামে সঠিকভাবে রেকর্ডভুক্ত হলে তারা ক্রেতার নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেবেন। একইভাবে সাইদুল হকের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আলী আক্কাস, শাহাদাত হোসেন, জাহানারা বেগম ও বেলাল হোসেনসহ আরও কয়েকজন জমি কেনেন।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ১ মে সাইদুল হকের মৃত্যুর পর সরকারি জরিপে জমিটি তার ও স্ত্রী ময়ুরা খাতুনের নামে বিএস খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত হয়। এরপর ওয়ারিশ হিসেবে তাদের ছেলেরা জমি ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে উল্টো তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিরাজ মিয়া ও অপরাপর ক্রেতাদের ভোগদখলীয় জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। এরই মধ্যে কিছু জমি দখলও করা হয়েছে ।
একরামুল হক অভিযোগ করে আরও বলেন, গত ২০ অক্টোবর সকালে দেলোয়ার হোসেন রুবেল (২৮), মো. শিপন (৪৫), মো. খোকন (৩৮) ও মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৪) পুনরায় তার চাচা সিরাজ মিয়ার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ও স্থানীয় কয়েকজন বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, সাইদুল হকের ছেলেরা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় জমি দখল ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। দেলোয়ার হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে এর আগেও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী একরামুল হক বলেন, জমির প্রকৃত ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি করে না দিয়ে উল্টো তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন রুবেলের স্ত্রী মিলি আক্তার বলেন, তার স্বামীসহ পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জমির বৈধ কাগজপত্র তাদের পরিবারের নামে রয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার স্বামীকে আওয়ামী লীগের তকমা দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।
চরবাটা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা বলেন, সাইদুল হক জীবিত থাকাকালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সিরাজ মিয়াসহ কয়েকজনের কাছে ওই জমি বিক্রি করেন। পরে ক্রেতারা সেখানে দোকানপাট নির্মাণসহ বিভিন্নভাবে ভোগদখল করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে সাইদুল হকের ছেলেরা একাধিকবার জমি দখলের চেষ্টা করেন এবং দুটি কক্ষ দখলও করে নেন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদে মামলা হলে শুনানি শেষে ক্রেতাদের পক্ষে রায় দেওয়া হয়। বর্তমানে আবারও তারা দোকানপাটসহ ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান বলেন, সিরাজ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিং ও অপতৎপরতায় পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাকে চার-পাঁচ দিন আগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মো. বিপ্লব
টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১২ ঘণ্টার মাথায় অভিযুক্ত মো. বিপ্লবকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে শহরের কলেজপাড়া পার্ক বাজার মোড়ের গৌর ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বিপ্লব টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পূর্বআদালতপাড়া (চৌধুরী বাজার) এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছিলেন। রোববার বেলা ১২টার দিকে পুলিশের সোর্স প্রথমে আসামিকে শনাক্ত করে আটক করেন। এ সময় বিপ্লব হাত কামড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সদর থানায় আনা হয়েছে। মামলার পর পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই শিশুটির চিকিৎসা ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর রাখছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনে শিশুটির ওপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, এ সময় শিশুটি বাধা দিলে অভিযুক্ত ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে এক রিকশাচালক তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে শনিবার রাতে অভিযুক্ত বিপ্লবের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ) ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬৬।
জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে রংপুরে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৪৬ যুব’র মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যৌথভাবে আয়োজনে রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ২৬ লাখ ৪ হাজার টাকার ঋণের চেক প্রশিক্ষিত যুবদের হাতে তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরিফুল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আব্দুল ফারুক, মেট্রোপলিটনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু সাঈদসহ অন্যরা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি যুবক। দেশের এই বিশাল যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোত্তম সুফল নিশ্চিত করতে হবে। যুবসমাজকে শুধু বয়সের নির্দিষ্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, আত্মনির্ভরশীল ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।
আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্য ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সকালে পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
হেমন্তের শুরুতে উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের পদধ্বনী শুরু হয়েছে। সারাদিন সূর্যের উত্তাপ থাকলেও বিকেলের দিকে কমে যাচ্ছে সূর্যের প্রখরতা।রাতে কুয়াশা এবং ভোর রাতে শীতের কাঁথা গায়ে দেওয়ার চাহিদা জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। বিকেলে শহরের কোথাও কোথাও শীতের ভাপাপুলির দোকান জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে শীতের আমেজ।
বাংলা পুন্জিকা মতে পৌষ ও মাঘ মাস শীতকাল। বর্তমানে শুরু হয়েছে হেমন্তকাল। ইংরেজি নভেম্বর মাসের দিকে দেখা হয় শীতের আমেজ। ঠাকুরগাঁও জেলা হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হওয়ায় প্রতি বছর এখানে আগাম শীত পড়ে ।এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।ইতোমধ্যে রাতে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। সকালে দুর্বাঘাস আর ধানের শীষে শিশির জমে থাকা শিশির বিন্দু ঝলমতে আলোয় মুক্তার ন্যায় চিকচিক করছে। সকালের দিকে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ায় মোটর সাইকেলের চালকদের মোটা কাপড় ও রেইনকোর্ট ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। এ সময় কৃষকরা তাদের গরু মহিষ নিয়ে মাঠে চড়াতে নিয়ে যায় শীতের ছোয়া পেতে। আর আলু,পটল,মূলা চাষীরা সকাল সকাল জমিতে আলু রোপণসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে।আবার অনেক চাষী করলা, লাউ ইত্যাদি মাঠ থেকে সংগ্রহ করে পাইকারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এ বছর দীর্ঘ কয়েক মাস প্রখর রোদ ও প্রচন্ড গরম পড়ায় বর্তমানে হাল্কা ঠান্ডায় শরীর মন জুড়িয়ে যাচ্ছে।দিনে রোদের তাপ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই পড়তে থাকে হালকা কুয়াশা। রাত বাড়ার সঙ্গে কুয়াশাও বাড়তে থাকে। সেই সাথে বাতাসের আদ্রতা কমে যাওয়ায় রাতে কাথা গায়ে দিতে হচ্ছে।
বিশেষ করে, ভোরে উত্তরের জেলা অভিমুখে আসা দ্রুতগামী কোচের চালকদের অনেক জায়গায় কুয়াশা ভেদ করে হেড লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসতে হচ্ছে। সেই সাথে সিরাজগঞ্জ পার হওয়ার পরপরই যাত্রীদের ঠান্ডায় কাতর হয়ে পড়তে হচ্ছে ইতোমধ্যে।
শীতকালের আরেক অনুসংগ মজার খাবার শীতের ভাপাপুলি। শীতকালে শহর গ্রাম সর্বত্র শীতের ভাপাপুলির দোকান বসে।সেখানে সকল বয়সের মানুষজন পৌকান পিঠা, পোয়া পিঠা, চিতুয়া পিঠা ইত্যাদি খেতে সকল বয়সের মানুষজনকে ভীড় করতে দেখা যায়। এ বছর ইতোমধ্যে আদালত চত্বরে শুরু হয়েছে শীতকালীন পিঠার দোকান।
আবহাওয়া অফিস দেয়া তথ্য মতে গত ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েকদিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে।
আগুন জ্বালিয়ে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ
পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে চতুর্থ দফায় সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সাজেক সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এক দিনের বিরতির পর রোববার আবারও অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি শুরু করে সংগঠন দুটি।
সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে এ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে অবরোধ চলাকালে সাজেক সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করেন। তবে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
গত ২২ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিন সাজেকে সড়ক অবরোধ চলে। তবে সাজেকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আনা-নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করে সংগঠন দুটি। শিথিলের সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।
টানা অবরোধের কারণে সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও ওই দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে একটি শ্রমিক সংগঠন খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে অবরোধ ডাকায় সাজেক সড়কে কোনো পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে এ সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। তবে মাঝেমধ্যে কয়েকটি অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়। তবে পরবর্তী আলোচনার জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় আগুনের শিখা জ্বালিয়ে নতুন করে মিলেছে গ্যাসের সন্ধান, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে সুন্দলপুর সাউথ-১ এর একটি কুপে ডিলিং শেষে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। তবে ডিএসটি পরীক্ষা শেষে গ্যাসের পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কূপটি থেকে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাসের সন্ধান মিলবে এবং জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এর ডিলিং ইনসার্জ রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কূপটিতে খনন কাজ শেষে আজ দুপুরে আগুনের শিখা জ্বালিয়ে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং অতিরিক্ত আগুনের উত্তাপ্ত হাওয়ার কারণে আগুনের শিখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিতে নতুন করে আগুনের শিখা জ্বালানো হবে বলে জানান তিনি।
আপন ঠিকানায় ফিরতে চান পথভূলে কলাপাড়ায় চলে আসা কুলসুম বেগম ওরফে শানুখালা (৭০)। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনউপ উপজেলা গর পৌরসভার মৃত কুদ্দুস শিকদার স্ত্রী। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে কর্মরত মনোয়ারা বেগম।
জানাগেছে, শানুখালা গত ১২ দিন পূর্বে ঝিকরগাছা থেকে তার পালিত নাতনির বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় যাওয়ার জন্য রওনাহন। ঘটনাক্রমে তিনি কলাপাড়ায় এসে পৌঁছান। অনুমান করাযায় তিনি কলারোয়ার কথা বলায় বাস স্টাফ তাঁকে পটুয়াকালীর কলাপাড়ায় নিয়ে এসেছেন। গুগলের তথ্য অনুযায়ী কলাপাড়া থেকে ঝিকরগাছার দূরত্ব ২৭৭ কিলোমিটার। কুলসুম বেগম কলাপাড়ায় এসে ভ পথ হারিয়ে পথে পথে ঘুরছিলেন। এমতাবস্থায় কলাপাড়ার মানবিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন 'পাশে দাঁড়াই' এর সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন এর নজরে আসলে। তার কাছে নাম পরিচয় জানতে চাওয়াহয়। উত্তরে তিনি শুধু ঝিকরগাছা ব্যাতিত কিছু বলতে পারেনি। পরবর্তীতে সোসাল মিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর। তার পরিচয় ও ঠিকানা শনাক্ত হয়।
পরিচয়ে জানাযায়,তিনি ঝিকর গাছায় কৃষ্ণনগর পৌরসভায় ৪ নং ওয়ার্ডে বসবাস করতেন। তার নিজের ভিটেমাটি ও রক্তের সম্পর্ক বলতে কেউ নেই। সেখানে অন্যের বাড়িতে একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। খাওয়া পরা চলে মানুষের সাহায্যের মাধ্যমে। এক কথায় পৃথিবীতে আপন বলতে তার কেউ নেই। তবে স্থানীয়রা তাকে অত্যন্ত ভালো বাসেন। তাই তারা চান শানু খালা তাদের কাছে ফিরে যাক।
এদিকে সংবাদটি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামানের নজরে আসলে তিনি যোগাযোগ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে। এরপর সেখান থেকে আশ্রয় দাতা সেচ্ছাসেবী সংগঠন পাশে দাঁড়াই এর সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন এর সাথে যোগাযোগ করে ঝিকরগাছা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী মনোয়ারা বেগম। তিনি শানুখালার পরিচয় নিশ্চিতের পাশাপাশি তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এদিকে শানু খালা তার গন্তব্যে ফিরে যেতে বারবার আকুতি করছেন।
পাশে দাঁড়াই সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন বলেন, আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে ঠিকানাহীন একটা অসহায় মানুষ কে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা আবেদন জানাই কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমাজ সেবা অফিসের মাধ্যমে শানু খালাকে তার নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দিবে। এমনটা তাদের কাছে প্রত্যাশা।
এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামান বলেন,আমি সকল বিষয়ে অবগত আছি। আমি ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। আশা করছি তার যাওয়ার ব্যাবস্থা হবে।