টাঙ্গাইলে শহরের সাড়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিপ্লব নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ধর্ষনে বাধা দেয়ায় শিশুটির মুখ ও নাক ইট দিয়ে থেতলে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে।
শিশুটি বলে, শহরের ক্যাপসুল মার্কেট এলাকায় বিপ্লব নামের এক যুবক তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করে। বাধা দেয়ায় ইট দিয়ে মুখ ও নাক থেতলে দিয়েছে। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বিপ্লবের শাস্তি দাবি করছি।
শিশুটির মা বলেন, আমি ক্যাপসুল মার্কেট এলাকায় পার্লারে কাজ করি। বিপ্লব নামের এক যুবক আমার পার্লারে যাওয়া আসা করতো। শুক্রবার বিকেলে আমার কাছ থেকে মেয়েটি নিচে যায়। পর অনেক খোঁজখুঁজি করে পাইনি। এক পর্যায় বিপ্লব আমার কাছে তিনটি চিপস নিয়ে যায়। আমার মেয়ের কথা জানতে চাইলে সে নানা তালবাহনা শুরু করে। পরে হাসপাতাল থেকে জানতে পারি আমার মেয়েকে এক রিকশা চালক টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক আল আমিন সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে মেডিকেল টিমের সদস্যরা যে আলামত পেয়েছে তাতে বলা যায় শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। যৌনাঙ্গের পর্দা ছিড়ে গেছে। এছাড়াও নাক ফেটে গেছে। ঠোঁটে একাধিক সেলাই করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। তারপরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ন্যূনতম বেতনসহ তিন দফা দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা আজও আন্দোলন করছেন। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে সাভারের পোশাক কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিল্প পুলিশ ও পোশাক শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিসহ তিন দফা দাবিতে সকালে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন৷ পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সড়িয়ে দেয়। অপরদিকে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে তারা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে এসে জড়ো হন। এ সময় নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, টাউজার লাইন, অনন্ত গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে শ্রমিকরা সড়কে এসে অবস্থান নিলে পুলিশ বাঁধা দেয়। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না কর শর্তে নিউ এইজ পোশাক কারখানার এক শ্রমিক বলেন, আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের ধাওয়া দিচ্ছে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার দুই শ্রমিককে রোববার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত পোশাক শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানান।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, সকালে কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা প্রবেশ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। এ ছাড়া নিউ এইজ পোশাক কারখানার দুই শ্রমিককে রোববার পুলিশ আটক করেছে বলে ওই কারখানার শ্রমিকরা আজকেও বিক্ষোভ করছেন। পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে আটক করার বিষয়টিকে নিন্দা জানাই।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, সকালে পোশাক শ্রমিকরা নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ ছাড়া বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে শ্রমিকরা অবস্থান নেন। পরে পুলিশ বুঝিয়ে তাদের সড়ক থেকে সড়িয়ে দিয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে গতকাল (রোববার) নিউ এইজ পোশাক কারখানার এক শ্রমিকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গতকাল (রোববার) ১৭৭টি পোশাক কারখানার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেখান থেকে আজ কতগুলো চালু রয়েছে, তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকায় জানা সম্ভব হয়নি।
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে
ঢাকার সাভারের আশুলিয়াসহ আশপাশের অধিকাংশ পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে মালিক পক্ষ। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। সোমবার সকাল থেকে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে নামেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। সোমবার সকাল থেকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারীরা যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।
কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা ভাষ্য, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, আন্দোলনে বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারীরা যোগ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত শিল্প পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তবে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে।
শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, আগুন জ্বালানো এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার বিষয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা জেলার ফোর্সও তাদের সঙ্গে রয়েছে। যতটা সম্ভব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
রোববার রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া।
বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলা এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রম অসন্তোষের কারণে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
ছবি : সংগৃহীত
সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে নেমেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। সোমবার সকাল থেকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আশুলিয়ার আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকেরা হামলা চালিয়েছেন। তারা প্রতিষ্ঠানটিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন।
এদিকে বিক্ষোভের ঘটনায় আশুলিয়ার শারমিন গ্রুপ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। সোমবার সকাল থেকে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এর আগে রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।
শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলা এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রম অসন্তোষের কারণে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে, গত শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
বাঁশখালীতে অটোরিকশায় ব্যানার লাগিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাইকিং। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে মাইকিং করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুর ২টা থেকে বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইক লাগিয়ে এ কর্মসূচি চালানো হয়।
২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অটোরিকশায় থাকা মাইকে আগে থেকে ধারণ করা একটি বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। মাইকিং কর্মসূচির আয়োজক হিসেবে ‘বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জাগো নিউজকে বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। তাদের গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে।
ছবি : সংগৃহীত
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলা এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রম অসন্তোষের কারণে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশ বক্স, কারখানার গুদাম ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে পুলিশ হেফাজত থেকে হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় একই পরিবারের ৫ সদস্যসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (১ নভেম্বর) সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রতন শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ার বাসিন্দা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৬), তার ছেলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরীর স্ত্রী শাম্মী আক্তার পলি (৩৮), তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল (২০), তার মেয়ে সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা (১৬)। এছাড়া, দিরাই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ (২১), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক মিয়ার ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ (২১) এবং গোলাপগঞ্জের বাদেশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকবির রহমান তানহির (২০)।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরবর্তীতে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালান।
পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পুলিশ দলকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ ও মারপিট করেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই (নিঃ) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতের সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।