নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেছেন, শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে হলে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হতে হবে। তিনি আজ সোমবার বিকালে নওগাঁ সদর উপজেলা বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজনে বার্ষিক সাহিত্য- সাংস্কৃতি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম স্বপনের সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু'র সহধর্মিণী হোসনে আরা পঞ্চ, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আযম রানা, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রুহুল আমিন মুক্তার, নওগাঁ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার এস. এম ওয়াজেদ আলী, নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মামুন বিন ইসলাম দোহা, নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি রেজাউল করিম ঝন্টু, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব দুলু, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ সহ স্থানীয় গন্যম্যান ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বার্ষিক সাহিত্য- সাংস্কৃতি ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
রংপুরে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর পাল্টপাল্টি কর্মসূচীর দেয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে আবেদন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তাজহাট থানা পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাতে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এতে করে ক্যাম্পাসে শাস্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার শংঙ্কা থাকায় ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করতে তাজহাট থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রক্টর।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যূত্থান দিবসের আগে দুই ছাত্র সংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাস জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতি তৈরী হয়েছে।
মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি পুলিশ কমিশনার স্যারকে জানিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, গতকালের অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর আজ আবার দুটি সংগঠন বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি যাতে আরও ঘোলাটে না হয়, সেজন্য সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারিতে আমরা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক শীর্ষ পাঁচ নেতা এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল। ছাত্রদল ব্যানারটি অপসারণের দাবি জানালে, দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। দফায় দফায় দু'পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরবর্তিতে কিছুক্ষণের জন্য সংঘাত থামলেও রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসের বাইরে পার্কের মোড় থেকে কামারের মোড় পর্যন্ত ছাত্রদল এবং শিবিরের মহানগর নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেরোবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান, বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসানসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষেও ২০ জনের মতো আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই বেরোবিতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সচল রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ পার্কের মোড় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শরীয়তপুরে নিম্ন আয়ের ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণসামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেছেন, শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ইদ্রিস মোল্লা। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রায় ২০০ টি নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি ও বিনোদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা রানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল হক ঢালী, পৌরসভা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি নাসির ঢালী এবং পৌরসভা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন হাওলাদার।
এতে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এমন মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা জানান।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকায় অবস্থিত প্রিমিয়ার স্টিল মিল। ২০২০ সালে গলিত লোহা ছিটকে ৬ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে আগের নামেই উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে কারখানার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছে কারখানাটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন কারখানার চিমনি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে বাতাস ভারী হয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ও গাছপালায় কালো ধুলার আস্তরণ জমে। এলাকাবাসীর দাবি, কারখানাটির কালো ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগসহ স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে।
এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রিমিয়ার স্টিল মিল দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায়ও কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
এই কারখানাটিই কয়েক বছর আগে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়। রাতের শিফটে কাজ করার সময় উত্তপ্ত গলিত লোহা ছিটকে পড়ে গুরুতর দগ্ধ হন ছয় শ্রমিক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শ্রমিক মিজানুর রহমান, শাকিল, ফাহিম, রফিক মিয়া, রাজু ও আবু সিদ্দিক মিয়া। দুর্ঘটনার পর শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারী শিল্পকারখানায় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ জানান, কারখানার নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্ত দাবি করেছেন।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন কালো ধোয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির (অ্যাজমা) প্রকোপ বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিহ, সিওপিডি (COPD), ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, চোখ জ্বালাপোড়া, লাল হওয়া ও পানি পড়া, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া, কাশি মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি, দীর্ঘ মেয়াদে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন জানান, শিল্পায়ন দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শ্রমিকের জীবন ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেই উন্নয়ন টেকসই হয় না। অতীতের প্রাণহানির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিয়মিত পরিদর্শন, নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
প্রিমিয়ার স্টিল মিলের জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম বলেন, কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। আমাদের কারখানার কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে না ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, প্রিমিয়ার স্টিল মিলের কালো ধোয়া ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ যমুনা সেতু পশ্চিম শহীদ এম মনসুর আলী রেল স্টেশনে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটনা ঘটে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী।
দুর্ভোগের শিকার যাত্রী রিফাত খন্দকার বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনে রওনা হয়েছি। কিন্তু ট্রেনটি শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে প্রবেশ করা মাত্রই বিকট শব্দে বগিটি লাইনচ্যুত হয়। এতে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, দুপুর দেড় থেকে দুইটার মধ্যে আমার ঢাকায় ফেরার কথা। কিন্তু সিরাজগঞ্জেই সেই সময় হয়ে গেছে। এখন ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন আসতে আরও সময় লাগবে, ভাবছি ট্রেনের অপেক্ষায় বসে না থেকে বাসেই চলে যাবো।
শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনের বুকিং সহকারী হাফিজুর রহমান জানান, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি ট্রেনটি সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে স্টেশন এলাকার রেললাইনের একটি পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় বিকট শব্দে ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। পরে চালক বুঝতে পেরে দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বগির টলি সেটআপ একদম ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
যমুনা সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ রেলস্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান বলেন, উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে, ঈশ্বরদী থেকে আসতে আরও দুয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে বেশি সময় লাগবে না। এটি উদ্ধার হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিওআই) আহসানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে। আর এই দুর্ঘটনার কারণে নীলফামারীগামী নীলসাগর ট্রেনটি যমুনা সেতুর পশ্চিম সায়দাবাদ স্টেশনে দুই হাজার যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে। এটি স্বাভাবিক হতে অন্তত আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগবে।
সৃষ্টি মাল্টিপারপাসের মালিক লিটন দাশ
ক্ষুদ্রঋণের নামে উচ্চ সুদের কারবার, ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ এবং পরে সেই চেক ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে সৃষ্টি মাল্টিপারপাস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন দাশের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে তারা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে স্বল্প পরিমাণ অর্থ ঋণ নেন। ঋণ দেওয়ার সময় নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা ব্ল্যাংক চেক নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ করার পরও কিছু ক্ষেত্রে সেই চেক ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার চেয়ে অনেক বেশি টাকার দাবি তুলে আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে লিটন দাশ নিজেই বাদী হয়ে আদালতে ৭০ থেকে ৮০টিরও বেশি চেক সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করছেন। এছাড়া একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও এ ধরনের মামলার মাধ্যমে অসহায় মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় এসব মামলার রায় আদায় করে অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদক সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে আদালতে লিটন দাশের নামে একাধিক চলমান মামলার তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে পারেন। তবে মামলাগুলোর অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
এ বিষয়ে লিটন দাশের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় অভিযোগকারীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার
নোয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীপুরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ভাগের নগদ ৩৯ হাজার টাকা, একটি লোহার স্টিক এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত ও ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হলেন, সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধনু মেস্ত্রী বাড়ির মো. ইব্রাহিমের ছেলে বাকের হোসেন ওরফে অনু (৩২), একই ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মোস্তফার ছেলে কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮), অশ্বদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নিরঞ্জনপুর সামছুল হকের বাড়ির মজিবুল হকের দুই ছেলে সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) এবং মহিবুল ইসলাম আসিফ (২৫)।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্রীপুর এলাকার মোশারফ হোসেন ফরহাদের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ও কাঠের দরজা ভেঙে ৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন, লকেট ও আংটি, একটি রুপার ব্রেসলেট, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন ফরহাদ বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে গঠিত বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্ত করে।
গত ২ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা থেকে বাকের হোসেন ওরফে অনু (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
একই দিন বিকেলে নোয়াখালীর দরবেশপুর এলাকা থেকে কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮) এবং পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকা থেকে সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) ও মহিবুল ইসলাম আসিফ (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সাইদুল হকের কাছ থেকে এক হাজার টাকার দুটি নোট ও ৫০০ টাকার ৭৪টি নোটসহ মোট ৩৯ হাজার টাকা এবং একটি লোহার স্টিক উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া টাকা ডাকাতির ঘটনায় তার ভাগে পাওয়া অর্থ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, ডাকাত দলে মোট আটজন সদস্য ছিল। ডাকাতির আগে তারা সাইদুল হকের একটি প্রকল্পে জড়ো হয়ে পরিকল্পনা করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতি সংঘটিত করে।
পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন আরও জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধেই ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে বাকের হোসেনের বিরুদ্ধে ৩টি, কোরবান আলীর বিরুদ্ধে ১২টি, সাইদুল হকের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মহিবুল ইসলাম আসিফের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি কোরাবারি ও একটি ভাঙা তালাও উদ্ধার করেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের ডাকাতির মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।