রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান এক বছর ১১ মাস অর্থাৎ ২৩ মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িত ছিলো সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পটপরিবর্তনের পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হতে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. শহিদা আক্তার বানু ২৫ আগস্ট হতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আ.ত.ম মকছুদার রহমানকে (দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন রংপুরের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান। মাকছুদার রহমান ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল অবসরে গেলে কিছুদিন সিনিয়র শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ প্রতিষ্ঠানটির অফিস কক্ষে সিনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ চলতি বছরের ১৮ মে এক পত্রের মাধ্যমে ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ হতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে দায়িত্বে পুনরায় বহাল করেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওই পত্র অনুযায়ী গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার স্মারকমূলে অধ্যক্ষ শাহজাহান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় উক্ত শিক্ষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয়পদে বহাল হওয়ায় অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বীয়পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মোস্তফা জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি।
তবে ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা স্কুলের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের দাবি, অধ্যক্ষ শাহজাহান প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত অবস্থায় আছেন। কোন মিটিংয়েই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাকডেটে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে বরখাস্ত দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো তাকে পুনর্বহাল করেছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ। ম্যানেজিং কমিটির মতামত না নিয়ে একক ক্ষমতাবলে তিনি অধ্যক্ষ শাহজাহানকে পুনর্বহাল করেছেন।
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করেই অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত বেতন সাবমিট করে নাই। কোনো কারণ ছাড়াই বেতন বন্ধ করে দিয়ে এটিকে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি অধ্যক্ষ শাহজাহান।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের সারে তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা স্বেচ্ছায় ছুটি ছাড়াই আসেনি প্রতিষ্ঠানে। ক্লাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাড়িতে চলে গেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, গত তিন চার মাস থেকে স্কুলে ক্লাস ভালভাবে হচ্ছে না। আমরা শুনেছি আমাদের যে অধ্যক্ষ রয়েছেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি তো গত দুই বছর থেকেই স্কুলেই আসে না। শিক্ষকরাও আসে, আসে না।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, অনেকে উপবৃত্তির টাকা পেলেও আমরা উপবৃত্তির টাকা পাইনি। এজন্য স্যারদের কাছে গিয়েছিলাম। তারা বলছেন কলেজের অধ্যক্ষ পাসওয়ার্ড নিয়ে রাখার কারণে তারা সাবমিট করতে পারে নাই। আর অধ্যক্ষ স্কুলে আসে না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জুলি বলেন, অধ্যক্ষ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক গত দুই বছর থেকে প্রতিষ্ঠানে আসেন না। স্যার ম্যাডাম এর যখন যার ইচ্ছা আসে যায় তেমন একটা ক্লাস হয় না আমাদের তাই আমরাও দুপুর হলেই চলে যাই। অনেকে আবার স্কুলেই আসে না।
সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ বলেন, ডিসি অফিসের মিটিংয়ে আমরা যখন যাই। তখন এডিসি স্যার উপস্থিতির স্বাক্ষর নেন। দুই একটা কথা বলি মিটিং শেষ করেন। পরবর্তীতে রেজুলেশনে উনি কি লেখেন, না লেখেন আমরা কিছুই জানি না। যে ১৬ তারিখের মিটিংয়ের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে তারিখে গভর্নিং বডির কোন মিটিং হয়নি। তার আগে ১২ তারিখ মিটিং হয়েছে। কিন্তু সেদিন কোনো ডিসিশন হয়নি। অধ্যক্ষকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, কবে বহাল করা হয়েছে আমরা কিছুই জানি নাহ।
সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, অধ্যক্ষের বরখাস্ত হওয়া এবং বহাল হওয়ার বিষয়টি আমরা জানি না। মিটিংয়ের পরে কি লিখেছে সেটাও জানি না।
সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ শাহজাহান স্যার এখনো অনুপস্থিত। উনি আসেন না। উনাকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান বলেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর মিনিস্ট্রি অডিটের সময় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চলতি বছরের ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে পাঠানো এক পত্রে জানতে পারি আমাকে অব্যাহতি প্রদান করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এরপরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করে অনুপস্থিত থেকেই এমপিওসহ সকল ধরনের পাসওয়ার্ড নিজের কাছে নিয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান আমার ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও বেতন সাবমিট করে নাই।
গত ২ মাস থেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার বেতন বন্ধ করে রাখছে অনুপস্থিত থাকা অধ্যক্ষ। আজ পর্যন্ত আমি জানি না কি কারণে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমি কোন সমাধান পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও অনুপস্থিত অধ্যক্ষের কাছে পাসওয়ার্ড থাকায় ষষ্ঠ, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ফরম যথাসময়ে সাবমিট করতে না পারায় ২০০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হয়েছে। পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পরে একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুপস্থিত অধ্যক্ষ শাহজাহান সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের নামে একটি নোটিশ ইস্যু করে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে আসছেন না। ক্লাসগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না গত দুই মাস থেকেই।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। মোস্তফা জামান মুকুল মাস্টার হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখে। সেখানে আমার আস্থাভাজন কোনো লোক নেই। আমি চাকরি করি, সবাই আমার লোক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান মুকুলের বেতন কেনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন আমার বিলটা বন্ধ ছিলো, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বিল প্রদানের আদেশ প্রদান করার পরেও আমার বিল না করায় মন্ত্রণালয় মোস্তফা জামান মুকুলের বিল বন্ধ করে দিছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কেন হলো না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মোস্তফা মাস্টার উপবৃত্তির ফরম তুলে নিজের কাছে রাখায় উপবৃত্তি ফরম সাবমিট করা সম্ভব হয়নি। এজন্য বাচ্চাদের উপবৃত্তি হয়নি। এখানে আমার কোন অপরাধ নেই। প্রতিষ্ঠানটা নষ্ট করি ফেলছে মুকুল মাস্টারসহ কিছু স্থানীয়রা।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন জানান, সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনার জন্য দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে স্বীয় পদে বহাল করা হয়। যদি প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে থাকে সেটি আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তাকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিবো। অবশ্যই নিয়মিত অফিস করতে হবে।
এনায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন উপবৃত্তি পায়নি। এর পিছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল জানান, আমি কয়েকদিন থেকে এডিসি রাজস্ব স্যারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আগের এডিসি স্যার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু বলতে পারতো। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যায়নি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস আগে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাস হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে, ইনশাআল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আমার অবস্থান থেকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। এছাড়া আমি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বলতে চাই, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী প্রত্যেক জুলাই যোদ্ধার বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেব।
তিনি আরও বলেন, 'সবার আগে বাংলাদেশ'—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যাতে কোনোভাবেই অন্যের হাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আহত জুলাই যোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়া হয়েছে
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরার পৈত্রিক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মাগুরা সদর উপজেলার কেশব মোড়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির দক্ষিণ পাশের লোহার গেটের ওপরের অংশ লক্ষ্য করে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। আগুন ধরার সঙ্গে সঙ্গে নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। ফলে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাড়ির জানালার কয়েকটি কাচ ভেঙে গেছে। এতে কেউ হতাহত হননি। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বাড়ির লোহার গেটের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়েছিল।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটি পেট্রোল বোমা কিনা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
প্রতিবেশী আহসান হাবিব বলেন, “কয়েকজন যুবক এসে ঢিল দিয়ে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। পর পর কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পরে বাড়ির লোহার গেটের ওপরের অংশে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তা নিভিয়ে ফেলেন। অবশ্য এ সময় সাকিবের পরিবারের লোকজন ওই বাড়িতে ছিল না।”
তিনি বলেন, “বাড়িটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর। ওই যুবকরা গেইট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভাঙতে পারেনি। ৫ অগাস্টের পর থেকে ওই বাড়িতে শুধু একজন কেয়ারটেকার আছেন। হামলার পর যুবকরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সন্ধ্যায় একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাকিব আল হাসান। লাইভ শেষ হওয়ার পর পরই কয়েকজন যুবক এসে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।”
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিলো। তবে কিছুক্ষণ আগে পুলিশ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলবুলের বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। ৪ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে দুর্বৃত্তরা ২টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে।
এসময় যুবদল নেতা পরিবারের সদস্যদের সাথে শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলো। দুর্বৃত্তদের ১টি পেট্রোল বোমা বসত ঘরের গ্রিলে লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনার পর পর খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে বুধবার সকালে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ যোবায়ের আহমেদ, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোঃ বাছেদ, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বাবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি শেষে সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত প্রায় ১টার দিকে শয়নকক্ষের বাইরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে সেভেন আপের কাঁচের বোতল সদৃশ দুইটি পেট্রোল বোমা পড়ে থাকতে দেখেন। রাতেই থানা পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে এএসপি সার্কেল আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত এলাকাবাসীকে আতংকিত না হওয়ার আহ্বান জানান। তদন্তপূর্বক দোষীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করেন।
এঘটনায় যুবদল নেতা ফরিদুল আলম বুলু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে উপজেলার ভাকোয়াদী গ্রামে উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানার বসতবাড়িতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সবকিছু ছাই করে দেয়। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্কে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি ও তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জুলাই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বিভিন্নচ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জুলাই শহীদ পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটে জনগণের প্রদত্ত রায় দ্রুত কার্যকর করা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে নাটোরে লালপুরে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টায় লালপুর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে রামকৃষ্ণপুর চিনিবটতলা থেকে একটি বিশাল গণমিছিল শুরু হয়ে লালপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীসুন্দরী হাইস্কুল মাঠে এসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এসময় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড: মাসুদ রানা, লালপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ মহসিন আলম, নাটোর জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য সাজ্জাদুর রহমান উজ্জল, লালপুর উপজেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওঃ হামিদুল ইসলাম, নাটোর জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদ হাসান, লালপুর পশ্চিম শাখা শিবিরের সভাপতি রাকিবুল ইরলাম রাহী, পূর্ব শাখার সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মিসকাত।
এসময় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এসে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সকল গণহত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় যাদি বাস্তবায়ন করা না হয় তবে আবার নতুন করে জুলাই সংগঠিত হবে। এসময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্টের বিদায়ের পর একটি পক্ষের গায়েবি মামলা, মামলা নিয়ে ব্যবসা ও মূল অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের অসম্মানিত করেছে। এটা নিয়ে আমাদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি সরকার সঠিক পথে আগাচ্ছে, মূল অপরাধীদের রেখে চার্জশিট দিচ্ছে।
বুধবার সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে তারাই এখন দেশপ্রেমের দীক্ষা দিচ্ছে। তারাই জনগণকে শিখাচ্ছে দেশপ্রেমের বয়ান।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি খুব ব্যাথিত জুলাই যোদ্ধারা। এতো সকালে আমরা তাদের ভুলে যেতে বসেছি। আমরা জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দিতে পারিনি। সকল জুলাই শহীদ, আহত যোদ্ধা, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও আমি জুলাইকে বিশ্বাস করি, স্মরণ করি, যেমনিভাবে বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে। ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বাস করি জুলাই যুদ্ধ আমাদের অর্জন, জুলাই যুদ্ধ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অর্জন৷
এর আগে নানা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি টাউনহল থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের বাবা শাহীন মিয়াসহ জুলাই যোদ্ধা, আহত ও নিহতেদের পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা তুলে ধরতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
একাত্তরে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এখন তাদের কাছ থেকে যুদ্ধের দীক্ষা নিতে হচ্ছে