• প্রকাশ : শনিবার ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৩:০৯ এএম

কারমাইকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর . মুহাম্মদ রেজাউল হক আর নেই।

 

আজ শনিবার ( ফেব্রুয়ারী) সকাল টায় রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস বার্ধক্য জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক আবিদ করিম মুন্না। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র আর দুইকন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 

এদিকে শিক্ষাবিদ প্রফেসর . মুহাম্মদ রেজাউল হকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রংপুরের সাহিত্য সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর চলে যাওয়ায় শুধু একটি প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এক অমূল্য দিশারী হারালো। তাঁর সৃষ্টিশীলতা, মানবিকতা সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব রংপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রজন্মের নেতৃত্বদানকারীরা।

 

রংপুরের আলোকিত মানুষ প্রফেস . মুহম্মদ রেজাউল হক ১৯৩৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। রেজাউল হকের জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে চিলমারীতেই। ১৯৫০ সালে চিলমারী ইংলিশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে ভর্তি হন কারমাইকেল কলেজে। ১৯৫২ সালে কারমাইকেল থেকে আইএসসি পাশ করলেও ফলাফল খুব একটা ভালো করতে পারেনি। এরপরে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগে। এখান থেকে স্নাতক সন্মানে দ্বিতীয় শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি সরকারিভাবে পিএইচডির জন্যে মনোনীত হন তাঁর গবেষণার কাজটি ভারতের কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন করেন তিনি।

 

প্রফেসর . মুহম্মদ রেজাউল হক বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৫৮ সালে থেকে সিলেট শহরের বেসরকারি মদনমোহন কলেজ থেকে।এরপর সরকারি কলেজে তাঁর সুদীর্ঘ পথচলা শুরু হয় ১৯৬১ সালের আগস্ট ঢাকা বিজ্ঞান কলেজে যোগদানের মধ্য দিয়ে। পরে তিনি ১৯৬৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৭ এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়ে কারমাইকেল কলেজে ছিলেন। পিএইচডির পর তিনি ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় শহর রংপুরে। রংপুর কারমাইকেল কলেজে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ছিলেন। ১৯৮৪ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। অধ্যক্ষ ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজেরও। ১৯৯০ সালে অধ্যক্ষ হিসাবে ফিরে আসেন কারমাইকেল কলেজে এবং এখান থেকেই ১৯৯১ সালে অবসরে যান। কর্মজীবনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন। তিনি সেসব উপেক্ষা করে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর প্রিয় শিক্ষকতা পেশায়।

 

তিনি সময় পেলেই লেখালেখি করতেন। ১৯৮৯ সালে বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর গবেষণা কাজটি গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থশোকাতুর সংগতপ্রকাশিত হয় বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় রংপুরের আইডিয়া প্রকাশন থেকে বের হয়। এছাড়া তাঁর আরো অনেক প্রবন্ধ, নিবন্ধ কবিতা বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রথম লেখা কবিতা যা তিনি ক্লাস এইটে লিখেছিলেন তার নাম ছিলহঠাৎ

 

রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন প্রফেসর . মুহাম্মদ রেজাউল হক। যার আহ্বানেরংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদগঠিত হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিতি পায়। তিনি অনেক সমাজসেবী সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন।

 

আলোকিত এই মানুষটা একজন আদর্শ অভিভাবক ছিলেন। তাঁর এক ছেলে দুই মেয়ে। প্রকৌশলী ছেলে আছেন একটি বৃহৎ বেসরকারি কোম্পানিতে। বড় মেয়ে স্বামীসহ শ্রীলঙ্কায়। আর ছোট মেয়ে পেশায় চিকিৎসক, আছেন বারডেমে। তিনি ছিলেন একজন সফল শিক্ষক, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, দক্ষ সংগঠক সমাজসেবক।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সোমবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীর মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।


গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত  ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল।


ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এসময় ক্যাম্পাস ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল। তাদের হাতে ছিল লাঠি ও ধারালো অস্ত্র। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে সহস্রাধিক গজ দূরে দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান করছিল।


প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। প্রদর্শনীতে বিচারিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে জামায়াত নেতাদের ছবি ও ‘সাকা চৌধুরীর বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ লেখা ব্যানার সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।


বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক বলেন, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের যেসব ছবি আমরা লাগিয়েছি, ছাত্রদল সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বলে। আমরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। কিন্তু তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা না বলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের হামলায় তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে আবার লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা হলে তাঁরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি খালেদা জিয়ার ছবির পাশে টাঙানো হয়েছিল। আমরা সেগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ ও ধাক্কাধাক্কি করে। এতে আমাদের একজন আহত হন।


তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগতদের নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আমরা আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না।


প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, মারামারির ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।


উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, জুলাই যেন আমরা ভুলে না যাই। আর কোনো শিক্ষার্থী যেন আহত না হয়। এ জন্য সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি এই ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন এখানে কর্মসূচি করতে আসে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আবেদন করা হলে সেই আবেদনের ভিত্তিতে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়।


মো. ইমন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘পিস্তল’ দেখিয়ে স্ত্রীকে ভয় দেখানো ও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 


এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ‘পিস্তল’ দেখিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের দায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ইমন ‘পিস্তল’ দেখিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে নিজের টিকটক আইডিতে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে এলে পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ভিডিওতে দেখানো পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, উদ্ধার করা বস্তুটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়; এটি একটি ‘পিস্তলসদৃশ লাইটার’।


অভিযোগ আছে, এই লাইটার দেখিয়েই ইমন এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করতেন এবং স্ত্রীকে নিয়মিত ভয় দেখিয়ে যৌতুক দাবি করতেন। এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা (২২) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, টিকটকে অস্ত্রসদৃশ লাইটার দেখিয়ে তিনি ভিডিও প্রচার করতেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪০ এএম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর বাফলা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিস।  


সোমবার(০৩ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ব্রীজে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জালগুলো ভস্মিভূত ও জরিমানা করা হয়। উদ্ধারকৃত জালের মূল্য আনুমানিক ২০ লক্ষ টাকা।


উপজেলা মৎস্য অফিসার আব্দুস সালাম(অ:দা:) জানান, ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর বাফলা পশ্চিম পাড়া হতে উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে চেংমারী ব্রীজ এলাকায় জালগুলো ভস্মিভূত করা হয়েছে। একই সাথে জালের মালিক সোলায়মান গণির ৫০ হাজার টাকা ও ইউনুছ আলীর ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান।


অর্থদন্ডপ্রাপ্তরা হল রণচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর বাফলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের তাহেরের ছেলে সোলায়মান গণি ও আব্দুল হামিদের ছেলে ইউনুছ আলী।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান বলেন, প্রায় ২০ লক্ষ টাকার চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করে দুই জনের ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে উদ্ধারকৃত জাল ভস্মিভূতও করা হয়। জীব বৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছ রক্ষায় চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা কর্তৃক সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে স্কুল ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (৩-আগস্ট) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুখ্য অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (উপমহাব্যবস্থাপক) মোহাম্মদ ইউছুফ খান। 


উপস্থিত ছিলেন মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, উপস্থিত ছিলেন বিকেবি  ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপক লোকমান হোসেন (এজিএম) ও সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীবৃন্দ। 




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুখ্য অঞ্চলের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (উপমহাব্যবস্থাপক) মোহাম্মদ ইউছুফ খান বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর। আজ যারা ছোট ছোট সঞ্চয় করছে, তা একদিন দেশের বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।


তরুণ প্রজন্মকে অর্থনৈতিকভাবে সচেতন করে তুলতে এই আয়োজনটি প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা জমানো যেকোনো মাটির ব্যাংক বা ঘরে টাকা রাখার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। সন্তানদের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে সঞ্চয়ী হতে শিক্ষকরা ক্লাসে এবং অভিভাবকরা ঘরে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। 


তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাজেট এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রাথমিক শিক্ষা সন্তানদের দেওয়া জরুরি। তিনি এই চমৎকার ক্যাম্পেইনটি সফলভাবে আয়োজন করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং স্কুল প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিরতন করা হয়।


নওগাঁয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ পিএম

নওগাঁয় অবৈধভাবে সুগন্ধি চাল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির দায়ে দুই চালকল মালিকের জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে শহরের ইয়াদ আলীর মোড় ও জবার মোড়ে অভিযান চালিয়ে বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিকের বিরুদ্ধে এই জরিমানা করা হয়।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় নওগাঁ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিপণন কর্মকর্তা সোহাগ সরকার ও জেলা পুলিশের একটি দল তার সঙ্গে ছিলেন।


রুবেল আহমেদ বলেন, “বাজারে সুগন্ধি ও আতপ চালের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চাল মজুতের সঠিক তথ্য দিতে না পারা এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখায় বেলকন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ২০ হাজার টাকা ও টি কে অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।”


তিনি বলেন, “বাজারে সুগন্ধি চালের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে ১৫০-১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০-২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মিল মালিক ১৫ দিনের বেশি চাল মজুত রাখতে পারবেন না। কিন্তু এই দুটি মিল কর্তৃপক্ষ তাদের মজুত করা চাল কত দিনের, সে বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ার অজুহাতে মিলগেটে চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


শহীদ মিনহাজ আহমদ ও মিনহাজের মা-বাবা

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

সিলেটে জুলাই আন্দোলনে নিহত মিনহাজ আহমদ হত্যার বিচার নিয়ে দীর্ঘ সুত্রিতা দেখা দিয়েছে। মিনহাজের বৃদ্ধ পিতা তার পুত্র হত্যার বিচার চান। তিনিসহ মিনহাজের মাতা পুত্রকে হারিয়ে পাগল প্রায়। পুত্র হত্যার বিচার দেখতে চান মিনহাজের মা-বাবা, “আমার ছেলের কোন অপরাধ ছিল না। সে গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে গুলিবিদ্ধ হওয়া আহত লোকজনের উদ্ধার করতে গিয়ে সেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। আমরা আমার পুত্র হত্যার বিচার দেখে মরতে চাই।”-এমন কথাগুলো বলেন সিলেটের গোলাপগঞ্জে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শহীদ মিনহাজ আহমদের মা সিতাই বেগম। 


ছেলে মিনহাজ আহমদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ মিনহাজ আহমদ পেশায় ছিলেন সিএনজিচালিত (অটোরিকশা) মেকানিক। এই ঘটনার ২বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই বলে তারা দাবি করেন।


বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উপজেলার পৌর শহরে শত শত ছাত্র-জনতার মিছিলে যখন উত্তাল, ঠিক তখনই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন অসংখ্য মানুষ। আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন সিএনজি (অটোরিকশা) ওয়ার্কশপের মেকানিক মিনহাজ আহমদ। তখন মুহুর্মূহ গুলি ছোড়ার কারণে তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শহীদ মিনহাজ আহমদের বাড়ি উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামে।

 

এ ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। শুরুও হয়নি বিচারকার্য। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন মিনহাজ আহমদের পরিবার।