নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে দিনাজপুরে প্রতিবাদ সভা
ভুয়া, ষড়যন্ত্রমূলক ও বানোয়াট মামলায় দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদ এবং তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এসব সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, কতিপয় আমলার বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করায় এক ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি চাঁদাবাজির মামলায় জামিন না দিয়ে সিনিয়র একজন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে যা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়।
তারা বলেন, একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করা সংবাদপেশার প্রতি চরম অবমাননা। এটি কণ্ঠরোধের একটি অন্যায় প্রয়াস, যা গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকরা একযোগে ঘোষণা দেন, ‘সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের কলম থামবে না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে। সত্যের পক্ষে কলম কখনও থামে না এই বিশ্বাসেই সাংবাদিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধ।’
অনতিবিলম্বে নওরোজ সম্পাদককে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। তারা বলেন, সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীকে মিথ্যা মামলায় যেভাবে নিপীড়ন করা হচ্ছে তাতে সাংবাদিকের তথ্য অধিকারই খর্ব নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতার অন্তরায়। এভাবে কালাকানুন করে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং সাংবাদিক নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকলে গণমাধ্যম তার অস্তিত্ব হারাতে বসবে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-
কক্সবাজারে প্রতিবাদ সভায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
আবদুল্লাহ খাঁন, কক্সবাজার থেকে জানিয়েছেন, অবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভায় বক্তারা নওরোজ সম্পাদকের মুক্তি দাবি করেন। দ্রুত মুক্তি না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এ ঘটনাকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকিস্বরূপ’ উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীরকে নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।
প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আজাদ। সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এম আর খোকন, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আমানুল হক বাবুল, ভোরের আকাশ জেলা প্রতিনিধি ফয়সাল রিয়াদ, শাহ আমানত জেলা প্রতিনিধি অন্তর দে বিশাল, কক্সবাজার বাণীর স্টাফ রিপোর্টার মো. ফারুক, সাংবাদিক আশরাফ বিন ইউসুফ, মো আজিম, জাহাঙ্গীর, ফেরদৌস আলম প্রমুখ।
কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন
মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় নওরোজ সম্পাদককে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে কিশোরগঞ্জে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা ও কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিটির আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক নওরোজ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিটের সভাপতি ফাইজুল হক গোলাপ, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জুয়েল, কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম নজরুল, দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাজন আহমেদ পাপন, দৈনিক কিশোরগঞ্জ এর নিউজ এডিটর রেজাউল করিম, দৈনিক মুক্ত খবরের জেলা প্রতিনিধি রঞ্জন মোদক রনি, দৈনিক লাল সবুজের দেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি শেখ আল আজহার, ফয়জুল কবির ভুঁইয়া, দৈনিক নওরোজের হোসেনপুর প্রতিনিধি এসকে শাহীন নবাব, দৈনিক নওরোজের তাড়াইল প্রতিনিধি মুজিবুল হক চুন্নু, দৈনিক সরেজমিন বার্তার জেলা প্রতিনিধি আজিজুল হক ফাহিম, আজকের খবরের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান রিপন, কালের নতুন সংবাদ এর বার্তা সম্পাদক সোহেল রানা, স্টাফ রিপোর্টার রিতু আক্তার, রোজিনা আক্তার পলি, এমদাদুল হক, একুশে সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার সোহরাব হোসেন, জেলা প্রতিনিধি নার্গিস আক্তার মুন্নী, দৈনিক সারাদিন-এর স্টাফ রিপোর্টার আতাউর হাসান দিনার, ঢাকার ডাক জেলা প্রতিনিধি ও নাগরিক টিভির জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা শাওন, দিন প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান হানিফ প্রমুখ।
দিনাজপুরে প্রতিবাদ
নওরোজ পত্রিকার সম্পাদককে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে দিনাজপুরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে সাংবাদিক, সংস্কৃতিজন ও নওরোজ পত্রিকার পাঠক সমাজের ব্যানারে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেন নওরোজ সাহিত্য ও পাঠক ফোরাম, দিনাজপুর এবং জাতীয় রিপোর্টার্স ক্লাব কল্যাণ ট্রাস্ট, দিনাজপুর জেলা শাখার সদস্যরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন নওরোজ সাহিত্য ও পাঠক ফোরামের সভাপতি এবং চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার শাহ্ আলম শাহী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নওরোজ পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার ও সাপ্তাহিক দিনাজপুর এক্সপ্রেস পত্রিকার সম্পাদক এবং জাতীয় রিপোর্টার্স ক্লাব কল্যাণ ট্রাস্ট, দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক বাবু আহমেদ বাব্বা ও সদস্য সচিব মো. আইনুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইফুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, আল মনসুর, জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুল হক তুষার, ইমরান হোসেন, ফারজানা মনি, মো. অনিক, মো. ভীম মো. রাজু, মো. হাবলু, মো. আতিউর রহমানসহ দৈনিক নওরোজ পত্রিকার শুভানুধ্যায়ীরা। বক্তারা বলেন, একজন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করা সংবাদপেশার প্রতি চরম অবমাননা। এটি কণ্ঠরোধের একটি অন্যায় প্রয়াস, যা গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে নিন্দা-উদ্বেগ
জাতীয় দৈনিক নওরোজ পত্রিকার সম্পাদক শামসুল হক দুররানীকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা-উদ্বেগ জানিয়েছে প্রেসক্লাব পীরগঞ্জ। পৌর শহরের চৌরাস্তায় প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম রব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান মানিক অবিলম্বে সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীর নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নিপীড়ন সাংবাদিকের তথ্য অধিকারই খর্ব নয়, এটি মুক্ত সাংবাদিকতায় অন্তরায়।
এ ঘটনাকে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হুমকিস্বরূপ’ উল্লেখ করে স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সাংবাদিক শামসুল হক দুররানীরকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১–এর বিচারক আব্দুল মান্নানের আদালতে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন দেন।
গত ৩০ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলাটি করেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল।
ওই মামলায় আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে, ৩০ জুলাই মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহর কয়েক দফা আটকে দেয় পুলিশ। পরে প্রায় চার ঘণ্টা পর বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে দলের নেতারা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, আগের দিন হবিগঞ্জ শহরে দলের পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। ওই ঘটনায় কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। এনসিপির অভিযোগ ছিল, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তবে জেলা পুলিশ বলেছিল, এনসিপি ১৪৪ ধারা অমান্য করে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কামাইছড়া এলাকায় অবস্থান নেওয়া হয়।
রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান এক বছর ১১ মাস অর্থাৎ ২৩ মাস থেকে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে দায়িত্ব পালন করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িত ছিলো সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পটপরিবর্তনের পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট হতে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছা. শহিদা আক্তার বানু ২৫ আগস্ট হতে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতে ওই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আ.ত.ম মকছুদার রহমানকে (দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন রংপুরের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুল মান্নান। মাকছুদার রহমান ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল অবসরে গেলে কিছুদিন সিনিয়র শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর সিরাজুল ইসলাম দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ প্রতিষ্ঠানটির অফিস কক্ষে সিনিয়র শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ চলতি বছরের ১৮ মে এক পত্রের মাধ্যমে ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখ হতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা জামানকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে দায়িত্বে পুনরায় বহাল করেন। ওই পত্রে উল্লেখ করা হয় গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ওই পত্র অনুযায়ী গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখার স্মারকমূলে অধ্যক্ষ শাহজাহান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ১৮০ দিন অতিবাহিত হওয়ায় উক্ত শিক্ষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীয়পদে বহাল হওয়ায় অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারপূর্বক স্বীয়পদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং মোস্তফা জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরে পাঠানো হয়নি।
তবে ম্যানেজিং কমিটিতে থাকা স্কুলের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের দাবি, অধ্যক্ষ শাহজাহান প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন থেকে অনুপস্থিত অবস্থায় আছেন। কোন মিটিংয়েই তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাকডেটে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে বরখাস্ত দেখিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমতো তাকে পুনর্বহাল করেছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ। ম্যানেজিং কমিটির মতামত না নিয়ে একক ক্ষমতাবলে তিনি অধ্যক্ষ শাহজাহানকে পুনর্বহাল করেছেন।
এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করেই অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানের ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত বেতন সাবমিট করে নাই। কোনো কারণ ছাড়াই বেতন বন্ধ করে দিয়ে এটিকে মন্ত্রণালয়ের আদেশ বললেও কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি অধ্যক্ষ শাহজাহান।
অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের সারে তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অধ্যক্ষ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা অফিস কক্ষে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউবা স্বেচ্ছায় ছুটি ছাড়াই আসেনি প্রতিষ্ঠানে। ক্লাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাড়িতে চলে গেছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী বলেন, গত তিন চার মাস থেকে স্কুলে ক্লাস ভালভাবে হচ্ছে না। আমরা শুনেছি আমাদের যে অধ্যক্ষ রয়েছেন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি তো গত দুই বছর থেকেই স্কুলেই আসে না। শিক্ষকরাও আসে, আসে না।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, অনেকে উপবৃত্তির টাকা পেলেও আমরা উপবৃত্তির টাকা পাইনি। এজন্য স্যারদের কাছে গিয়েছিলাম। তারা বলছেন কলেজের অধ্যক্ষ পাসওয়ার্ড নিয়ে রাখার কারণে তারা সাবমিট করতে পারে নাই। আর অধ্যক্ষ স্কুলে আসে না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার জুলি বলেন, অধ্যক্ষ ও সহকারি প্রধান শিক্ষক গত দুই বছর থেকে প্রতিষ্ঠানে আসেন না। স্যার ম্যাডাম এর যখন যার ইচ্ছা আসে যায় তেমন একটা ক্লাস হয় না আমাদের তাই আমরাও দুপুর হলেই চলে যাই। অনেকে আবার স্কুলেই আসে না।
সহকারী শিক্ষক কৃষ্ণ বলেন, ডিসি অফিসের মিটিংয়ে আমরা যখন যাই। তখন এডিসি স্যার উপস্থিতির স্বাক্ষর নেন। দুই একটা কথা বলি মিটিং শেষ করেন। পরবর্তীতে রেজুলেশনে উনি কি লেখেন, না লেখেন আমরা কিছুই জানি না। যে ১৬ তারিখের মিটিংয়ের কথা উল্লেখ করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে তারিখে গভর্নিং বডির কোন মিটিং হয়নি। তার আগে ১২ তারিখ মিটিং হয়েছে। কিন্তু সেদিন কোনো ডিসিশন হয়নি। অধ্যক্ষকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, কবে বহাল করা হয়েছে আমরা কিছুই জানি নাহ।
সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, অধ্যক্ষের বরখাস্ত হওয়া এবং বহাল হওয়ার বিষয়টি আমরা জানি না। মিটিংয়ের পরে কি লিখেছে সেটাও জানি না।
সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ শাহজাহান স্যার এখনো অনুপস্থিত। উনি আসেন না। উনাকে কবে বরখাস্ত করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা জামান বলেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর মিনিস্ট্রি অডিটের সময় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চলতি বছরের ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে পাঠানো এক পত্রে জানতে পারি আমাকে অব্যাহতি প্রদান করে অধ্যক্ষ শাহজাহানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এরপরে প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করে অনুপস্থিত থেকেই এমপিওসহ সকল ধরনের পাসওয়ার্ড নিজের কাছে নিয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান আমার ঈদুল আযহার উৎসব ভাতা ও বেতন সাবমিট করে নাই।
গত ২ মাস থেকে কোন কারণ ছাড়াই আমার বেতন বন্ধ করে রাখছে অনুপস্থিত থাকা অধ্যক্ষ। আজ পর্যন্ত আমি জানি না কি কারণে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এবিষয়ে আমি উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমি কোন সমাধান পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও অনুপস্থিত অধ্যক্ষের কাছে পাসওয়ার্ড থাকায় ষষ্ঠ, নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ফরম যথাসময়ে সাবমিট করতে না পারায় ২০০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত হয়েছে। পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার পরে একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুপস্থিত অধ্যক্ষ শাহজাহান সিনিয়র শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের নামে একটি নোটিশ ইস্যু করে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়সহ সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে আসছেন না। ক্লাসগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে না গত দুই মাস থেকেই।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছি। মোস্তফা জামান মুকুল মাস্টার হাজিরা খাতা লুকিয়ে রাখে। সেখানে আমার আস্থাভাজন কোনো লোক নেই। আমি চাকরি করি, সবাই আমার লোক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান মুকুলের বেতন কেনো বন্ধ করে রাখা হয়েছে, প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন আমার বিলটা বন্ধ ছিলো, তখন মন্ত্রণালয় থেকে বিল প্রদানের আদেশ প্রদান করার পরেও আমার বিল না করায় মন্ত্রণালয় মোস্তফা জামান মুকুলের বিল বন্ধ করে দিছে। এখানে আমার কোন হাত নেই।
শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কেন হলো না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, মোস্তফা মাস্টার উপবৃত্তির ফরম তুলে নিজের কাছে রাখায় উপবৃত্তি ফরম সাবমিট করা সম্ভব হয়নি। এজন্য বাচ্চাদের উপবৃত্তি হয়নি। এখানে আমার কোন অপরাধ নেই। প্রতিষ্ঠানটা নষ্ট করি ফেলছে মুকুল মাস্টারসহ কিছু স্থানীয়রা।
রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন জানান, সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহজাহান চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনার জন্য দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে স্বীয় পদে বহাল করা হয়। যদি প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে থাকে সেটি আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তাকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। বর্তমানে অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কিনা এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিবো। অবশ্যই নিয়মিত অফিস করতে হবে।
এনায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন উপবৃত্তি পায়নি। এর পিছনে কাদের গাফিলতি রয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুরের বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল জানান, আমি কয়েকদিন থেকে এডিসি রাজস্ব স্যারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আগের এডিসি স্যার প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু বলতে পারতো। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
বহিষ্কারের ৯১ দিন পর শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সিদ্ধান্তক্রমে দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল কলেজ শাখা ছাত্রদলের এ তিন নেতাকে বহিষ্কার ও সভাপতির পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। পরে সভাপতির পদ পুনবহাল করলেও এ তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। ওইসময় তিনজনকে দলীয় সকল কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সবশেষ ৯১ দিন পর গতকাল শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন এর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর সাংগঠনিক সকল কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের আর কোন বাধা রইলো না। এখন থেকে দলীয় সকল কার্যক্রমে সংস্পূর্তভাবে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে যুবদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরের দিকে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম। এর আগে, শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বসুরহাট বাজারের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন, সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো.আনোয়ার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ওমর ফারুক, যুবদল নেতা শরীফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ওসমান গনি শিহাব, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি এনায়েত উল্লাহ রিফাত এবং শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদ।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে স্থানীয় পিএল একাডেমি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধের জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় শিবিরকর্মী নজরুল ইসলাম তামজিদকে যুবদলের নেতাকর্মীরা আটক করেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত সোয়া ৮টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোস্তফা রাজু ভূঁইয়া শিবিরের কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে ডাকেন।
সিরাজপুর ইউনিয়ন জায়াতের আমির আবুল হাসেম বলেন, বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে রাত সোয়া ৮টার দিকে সিরাজপুর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মুজাহিদসহ কয়েকজন শিবির নেতাকর্মি দিনার দোকানের একটি চা দোকানে যান। তাৎক্ষণিক সেখানে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ফারুক ও সিএনজি চালক বেলালের নেতৃত্বে শিবিরের নেতাকর্মিদের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে আমি চলে আসার পর রাত পৌনে ১০টার দিকে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কার্যালয় শুরু থেকেই বন্ধ ছিল এবং বিএনপির লোকজন নিজেরাই কার্যালয় ভাঙচুর করে শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
তবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আফতাব আহমেদ বাচ্চু অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবির বহিরাগত লোকজন এনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দিনার দোকান এলাকায় বিএনপির কার্যালয় ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ফারুক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির দুজন আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
নওগাঁয় সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। শহরের নওজোয়ান মাঠে জেলা প্রশাসন ও জেলা বন বিভাগ এর আয়োজন করে। রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় সেখানে আয়োজিত সমাবেশে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।
এসময় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুনিরুল ইসলাম পিপিএম, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, নওগাঁ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিভিন্ন নার্সারি মালিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তির মোড় সংলগ্ন নওজোয়ান মাঠে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও সবুজায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গাছের চারা নিয়ে মোট ৪৪টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে। আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত টানা সাত দিন এই বৃক্ষমেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সংগৃহীত ছবি
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘জিনের কথায়’ জীবিত ভেবে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে আবার দাফন করা হয়।
গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে মেলান্দহ উপজেলার চর মাহমুদপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে মেলান্দহ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন। মৃত ৬৫ বছর বয়সী হালিমা খাতুন ওই গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী।
নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার রাত ১টার দিকে হালিমা খাতুন মারা যান। গতকাল শনিবার সকাল ৮টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তারা জানান, হালিমা খাতুনের মেয়ে সুলতানা আক্তারের ওপর ‘জিনের আছর’ রয়েছে। দাফনের পর তিনি দাবি করেন, ‘জিন’ তাকে জানিয়েছে তার মা জীবিত আছেন।
পরে পরিবারের লোকজন রাত ৯টার দিকে কবর থেকে হালিমার লাশ উত্তোলন করে প্রথমে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জামালপুর শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাতেই মরদেহ আবার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
চর মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, “হালিমা খাতুনের লাশ কবর থেকে লাশ তোলার খবর শুনে কয়েক গ্রামের হাজার হাজার তার বাড়িতে ভিড় করে। পরে মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আবারও তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর রাতেই তাকে আবার দাফন করা হয়।”
তিনি বলেন, “যার কথায় লাশ তোলা হয়েছে, তিনি ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’। এভাবে কবর থেকে লাশ তোলা ঠিক হয়নি।”
ওসি ওবায়দুর রহমান বলছেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি বা লিখিতভাবেও কিছু জানায়নি।