ছবি : সংগৃহীত
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কয়েকশ নারী-পুরুষ। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় তিন ঘন্টা পর পরিস্থিতি শান্ত করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী শহরের নীলগঞ্জ এলাকার আব্দুস সালাম জানান, শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসূলের বাড়ি সংলগ্ন আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে সোমবার সকালে এমপির মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহজাবিন অনন্যা মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীকে মারধর করেন। সোমবার রাতে উভয়পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে মীমাংসা হয়। মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খোলার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ফের বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভকারী রবিউল অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হলে দ্বিতীয় তলা থেকে গরম পানি ছোড়া হয়। এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের বিচারের দাবিতে তারা দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান করেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এমপি গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ডিনা বলেন, তার মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে বিভিন্ন সময় শিশুরা গিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জানতে সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি।
এদিকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান জানান, বেলা একটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পুলিশ উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করেছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের গনিপুর এলাকার চান মিয়া বাড়ির চাপরাশিয়া রাস্তার পাশে মাছের প্রজেক্টের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ৩ থেকে ৪ দিন পানিতে থাকায় হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে গেছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করায় সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল চক্রান্ত ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা,মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাভারে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজাকে গ্রেপ্তারসহ বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এসআই নিয়ামত উল্লাহ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে তার ধারাবাহিক তৎপরতায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।অভিযোগ রয়েছে,চিহ্নিত অপরাধী, মাদক কারবারি ও সুবিধাবঞ্চিত স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী সংগঠিত হয়ে এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে এসআই নিয়ামত উল্লাহ বলেন,“আমি সবসময় আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করে আসছি।অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্ত শুরু করেছে।তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায় এবং আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন,“আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি,এমন কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করা হোক।”
এদিকে,এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনায় সাভার মডেল থানার সহকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সচেতন মহলের দাবি,দায়িত্বশীল ও অপরাধ দমনে সক্রিয় পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পরিকল্পিতভাবে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে কি না,তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
"খেলা হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ বড়মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় উৎসবমুখর মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করেই একটি সুস্থ, সচেতন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে জাতীয় নেতৃত্ব খেলাধুলার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেনকে রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর এত দর্শকে ভরা একটি গ্রামীণ মাঠ তিনি প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি বলেন, যারা খেলাধুলা করে তারা তুলনামূলকভাবে ধৈর্যশীল, দেশপ্রেমিক ও সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়। বর্তমান সময়ে তরুণদের মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরীর এ উদ্যোগকে তিনি একটি মডেল হিসেবে উল্লেখ করে দিনাজপুর জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, পিপিএম বলেন, মানুষের বিনোদনের পরিসর কমে যাওয়ায় অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকছে। খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে সমাজ থেকে মাদক অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। তিনি উপস্থিত সকলকে মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং বলেন, শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে মাদক নির্মূলে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান এবং বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বোচাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আহ্বায়ক মো. মোকসেদ আলী মঙ্গোলিয়া, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুমন চৌধুরী, সদস্য সচিব মো. রায়হান রুবেল, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহমুদুর রহমান ফেরদৌস, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হারেসুল ইসলাম, মো. জামাল উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. উজ্জ্বল, থানা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক, মো. আসাদুল চৌধুরী, যুবদল নেতা মো. ফাহীমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্যা মোছা. রাশেদা খানম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি বলেন, "যে যুবক মাঠে ঘাম ঝরায়, সে কখনো মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে যায় না।"অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে রংপুরের পীরগঞ্জ একাদশের মুখোমুখি হয় চিরিরবন্দরের রানীর বন্দর ফুটবল একাডেমি। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হওয়ায় খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় রানীর বন্দর ফুটবল একাডেমি, চিরিরবন্দর। বিজয়ী দলের গোলরক্ষক সাজু ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। মাঠে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বক্তব্য, দর্শকদের অংশগ্রহণ এবং সার্বিক আয়োজন পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয় থেকেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার খালগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গতকাল (২ আগস্ট) রবিবার উপজেলার সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটসংলগ্ন খালে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, নেট পাটা এবং পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ দখল অপসারণ করা হয়। ফলে খালগুলোতে যেমন স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে এনে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে পাশাপাশি পরিবেশেরও ভারসাম্য রক্ষা পাবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা প্রশাসনের বেশ তৎপরতা দেখা যায়।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বটিয়াঘাটা উপজেলার সকল খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং খালগুলোর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি এবং প্রতি রবিবার নতুন দুটি খালে অভিযান শুরু করবো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনে সপ্তাহজুড়ে এ সমস্ত অবৈধ দখল ও নেট পাটা উচ্ছেদ করা হবে। আজ এরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাচিবুনিয়া খাল, গজালমারী খাল ও সুরখালী গেটের খালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে” বলে জানান তিনি।
অভিযান পরিচালনাকালের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান, ভূমি অফিসের কানুনগো রিয়াজ উদ্দিন, সার্ভেয়ার মো. মাহতাব হোসেন, নাজির সাইফুল্লাহ, পেশকার প্রসেনজিৎ দাস এবং জলমা ভূমি অফিসের নায়েব মো. কামরুজ্জামান।এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সহ অনেকেই অভিযানে অংশ নেন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন যেকোনো অবৈধ স্থাপনা বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব খাল দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মাদারীপুরের শিবচরে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে টানাপড়েন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে উপজেলার সাংবাদিকদের অন্তত তিনটি গ্রুপ নিজেদের সংগঠনকে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ হিসেবে দাবি করছে। এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসএ টিভির প্রতিনিধি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপ, দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার প্রতিনিধি আবুল খায়ের খানের নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপ এবং দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি বিএম হায়দার আলীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপ পৃথকভাবে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করছে।
এর মধ্যে জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ ইতোমধ্যে ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে একটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে আবুল খায়ের খানের পক্ষের দাবি, ২০০৯ সাল থেকে সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত ‘শিবচর প্রেস ক্লাব’ নামে তাদের সংগঠনই বৈধ এবং একই নামে অন্য কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
জাকির হোসেন বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেছি সবাইকে এক করে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে। কিন্তু মতপার্থক্যের কারণে তা সম্ভব হয়নি। যারা একসঙ্গে সাংবাদিক পরিবার হয়ে থাকতে চায়, তাদের নিয়েই শিবচর প্রেস ক্লাবের নির্বাচন আয়োজন করে।
আবুল খায়ের খান বলেন, শিবচর প্রেস ক্লাব নামে ২০০৯ সাল থেকে সরকারি নিবন্ধন রয়েছে। কেউ চাইলেই এই নাম ব্যবহার করতে পারবে না। যারা শিবচর প্রেস ক্লাবের নাম ব্যবহার করে ভুয়া নির্বাচন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিএম হায়দার আলী বলেন, খুব শিগগিরই মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের একত্র করে শিবচর প্রেস ক্লাব গঠন করা হবে। তখন আর কেউ এই নাম ব্যবহার করে ভুয়া সংগঠন করতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে যারা আওয়ামী লীগের দালালি করেছে এবং দলীয়ভাবে কাজ করেছে, তাদের বাদ দিয়ে সব সাংবাদিককে নিয়ে শিবচর প্রেস ক্লাব গঠন করা হবে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা বলেন, আমরা চাই শিবচর উপজেলার সব গণমাধ্যমকর্মী এক কাতারে আসুক। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে তারা শিবচরের উন্নয়নে একত্রিত হয়ে কাজ করুক। তাদের কাছ থেকে আমরা মুক্ত ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, একই নামে একাধিক সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো না গেলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন রাজনীতি মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, বিভেদ তৈরি করে ও বিভাজন সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে সেই বিভাজন দেখতে চাই না। আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতিতে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। “শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে, পড়ুক ঝরে তোমারি সুরটি আমার মুখের ’পরে বুকের ’পরে” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী-কর্মীরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা একসঙ্গে বসে চা খেতেন, গল্প করতেন। রাজনৈতিক মঞ্চে গিয়ে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলেও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকত। সেই সম্প্রীতির সমাজই আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।
তরুণ প্রজন্মকে নাটক, সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলা তরুণদের সৃজনশীল ও মানবিক করে তোলে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখে। যখন ছেলেমেয়েরা মাঠে খেলাধুলা করে, নাটক করে কিংবা সাংস্কৃতিক অনুশীলনে ব্যস্ত থাকে, তখন সেখানে মাদকের কোনো স্থান থাকে না।
সাংস্কৃতিকর্মীদেরও পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, অনেক নাট্যকর্মী ও শিল্পী রয়েছেন যারা নিষ্ঠার সঙ্গে সাংস্কৃতি চর্চা করলেও আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করেন। তাদের সহযোগিতা করা এবং শিল্প-সাংস্কৃতির বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার তাগিদ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন কুঁড়ি ও যে সাংস্কৃতিক চর্চার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সমাজে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মনোতোষ কুমার দে, ঠাকুরগাঁও নাট্য সমিতির সভাপতি ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী সহ অনেকে।