ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক জীবনবীমা প্রতিষ্ঠান এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর উদ্যোগে ব্যবসা উন্নয়ন সভা, মৃত্যু দাবীর চেক হস্তান্তর এবং গ্রাহক সম্মাননা অনুষ্ঠান মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিনাজপুর শহরের ঘাসীপাড়া ফ্যামিলি প্ল্যানিং অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোঃ শাহ্ জামাল হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রুস্তম আলী। বক্তব্য দেন এমআরবি অ্যাডভান্সড ডিভিশনের প্রজেক্ট ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল ইসলাম এবং এসইভিপি (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মোঃ কাওসার আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জোনাল অফিসের এসএম অ্যান্ড ইনচার্জ মোঃ ইয়াকুব আলী।
অনুষ্ঠানে মরহুমা মেহেনুর বেগম-এর নমিনি ও স্বামী মোঃ মোসলেম আলী-এর হাতে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭২ টাকার মৃত্যু দাবীর চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ শাহ্ জামাল হাওলাদার বলেন, জীবনবীমা কেবল একটি আর্থিক সেবা নয়; এটি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কার্যকর মাধ্যম। তিনি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে জীবনবীমা করলেও অন্য সদস্যরা তা জানেন না। কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সেই সঞ্চিত অর্থই পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে সঞ্চয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইসলামে পরিবারকে স্বাবলম্বী রেখে যাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে দুর্যোগ বা সংকটের সময় পরিবারকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। সৎ নিয়ত নিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষের কল্যাণে কাজ এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বর্তমানে এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ হাজার এবং প্রায় ৮ হাজার কর্মী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকার দাবী পরিশোধ করেছে এবং চলতি বছরে প্রায় ১৬ কোটি টাকার দাবী নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, নেক সন্তান, সদকায়ে জারিয়া এবং উপকারী জ্ঞান—এই তিনটি আমল মৃত্যুর পরও মানুষের জন্য অব্যাহত সওয়াবের উৎস হিসেবে বিবেচিত। তাই হালাল উপার্জনের মাধ্যমে শিক্ষা, মানবকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কাজে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি মোঃ রুস্তম আলী মরহুমা মেহেনুর বেগমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, এনআরবি পরিবারের প্রতিটি গ্রাহকই প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সদস্য। তিনি জানান, গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেই ঢাকা থেকে মৃত্যু দাবির চেক নিয়ে দিনাজপুরে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং শিশু শিক্ষা বীমাসহ বিভিন্ন সেবার কথা তুলে ধরে আরও বেশি মানুষকে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ও কর্মী হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রজেক্ট ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল ইসলাম বলেন, দেশের জীবনবীমা খাতে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেবার মানই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত পরিচয় বহন করে। তিনি দাবী করেন, গ্রাহকসেবা, আস্থা ও দাবী পরিশোধের ক্ষেত্রে এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইতোমধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাহক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে মরহুমা মেহেনুর বেগমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস–সংকট চলছে। গ্যাসের সীমিত সরবরাহের সঙ্গে সমন্বয় করতে জেলার প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে টানা চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার শুরু হওয়া এই ছুটিতে শত শত পোশাকশ্রমিক গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
এতে শ্রমিকদের একাংশ অতিরিক্ত ছুটি পেলেও শিল্পমালিকেরা বলছেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস–সংকট এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এত দিন উৎপাদন সচল রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছিলেন শিল্পকারখানার মালিকেরা। কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা, কোথাও মেশিনের সংখ্যা কমিয়ে চালানো, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এবার যোগ হলো সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে টানা ছুটি ঘোষণা। শিল্পমালিক, শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাড়ির পথে শত শত পোশাককর্মী
চার দিনের ছুটি ঘোষণার পর গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ী, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগাড়াসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, মহাসড়ক ও পরিবহন কাউন্টারে শ্রমিকদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে।
অনেকেই এ সুযোগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলোয় যাত্রীর চাপ বেড়েছে।
আজ সকাল নয়টায় চন্দ্রা এলাকায় কথা হয় গোমতী টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক কফিল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাজ না থাকলে কারখানায় বসে থাকার চেয়ে কয়েক দিনের জন্য বাড়ি যেতে পারাটা ভালো। তবে দ্রুত গ্যাস–সংকটের সমাধান হোক এবং কারখানাগুলো আবার পুরোপুরি চালু হোক।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এক দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে যোগ করে জেলার অনেক কারখানায় চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২০ শতাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটি পেয়ে শ্রমিকরা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।’
কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, জেলার অনেক কারখানায় সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে চার দিনের ছুটি দিয়েছে। এই ছুটি পেয়ে শ্রমিকেরা গ্রামের পথে ছুটে যাচ্ছেন। যার কারণে গত রাত থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানবাহনের বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আজ সকালেও চন্দ্রা এলাকায় শত শত মানুষ ও যানবাহনের ভিড়ে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে যেসব শিল্পকারখানা চার দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, এসব কারখানার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানাই উৎপাদন সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গাজীপুর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি। এখানে কয়েক হাজার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা রয়েছে।
তরুণ শিল্পউদ্যোক্তা মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী। তিনি গাজীপুরের ভোগড়া চৌরাস্তায় এলাকার স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অব্যাহত গ্যাস–সংকটের কারণে দিন দিন অর্ডার কমে যাচ্ছে। ক্রেতারা দেখছেন, এই সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে এ শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। গ্যাসের সমস্যার কারণে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে কর্মীদের চার দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আশা করি, সরকার এই সময়ে গ্যাসের সমস্যা সমাধান করবে।’
গ্যাসের ঘাটতি ৪৫%
গাজীপুর তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতির কারণেই শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সকাল ও দিনের বেলায় উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে।
গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলো। গ্যাস–সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় কাজ চলমান রয়েছে।
কোনাবাড়ী এলাকার পিএন কম্পোজিট কারখানার ব্যবস্থাপক তাপস পাল বলেন, গ্যাস–সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেটের গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
কারণ, এ অঞ্চলসহ সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা এই দুঃখ প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে সারা দেশেরন্যায় সিলেট বিভাগেও গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে স্বল্প চাপ বিরাজমান। এ অবস্থায় সিলেট বিভাগের সব শ্রেণীর গ্রাহকদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তারা এ ব্যাপারে গ্রাহকদের আন্তরিক সহযোগীতা চেয়েছেন।
একটি ফৌজদারি মামলার ঘটনায় ইতোমধ্যেই হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার (আই.ও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে।
আদেশে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসেন পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন তদন্তটি গুরুতর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ রেখেছে। যার ফলে আটক ব্যক্তির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেতাগী থানায় এক ব্যক্তির জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল, যদিও সরকারি নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে ওই ব্যক্তি তখন কারাগারে ছিলেন।
অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বনি আমিনকে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বরগুনা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি ২০২৫ সালের ২০ মে পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে জেল হেফাজতে ছিলেন।
জেল হেফাজতে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে কথিত অপরাধে অংশ নিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আসে।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেতাগী থানার উপ-পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামকে আপাত অসঙ্গতির ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন এবং তাকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বলেন, তিনি তার সূত্রের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করেছেন, যার ফলে এই ত্রুটি ঘটেছে এবং এটি একটি সরল বিশ্বাসজনিত ভুল।
কিন্তু আদালত পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে এটি কেবল একটি পদ্ধতিগত অনিয়ম নয়, বরং একটি মৌলিক ত্রুটি, যা বিষয়টির একেবারে মূলে আঘাত করে এবং দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
আদালত বরগুনার পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার (তদন্তকারী কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরবর্তী শুনানির জন্য মামলাটি ২৯ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে এবং এর মধ্যে বরগুনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) আদালতে একটি সম্মতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরগুনার বেতাগীতে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৫ (পাঁচ) জনকে সশ্রম কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডের আদেশ প্রদান করেছেন বিজ্ঞ আদালত।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে বেতাগী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কে এম মাসুমুল আলম এর ছেলে মো: মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সোহেল (৩৫) কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) সারণির ১০ (ক) ধারায় ১ বছর ৬ মাস সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ওই একই ব্যক্তিকে একই আইনের ১৯ (ক) ধারায় ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ বেতাগীর মোঃ শাহজাহান মোল্লার ছেলে মোঃ শাহজাদা মোল্লা (৩৫), বেতাগীর কেওড়াবুনিয়া এলাকার মোঃ কুদ্দুস জোমাদ্দারের ছেলে মোঃ মোর্শেদ (২৮), হোসনাবাদ এলাকার মোঃ হানিফ খানের ছেলে মোঃ বেল্লাল (৩৫) ও বেতাগী পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জয়নাল আবেদীন এর ছেলে মোঃ জহিরুল ইসলাম ওরফে অন্তর (২৯) কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) সারণির ১০ (ক) ধারায় ১ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। ওই একই ব্যক্তিদের একই আইনের ১৯ (ক) অনুযায়ী ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড এবং অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
তবে এই ৬ আসামীর মধ্যে একজন শিশু হওয়ায় তাকে বিজ্ঞ শিশু আদালতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন সামারি ট্রায়ালের বিজ্ঞ বিচারক।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকালের দিকে বেতাগী থানা পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে আটককৃত ছয় আসামীকে হাজির করলে পুলিশ কর্তৃক আটককৃত অভিযুক্ত আসামিরা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি (confessional statement) প্রদান করায় এই রায় প্রদান করেন- বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে- অভিযুক্তদের বেতাগী থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বেতাগী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের খাদ্য গুদাম রোডে আসামী সোহেল এর ভবনের একটি কক্ষ থেকে হাতেনাতে আটক করে। এসময় আটককৃতদের থেকে ১০০ (একশত) গ্রাম গাঁজা ও ১০ (দশ) পিস ইয়াবা ও নগদ ৯ হাজার ২শত ৫০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
গাজী সালাউদ্দিন তানভীর
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকার পূর্ব মনিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করা হয়।
জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বিকেলে বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অবস্থানকালে জেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল দেখতে পান গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তীব্র সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ব্যক্তি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
মামলার বাদী মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, উক্ত পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবমাননা করা হয়েছে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিষয়টি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবগতির পর সিদ্ধান্ত নিয়ে রোববার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, অভিযোগ প্রাপ্তির পর তা এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার ভোরে ঢাকার পূর্ব মনিপুর থেকে গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বগুড়ায় নিয়ে এসে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
নোয়াখালীর মাইজদীতে এক ডুবাই প্রবাসীর বাসায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে এক অস্ত্রধারাীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, ৪০ পিস ইয়াবা, নগদ ২৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হক ম্যানশনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অপর ৩ জন পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন টিটু (৩১) বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের জাহানাবাদ গ্রামের ছোট খামার বাড়ির নুর আলমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক, চুরি ও জখমসহ বেগমগঞ্জ থানায় সাতটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, চাঁদাবাজির খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর ও সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল হক ম্যানশন ঘেরাও করে। ওই সময় ভবনের সিঁড়িতে সন্দেহভাজন অবস্থায় টিটুকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে চারতলার একটি বাসায় গেলে ভুক্তভোগী নাঈমা আক্তার (১৮) ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আরও দুজন সহযোগীকে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা আগে বাসায় প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং বাসা থেকে ২৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর দুই অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের নিচ থেকে অভিযুক্তদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।