রংপুর মহানগরীতে কর্মজীবী এক নারীকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো; নগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকার মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদ (২০)।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশ ও ধাপ ফাঁড়ির যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহানগরীর ধাপ কটকিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় একটি কারুপণ্য প্রতিষ্ঠানের আলমনগর কারখানায় কর্মরত। সম্প্রতি তিনি ৩ লাখ ৬০
হাজার টাকায় একটি জমি বিক্রি করেন। ১৯ মে মঙ্গলবার
বিকেলে ওই টাকা ব্যাংকে
জমা রেখে ধাপ কটকিপাড়া এলাকার স্কাই লন হোটেলের পেছনে
অবস্থিত ভাড়া বাসায় ফেরেন।
সন্ধ্যার
পর স্থানীয় কয়েক যুবক জোরপূর্বক তার বাসায় প্রবেশ করে ঘরে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা তোশকের নিচে ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে দাবি করে এবং বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা দাবি করে। এতে রাজি না হলে ওই
নারীকে মারধর করা হয়। পাশাপাশি তার ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতাও নিয়ে যায়।
পুলিশ
আরও জানায়, আটক ওই চার যুবক
ভুক্তভোগীর জমি বিক্রির টাকার সন্ধানে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
তছনছ করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাড়ির মালিক গোপনে পুলিশকে খবর দেন।
পরে
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের নির্দেশনায় মহানগর ডিবির একটি দল ও ধাপ
ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করে ইয়াবাসাদৃশ্য বস্তুগুলো প্রাথমিক পরীক্ষায় ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এ ঘটনায় জড়িত
থাকার অভিযোগে মিনহাজ আহমেদ (২৮), মহিম হাসান (২৫), শাহরিয়ার সরকার (২৮) ও আব্দুল মজিদকে
(২০) আটক করা হয়।
আটক
ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আজ বুধবার দ্রুত
বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
রংপুর
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর নাটক সাজিয়ে কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সব সময় কঠোর
অবস্থানে রয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, পেশাদারিত্ব, সততা ও দ্রুত পদক্ষেপের
মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলবুলের বাড়িতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে। ৪ জুলাই মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে দুর্বৃত্তরা ২টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে।
এসময় যুবদল নেতা পরিবারের সদস্যদের সাথে শয়নকক্ষে অবস্থান করছিলো। দুর্বৃত্তদের ১টি পেট্রোল বোমা বসত ঘরের গ্রিলে লেগে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনার পর পর খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে বুধবার সকালে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ যোবায়ের আহমেদ, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোঃ বাছেদ, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ সেলিম হোসেন আরজু, সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক বাবুলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এব্যাপারে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদুল আলম বুলু জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি শেষে সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত প্রায় ১টার দিকে শয়নকক্ষের বাইরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘর থেকে বের হয়ে সেভেন আপের কাঁচের বোতল সদৃশ দুইটি পেট্রোল বোমা পড়ে থাকতে দেখেন। রাতেই থানা পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এবিষয়ে এএসপি সার্কেল আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপস্থিত এলাকাবাসীকে আতংকিত না হওয়ার আহ্বান জানান। তদন্তপূর্বক দোষীদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস প্রদান করেন।
এঘটনায় যুবদল নেতা ফরিদুল আলম বুলু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।
উল্লেখ্য, এ ঘটনার এক সপ্তাহ আগে উপজেলার ভাকোয়াদী গ্রামে উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানার বসতবাড়িতে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সবকিছু ছাই করে দেয়। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্কে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি ও তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী জুলাই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভেদ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বিভিন্নচ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জুলাই শহীদ পরিবার, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটে জনগণের প্রদত্ত রায় দ্রুত কার্যকর করা এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে নাটোরে লালপুরে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টায় লালপুর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে রামকৃষ্ণপুর চিনিবটতলা থেকে একটি বিশাল গণমিছিল শুরু হয়ে লালপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীসুন্দরী হাইস্কুল মাঠে এসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এসময় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লালপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড: মাসুদ রানা, লালপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোঃ মহসিন আলম, নাটোর জেলা জামায়াতের শূরা সদস্য সাজ্জাদুর রহমান উজ্জল, লালপুর উপজেলা জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওঃ হামিদুল ইসলাম, নাটোর জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদ হাসান, লালপুর পশ্চিম শাখা শিবিরের সভাপতি রাকিবুল ইরলাম রাহী, পূর্ব শাখার সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মিসকাত।
এসময় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এসে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সকল গণহত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় যাদি বাস্তবায়ন করা না হয় তবে আবার নতুন করে জুলাই সংগঠিত হবে। এসময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্টের বিদায়ের পর একটি পক্ষের গায়েবি মামলা, মামলা নিয়ে ব্যবসা ও মূল অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের অসম্মানিত করেছে। এটা নিয়ে আমাদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি সরকার সঠিক পথে আগাচ্ছে, মূল অপরাধীদের রেখে চার্জশিট দিচ্ছে।
বুধবার সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে তারাই এখন দেশপ্রেমের দীক্ষা দিচ্ছে। তারাই জনগণকে শিখাচ্ছে দেশপ্রেমের বয়ান।
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি খুব ব্যাথিত জুলাই যোদ্ধারা। এতো সকালে আমরা তাদের ভুলে যেতে বসেছি। আমরা জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান দিতে পারিনি। সকল জুলাই শহীদ, আহত যোদ্ধা, যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও আমি জুলাইকে বিশ্বাস করি, স্মরণ করি, যেমনিভাবে বিশ্বাস করি কালিমা তাইয়্যেবাকে। ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বাস করি জুলাই যুদ্ধ আমাদের অর্জন, জুলাই যুদ্ধ বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অর্জন৷
এর আগে নানা জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি টাউনহল থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশির, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ, শহীদ সাদমানের মা কাজী শারমিন, শহীদ মাসুমের বাবা শাহীন মিয়াসহ জুলাই যোদ্ধা, আহত ও নিহতেদের পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনা তুলে ধরতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
একাত্তরে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি এখন তাদের কাছ থেকে যুদ্ধের দীক্ষা নিতে হচ্ছে
টাঙ্গাইলে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার(৫ আগস্ট) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন, হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, র্যালি, আলোচনা সভা, জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মোনাজাত ইত্যাদি।
এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে জেলা সদরের হেলিপ্যাডে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্ঘ অর্পণ, জুলাই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন ও মোনাজাত শেষে র্যালি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ। এছাড়া আলোচনা সভায় প্রায় ৩৫জন জুলাইযোদ্ধা বক্তব্য রাখেন।
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোনাজাত ও শিক্ষার্থীদের হলসমূহে বিশেষ খাবারের আয়োজন ইত্যাদি।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য(প্রো-ভিসি) অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার মেরিন ড্রাইভ এলাকার পাঁচ তারকা একটি হোটেলের সুইমিং পুলে গোসলে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার ইনানী সৈকতে ‘হোটেল বে-ওয়াচ’ নামের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই পর্যটক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গোসলে নেমেছিলেন।
পুলিশের ধারণা, হৃদ্রোগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ওই পর্যটকের নাম মিরাজ আহমদ (৩৮)। তাঁর বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুইমিং পুলে গোসলে নামার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্ত্রী-সন্তানসহ দুই দিনের ভ্রমণে গত সোমবার মুন্সিগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে আসেন মিরাজ আহমদ। এরপর তাঁরা ইনানীর বে–ওয়াচ হোটেলে ওঠেন। গতকাল বেলা তিনটার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সুইমিং পুলে গোসল করতে নামেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার সময় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন মিরাজ আহমদ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরাজ আহমদ আগে থেকেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এ বিষয়ে উখিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ আজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।