মুদি দোকানি হানিফ মিয়া কুড়িয়ে পায় কানের দুল সেটি আজ ফিরিয়ে দেন
একদিন আনমনে রাস্তায় হাটছিলেন মুদি দোকানি হানিফ মিয়া (৪৭)। হঠাৎ চোখে পড়ে চাকচিক্যময় এক গহনা (কানের দুল)। কুড়িয়ে হাতে নিয়ে দেখেন এটি স্বর্ণ। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জানান আশপাশের কয়েকজনকে। তবে সোনার এই গহনা আসলে কার তা কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি। পরে দুই মাস নিজের কাছে রেখেই নানা জায়গায় খোঁজ করেছেন গহনার মালিকের। অবশেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় তা ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রকৃত মালিকের হাতেই।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে গহনা মালিকের সন্ধান পেয়ে তা অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবেই তার হাতে পৌঁছে দেন হানিফ মিয়া। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ এলাকায়। এই এলাকাতেই বাড়ি হানিফের। তার এমন সততায় ভাসছেন প্রশংসায়।
কয়েকমাস আগে এই এলাকাতেই কানের দুলটি হারান উপজেলার পাঠামারা গ্রামের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমি আক্তার। তার পরিবার এই গহনার খোঁজ করেছে নানা জায়গায়। একপর্যায়ে তা পাওয়ার আশাই ছেড়ে দেন। তবে আচমকা এমনভাবে হারানো গহনা পেয়ে অনেকটাই অবাক হন সুমি ও তার পরিবার।
জানা যায়, হানিফ মিয়া গহনা পাওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজতে থাকেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক রুমন হায়দার ও আশরাফুল ইসলাম মারুফের দ্বারস্থ হন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন তারা। এরপরই গতকাল রোববার (৮ মার্চ) তা দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সুমির পরিবার। পরে তাদের যোগসাজশে হানিফ মিয়া ও সুমির পরিবারকে একসঙ্গে করে তা যাচাই-বাছাই শেষে ফিরিয়ে দেয়া হয় গহনা।
এ বিষয়ে সুমির মা হনুফা আক্তার বলেন, গহনা হারিয়ে অনেক মন খারাপ ছিল। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এতো টাকার জিনিস পেয়েও যে কেউ ফিরিয়ে দিবে তা ভাবতে পারিনি। সমাজে এখনো অনেক ভালো মানুষ আছে। হানিফ ভাইদের মতো মানুষরা আছে বলেই বিশ্বাস শব্দটা এখনো টিকে আছে।
মুদি দোকানি হানিফ মিয়া বলেন, অন্যের জিনিসের ওপর লোভ নেই। কত টাকাই বা আর পেতাম, আল্লাহ আমাকে দিলে এরচাইতে বেশি দিতে পারেন। সেই বিশ্বাস আমার আছে। তাই যার জিনিস তার কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো আমার জন্য সামনে কল্যাণকর কিছু রয়েছে। গহনা মালিকের পৌঁছে দিতে পেরে স্বস্তি লাগছে, এতোদিন একটা ভার বহন করছিলাম। সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ।
সাংবাদিক রোমন হায়দার ও মারুফ বলেন, সমাজের মানুষের জন্যই তো সাংবাদিকতা। একে অপরের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে সমাজের কল্যাণই আমাদের কাজ। খুবই ভালো লাগছে এই কাজটি করতে পেরে। সমাজে ভালো মানুষের এক দৃষ্টান্ত হয়ে রইলো।
উলিপুরে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়া-বুড়ি ইউনিয়নে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এনামুল হক কারীকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় সুধী সমাজের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী শ্যামলসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বক্তব্য দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বুড়া-বুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব আঠারোপাইকা এলাকার বাসিন্দা এনামুল হক কারী পাশের হিন্দু গ্রামের শ্যামলের স্ত্রী শ্রীমতী আতুশি রানীকে বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে এনামুল হককে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখেন বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তারা অভিযুক্তের বিচার দাবি করলে এনামুল হক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। একই সঙ্গে বিচার বা মামলা করা হলে ভুক্তভোগী নারীকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্ষণের অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ সময় বক্তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত এনামুল হক কারীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের একটি রিসোর্টে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ এবং লুণ্ঠিত ছয়টি মোবাইল ফোন ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাজধানীর মিরপুর এলাকার শুক্কুর আলী (৪৮), আব্দুল আহাদ (৩৫), রুবেল হাসান (২৮), রাব্বি হোসেন (৩০), তানভীর আহমেদ (২৪) ও হোসেন আলী (৩৭)। তাদের ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৬৯৪০ নম্বরের একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোরে পূর্বাচল উপশহরের ২ নম্বর সেক্টরের ১০২ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর প্লটে অবস্থিত অরণ্য আবাস রিসোর্টে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে পিকনিকে আসা অতিথিদের ওপর ১৪ থেকে ১৫ সদস্যের একটি ডাকাত দল হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অতিথিদের কাছ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন ও নগদ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয় তারা।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার টহল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রিসোর্টটি ঘিরে ফেলে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকেই শুক্কুর আলী ও আব্দুল আহাদকে আটক করা হয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া করে রুবেল হাসান ও রাব্বি হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তানভীর আহমেদ ও হোসেন আলীকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের অভিযানে লুণ্ঠিত ছয়টি মোবাইল ফোন, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ছুরি এবং ডাকাতদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অরণ্য আবাস রিসোর্টের মালিক আবির রায়হান বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, "রিসোর্টে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
রংপুরে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর পাল্টপাল্টি কর্মসূচীর দেয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংঘাত এড়াতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে আবেদন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তাজহাট থানা পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার রাতে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এতে করে ক্যাম্পাসে শাস্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার শংঙ্কা থাকায় ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করতে তাজহাট থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রক্টর।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যূত্থান দিবসের আগে দুই ছাত্র সংগঠনের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাস জুড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতি তৈরী হয়েছে।
মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি পুলিশ কমিশনার স্যারকে জানিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত দেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, গতকালের অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর আজ আবার দুটি সংগঠন বিক্ষোভ-সমাবেশ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি যাতে আরও ঘোলাটে না হয়, সেজন্য সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারিতে আমরা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি।
উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির কর্তৃক আয়োজিত ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক শীর্ষ পাঁচ নেতা এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল। ছাত্রদল ব্যানারটি অপসারণের দাবি জানালে, দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। দফায় দফায় দু'পক্ষের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরবর্তিতে কিছুক্ষণের জন্য সংঘাত থামলেও রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসের বাইরে পার্কের মোড় থেকে কামারের মোড় পর্যন্ত ছাত্রদল এবং শিবিরের মহানগর নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেরোবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান, বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসানসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষেও ২০ জনের মতো আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই বেরোবিতে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা সচল রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ পার্কের মোড় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
শরীয়তপুরে নিম্ন আয়ের ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণসামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেছেন, শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ইদ্রিস মোল্লা। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রায় ২০০ টি নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি ও বিনোদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা রানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল হক ঢালী, পৌরসভা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি নাসির ঢালী এবং পৌরসভা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন হাওলাদার।
এতে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এমন মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা জানান।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকায় অবস্থিত প্রিমিয়ার স্টিল মিল। ২০২০ সালে গলিত লোহা ছিটকে ৬ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে আগের নামেই উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে কারখানার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছে কারখানাটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন কারখানার চিমনি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে বাতাস ভারী হয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ও গাছপালায় কালো ধুলার আস্তরণ জমে। এলাকাবাসীর দাবি, কারখানাটির কালো ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগসহ স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে।
এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রিমিয়ার স্টিল মিল দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায়ও কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
এই কারখানাটিই কয়েক বছর আগে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়। রাতের শিফটে কাজ করার সময় উত্তপ্ত গলিত লোহা ছিটকে পড়ে গুরুতর দগ্ধ হন ছয় শ্রমিক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শ্রমিক মিজানুর রহমান, শাকিল, ফাহিম, রফিক মিয়া, রাজু ও আবু সিদ্দিক মিয়া। দুর্ঘটনার পর শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারী শিল্পকারখানায় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ জানান, কারখানার নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্ত দাবি করেছেন।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন কালো ধোয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির (অ্যাজমা) প্রকোপ বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিহ, সিওপিডি (COPD), ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, চোখ জ্বালাপোড়া, লাল হওয়া ও পানি পড়া, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া, কাশি মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি, দীর্ঘ মেয়াদে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন জানান, শিল্পায়ন দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শ্রমিকের জীবন ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেই উন্নয়ন টেকসই হয় না। অতীতের প্রাণহানির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিয়মিত পরিদর্শন, নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
প্রিমিয়ার স্টিল মিলের জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম বলেন, কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। আমাদের কারখানার কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে না ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, প্রিমিয়ার স্টিল মিলের কালো ধোয়া ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ যমুনা সেতু পশ্চিম শহীদ এম মনসুর আলী রেল স্টেশনে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটনা ঘটে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী।
দুর্ভোগের শিকার যাত্রী রিফাত খন্দকার বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনে রওনা হয়েছি। কিন্তু ট্রেনটি শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে প্রবেশ করা মাত্রই বিকট শব্দে বগিটি লাইনচ্যুত হয়। এতে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, দুপুর দেড় থেকে দুইটার মধ্যে আমার ঢাকায় ফেরার কথা। কিন্তু সিরাজগঞ্জেই সেই সময় হয়ে গেছে। এখন ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন আসতে আরও সময় লাগবে, ভাবছি ট্রেনের অপেক্ষায় বসে না থেকে বাসেই চলে যাবো।
শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনের বুকিং সহকারী হাফিজুর রহমান জানান, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি ট্রেনটি সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে স্টেশন এলাকার রেললাইনের একটি পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় বিকট শব্দে ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। পরে চালক বুঝতে পেরে দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বগির টলি সেটআপ একদম ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
যমুনা সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ রেলস্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান বলেন, উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে, ঈশ্বরদী থেকে আসতে আরও দুয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে বেশি সময় লাগবে না। এটি উদ্ধার হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।
সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিওআই) আহসানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে। আর এই দুর্ঘটনার কারণে নীলফামারীগামী নীলসাগর ট্রেনটি যমুনা সেতুর পশ্চিম সায়দাবাদ স্টেশনে দুই হাজার যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে। এটি স্বাভাবিক হতে অন্তত আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগবে।