ছবি : সংগৃহীত
উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৯০০ ডলার থেকে শুরু করে ফাইনালের জন্য ৮,০০০ ডলারেরও বেশি- উত্তর আমেরিকায় ১০০ দিন পর শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ম্যাচ টিকেট মোটেও সস্তা নয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি বিশ্বকাপে খেলা দেখতে যাওয়ার খরচ বিশ্লেষণ করেছে:
কত টিকেট, কত চাহিদা?
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার মতে, মোট প্রায় ৭০ লাখ টিকেট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি এবং পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৪০টি টিকেট কিনতে পারবেন।
অক্টোবরে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক লটারিতে প্রায় ২০ লাখ টিকেট বিক্রি হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার লটারিতেও রেকর্ড ৫০ কোটি ৮০ লাখ আবেদন পড়ে বলে জানিয়েছে ফিফা।
তবে ঠিক কতটি টিকেট বরাদ্দ হয়েছে, তা ফিফা জানায়নি। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ২৭ জুন ময়ামিতে গ্রুপ কে-এর শেষ ম্যাচ কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল, ১৮ জুন গুয়াডালাজারায় সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচের জন্য।
দামের উর্ধ্বগতি
৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত বর্ধিত কলেবরের এই বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ হবে, যা ইতিহাসে প্রথম।
সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ জানায়, উত্তর আমেরিকার দরপত্রে শুরুতে প্রতিশ্রুতি ছিল মাত্র ২১ ডলার থেকে টিকেট পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে সবচেয়ে সস্ত যে টিকেট বিক্রি হয়েছে, তার দাম ৬০ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভাইস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডানের গ্রুপ-জে উদ্বোধনী ম্যাচের টিকেট এই মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
শীর্ষ দলগুলোর ম্যাচে অধিকাংশ টিকিটের দাম কমপক্ষে ২০০ ডলার। ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ২,০০০ ডলার এবং সেরা আসনের দাম ৮,৬৮০ ডলার। তাও ফিফার অফিসিয়াল রিসেল সাইটের কথা ধরলে নয়, যেখানে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের একটি ‘ক্যাটাগরি থ্রি’ আসন বিজ্ঞাপিত হয়েছে অবিশ্বাস্য ১,৪৩,৭৫০ ডলারে, যা এর মূল মূল্য ৩,৪৫০ ডলারের ৪১ গুণেরও বেশি।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেছেন, টিকিটের দাম মূলত বিপুল চাহিদার ফল। তিনি বলেন, “বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নামে একটি ব্যবস্থা আছে, অর্থাৎ ম্যাচভেদে দাম বাড়তেও পারে, কমতেও পারে”।
দাম নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার মুখে ফিফা তুলনামূলক সস্তা একটি টিকেট ক্যাটাগরি চালু করে। তবে ৬০ ডলারের এই টিকেটগুলো কেবল যোগ্যতা অর্জনকারী দলের সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ ছিল এবং প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের মোট কোটা’র মাত্র ১০ শতাংশ জুড়ে ছিল।
ফিফা ম্যাচ টিকিটের সঙ্গে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধাসহ প্যাকেজও বিক্রি করছে। ১৬ জুন নিউ জার্সিতে ফ্রান্স বনাম সেনেগালের ম্যাচের জন্য এসব প্যাকেজের দাম ছিল ২,৯০০ থেকে ৪,৫০০ ডলারের মধ্যে।
দাম আরও বাড়ছে
ফিফা নির্দিষ্টসংখ্যক টিকেট আলাদা করে রাখছে, যা এপ্রিল থেকে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত “আগে আসলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে।
এরপর রয়েছে রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলো, যার মধ্যে ফিফার নিজস্ব অফিসিয়াল সাইটও আছে। তবে এই বিতর্কিত সমর্থকদেও মধ্যকার বাজারে পুনর্বিক্রেতারা নিজেরাই দাম নির্ধারণ করতে পারেন, ফলে ফাইনালের টিকিটে এমন বিশাল অঙ্ক দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রিসেল বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। মেক্সিকোতে মূল মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকেট পুন:বিক্রি নিষিদ্ধ, তবে কেবল তখনই এটা প্রযোজ্য হবে যখন টিকেটটি মেক্সিকোতে স্থানীয় মুদ্রায় কেনা হয়।
১১ জুন মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ‘ক্যাটাগরি থ্রি’- স্ট্যান্ডের ওপরের অংশের একটি আসন সম্প্রতি তালিকাভুক্ত ছিল ৫,৩২৪ ডলারে, যেখানে এর মূল দাম ছিল ৮৯৫ ডলার। সিটগিক ও স্টাবহাবের মতো অন্যান্য সাইটে তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দামে টিকেট বিক্রি হচ্ছিল।
অতিরিক্ত খরচ
ভ্রমণকারী সমর্থকদের জন্য শুধু টিকিটের দামই ভাবনার বিষয় নয়। অনেক বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে হওয়ায় পার্কিংয়ের দামও আকাশচুম্বী। আটলান্টায় একটি গ্রুপ ম্যাচের জন্য পার্কিং স্পেসের দাম ১০০ ডলার, আর লস অ্যাঞ্জেলেসে তা ৩০০ ডলার।
যেসব ভক্তের ম্যাচের টিকেট নেই, তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে রয়েছে ১৬টি আয়োজক শহরের আশপাশে আয়োজিত ফ্যান ফেস্টিভাল। কানসাস সিটির ফ্যান ফেস্টে একসঙ্গে ২৫,০০০ মানুষ প্রবেশ করতে পারবে। নিউইয়র্কে ইউএস ওপেন টেনিস ভেন্যু ফ্ল্যাশিং মিডোতে ফ্যান জোনে রূপান্তর করা হবে, যেখানে সর্বোচ্চ ১০,০০০ জন অর্থপ্রদানকারী দর্শক প্রবেশ করতে পারবেন। যদিও তা কেবল ১৭ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত।
রোনালদো–জর্জিনা
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।
এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।
আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।
সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’
গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।
ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’
এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’
‘ভুল ব্যক্তি’
গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।
চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত
নেইমার
ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে এক তরুণ ফুটবলারের অভিষেক হয়। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ১৮ বছরের সেই তরুণ সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে নেন অনন্য উচ্চতায়। হলুদ জার্সিতে নানান গল্প লিখে হয়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।
১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন, আর কখনও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবেন না। নিউইয়র্কের যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একই মাঠে তাঁর শেষ। অর্থাৎ শুরু আর শেষের গল্প একই। মাঝে ফুটবলে এমন কিছু করেছেন নেইমার, যা ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে নেই ব্যালন ডি’অর, নেই বিশ্বকাপ, নেই কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের জার্সিতে শুধু জিতেছেন ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ।
অবসরের ইঙ্গিতটা বিশ্বকাপের সময়ই দিয়েছিলেন নেইমার। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে বুট জোড়া তুলে রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। গতকাল ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।’ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান ঘটল এবং দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন থেকে তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার দক্ষতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক।
নিজ ক্লাব সান্তোসেও খুব একটা ভালো নেই নেইমার। ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বিবাদের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেইমার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি বলেছেন, আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে হবে।
তবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দাবি করেন, বিভাজন তৈরি করার জন্য একটি ‘কুচক্রী’ মহল এই মিথ্যা কাহিনি বানিয়েছে, ‘বিষয়টি দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। তবে এতে আমার কোনো দোষ নেই। এ ধরনের খবর অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি কথা বলেছিলাম, আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমরা এতটা গাফিলতি মেনে নিতে পারি না। চ্যাপেকোয়েনসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে ড্র উপহার দেওয়া যায় না। আমি শুধু এতটুকুই বলেছিলাম।’