২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে এবার রেকর্ড আয় করবে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা-এটা আগেই ধারণা করা হয়েছিল। সংস্থাটি সদস্যদেশগুলোকে যে তথ্য দিয়েছে, তাতে জানা গেছে, এবার বিশ্বকাপ থেকে তারা ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার আয় করেছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, এক বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ফিফা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করেছে। যা বাংলাদেশের পুরো অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্পে খরচের তিন ভাগের দুই ভাগের সমান।
দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত অবশ্য ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়নি। শিগগিরই তারা ঘোষণা দেবে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ফিফা, বাস্তবে আয় হয়েছে তার চেয়ে বেশি। শুরুতে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ১১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
অতিরিক্ত আয়ের সিংহভাগ এসেছে আতিথেয়তা ও টিকিট বিক্রি, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের সেকেন্ডারি টিকিটের বাজার থেকে। সেকেন্ডারি বাজারে টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ফিফা ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন নিয়েছে। ফলে টিকিটের দাম এবার যেভাবে বেড়েছে, সেখান থেকে ফিফার অতিরিক্ত আয়ের বড় একটি অংশ এসেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে যে বাড়তি আয় হয়েছে, তার সুফল সদস্যদেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোও পাবে। তবে অর্থ বণ্টনের চূড়ান্ত কাঠামো এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এই আর্থিক সাফল্য ইনফান্তিনোর জন্য স্বস্তির খবর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি তাঁর নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। কিন্তু রেকর্ড আয়ের কল্যাণে তিনি বিতর্ক থেকে মুক্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে যে লাল কার্ড দেখানো হয়, তা স্থগিত করার ঘটনায় ফিফা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
অনেকের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে ফিফা। যদিও সংস্থাটি দাবি করেছে, এ সিদ্ধান্ত তাদের শৃঙ্খলা কমিটি স্বাধীনভাবে নিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংস্থার মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে।
এর মধ্যেও আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ইতিমধ্যে ফিফার ২০০টির বেশি সদস্যসংস্থার সমর্থন পেয়েছেন। বিশাল অঙ্কের অতিরিক্ত আয়ের কারণে অনেক সদস্যসংস্থা প্রকাশ্যে অসন্তোষ দেখানো থেকে বিরত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপের এই বিপুল আর্থিক সাফল্যের কারণে ভবিষ্যতে আবারও সেখানে বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে পারে-এমন সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী, ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আবার যুক্তরাষ্ট্রে হতে পারে।
শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আগ্রহী। তাঁর ভাষায়, ‘আপনারা আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিন, তবে কানাডা ও মেক্সিকোকে বাদ দিন। এ ছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছে।
এদিকে রোববার নিউ জার্সিতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের আগের সন্ধ্যা পর্যন্তও ফিফার টিকিট পোর্টালে ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিট ছিল। এর মধ্যে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজের প্রতিটি টিকিটের দাম ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ ডলার। টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দামের জন্য ফিফার আয় এতটা বাড়বাড়ন্ত।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত
নেইমার
ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে এক তরুণ ফুটবলারের অভিষেক হয়। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ১৮ বছরের সেই তরুণ সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে নেন অনন্য উচ্চতায়। হলুদ জার্সিতে নানান গল্প লিখে হয়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।
১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন, আর কখনও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবেন না। নিউইয়র্কের যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একই মাঠে তাঁর শেষ। অর্থাৎ শুরু আর শেষের গল্প একই। মাঝে ফুটবলে এমন কিছু করেছেন নেইমার, যা ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে নেই ব্যালন ডি’অর, নেই বিশ্বকাপ, নেই কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের জার্সিতে শুধু জিতেছেন ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ।
অবসরের ইঙ্গিতটা বিশ্বকাপের সময়ই দিয়েছিলেন নেইমার। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে বুট জোড়া তুলে রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। গতকাল ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।’ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান ঘটল এবং দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন থেকে তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার দক্ষতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক।
নিজ ক্লাব সান্তোসেও খুব একটা ভালো নেই নেইমার। ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বিবাদের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেইমার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি বলেছেন, আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে হবে।
তবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দাবি করেন, বিভাজন তৈরি করার জন্য একটি ‘কুচক্রী’ মহল এই মিথ্যা কাহিনি বানিয়েছে, ‘বিষয়টি দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। তবে এতে আমার কোনো দোষ নেই। এ ধরনের খবর অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি কথা বলেছিলাম, আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমরা এতটা গাফিলতি মেনে নিতে পারি না। চ্যাপেকোয়েনসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে ড্র উপহার দেওয়া যায় না। আমি শুধু এতটুকুই বলেছিলাম।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। অন্যদিকে ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনার কারণে নতুন করে চাপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়-কর্মকর্তাসহ স্পেনের এক ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফিফা। এখন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষই চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রে । ঘটনার পর তদন্ত শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে ফিফা।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ, এর একটি পরিপূর্ণ হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসৌজন্যমূলক আচরণের। একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।
ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
এর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পরও বিতর্কে জড়ায় আর্জেন্টিনা। উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০–এর বেশি মানুষ নিহত হন।
ব্যানার প্রদর্শনের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
ফাইনালের ঘটনার পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আর্জেন্টিনার আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বড় মাপের ফুটবলারদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
নতুন অধিনায়ক লিটন
মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে বাংলাদেশ দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে লিটন দাসকে। লিটন আগে থেকেই ছিলেন টি–টুয়েন্টি দলের নেতৃত্বে। এখন সাদা বলের দুই সংস্করণেই নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে তাওহিদ হৃদয়কে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেনই।
আজ মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভার পর বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তিন সংস্করণে দুজন অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি সাদা বল ও লাল বলে আলাদা অধিনায়ক থাকা প্রয়োজনও। বোর্ডও এতে একমত হয়েছে।’
২০২৫ সালের জুনে হুট করেই নাজমুলকে সরিয়ে দিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করে আমিনুল ইসলামের বোর্ড। এই সংস্করণে ২৪ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ১০ ম্যাচ জিতেছেন মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জেতে মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে অবশ্য ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
তবে মিরাজকে নেতৃত্বে না রাখার পেছনে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কোনো ভূমিকা রাখেনি বলে জানিয়েছেন তামিম। বরং খেলোয়াড় মিরাজকেই দলের বেশি দরকার মনে করে বিসিবি।
এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘মিরাজ অত্যন্ত সফল অধিনায়ক। গত কয়েকটি সিরিজে সে খুব ভালো করেছে। কিন্তু আমি মনে করি মিরাজকে একজন পারফরমার হিসেবে আমাদের বেশি প্রয়োজন। তাঁকে আমরা ব্যাটিং ও বোলিংয়ে যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত, বর্তমানে তাতে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই সে তার পূর্ণ ছন্দে ফিরে আসুক।’
এ নিয়ে মিরাজের সঙ্গে কথা হয়েছে বিসিবি সভাপতির। বিসিবির ভাবনাটা তিনি বুঝতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছেন তামিম।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের দল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মনজ্যোৎ কালরা। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিজের দলের একজন ক্রিকেটারকে টাকা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এই অভিযোগে শ্রীলঙ্কার জেলে বন্দি আছেন তিনি। এবার তার জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে।
কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জামিনের আবেদন করেছিলেন কালরা এবং তার সহকারী যুবরাজ পুষ্প। তাদের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, দুজনেরই শরীর খারাপ। তাই মানবিক কারণে তাদের জামিন দেওয়া উচিত।
তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবি মেনে নিয়ে দুজনকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট।
কালরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার ভানুকা রাজাপক্ষ, আবিষ্কা ফের্নান্দো এবং দুনিথ ওয়েল্লালাগে। এ ছাড়া আরও দুজন ঘরোয়া ক্রিকেটারও কালরার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। পৃথ্বী শ'র নেতৃত্বাধীন সেই দলে ওপেনার ছিলেন কালরা। তিনি পৃথ্বীর সঙ্গে ইনিংস শুরু করতেন। তিন নম্বরে ব্যাট করতেন শুভমান গিল। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রান করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন কালরা।
তবে পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি কালরা। ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ গড়তে না পেরে স্পোর্টস কমিউন নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি। এই সংস্থাই ছিল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক।
তবে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে নাম জড়ানোর পর এই সংস্থার সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। সব মিলিয়ে ক্রমেই বাড়ছে কালরার সমস্যা।