নোবেল জয়ী অধ্যাপক ওমর ইয়াগির উদ্ভাবিত বিশেষ যন্ত্রটি মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকেও সুপেয় পানি তৈরি করতে পারে।
খরা বা ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও স্থানীয় বিভিন্ন এলাকাতে এ যন্ত্র বসিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি তৈরি সম্ভব।
বর্তমানে তীব্র পানি সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। ঠিক তখনই আশার আলো নিয়ে এলেন ২০২৫ সালে রসায়নে নোবেল বিজয়ী। তার উদ্ভাবিত এ বিশেষ যন্ত্রটি মরুভূমির শুষ্ক বাতাস থেকেও সুপেয় পানি তৈরি করতে পারে।
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, নোবেল জয়ী অধ্যাপক ওমর ইয়াগির পরিবেশবান্ধব এ আবিষ্কার মানুষের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রযুক্তির উদ্ভাবক বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় বা খরার কারণে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে এ যন্ত্রের মাধ্যমে সুপেয় পানি পাওয়া সম্ভব, যা ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন দ্বীপের বাসিন্দাদের জন্য কার্যকর সামাধান হতে পারে।
জর্ডানের এক শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা অধ্যাপক ইয়াগি বলেছেন, ছোটবেলায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগহীন ঘরে কাটানো কঠিন দিনগুলোই তাকে এ যন্ত্র আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত করেছে।
রসায়নবিদ অধ্যাপক ইয়াগির এ উদ্ভাবনে ব্যবহৃত হয়েছে ‘রেটিকুলার কেমিস্ট্রি’ নামে রসায়নের এক শাখা। তিনি এমন কিছু বিশেষ উপাদানের অণু তৈরি করেছেন, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা শুষে নিতে ও মরুভূমির মতো শুষ্ক এলাকা থেকেও পানি সংগ্রহ করতে পারে।
ইয়াগির প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটোকো’ বলেছে, তাদের এসব যন্ত্র আকারে একটি ২০ ফুট শিপিং কন্টেইনারের সমান। এগুলো পুরোপুরি সাধারণ মানের তাপ শক্তিতে চলে। খরা বা ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় এ যন্ত্র বসিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি পাওয়া সম্ভব।
অধ্যাপক ইয়াগি বলেছেন, গোটা বিশ্বকে বদলে দিতে পারে এ আবিষ্কার, বিশেষ করে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মতো খরাপ্রবণ বিভিন্ন এলাকার জন্য যন্ত্রটি উপকারী হবে। বেরিল ও মেলিসার মতো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পর যখন হাজার হাজার মানুষ পানিহীন অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন সে সময় এসব দুর্গম এলাকায় পানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ যন্ত্রই হতে পারে সেরা সমাধান।
“মেলিসা বা বেরিলের মতো ঘূর্ণিঝড় ভয়াবহ বন্যা তৈরি করেছে, যা ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এ ধ্বংসলীলা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন এলাকায় পানির সরবরাহ ব্যবস্থা আরও মজবুত ও শক্তিশালী করা কতটা জরুরি।”
সাগরের লোনা পানিকে স্বাদুপানিতে পরিণত করার মতো প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এ উদ্ভাবনটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই। লোনা পানি পরিষ্কারের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত লবণাক্ত বর্জ্য আবার সাগরে ফেলা হয়, যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য হুমকির। তবে ইয়াগির এ পদ্ধতিতে এমন কোনো ঝুঁকি নেই।
গত মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পৃথিবী এখন এক ‘বৈশ্বিক পানি দেউলিয়া হওয়ার দশায়’ প্রবেশ করেছে। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এমন সব দেশে বসবাস করছে যেগুলোকে পানি অনিরাপদ বা চরম পানি সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
“প্রায় ২২০ কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ সুপেয় পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ৩৫০ কোটি মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পান না এবং বছরে অন্তত এক মাস তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়েন প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ।”
২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় বেরিল-এর আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়া তিন দ্বীপের দেশ গ্রেনাডায় ইয়াগির এ আবিষ্কার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে, বিশেষ করে ক্যারিয়াকু ও পেটিট মার্টিনিক দ্বীপের যারা ঝড়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং বর্তমানে ঝড়, খরা ও উপকূলীয় ভাঙনের মতো ত্রিমুখী সংকটে তাদের জন্য বড় সমাধান হতে পারে এ যন্ত্র।
ক্যারিয়াকু দ্বীপের সরকারি কর্মকর্তা ও পরিবেশবিদ ডেভন বেকার বলেছেন, “আমাদের পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ প্রযুক্তির সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, যন্ত্রটি কোনো গ্রিড বা বাহ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই কেবল আশপাশের প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে চলতে পারে।”
নোবেল পুরস্কারের ডিনারে দেওয়া এক বক্তৃতায় ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে অধ্যাপক ইয়াগি বলেছিলেন, জর্ডানের মরুভূমির সেই জনপদে সপ্তাহে বা দুই সপ্তাহে কেবল একবার সরকারি পানি আসত।
“আমার মনে আছে, আমাদের পাড়ায় ফিসফিসানি শোনা যেত, ‘পানি আসছে’। তখন কল বন্ধ হওয়ার আগেই হাতের কাছে পাওয়া সব পাত্র ভরে ফেলার সেই তীব্র তাড়াহুড়ো আমি আজও ভুলিনি।”
ছবি : সংগৃহীত
আগামী ১২ আগস্ট মেড বাই গুগল অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হওয়ার কথা রয়েছে গুগলের নতুন পিক্সেল ১১ সিরিজ। এরই মধ্যে স্মার্টফোনগুলোর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন ও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের সম্ভাব্য দাম অনলাইনে ফাঁস হয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যান্ড্রয়েড হেডলাইনস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারও চারটি মডেল নিয়ে আসছে গুগল-পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল এবং পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড। সব মডেলেই থাকতে পারে গুগলের নতুন টেনসর জি৬ চিপসেট এবং টাইটান এম৩ নিরাপত্তা কো-প্রসেসর।
সম্ভাব্য দাম
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিক্সেল ১১-এর প্রারম্ভিক দাম হতে পারে ৮৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা)। পিক্সেল ১১ প্রো-এর দাম শুরু হতে পারে ১,০৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) থেকে।
অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল-এর সম্ভাব্য প্রারম্ভিক মূল্য ১,২৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা)। আর ভাঁজযোগ্য পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড-এর দাম শুরু হতে পারে ১,৮৯৯ ডলার (প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা) থেকে।
কী থাকছে পিক্সেল ১১-এ
সাধারণ পিক্সেল ১১-এ থাকতে পারে ৬.৩ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ ওএলইডি ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিটস উজ্জ্বলতা, ১২ বা ১৬ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ জিবি স্টোরেজ।
ফোনটির পেছনে ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা ও ১৩ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা থাকতে পারে। সামনে থাকতে পারে ১০.৫ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। এছাড়া ৪,৯৮৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির সঙ্গে ৩০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা থাকতে পারে।
প্রো ও প্রো এক্সএল মডেল
পিক্সেল ১১ প্রো-তে ৬.৩ ইঞ্চির এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৪৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা থাকতে পারে। এতে ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং সর্বোচ্চ ১২০ গুণ প্রো জুম সুবিধা মিলতে পারে। সেলফি ক্যামেরা হতে পারে ৪২ মেগাপিক্সেলের।
অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল-এ থাকতে পারে ৬.৮ ইঞ্চির ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট স্টোরেজ, ৫,১১৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট দ্রুত চার্জিং সুবিধা।
পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড
ভাঁজযোগ্য পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড-এ ৮ ইঞ্চির ভেতরের ও ৬.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে থাকতে পারে। এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরার পাশাপাশি আলট্রা-ওয়াইড ও পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা থাকতে পারে। ফোনটিতে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম, ১ টেরাবাইট স্টোরেজ এবং ৪,৮০৬ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সিরিজের সব ফোনেই অ্যান্ড্রয়েড ১৭, আইপি৬৮ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ, ওয়্যারলেস চার্জিং এবং উন্নত নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত থাকতে পারে।
তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি গুগল। আগামী ১২ আগস্ট 'মেড বাই গুগল' অনুষ্ঠানে পিক্সেল ১১ সিরিজের পাশাপাশি নতুন পিক্সেল ওয়াচ ও পিক্সেল বাডসও উন্মোচন করা হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ‘ক্লিনআপ’ ফিচার আসছে
নতুন এ টুলের ফলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে আসা ছবি, ভিডিও বা ভয়েস নোট এখন আর আলাদা করে খুঁজে মুছতে হবে না, কেবল কয়েক ক্লিপেই ডিভাইসের স্টোরেজ খালি করা যাবে। হোয়াটসঅ্যাপে স্টোরেজ সমস্যার সমাধানে আসছে ‘ক্লিনআপ’
ফোনে মেমোরি ঘাটতির দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে নতুন স্টোরেজ ক্লিনআপ টুল নিয়ে আসছে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। স্মার্টফোনের মেমোরি হুটহাট শেষ হয়ে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল। এসব চ্যানেলের শেয়ার করা ছবি, ভিডিও ও ভয়েস নোট নিয়মিত জমা হতে হতে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকটা জায়গা দখল করে নেয়।
নতুন এ টুলের ফলে চ্যানেলে আসা ছবি, ভিডিও বা ভয়েস নোট এখন আর আলাদা করে খুঁজে মুছতে হবে না, কেবল কয়েক ক্লিপেই ডিভাইসের জায়গা খালি করা যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট ডিজিটালট্রেন্ডস।
কয়েকমাস ধরে পরীক্ষার পর সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রকাশিত সর্বশেষ বিটা আপডেটে নতুন ফিচারটি নির্বাচনভিত্তিক বিটা ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
আলাদা ফাইল খোঁজার দিন শেষ
আগেও হোয়াটসঅ্যাপের স্টোরেজ সেটিং থেকে চ্যানেলের বিভিন্ন মিডিয়া ফাইল দেখা ও মোছা যেত। তবে সেই প্রক্রিয়া ছিল বেশ দীর্ঘ ও বিরক্তিকর। ডিলিট করার জন্য প্রতিটি ফাইল হাতে বেছে নিতে হত। নতুন টুলটিতে ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য দুটি আলাদা উপায়ে ফাইল মুছে ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রথম উপায়টি ব্যবহার করা যাবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের ‘ইনফরমেশন’ পেইজে গিয়ে। সেখান থেকে কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল কী পরিমাণ জায়গা দখল করে আছে তা পর্যালোচনার পাশাপাশি ক্যাটেগরি বা বিষয়ভিত্তিক ফিল্টার করে ফাইল মোছা যাবে, অর্থাৎ ফটো, ভিডিও, স্টিকার বা ভয়েস নোটের মধ্যে কোনটি বেশি জায়গা নিচ্ছে, তা আলাদা করে বাছাই করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
নতুন এ আপডেটের সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে, ক্লিনআপের সময় ব্যবহারকারীর ‘স্টার’ মার্ক করা বিভিন্ন বার্তা বা ফাইল হোয়াটসঅ্যাপ নিজে থেকে মুছে ফেলবে না। ফলে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য ভুলবশত মুছে যাওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই অপ্রয়োজনীয় সব ফাইল এক ক্লিকে পরিষ্কার করা যাবে।
ফোনের ‘আবর্জনার ঝুড়ি’ খালি করতে সহজ উপায়
যারা অসংখ্য চ্যানেল অনুসরণ করেন তাদের সুবিধার্থে আরও একটি শর্টকাট যোগ করছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এ সুবিধায় ‘আপডেটস’ ট্যাবে গিয়ে এক বা একাধিক চ্যানেলকে চাপ দিয়ে ধরে রেখে মেনু থেকে ‘ক্লিয়ার মিডিয়া ফাইলস’ অপশনটি বেছে নেওয়া যাবে। এখন আর আলাদা করে প্রতিটি চ্যানেলে ঢুকে ফাইল মোছার প্রয়োজন হবে না, বরং এক ক্লিকেই একসঙ্গে অনেকগুলো চ্যানেলের সংরক্ষিত মিডিয়া সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
ছোট পরিবর্তন মনে হলেও ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সমস্যার সমাধান নিয়ে আসছে এ সুবিধা। কারণ অনেক চ্যানেলই প্রতিদিন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গিগাবাইট পরিমাণ জায়গা দখল করে ফেলে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখার পরপরই ব্যবহারকারীরা এসব ফাইলের কথা ভুলে যান। ফলে ফোনে স্টোরেজ পূর্ণ হওয়ার সতর্কতা বার্তা না আসা পর্যন্ত কতটা জায়গা নষ্ট হয়েছে, তা তৎক্ষণাৎ জানা সম্ভব হয় না।
বর্তমানে গুগল প্লে স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ বিটা সংস্করণ ব্যবহারকারী সীমিত সংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড পরীক্ষকদের জন্য ফিচারটি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কয়েক সপ্তাহে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে সুবিধাটি পৌঁছাবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মূল অ্যাপে এ ফিচার কবে নাগাদ চালু হবে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি হোয়াটসঅ্যাপ।
মোবাইল ফোনের দাম বাড়ছে
নতুন স্মার্টফোনের দাম কেবল মেমোরি চিপ বা র্যামের আকাশচুম্বী দামের কারণেই বাড়ছে না, এর পেছনে যোগ হচ্ছে নতুন আরেক ধাক্কা। চিপ নির্মাতা কোম্পানি কোয়ালকম তাদের সব ধরনের প্রসেসরের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট ভার্জ।
সিএনবিসির এক প্রতিবেদন বলছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কোয়ালকমের সব ডিভাইসের দাম বাড়ছে বলে বুধবার নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্তিয়ানো আমন।
দাম কতটা বাড়তে পারে তা নিয়ে নির্দিষ্ট অংক না জানালেও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাম বৃদ্ধি হতে পারে ‘দুই ডিজিটের শতাংশে’, মানে ১০ শতাংশের বেশি।
চলতি প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের পরই দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দিল কোয়ালকম। কোম্পানিটি বলেছে, তাদের হ্যান্ডসেট ব্যবসা থেকে আয় বছরে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন।
আয় কমার পেছনে প্রধান কারণ মেমোরি চিপ বা র্যামের দামবৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকট। এ ঘাটতির কারণে এরইমধ্যে গেইমিং কনসোল, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে ‘রাসবেরি পাই’ বোর্ডের মতো সব ডিভাইসের দামই ঊর্ধ্বমুখী।
এ পরিস্থিতির কারণে নিজেদের মুনাফায় কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় কোয়ালকম। মেমোরি সংকটের কারণে তৈরি ক্ষতি পোষাতেই তারা এবার নিজস্ব প্রসেসরের দাম বাড়াতে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ক্রেতাদের ওপর।
অ্যাপল পণ্য থেকেও কোয়ালকমের আয় কমার হার আরও বাড়তে যাচ্ছে। কোম্পানিটি বলেছে, আসন্ন আইফোন সংস্করণে তাদের মডেম চিপ সরবরাহের পার্টনারশিপ ‘ব্যাপকহারে কমে যেতে পারে’। তবে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় তারা দু’বার জোর দিয়ে বলেছে, অন্যান্য খাত থেকে আসা আয় দিয়ে এ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
স্মার্টফোন খাত থেকে আয় কমতে থাকায় কোয়ালকম এখন ব্যবসা প্রসারে বহুমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। হ্যান্ডসেটের পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও অটোমোটিভ বা গাড়ি শিল্পকে তারা নিজেদের ব্যবসার মূল তিনটি স্তম্ভ বানাতে চায়।
কোয়ালকম বলেছে, খুব শিগগিরই তাদের আয়ের কেবল অর্ধেক আসবে ফোন থেকে। আর নতুন এই দুটি ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকায় ২০২৯ সালের মধ্যে ফোন খাত থেকে আসা আয়ের পরিমাণ নেমে আসবে কেবল এক-তৃতীয়াংশে।
এ লক্ষ্য পূরণে বড় পদক্ষেপে এরইমধ্যে সাফল্য এসেছে। জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিএমডব্লিউ-এর গাড়িতে চিপ সরবরাহের জন্য বুধবার ১০ বছর মেয়াদি এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে কোয়ালকম। এদিকে, চিপের দামবৃদ্ধির কারণে স্মার্টফোন নির্মাতা বিভিন্ন কোম্পানির কৌশলও বদলে যাচ্ছে।
কোয়ালকমের শীর্ষ কর্মকর্তা আকাশ পালকিওয়ালা বলেছেন, বাড়তি খরচ সামাল দিতে কিছু মূল পার্টস নির্মাতা কোম্পানি তাদের নতুন ডিভাইসে আধুনিক চিপের বদলে ‘আগের প্রজন্মের’ কোয়ালকম প্রসেসর ব্যবহার শুরু করেছে।
নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সার্চ সুবিধা এআই মোডে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিভিন্ন অ্যাপ যুক্ত করার সুযোগ চালু করেছে গুগল। নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি অ্যাপের লিংক গুগলের এআই মোডের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে ব্যবহারকারীরা এআই মোড থেকেই বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে কেনাকাটা, নকশা তৈরি বা গানের তালিকা সংরক্ষণের মতো কাজ করতে পারবেন।
গুগল জানিয়েছে, এআই মোড আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা তথ্য খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।
নতুন সুবিধা চালুর ফলে কেউ যদি বারবিকিউ আয়োজনের জন্য এআই মোডে বাজারের তালিকা তৈরি করেন, তবে ইনস্টাকার্ট থেকে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেনাকাটার ঝুড়িতে যুক্ত হবে। এরপর ইনস্টাকার্টের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে সহজে অর্ডার সম্পন্ন করা যাবে। আবার কোনো পোস্টার বা ফ্লায়ারের নকশা তৈরির জন্য ধারণা প্রয়োজন হলে এআই মোড ক্যানভায় থাকা উপযুক্ত টেমপ্লেট দেখাবে। একইভাবে কোনো অনুষ্ঠান বা পার্টির জন্য গানের তালিকা তৈরি করলে সেটি সরাসরি ইউটিউব মিউজিকে সংরক্ষণ করা যাবে।
গুগলের তথ্যমতে, নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে পরিকল্পনা, কেনাকাটাসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি এআই মোড ব্যবহার করবেন। একই সঙ্গে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ও অ্যানথ্রপিকের ক্লডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় গুগলের অবস্থান আরও শক্ত হবে। প্রাথমিকভাবে সুবিধাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন।
গুগল জানিয়েছে, প্রথম ধাপে এআই মোডে ইনস্টাকার্ট, ক্যানভা ও ইউটিউব অ্যাপ যুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এআই মোডে আরও অনেক অ্যাপ যুক্ত করা হবে। এ বছরের শুরুতে গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন গুগল আই/ওতে নিজেদের জেমিনি অ্যাপে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি অ্যাপ যুক্ত করার সুবিধা চালু করেছে গুগল। এবার একই ধরনের সুবিধা এআই মোডে সম্প্রসারণ করল প্রতিষ্ঠানটি।
ফেসবুকে নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এত দিন মূলত পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অর্থের বিনিময়ে মেটা ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীদের জন্যই পরিচিত ছিল। তবে এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও একটি নতুন ভেরিফিকেশন সুবিধা চালু করছে মেটা।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফেসবুকে একটি নতুন ফেসবুক ভেরিফায়েড (Facebook Verified) ব্যাজ চালু করছে। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এবং এর উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছেন।
কী এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’?
নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ হলো এমন একটি পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। মেটা সেই ভিডিওটি অ্যাকাউন্টে থাকা বিদ্যমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেটা।
কারা এই ব্যাজ পাবেন?
এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
> ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
> অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে।
> প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না।
> পরিচয় যাচাই সফল হতে হবে।
পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন - প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিং।
মেটা ভেরিফাইড (Meta Verified) থেকে এটি কীভাবে আলাদা?
অনেকেই ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ এবং ‘মেটা ভেরিফাইড’-কে একই বিষয় মনে করতে পারেন। কিন্তু দুটি সেবা এক নয়। মনে রাখবেন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এবং এতে অতিরিক্ত কোনো প্রিমিয়াম সুবিধা নেই।
মেটা ভেরিফাইডের ক্ষেত্রে মাসিক সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন, নীল টিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত গ্রাহক সহায়তা, পরিচয় চুরি থেকে সুরক্ষার মতো বাড়তি সুবিধা ও বিভিন্ন প্রিমিয়াম ফিচার পাওয়া যায়।
কেন এই উদ্যোগ?
মেটা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ভুয়া ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা যাচ্ছে। এসব ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে।
নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি কিনা। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি শুধু পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ।
মেটা জানিয়েছে, ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফিচারটি সম্প্রসারণ করা হবে। কোন কোন দেশে প্রথমে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অনলাইনে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সব সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আইফোনের নতুন আপডেটে ‘লুকানো’ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ফিচার এসেছে প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল।
এ সপ্তাহে আইওএসের নতুন বিটা সংস্করণ ‘আইওএস ২৬.৬’ প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। ব্লক করা কনট্যাক্টের সংখ্যা পরিবর্তনের সুবিধা ছাড়া এতে দৃশ্যমান বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও আগামী সেপ্টেম্বরে আসতে যাওয়া অ্যাপলের বড় আপডেট ‘আইওএস ২৭’-এর জন্য আইফোনের ভিত তৈরি করতে পারে এ নতুন আপডেট।
এ সফটওয়্যার আপডেটটি ইনস্টলের পর ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রি-ইনডেক্সিং’ প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বড় আপডেটের জন্য আইফোনকে প্রস্তুত করে তুলবে বলে প্রতিদবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
আপডেটের বিবরণীতে অ্যাপল বলেছে, “এ আপডেটে সিস্টেমের ত্রুটি সংশোধন বা বাগ ফিক্স, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পরবর্তীতে আসতে যাওয়া আইওএস ২৭-এর প্রস্তুতি হিসেবে স্পটলাইট ইনডেক্সকে অপটিমাইজ করার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
জুনে অ্যাপলের বার্ষিক সম্মেলন ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপারস কনফারেন্স’ বা ডব্লিউডব্লিউডিসি’তে উন্মোচিত হওয়া আইওএস ২৭ আগামী সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে পারে।
নতুন এ আইওএসে ভিজুয়াল ডিজাইনে পরিবর্তন আনা ও শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় নতুন বিভিন্ন টুল যোগের মতো বেশ কিছু আপডেট থাকছে। তবে এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে, ‘সিরি এআই’, যা অ্যাপলের ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহকারীকে এখানে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছে।
ডিজিটাল সহকারী হিসেবে সিরিকে আরও বেশি কার্যকর করে তুলতে এ নতুন সংস্করণে এআইয়ের ব্যবহার বাড়িয়েছে অ্যাপল।
যেমন, কোনো ব্যবহারকারী যদি এক বছর আগে কোনো বন্ধুর সুপারিশ করা কোনো রেস্তোরাঁ সম্পর্কে জানতে চান, তবে নতুন সিরি আইফোনের পুরানো সব তথ্য বিশ্লেষণ করে সেই বার্তাটি খুঁজে বের করতে পারবে।
ব্যবহারকারী সরাসরি সেই নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার না করে ইঙ্গিত দিলেও বার্তাটি শনাক্ত করে সে অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সিরি।
নতুন ফিচারটি কার্যকর করতে ‘সিরি’র নতুন সংস্করণটিকে ফোনের সংরক্ষিত সব ডেটার একটি নতুন ‘ইনডেক্স’ বা তালিকা তৈরি করতে হবে। ফলে ছবি বা বার্তার মতো প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্যে এআইচালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই অনুসন্ধান চালাবে নতুন সিরি।
আসন্ন আইওএস ২৭-এর প্রাথমিক ব্যবহারকারীরা বলেছেন, ডেটা পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বেশ দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। ফলে ফোনের ব্যাটারি লাইফ ও পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি নতুন আপডেট ইনস্টলের পর বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত সিরির নতুন সংস্করণটি ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে।
অ্যাপল বলেছে, আইফোন ব্যবহারকারীরা নতুন আপডেটটি ইনস্টলের পর এ পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাকগ্রাউন্ডে নীরবে কাজ করবে। সেপ্টেম্বরে আপডেটটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই ডেটা রি-ইনডেক্সিংয়ের কাজ শেষ হবে এবং আপডেট ইনস্টলের পরই সিরির নতুন সংস্করণটি ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।
বর্তমানে আইওএস ২৬.৬ সংস্করণটি বিটা সংস্করণ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। খুব শিগগিরই তা ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত হবে, যা সেটিংসে গিয়ে সাধারণ সফটওয়্যার আপডেট হিসেবে ইনস্টল করে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
গ্রীষ্মকালে অ্যাপল সাধারণত তাদের সফটওয়্যারে ছোটখাটো কিছু পরিবর্তন আনে। তবে বর্তমানে অ্যাপলের মূল মনোযোগ আগামী আইওএস ২৭ আপডেটের দিকেই। সেপ্টেম্বরের আগে বর্তমান সংস্করণে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, অ্যাপলের আইওএস ২৭-এর পাবলিক বিটা সংস্করণ উন্মুক্তের প্রায় এক সপ্তাহ পর আইওএস ২৬.৬ প্রকাশ হল, অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা চাইলে নতুন এ সফটওয়্যারটির প্রাথমিক সংস্করণ এখনই ব্যবহার করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে বিটা সংস্করণ হওয়ায় আপডেটটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিস্টেমে ত্রুটি বা বাগ থাকা, ফোনের পারফরম্যান্স ধীর হওয়া বা বিভিন্ন অ্যাপ ও সেবায় জটিলতা তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছে অ্যাপল।