• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ থেকে চীন পর্যন্ত প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক শঙ্কা দেখছে না সরকার। বরং এ করিডোর বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে ঢাকা।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে বিদায় জানানোর পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর।


তিনি বলেন, মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত করিডোর নিয়ে ভূরাজনৈতিক কোনো উদ্বেগ নেই। এটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে করিডোর চালুর আগে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান প্রয়োজন বলে জানান তিনি।


এদিকে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সেটিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা একজন পলাতক সন্ত্রাসী। তার ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তনের বিষয় নয়, বরং বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রযোজ্য।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। এখন থেকে সব ধরনের ভিসার আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ফরম্যাটে ‘ভিসা আন্ডারটেকিং ফর্ম’ বা ভিসা অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত ফরম্যাটে ফর্ম জমা না দিলে ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে না।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাইকমিশনের ভিসা সংক্রান্ত পোর্টালে প্রকাশিত এক জরুরি অ্যাডভাইজরিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।


অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের হাইকমিশনের নির্ধারিত লিংক থেকে ‘Visa Undertaking Form’ ডাউনলোড করে যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। এরপর পূরণ করা ফর্মটি স্ক্যান করে NIC Visa Application Portal-এ অনলাইন ভিসা আবেদনের সঙ্গে আপলোড করতে হবে।হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত ফরম্যাটের ফর্মই গ্রহণযোগ্য হবে। অন্য কোনো ফরম্যাটে অঙ্গীকারনামা জমা দিলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।


ফর্মে যেসব তথ্য দিতে হবে


প্রকাশিত এক পাতার অঙ্গীকারনামায় প্রথমে আবেদনকারীকে নিজের নাম লিখে ঘোষণা দিতে হবে, তিনি যে উদ্দেশ্যে ভিসার আবেদন করছেন, ভারত সফরের সময় শুধু সেই উদ্দেশ্যেই দেশটিতে অবস্থান করবেন। পাশাপাশি আবেদনের তারিখে তিনি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের অধিক্ষেত্রে বসবাস করছেন এবং আবেদনে দেওয়া সব তথ্য সঠিক- এমন অঙ্গীকারও করতে হবে।


ফর্মের প্রথম অংশে ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে পাসপোর্ট অনুযায়ী নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, জন্মতারিখ এবং ঢাকার বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।


দ্বিতীয় অংশে ভারত সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। যেমন- পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা সম্মেলনে অংশগ্রহণ।


এ ছাড়া ফর্মের পরবর্তী তিনটি অংশে আবেদনকারীকে কয়েকটি বিষয়ে অঙ্গীকার করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, সফর শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে আসা এবং কোনো অবস্থাতেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতে অবস্থান না করা।


ভারতে অবস্থানকালে দেশটির প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও সংস্কৃতি মেনে চলার পাশাপাশি কোনো ধরনের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকারও করতে হবে। ফর্মে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘন করলে ভিসা বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভারতীয় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


সবশেষে আবেদনকারীকে ফর্মে স্বাক্ষর, স্থান ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বাবা-মা উভয়কে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে।



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম

গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ১২০ ব‍্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব‍্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


মন্ডল, এনভয় ও নিপা গ্রুপসহ সেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১২টি গ্রুপের মালিক এ আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।


এছাড়া যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন– এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক এবং সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন, গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।


এছাড়া মিরপুর এলাকায় আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২০ পিএম

‘ছয় সন্তানকে বড় করেছেন, ৯৫ বছর বয়সে বাবার ঠাঁই হলো গাছতলায়’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনটি দেখার পর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।


এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে হাজী শামসুল হক মোল্লার বাড়িতে যায়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৃদ্ধের শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁকে উপহার ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।সাক্ষাৎকালে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লার নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। সরেজমিনে এসে তাঁরা জানতে পেরেছেন, তাঁর ছেলেরা তাঁকে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং আমৃত্যু তাঁর দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে।


উল্লেখ্য, ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা জীবনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করেছেন। সম্প্রতি নিজের জমিজমা ছয় সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর তিনি সন্তানদের কাছেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে বাড়ির পাশের একটি গাছতলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। তাঁর এই দুরবস্থার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমদ ও শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, ছাত্রনেতা মশিউর রহমান মহান ও আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ পিএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এআই যেন দেশের বেকারত্বের সমস্যা আরও প্রকট না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি হবে মানুষের জন্য, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের সক্ষমতা বাড়ায়, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে অবদান রাখে, সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব এখন এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রধান অনুঘটক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে এআইয়ের পরিবর্তন বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে কোথায় নিয়ে যাবে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করে দেবে। তাই এ সম্মেলন নিছক কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং ভবিষ্যতের পথরেখা তৈরির মঞ্চ।


তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি নয়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এআইকে কাজে লাগাতে হবে।


রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে নতুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে কত দ্রুত নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারে, তার ওপর। বর্তমান বিশ্বের সেই নতুন জ্ঞানের নাম এআই। এ প্রযুক্তিকে বিদ্যুতের মতো যুগান্তকারী আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বিদ্যুৎ যেমন পুরো সভ্যতার চেহারা বদলে দিয়েছিল, এআইও তেমনি সবকিছু বদলে দিচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে এ পরিবর্তনের গতি আরও বাড়বে।


তবে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এআই যেন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণকারী হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় পুরো মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়তে পারে।বাংলাদেশে বেকারত্ব অন্যতম প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই যেন এ সমস্যাকে আরও প্রকট না করে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের সক্ষমতা বাড়াবে, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখবে এবং বৃহত্তর জনকল্যাণে ভূমিকা রাখবে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই নীতিমালায় নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ এবং দায়িত্বশীল উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


আন্তর্জাতিক গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে। বাংলাদেশের এ সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশকে এআই উদ্ভাবন ও প্রয়োগকারী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।


ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে এ প্রযুক্তিকে বিবেচনা করতে হবে।


তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে স্বপ্ন বাংলাদেশ দেখছে, তা পূরণ করা সম্ভব।


রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্মিলিতভাবে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এআই উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের অংশীদার ও প্রণেতা হবে। লক্ষ্য হতে হবে এআইনির্ভর নয়, বরং এআই-সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী। তাদের যথাযথভাবে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে এআইশিল্পে বিশ্বে নতুন পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণার সুযোগও কাজে লাগাতে হবে।


সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।


খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ পিএম

বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে পৌনে ৪টার দিকে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এই আসরের উদ্বোধন করেন তিনি।


এর আগে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।


স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেই প্রধানমন্ত্রী গ্যালারির চারদিকে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের কাছে ছুটে যান। এ সময় তাকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদেরা।তারা হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদদের এই প্রাণবন্ত মুহূর্তে স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বর্তমান সরকার কাজ করছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরে জেটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, এবং দক্ষ মানবসম্পদকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশিক ব্যবস্থায় জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ চেইন কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দর জ্বালানি, খাদ্য, কাচামাল আমদানি এবং দেশীয় পণ্য রফতানিতে দেশের একটি পরিপূরক হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে নিরাপত্তা আরও সমৃদ্ধ করবে।এর আগে সকালে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।


এ উপলক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।