প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবার ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে এসব অনুরোধ জানানো হয় বলে জানিয়েছেন সরকারপ্রধানের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ আশা করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে। একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।’
ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে গত নভেম্বরে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। তবে ভারতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে গুলিতে ওসমান হাদি নিহত হওয়ার আড়াই মাস বাদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন ধরা পড়েন পশ্চিমবঙ্গে। এরপর থেকে তাদের ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
উপ প্রেস সচিব স্বাধীন বলেন, ‘দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’
শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, ভারতের নতুন হাই কমিশনারকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় গেল দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন ত্রিবেদী।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম সাক্ষাৎ। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচনী কর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। পরে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, যদি সংস্কার হতো, অলি আহমদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনা সমুজ্জ্বল ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটা জাতির জন্য।
হামিদুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির দ্বিচারিতার কারণে অথবা তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ, যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।’
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী হবেন, তারপরও জামায়াত জোট কী কারণে প্রার্থী দিল-এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এখানে জয়-পরাজয়টি বিষয় না। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা সামনে নিয়ে আসছি। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ বলা আছে, রাষ্ট্রের সর্বস্তরের রাষ্ট্র পরিচালনাব্যবস্থার নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। এখানে যদিও প্রতিনিধি সেভাবে না, রাষ্ট্রের তো প্রধান ব্যক্তি, পদমর্যাদাসম্পন্ন, রাষ্ট্রের অভিভাবকত্বের জায়গা হলো রাষ্ট্রপতির পদ। এখানেও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রচর্চা হচ্ছে না। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে যে দ্বিচারিতা করেছে, সেটা জাতির সামনে আনতে চাই। গণভোটের রায়টা, জনগণের রায়টা বিএনপি বাস্তবায়ন করেনি। সেটা বাস্তবায়িত হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মধ্যেই চলে আসত।’
জামায়াত নেতা আযাদ বলেন, ‘এখন সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন না। এখানে তাঁদের ভোটাধিকার দিয়ে তাঁর অধিকারের ওপর আপনি হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে গেছেন। আমরা এই জায়গা থেকেই জাতিকে মুক্ত করতে চেয়েছি। সংসদ সদস্যদের এই স্বাধীনতা, ভোটাধিকার যে নিয়ন্ত্রিত, সেই জায়গাটাকে মুক্ত করতে চেয়েছি। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সঠিক গণতন্ত্রের প্রতিফলনটা ঘটত।’
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক ও সীমান্ত সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। আজ (১০ আগস্ট) সোমবার সকাল ১১টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক হয়েছে।
সাক্ষাতের শুরুতে ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় ঢাকায় দায়িত্ব পালনের গত দুই মাসের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন দীনেশ ত্রিবেদী।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা জানানো হয়। পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিদ্যমান বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত জুনে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর এটিই প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যে শিক্ষার্থী যতটুকু পড়েছে, সে ততটুকু নম্বর পেয়েছে। আজ সোমবার সকালে এসএসসির ফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পরীক্ষার ফল নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।
এ সময় বন্যা ও অন্যান্য কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় ভালো করার কথা থাকলেও অনেক সময় খারাপ করে ফেলে। আইন অনুযায়ী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। আমরা আইন সংশোধন করেছি।
তিনি বলেন, যে শিক্ষার্থীরা তাদের খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করবে, তাদের সম্পূর্ণ খাতা পুনঃপরীক্ষণ করা হবে এবং কোথাও যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বছর ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিজ্ঞতা আমার আছে এবং সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই আমরা কাজ করব।
মিলন আরও জানান, আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হবে। ক্রমান্বয়ে পরীক্ষা এগিয়ে আসবে।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে (এসএসসি) পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে (দাখিল) ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (ভোকেশনাল) পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
সব বোর্ড মিলিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী।
পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা
চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ। এই বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পাসের হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বোর্ডে। এই বোর্ডে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
আজ সোমবার সকালে প্রকাশিত ফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাসের হারে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর বোর্ড। এরপর রয়েছে কুমিল্লা (৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ) ও রাজশাহী বোর্ড (৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ)। এ ছাড়া বরিশালে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৬ শিক্ষার্থী।
শুধু নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে (এসএসসি) পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে (দাখিল) ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (ভোকেশনাল) পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
এ বছর মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
ইংরেজিতে পাস ৭৫ শতাংশের কম
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সাতটিতেই ইংরেজিতে পাসের হার ৭৫ শতাংশের নিচে। আজ সোমবার সকালে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর ফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়।
বিষয়ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নয়টি বোর্ডের মধ্যে আটটিতেই ইংরেজি বিষয়ের পাসের হার বাংলা ও গণিত- উভয় বিষয়ের চেয়ে কম।
ময়মনসিংহে ইংরেজিতে পাসের হার সবচেয়ে কম- ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এরপর সিলেটে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং বরিশালে ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করেছে।
যশোরে ইংরেজিতে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।
শুধুমাত্র কুমিল্লা ও ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৫ শতাংশের উপরে ছিল। কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ঢাকায় ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করেছে। অধিকাংশ বোর্ডে বাংলায় পাসের হার ছিল ৯০ শতাংশের উপরে।
অন্যদিকে, দিনাজপুর বাদে বাকি সব বোর্ডেই গণিতের ফল ইংরেজির চেয়ে ভালো।
দিনাজপুরে গণিতে পাসের হার ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এই বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ।
১৯ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সবচেয়ে কম
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। স্কুলের গণ্ডি পেরোনো এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা পাস করা মোট শিক্ষার্থীর ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
এই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। ২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করে। ২০০৭ সালের পর চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার সবচেয়ে কম। ওই বছর ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১ এপ্রিল। গত ২০ মে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয়। দাখিল এবং এসএসসি ও ভোকেশনালের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ থাকলেও এবার তা সম্ভব হয়নি।
সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে ফল প্রকাশ করে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারছে।
এবারও পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা- দুদিক দিয়েই এগিয়ে আছে মেয়েরা।
যেভাবে মিলবে ফল
সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সমন্বিত ফলাফলের ওয়েবসাইট www.eduboardresults.gov.bd বা https://www.educationboardresults.gov.bd/v2/home থেকে পরীক্ষার্থীরা ফল জানতে পারছে।
পাশাপাশি পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানতে পারবে।
যে কোনো অপারেটরের মোবাইল থেকে মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর লিখতে হবে।
এরপর স্পেস দিয়ে 2026 অর্থাৎ পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পরীক্ষার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে SSC DHA ROLL YEAR।
মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থীদের ফল জানতে SSC MAD ROLL YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের SSC TEC ROLL YEAR লিখে একই নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।
প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে।
খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু মঙ্গলবার
সোমবার যেসব পরীক্ষার্থী আশানরূপ ফল পাবেন না, তারা মঙ্গলবার থেকে খাতা পুনর্নিরীক্ষাণের আবেদন করতে পারবেন।
ঢাকা বোর্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এবার https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করতে হবে এবং বোর্ড ড্রপ ডাউন থেকে বোর্ড নির্বাচন করে খাতা পুনর্নিরীক্ষাণের আবেদন করতে হবে শিক্ষার্থীদের।
সেখানে তাদের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
আবেদনের সময় স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয় ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বিষয়গুলো নির্বাচন করে 'ফি প্রদান করুন' বাটনে ক্লিক করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে পরীক্ষার্থীদের। দ্বিপত্র বিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে।
ফি পরিশোধ করে আবেদনের পোর্টালে এসে 'জমা দিন" বাটনে ক্লিক করতে হবে।
ঢাকা বোর্ড জানিয়েছে, ফি দিয়ে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পরে আরও বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একইভাবে তা করা যাবে। এক্ষেত্রে নতুনভাবে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
এছাড়া ফি পরিশোধের আগেই যদি আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয়গুলো (যেগুলোর জন্য এখনও ফি প্রদান করা হয়নি) প্রত্যাহার করা যাবে এবং নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দিলে আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
হাতে হাতে বা ম্যানুয়ালি শিক্ষা বোর্ডগুলো খাতা পুনর্নিরীক্ষণের কোনো আবেদন নেবে না।
ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি, শূন্য থাকবে পৌনে আট লাখ আসন
চলতি শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
আগের মতই কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং এসএসসি ও।সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
গতবারের মত এবারও মেধা বা মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় একাদশে ভর্তির বিধান রেখে চলতি বছরের একাশনে ভর্তির নীতিমালার খসড়া তৈরি করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে প্রস্তাব হিসাবে পাঠানো হয়েছে। তবে রোববার রাত পর্যন্ত চলতি বছরের একাদশের ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালায় আবেদনগ্রহণ ও ফল প্রকাশের বিস্তারিত সূচি থাকবে।
উচ্চমাধ্যমিক কলেজ-মাদ্রাসাগুলোতে ফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম চললেও নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজের মত চার্চ পরিচালিত কলেজগুলোতে বেশ কয়েকবছর আগে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা হবে।
সারা দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি। ফলে বরাবরের মত এবারও একাদশ শ্রেণিতে পৌনে ৮ লাখ আসন ফাঁকা থেকে যাবে।