প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন। সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃংঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে'র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।'
পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।'
সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ 'পিজিআর' চলতি বছর 'ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড' পুরস্কারের জন্য মনোনিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।'
সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।'
তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।'
পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আশা করব, পিজিআরে'র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি 'চেইন অব কমান্ড' অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।'
একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যে কোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।'
তিনি বলেন, 'এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। '
তারেক রহমান বলেন, 'সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে'র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।'
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে 'রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীকালে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর 'রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট'কে 'প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট' হিসেবে নামকরণ করেন। নতুন এ নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরো দৃঢ় ও গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।'
পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি।'
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।'
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। তিনি পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজ নেন এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য প্রতি বছর ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ( পিজিআর)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করা হয়।
পিজিআর মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট। এটি বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালন করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। ছবি: সংগৃহীত
দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরতে নির্মিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিদর্শনকে আরও সুশৃঙ্খল করতে নির্ধারিত সময়ভিত্তিক প্রবেশের ব্যবস্থা চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণে আগ্রহীদের আগে থেকেই অনলাইনে টিকিট বুকিং করতে হবে। ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের সুবিধামতো সময় নির্বাচন করে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিট মূল্য রাখা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গুম-নির্যাতনের দলিল, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী স্থাপনার সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটি। বিভিন্ন গ্যালারিতে বিগত দেড় দশকের আলোচিত ঘটনাপ্রবাহ, ঐতিহাসিক নথি এবং আন্দোলনের নানা অনুষঙ্গ স্থান পেয়েছে।
এ ছাড়া জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মিত প্রতীকী শহীদ কবর এবং আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্তভিত্তিক ভাস্কর্য দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য, রিকশাচালকের সালাম জানানো এবং শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠি পরিদর্শকদের আবেগাপ্লুত করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে এক স্মারক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিক, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ গণঅভ্যুত্থান জাতির দৃঢ় অঙ্গীকার ও ঐক্যবদ্ধ সংকল্পের প্রতীক।
রাষ্ট্রদূত সরকারের ‘থ্রি আর’ কৌশল- রিকভারি, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এই কৌশলের লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুসংহত করা। একই সঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও মূলনীতির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে আন্দোলনের পটভূমি ও এর তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সড়কে শব্দদূষণ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা মেনে চলতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিতসহ দেশজুড়ে নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ডে বিধিমালায় নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা যাবে না।
* কোনো উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র বা কর্মকাণ্ডে বিধিমালায় নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রম করা যাবে না।
* কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠান বা জনসমাবেশে উচ্চ শব্দের যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। অনুমতি পেলেও শব্দমাত্রা ৯০ ডেসিবেলের বেশি এবং সময়সীমা ৫ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না।
* নির্ধারিত শব্দমাত্রা অতিক্রমকারী কোনো ধরনের হর্ন উৎপাদন, আমদানি, মজুত, বিক্রয়, বিতরণ, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ।
* নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া পটকা, আতশবাজিসহ শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ।
* আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো যাবে না।
* প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বেলুন ফোটানো এবং উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন শব্দযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ।
* আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা যাবে না।
* ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে শব্দদূষণের ঘটনা ঘটলে তারা ঘটনাস্থলেই শাস্তি দিতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে বিধিমালার নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও জোরদার করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: প্রধানমন্ত্রী
নদীদূষণ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানিদূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে দেশের সব নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এ লক্ষ্যে শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলকভাবে ইটিপি স্থাপন নিশ্চিত করা এবং নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ রক্ষা-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, দূষণ যেন না বাড়ে, সেজন্য প্রতিটি কারখানায় ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবে না, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি সরকারের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। কারণ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।”
তিনি বলেন, “আমি প্রায়ই একটি কথা বলি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। জনগণ যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের ভুলে যায়নি, তেমনি ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় যারা শহীদ হয়েছেন, তাদেরও ভুলবে না।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নামে তাদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সড়কের নামকরণ করা হবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে।
“বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি বর্তমান সরকার শহীদদের ‘কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার কাজও শুরু করেছে।
“দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩১ দফা নির্বাচনি ইশতেহারের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, গণভোটসংক্রান্ত প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ও কাজ শুরু করেছে।
“দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি সনির্ভর সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়বো ইনশাআল্লাহ।”
বিরোধ দলকে ইংগিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আজ এই অনুষ্ঠানে একটি বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছেন।
“এসব পরিস্থিতিতে তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছেন কিনা, সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।”
জুলাই অভ্যুত্থান এবং তার পরের সময়ে ‘গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার” সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না—এই প্রত্যাশায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।”
জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় যুক্ত স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক, জাদুঘর বিশেষজ্ঞ, শিল্পী, সংগ্রাহক, কারিগর, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান।
সেই খবর পেয়ে তখনকার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের দখল নেয় জনতা। আনন্দ উৎসবের আমেজে সরকারপ্রধানের বাসভবনে ভাঙচুর, লুটপাট চলে।
পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ শুরু হয়। উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, নিহতদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়ের সংবাদপত্রের কাটিং এবং অডিও-ভিডিওসহ বিভিন্ন উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে এ জাদুঘরে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাবলীও চিত্রায়িত করা হয়েছে।
অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সেই জাদুঘরের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক।”
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলনে হাজারো মানুষ গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
“আমি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। হতাহতদের পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা,” বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থন ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা, এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল।
“ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম খুন অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গেই তুলনা চলে।”
তারেক রহমান বলেন, “এমন বাস্তবতায়, আজকের ঐতিহাসিক 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর' ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের সাহসী ইতিহাস যেমন তুলে ধরবে, অপরদিকে তাদের সামনে উম্মোচিত হবে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর শুধু ২০২৪ সালের ঘটনার স্মারক নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ধারাবাহিক ইতিহাসেরও দলিল হওয়া উচিত।
“শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও এখানে সংরক্ষিত থাকা জরুরি।”
তিনি বলেন, জাদুঘরে জুলাই-গাস্টের শহীদদের জীবনকথা, আহতদের সাক্ষ্য, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের অভিজ্ঞতা, আলোকচিত্র, ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন, পোস্টার, দেয়াললিখন, গ্রাফিতি, কার্টুন, কবিতা, গান, নাটক, চিত্রকর্ম, ব্যক্তিগত স্মারক এবং ডিজিটাল উপকরণ সংরক্ষণ করা উচিত।
“আমি বিশ্বাস করি, অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না; বরং ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যতে বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
জাদুঘরের তথ্য বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় উপস্থাপনেরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে। আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেই বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য।”
তিনি বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া জরুরি।”
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি ও তথ্য-সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং সংস্কৃতি সচিব কানিজ মাওলা।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শাহরিয়ার খান আনসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং জুলাই যোদ্ধা নিশাত তাবাসসুম প্রাপ্তিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধান হুইপ, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, দ্রুততম সময়ে ই-ভিসা চালু এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কীভাবে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে থাইল্যান্ডের ভিসা প্রদান সম্পন্ন করা যায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দালালচক্রের কারণে তৈরি সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ সরকার ও থাইল্যান্ডের চলমান উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা প্রদানের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ, আনন্দময় শিক্ষণ, পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তি, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
এ ছাড়া ২০২৭ সালে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে যৌথ উদ্যোগ ও উদযাপন নিয়ে উষ্ণ মতবিনিময় হয়।
প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন উল্লেখ করে পর্যটকদের নিরাপত্তা, সেবার মানোন্নয়ন এবং ভ্রমণ আরও সহজীকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার বিষয়ে থাইল্যান্ড ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে।
বৈঠকে শ্রমবাজার ও কর্মী অভিবাসন বিষয়টিও স্থান পায়। থাইল্যান্ডে বৈধ শ্রম অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়েও কথা হয়। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে রাষ্ট্রদূত অবহিত করেন।
এ সময় রয়্যাল থাই দূতাবাসের কাউন্সেলর মোরাকোট উইরাওংফ্রমও উপস্থিত ছিলেন।