থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা
মানুষের ভালোবাসা ও ঘৃণা- থাকসিন সিনাওয়াত্রার জীবনে দুটিই সমানে সমান। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এই শতকের শুরুতে জনমুখী ও জনপ্রিয় নানা নীতির মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন।
এসব নীতির কারণে গ্রামীণ জনপদে তিনি ও তাঁর দল বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই সাফল্যের জন্য থাকসিনকে বড় মূল্যও দিতে হয়েছে। থাইল্যান্ডের ক্ষমতাবান শ্রেণি এবং রক্ষণশীল গোষ্ঠীর চোখে তিনি ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত, কর্তৃত্ববাদী এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী একজন নেতা। এ জন্য থাকসিন ও তাঁর পরিবারকে তারা প্রচণ্ড রকমের অপছন্দ করত।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় দুর্নীতির দায়ে থাকসিনের এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। আট মাস সাজা ভোগের পর গতকাল সোমবার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। গত দুই দশকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া থেকে শুরু করে একাধিক মামলায় দণ্ডিত হওয়া পর্যন্ত থাকসিনকে নানা রাজনৈতিক ও আইনি সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এসব সংকট থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের প্রভাব শেষ করে দিতে পারত।
বিশ্লেষকদের মতে, থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখনো তাঁর দল ফিউ থাই পার্টির মূল নিয়ন্ত্রক। চলতি বছরের নির্বাচনে দলটি রেকর্ডসংখ্যক আসন হারালেও শেষ পর্যন্ত নতুন ক্ষমতাসীন জোটে যোগ দিতে সক্ষম হয়েছে। থাকসিনের ভাগনে মন্ত্রিসভায় জায়গাও পেয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনীতি বিশেষজ্ঞ পল চেম্বার্স মনে করেন, মুক্তি পাওয়ার পর থাকসিন এখন ফিউ থাই পার্টির কার্যক্রমে আরও সরাসরি ভূমিকা নেবেন। এ নিয়ে সংশয়ও আছে চেম্বার্সের। কারণ, থাকসিনের বয়স। ৭৬ বছর বয়সী থাকসিন এখন আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতৃত্বে ফিরে আসার অবস্থায় নেই। তাই তিনি দলটির জনসমক্ষের নেতৃত্ব নিজের পরিবারের তরুণ প্রজন্মের হাতেই ছেড়ে দিতে পারেন বলে মনে করে চেম্বার্স।
২০০১ সালে এবং পরে আবার ২০০৫ সালে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন থাকসিন। ২০০৬ সালে সেনাবাহিনী তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর দুই বছর পর তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান। তবে নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেও দেশের রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করা কখনো বন্ধ করেননি।
দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অনুপস্থিত অবস্থায় দণ্ডিত হওয়ার পরও থাকসিন সিনাওয়াত্রা বারবার দেশে ফেরার কথা বলছিলেন। অবশেষে ২০২৩ সালের আগস্টে নিজ দল ফিউ থাই পার্টির ক্ষমতায় ফেরার দিনে তিনি দেশে ফেরেন। ব্যাংককে পৌঁছানোর পর তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে বীরের মতো স্বাগতও জানান।
দেশে ফেরার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন তাঁর সাজা এক বছরে নামিয়ে আনেন। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে থাকসিন ব্যাংককে নিজের বাড়িতে ফিরে যান। এতে ধারণা করা হয় যে তিনি আসলে কারাপ্রকোষ্ঠের ভেতরে থাকেননি।
গত সেপ্টেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন, থাকসিন যথাযথভাবে সাজা ভোগ করেননি। এরপর আদালত তাঁকে আবার এক বছরের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ব্যবসা পরিচালনা থেকে দেশ পরিচালনায়
থাকসিন সিনাওয়াত্রার জন্ম ১৯৪৯ সালে উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই প্রদেশের প্রভাবশালী একটি চীনা অভিবাসী পরিবারে। তিনি প্রথমে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।
পরে একের পর এক ডেটা নেটওয়ার্কিং ও মোবাইল ফোন কোম্পানি গড়ে বিপুল সম্পদের মালিক হন। এসব প্রতিষ্ঠানকে পরে টেলিকম প্রতিষ্ঠান শিন করপোরেশনে রূপান্তর করা হয়। ১৯৯৮ সালে থাকসিন রাজনীতিতে নামেন, গড়ে তোলেন থাই রাক থাই পার্টি। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেন।
এশিয়া অঞ্চলে আর্থিক সংকট চলার সময় থাইল্যান্ডের অর্থনীতি গভীর মন্দায় ডুবে ছিল। তখন থাইল্যান্ডের অন্যতম ধনী ব্যক্তি থাকসিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি নিজের ব্যবসায়িক দক্ষতা ব্যবহার করে গ্রামীণ দরিদ্র জনগণকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনবেন।
তাঁর ঘোষিত ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, এই অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। এরপরও ২০০৫ সালের নির্বাচনে থাকসিন বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন। নগদ সহায়তা ও ঋণ মওকুফ নীতির কারণে গ্রামীণ ভোটারদের বড় অংশ তাঁকেই সমর্থন দিয়েছিল।
কিন্তু পরের বছর থেকে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে থাকসিন চাপে পড়েন। বিশেষ করে শিন করপোরেশনের শেয়ার বিক্রিতে করছাড় ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়।
কয়েক মাস ধরে গণবিক্ষোভ চলার পর ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর ট্যাংক ব্যাংককে ঢোকে এবং থাকসিনের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। থাকসিন তখন ছিলেন নিউইয়র্কে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে।
২০০৭ সালে তাঁর থাই সম্পদ জব্দ করা হলেও তিনি ইংল্যান্ডের ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি কিনে নেন। পরে আবুধাবি-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর কাছে সেটি বড় অঙ্কের মুনাফায় বিক্রিও করেন।
পারিবারিক রাজনীতি
২০০৬ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আদালতের আদেশে থাই রাক থাই দলটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে পরে সেটিই ফিউ থাই পার্টিতে রূপ নেয়। ২০১১ সালে থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তাঁকেও ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
অনেকের চোখে থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখনো ফিউ থাই পার্টির প্রকৃত নিয়ন্ত্রক। ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলটি দ্বিতীয় হয়েছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারির ভোটে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।
থাকসিন এমন এক সময়ে থাইল্যান্ডে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন, যখন ফিউ থাই পার্টি একটি জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় ছিল। অনেকেই তখন এ জোট সরকারকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সমঝোতা’ হিসেবে দেখেছিল। এই জোটে সেনা-সমর্থিত দলগুলোও ছিল। এমনকি ২০১৪ সালে ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সাবেক সেনাপ্রধানও ছিলেন এই জোটে।
থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন পরে ফিউ থাই পার্টির নেতৃত্বে আসেন এবং ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রায় এক বছর পর সাংবিধানিক আদালত তাঁকে পদচ্যুত করেন।
এরপর রক্ষণশীল ভূমিজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল প্রধানমন্ত্রী হন এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হন। এ সময় অনেকের মধ্যে ধারণা জন্ম নেয় যে অনুতিনের দল ও থাকসিনের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এতে দুই পক্ষ একজোট হয় এবং বিনিময়ে থাকসিনের মুক্তি নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্লেষক পল চেম্বার্সের মতে, থাইল্যান্ডের ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে নিজের পুরোনো অবস্থান এখন প্রগতিশীল পিপলস পার্টি এবং তাদের পূর্বসূরি দলগুলোর কাছে ছেড়ে দিয়েছেন থাকসিন। এসব দল রাজতন্ত্র ও সেনাবাহিনীতে সংস্কারের দাবি তুলেছে। বিশেষ করে ২০২৩-২০২৫ সালের জোট সরকারে ফিউ থাই পার্টি রাজতন্ত্রপন্থীদের সঙ্গে আপস করতে প্রস্তুত হওয়ার পর এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
চেম্বার্সের মতে, ‘বয়স্ক থাকসিন শক্তিতেও এখন অনেক দুর্বল। তিনি হয়তো এখন ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর জন্য কিছুটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য হতে পারেন, কিন্তু আগের মতো বড় চ্যালেঞ্জ আর নন।’
কানাডায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার আবেদনে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। দেশটির সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশির জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাদায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চারজন আদালতে হাজির হলেও অপর একজন বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। অপর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পাঁচজন হলেন— রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া, কাজী নাফিজ আলম এবং মো. রাকিবুল হাসান।
সিবিএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।
২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি আবেদনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত— পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। দ্বিতীয়ত— ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত— অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা।
তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।
কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারি বলেছেন, দেশটির অভিবাসনব্যবস্থা সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রতারণার মাধ্যমে এ ব্যবস্থার সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুতর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। সীমান্তের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় তদন্তকারীদের কাজের প্রশংসাও করেন তিনি।
কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কুইবেক অঞ্চলের মহাপরিচালক এরিক লাপিয়ের জানান, অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ চক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে তাদের সংস্থা কাজ করছে। এ ধরনের তদন্তের মাধ্যমে অভিবাসন কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সকল আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী
ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে একটি ‘ব্যর্থ পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, যখন বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু লোক দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং ভারতের আন্তর্জাতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করতে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে।
নয়া দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোদি বলেন, একটি পরিবারকে বারবার ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস পুরো ভারতের অর্জন ও অগ্রগতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। শ্রীহরিকোটা থেকেও বছরে এতবার রকেট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয় না, যতবার কংগ্রেস তাদের এই নেতাকে উৎক্ষেপণের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়।
কংগ্রেসকে একটি ‘পরজীবী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে মোদি বলেন, এই দলটি অন্য কাউকে এগোতে দিতে চায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কিছু উগ্র মানসিকতার লোক কংগ্রেসকে কবজা করেছে এবং তারা দেশের ধ্বংস চায়। সংসদে হইচই সৃষ্টি করে দলটি অন্যান্য তরুণ ও মেধাবী বিরোধী এমপিদের এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচকদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত বৈশ্বিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মোদি জানান, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বাণিজ্যকে হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এবং সামুদ্রিক পথগুলো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব সংস্থাসমূহকে আরও কার্যকর করতে এবং নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতা মেনে নিতে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।